ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ছেলেকে পারিবারিক ভাবে বিয়ে করেন সংগীতশিল্পী সালমা

সংগীতশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা আবারও বিয়ে করেছেন। গত ৩১ ডিসেম্বর লোকগানের জনপ্রিয় এই শিল্পী পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন ময়মনসিংহ হালুয়াঘাটের ছেলে সানাউল্লাহ নূরে সাগরকে। যিনি ঢাকা জর্জ কোর্টের এডভোকেট। বর্তমানে লন্ডনে ‘বার অ্যাট ল’ করছেন।

আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় ঘনিষ্ঠ সংবাদকর্মীদের ডেকে সালমা তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানান। তিনি বলেন, প্রেম নয়, দুই পরিবারের দেখাদেখির ভিত্তিতে বিয়ে হয়েছে।

৩১ ডিসেম্বর সালমার বাসায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার স্বামী সানাউল্লাহ নূরে সাগর আবার ফিরে গেছেন লন্ডনে। সালমা জানান, চারমাস পর তার স্বামী ‘বার অ্যাট ল’ শেষ করে দেশে ফিরবেন।

লালনকন্যা খ্যাত এই কণ্ঠশিল্পী বলেন, আমার স্বামী দেশে ফিরলে বিয়ের সংবর্ধনার আয়োজন করবো, তখন সবার দোয়া নেব।

সালমা বলেন, বিয়ের আগে আমি স্বামীর সাথে কথা বলেছি। শুনেছি, আমার গান পছন্দ করে কিনা! এতে তার কোনো আপত্তি নেই। তার পরিবারের সাথেও আলাপ করেছি। তাদের মধ্যেও আমার গান নিয়ে আগ্রহ দেখেছি। সে নিজেও আবার বাবার সাথে কথা বলেছে।

সালমা মনে করেন, পরষ্পর একসাথে থাকতে হলে দুজনের মধ্যে বিশ্বাস, ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ থাকা দরকার। এই সবকিছুর সমন্বয় হলে দাম্পত্য জীবন সুখের হয়। এসবগুলো সালমা তার স্বামী সাগরের মধ্যে দেখেছেন।

কুষ্টিয়ার মেয়ে মৌসুমি আক্তার সালমা সংগীত রিয়্যালিটি শো ‘ক্লোজআপ– তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’-এর দ্বিতীয় সিরিজের বিজয়ী ছিলেন। এরপর কয়েকটি লোকগীতি দিয়ে সালমা সারাদেশে ব্যাপক পরিচিতি পান। ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে শিবলী সাদিককে বিয়ে করেন সালমা।

শিবলী সংগীত পরিবারের ছেলে হলেও পিতার উত্তরসূরি হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১২ সালে ১ জানুয়ারি তাদের সংসারে কন্যা সন্তান স্নেহার জন্ম। সাংসারিক দ্বন্দ্বের কারণে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সালমার মেয়ে স্নেহা তার বাবা শিবলীর কাছে থাকে বলে জানা যায়।

যে ১০ সাহাবি দুনিয়ায় থাকতে বেহেশতে যাওয়ার সুসংবাদ পান

যে ১০ সাহাবি দুনিয়ায় থাকতে বেহেশতে- ইসলামের ইতিহাসে নবী-রাসূলদের পর সাহাবাদের স্বীকৃতি। তারা অনুসরণীয়। আল্লাহতায়ালা তাদের চরিত্র সম্পর্কে কোরআনে কারিমে ঘোষণা করেন, ‘মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তার সঙ্গে যারা আছে তারা কাফেরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর; পরস্পরের প্রতি সদয়, তুমি তাদের রুকুকারী, সিজদাকারী অবস্থায় দেখতে পাবে।

তারা আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করছে। তাদের আলামত হচ্ছে, তাদের চেহারায় সিজদার চি‎হ্ন থাকে। এটাই তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত। আর ইনজিলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো- একটি চারাগাছের মতো, যে তার কচিপাতা উদগত করেছে ও শক্ত করেছে, অতঃপর তা পুষ্ট হয়েছে ও স্বীয় কাণ্ডের ওপর মজবুতভাবে দাঁড়িয়েছে- যা চাষীকে আনন্দ দেয়। যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফেরদের ক্রোধান্বিত করতে পারেন।

তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপ্রতিদানের ওয়াদা করেছেন।’ -সূরা আল ফাতহ: ২৯

