কুমারী সিমা মা হলেও ‘বাবা’ হয়নি কেউ

বুধবার সকালে নড়াইল সদর উপজেলার হাতিয়াড়া বাজার সংলগ্ন একটি পুকুর পাড়ে সিমা নামের প্রতিবন্ধী মেয়েটি যখন প্রসব বেদনায় ছটফট করছিল, তখন স্থানীয় কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে একটি কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। তবে সিমা মা হলেও ‘বাবা’ হয়নি কেউ! প্রতিবন্ধী মেয়েটির মা হওয়ার এই সংবাদ শুনে হাসপাতালে ছুলে আসেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।

জানা গেছে, সিমার মা-বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন তারপর থেকেই সে রাস্তা-ঘাটসহ নড়াইল শহর দিয়ে ঘুড়ে বেড়াতো এই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তরুণী। এভাবে ঘোরাফেরার কারণে সিমাকে সুস্থ করার জন্য আশ্রয় দেন সদর উপজেলার হাতিয়াড়া গ্রামের নির্মল পাঠকের স্ত্রী চন্দনা পাঠক। কিছুদিন দেখা শুনা করলেও ৩-৪ মাস আগে সিমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন চন্দনা পাঠক সিমা গর্ভবতী বুঝতে পেরে। তখন থেকে সিমা রাস্তায় রাস্তায় দিন-রাত যাপন করতো।

শেখ হাটি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য অসিম পাঠক বলেন, বুধবার সকালে সিমাকে দেখতে পেয়ে আমিসহ কয়েকজন মিলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। দুই তিন ঘন্টা হাসপাতালে পরিচর্যা শেষে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সিমা ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তানের জন্মদেন। এদিকে সংবাদ শুনে ছুটে হাসপাতালে ছুটে আসেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এসময় এই শীতে সিমা এবং সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুটি কোনো সমস্যা বা কষ্ট না পাই তার জন্য দুইটি কম্বল দেন। ওই মা ও শিশুটির দেখা শুনার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের সুচিকিৎসার জন্যও নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, প্রতিবন্ধী ওই মেয়েটিকে আমরা দেখতে গিয়েছিলাম। চিকিৎসক ও নার্সদের তাদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার জন্য বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে সন্তানহীন কয়েকজন আমাদের কাছে সন্তানটিকে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। এদিকে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ওই মা ও সন্তানকে দেখতে উৎসুক মানুষ হসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে ভিড় করছে এক নজর দেখার জন্য।