আল্লাহতায়ালা সাহাবিদের সম্পর্কে আরও বলেন, ‘এই সম্পদ নিঃস্ব মুহাজিরদের জন্য ও যাদেরকে নিজেদের ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পত্তি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। অথচ এরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তার রাসূলকে সাহায্য করেন। এরাই তো সত্যবাদী। আর মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে যারা মদিনাকে নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং ঈমান এনেছিল (তাদের জন্যও এ সম্পদে অংশ রয়েছে), আর যারা তাদের কাছে হিযরত করে এসেছে তাদেরকে ভালোবাসে।

আর মুহাজিরদের যা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য এরা তাদের অন্তরে কোনো ঈর্ষা অনুভব করে না এবং নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ওপর তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়। যাদের মনের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম।’ -সূরা হাশর: ০৮-০৯

সাহাবিদের প্রশংসায় হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে তারাই সবচেয়ে নেক লোক, যাদের মাঝে আমি প্রেরিত হয়েছি। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সবচেয়ে সেরা মানব আমার সাহাবারা। আরেক বর্ণনায় সাহাবাদের প্রতি ভালোবাসাকে ঈমানের চিহ্ন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবিদের গালাগাল করো না। কেননা তাদের এক মুহূর্তের (ইবাদতের) মর্যাদা তোমাদের প্রত্যেকের জীবনের আমলের চেয়ে বেশি।’- ইবনে মাজা: ১৬২

সামগ্রিক বিচারে সাহাবারা অন্যসব উম্মত অপেক্ষা উত্তম। তবে সাহাবাদের সবাই কিন্তু এক স্তরের নন। বরং কেউ কেউ মর্যাদায় অন্যদের চেয়ে উত্তম। তাদের নিজেদের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে শ্রেণি ও স্তর রয়েছে।

নিম্নে তাদের ক্রমধারা উল্লেখ করা হলো-

সাহাবাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছেন চার খলিফা। অর্থাৎ হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলী (রা.)।

এরপরের স্তরে আছেন দুনিয়ায় থেকে যারা বেহেশতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন।

বেহেশতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হলো-

হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), হযরত উমর বিন খাত্তাব (রা.), হযরত উসমান বিন আফফান (রা.), হযরত আলী বিন আবি তালিব (রা.), হযরত আবু উবাইদা বিন জাররাহ (রা.), হযরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.), হযরত আবদুর রহমান বিন আওফ (রা.), হযরত যুবাইর বিন আওম (রা.), হযরত তালহা বিন উবায়দুল্লাহ (রা.) ও হযরত সাঈদ বিন যায়েদ (রা.)।

জান্নাতের সুসংবাদ এই দশ সাহাবি সম্পর্কে হাদিসে প্রচুর বর্ণনা রয়েছে। তাদের মর্যাদা সম্পর্কে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন- আবু বকর জান্নাতি, উমর জান্নাতি, উসমান জান্নাতি, আলী জান্নাতি, তালহা জান্নাতি, যুবাইর জান্নাতি, আবদুর রহমান জান্নাতি, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস জান্নাতি, সাঈদ ইবনে যায়েদ জান্নাতি এবং আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা.)। -তিরমিজি

হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব (রা.) বলেন, আবু বকর, উমর, আলী, তালহা, যুবাইর, সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস, আবদুর রহমান বিন আওফ এবং সাঈদ বিন যায়েদ লড়াইয়ের ময়দানে রাসূল (সা.)-এর সামনে প্রথম সারিতে থাকতেন এবং নামাজের মধ্যে রাসূলের পিছনেই থাকতেন।

১৬ দিন পর দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানালেন সালমা

কয়েক দিন ধরে শোনা যাচ্ছিল, ‘ক্লোজআপ ওয়ান তারকা’ মৌসুমি আক্তার সালমা আবার বিয়ে করতে যাচ্ছেন। পারিবারিকভাবে নাকি তাঁর জন্য পাত্রও দেখা হচ্ছিল। এ নিয়ে সালমা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিবৃতিও দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সালমা সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান, তিনি আবার বিয়ে করেছেন। আর প্রথম আলোকে জানালেন, গত ৩১ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে সালমার ধানমন্ডির বাসায় এই বিয়ের কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। পাত্র ময়মনসিংহ হালুয়াঘাটের সানাউল্লাহ নূরে সাগর, ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী।

সালমা জানান, প্রেম নয়, দুই পরিবারের সম্মতিতেই তাঁদের বিয়ে হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর তাঁর বাসায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বামী সানাউল্লাহ আবার লন্ডনে ফিরে গেছেন। চার মাস পর তাঁর স্বামী ‘বার অ্যাট ল’ শেষ করে দেশে ফিরবেন। স্বামী দেশে ফিরলে দ্বিতীয় বিয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন।

Eprothom Aloগানের শিল্পী সালমা বলেন, ‘নতুন স্বামী তাঁর গান পছন্দ করেন। শুধু তা-ই নয়, পরিবারের অন্যদেরও নাকি তাঁর গান নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।

সালমা বলেন, সংসারজীবনে দুজন মানুষের মধ্যে বিশ্বাস, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা থাকা দরকার। এই সবকিছুর সমন্বয় হলে দাম্পত্য জীবন সুখের হয়। এসবগুলো সালমা তাঁর স্বামী সানাউল্লাহর মধ্যে দেখেছেন।

সালমা ও সানাউল্লাহ নূর
সালমা ও সানাউল্লাহ নূর
কুষ্টিয়ার মেয়ে মৌসুমি আক্তার সালমা সংগীত রিয়্যালিটি শো ‘ক্লোজআপ-তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’-এর দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন। এরপর কয়েকটি লোকগান গেয়ে সালমা ব্যাপক পরিচিতি পান। ২০১১ সালে শিবলী সাদিককে বিয়ে করেন সালমা। শিবলী সংগীত পরিবারের ছেলে হলেও পিতার উত্তরসূরি হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ২০১২ সালে ১ জানুয়ারি তাদের সংসারে কন্যা সন্তান স্নেহার জন্ম। সাংসারিক দ্বন্দ্বের কারণে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

কন্যা সন্তান মহান আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে মাতা-পিতার জন্য শ্রেষ্ট নেয়ামত

কন্যা সন্তান মহান আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে মাতা-পিতার জন্য একটি বিশেষ শ্রেষ্ট নেয়ামত। কন্যা সন্তানকে অশুভ মনে করা কাফিরদের বদস্বভাব। কন্যা সন্তানকে অপছন্দ করা খাটি মুমিনের পরিচায়ক নয়। কন্যা সন্তান অশুভ নয়, অকল্যানকর নয়। বরং কন্যা সন্তান জন্ম নেয়া খোশ কিসমতী ও সৌভাগ্যের নিদর্শন।

হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে,

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ঐ স্ত্রী স্বামীর জন্য অধিক বরকতময়, যার দেন-মোহরের পরিমান কম হয় এবং যার প্রথম সন্তান হয় মেয়ে।” রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো ইরশাদ করেন, “যার গৃহে কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করল, অতঃপর সে তাকে (কন্যাকে) কষ্টও দেয়নি, তার উপর অসন্তুষ্ট ও হয়নি এবং পুত্র সন্তানকে প্রাধান্য দেয়নি, তাহলে ঐ কন্যার কারনে আল্লাহ তা’য়ালা তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন।” (মুসনাদে আহমদ, ১:২২৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন,” যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা সন্তান হবে, এবং সে তাদেরকে এলেম-কালাম, আদব-কায়দা শিক্ষা দিবে, এবং যত্নের সাথে প্রতিপালন করবে ও তাদের উপর অনুগ্রহ করবে, সে ব্যক্তির উপর অবশ্যই জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। উল্লেখিত বর্ণনা দ্বারা প্রমানিত হয় যে, কন্যা সন্তান আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নেয়ামত। সুতারাং-

কন্যা সন্তানকে বেশী করে ভালবাসুন। আদর-সোহাগ করুন আর মায়া-মমতা দিয়ে লালন-পালন করুন। সে তো আপনার কলিজার টুকরার টুকরো, দেহের এক বিশেষ অংশ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অসীম বানীর প্রতি লক্ষ্য রেখে কন্যা সন্তানকে পুত্রের চাইতে ও বেশী আদর যত্ন করুন। এখানে একটি বিষয় আলোচ্য হলো, কন্যা সন্তান আল্লাহ মহান প্রদত্ত নেয়ামত ঠিক কিন্তু পুত্র সন্তানও কিন্তু কোনো অংশে কম নয়। এই আলাচেনার উদ্দেশ্য হচ্ছে, কন্যা সন্তানের প্রতি বিরুপ মানসিকতা পরিহার করা। একমাত্র ছেলে সন্তানের কামনায় কন্যা সন্তানকে অবহেলার পাত্র না বনানো।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র কোরান ও হাদিসের বর্ণনা মেনে কন্যা সন্তানকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রদত্ত নেয়ামত করার এবং কন্যা সন্তানের সাথে ব্যবহার করার, নায্য প্রাপ্ত প্রদান করার ব্যাপারে কন্যা সন্তানকে উপযুক্ত-

মর্যাদা প্রদান করার তাওফিক দান করুন। আমিন।-জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯১২ অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন- مَنْ كَانَ لَهُ ثَلاَثُ بَنَاتٍ أَوْ ثَلاَثُ أَخَوَاتٍ أَوْ ابْنَتَانِ أَوْ أُخْتَانِ فَأَحْسَنَ صُحْبَتَهُنّ وَاتّقَى اللّهَ فِيهِنّ فَلَهُ الجَنّةُ. যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা সন্তান বা তিনজন বোন আছে অথবা দু’জন কন্যা সন্তান বা বোন আছে। সে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করেছে এবং তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করেছে। তার জন্য রয়েছে জান্নাত।

জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯১৬ দেখুন, এ ফযীলতের কথা পুত্র সন্তানের বেলায় বলা হয়নি। বরং কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। এজন্য আমাদের উচিত কন্যা সন্তানের লালনপালন সন্তুষ্টচিত্তে করা। কন্যা সন্তান জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হযরত আয়েশা রাযিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَنْ ابْتُلِيَ بِشَيْءٍ مِنَ البَنَاتِ فَصَبَرَ عَلَيْهِنّ كُنّ لَهُ حِجَابًا مِنَ النّارِ. যে ব্যক্তিকে কন্যা সন্তান লালনপালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সে ধৈর্যের সাথে তা সম্পাদন করেছে সেই কন্যা সন্তান তার জন্য জাহান্নাম থেকে আড় হবে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯১৩ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গী হওয়া দেখুন! জান্নাতে প্রবেশ করার মাধ্যমও হল কন্যা সন্তানের লালনপালন করা। আবার জাহান্নাম থেকেও-

মুক্তি মিলবে কন্যা সন্তানের উত্তমরূপে প্রতিপালন করার দ্বারা। এর চেয়ে বড় আরেকটি ফযীলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আনাস রাযিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ دَخَلْتُ أَنَا وَهُوَ الجَنّةَ كَهَاتَيْنِ، وَأَشَارَ بِإصْبعَيْهِ. যে ব্যক্তি দুইজন কন্যা সন্তানকে লালনপালন ও দেখাশুনা করল [বিয়ের সময় হলে ভাল পাত্রের কাছে বিবাহ দিল] সে এবং আমি জান্নাতে এরূপ একসাথে প্রবেশ করব যেরূপ এ দুটি আঙুল। তিনি নিজের দুই আঙুল মিলিয়ে দেখালেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯১৪ কন্যা সন্তান প্রতিপালনের তিনটি ফযীলত সকল ফযীলতের সারমর্ম হল তিনটি জিনিস।

এক. আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন। দুই. জান্নাত দান করবেন। যা নিআমত ও আরাম আয়েশের স্থান। তিন. আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য দান করবেন। যা সফলতার সর্বোচ্চ চূড়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ তিনটি ফযীলত বর্ণনা করেছেন কন্যা সন্তান লালনপালনকারীদের জন্য। কন্যা সন্তানের জন্মে অধিক আনন্দ প্রকাশ করা ইসলামের শিক্ষা হল, কন্যা সন্তান জন্ম নিলে আনন্দ প্রকাশ করা; তাইতো কন্যা জন্মের সংবাদকে ‘সুসংবাদ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। আর সুসংবাদ শুনে মানুষ আনন্দই প্রকাশ করে।

এজন্য অনেক উলামায়ে কেরাম লেখেন, যেহেতু কন্যা সন্তান জন্মানোর কারণে নিজেকে ছোট মনে করা, একে অপমান ও অসম্মানের কারণ মনে করা কাফিদের কর্মপন্থা, তাই মুসলমানগণের উচিত, তারা কন্যা সন্তানের জন্মের কারণে অধিক খুশি ও আনন্দ প্রকাশ করবে। যাতে কাফিরদের এ নিচু রীতির প্রতিবাদ হয় এবং এ রীতি যেন বিলুপ্ত হয়ে যায়। কন্যা সন্তানের হকসমূহ কন্যা সন্তানের লালনপালনের ফযীলত বর্ণনার পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কন্যা সন্তানের হকসমূহও বর্ণনা করেছেন।

জাহেলী যুগে এ হকসমূহ থেকে কন্যা সন্তানকে বঞ্চিত করা হত। আজকালও তাদের হকসমূহ আদায়ের ব্যাপারে অবহেলা করা হয়। এজন্য তাদের হকগুলো বুঝে নেওয়া জরুরি। যেন এ ব্যাপারে আমাদের অবহেলা না হয়। ভালবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা কারো পুত্র সন্তানের প্রতি ভালবাসা বেশি আবার কারো কন্যা সন্তানের প্রতি।

যে আমল করলে আয় রোজগার বাড়ে

আয় বৃদ্ধি, রিযিকের স্বচ্ছলতা বা সংকীর্ণতা এক রহস্যঘেরা বিষয়। অনেকেই মনে করেন, রিযিক হচ্ছে অর্থকড়ি ও বিপুল ধন-ঐশ্বর্য। কিন্তু, সঠিক হলো রিযিক একটি ব্যাপক পরিধিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

এর মাঝে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সুস্বাস্থ্য, বুদ্ধিমত্তা, সময় ও জীবনের বরকত, সন্তান-সন্ততি ও তাদের সুস্থতা এবং সার্বিক কল্যাণ-উন্নতি। আর এ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণই কেবল আল্লাহর হাতে। মহান রাবুল আলামিন তার সমগ্র সৃষ্টিকূলকে রিযিক দান করেন, তাই তিনি তার মহান গুণবাচক একটি নামও ধারণ করেছেন আর-রাজ্জাক।

আর তিনিই সমস্ত রিযিকের উৎস এবং একমাত্র রিযিকদাতা- এ বিশ্বাস আমাদের আকিদার অংশ। তবে এসব বান্দা লাভ করে তার জন্য বরাদ্দ উপায়-উপকরণগুলোর মাধ্যমে। তাই আমাদের কর্তব্য হলো হাত গুটিয়ে বসে না থেকে এর জন্য র্নিধারিত উপায়-উপকরণ সংগ্রহে চেষ্টা করা। যেমন চাষাবাদ, ব্যবসায়-বাণিজ্য, শিল্প-চারু, চাকরি-বাকরি বা অন্য কিছু।

আল্লাহ তা‌‘আলা বলেন- ﴿هُوَ ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلۡأَرۡضَ ذَلُولٗا فَٱمۡشُواْ فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُواْ مِن رِّزۡقِهِۦۖ وَإِلَيۡهِ ٱلنُّشُورُ ١٥﴾ ‘তিনিই তো তোমাদের জন্য যমীনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর রিযক থেকে তোমরা আহার কর। আর তাঁর নিকটই পুনরুত্থান।’ (সূরা আল-মুলক, আয়াত : ১৫)

আয়-রোজগার বৃদ্ধি পাক, জীবনে স্বচ্ছলতা আসুক, অন্তত প্রয়োজন পরিমাণ রিযিক আমার থাকুক- এ কামনা সবার। তবে ব্যক্তিভেদে সবার নিয়্যত এক নয়। বহু মানুষ- যারা দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত হওয়ার জন্য রিযিক কামনা করেন, এ লেখা তাদের জন্য নয়। এ লেখা তাদের জন্য যারা প্রশান্তচিত্তে এক আল্লাহতে সমর্পিত হয়ে থাকতে প্রয়োজন পরিমাণ হালাল রিযিক কামনা করেন।

রিযিকে স্বচ্ছলতা কামনার পেছনে একজন মুসলমানের যে নিয়ত থাকতে পারে— তার নিয়ত হতে পারে তার উপর তার পরিবারের আল্লাহ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব ও অধিকারগুলো আদায় করা। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী এবং বিশ্বের অপরাপর মুসলমানদের ও বিশেষত আল্লাহর যমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের মেহনতে সাহায্য করা।

বেশি বেশি দান-খয়রাত করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং সর্বোপরি ইসলামী সমাজকে সর্বোচ্চে তুলে ধরা। আসলে একজন মুসলমানের সম্পদ উপার্জন ও রিযিক কামনার নেপথ্যে এমন নিয়্যতই থাকা উচিত এবং তার ব্যয়ও হওয়া উচিত এসব বৃহৎ স্বার্থেই।

কি কি আমল করলে আয় বাড়ে – আজ আমরা এর উপায়সমূহের মধ্যে কুরআন ও হাদীস থেকে ১৪টি আমলের কথা আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

প্রথম আমল : তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল অবলম্বন করা, আল্লাহর ভয় তথা তাকওয়া অবলম্বন করা, তাঁর নির্দেশাবলি পালন ও নিষিদ্ধ বিষয়গুলো বর্জন করা। পাশাপাশি আল্লাহর ওপর অটল আস্থা রাখা, তাওয়াক্কুল করা এবং রিজিক তালাশে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করা।

কারণ, যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجٗا ٢ وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ وَمَن يَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسۡبُهُۥٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَٰلِغُ أَمۡرِهِۦۚ قَدۡ جَعَلَ ٱللَّهُ لِكُلِّ شَيۡءٖ قَدۡرٗا ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ (সূরা আত-তালাক, আয়াত : ২-৩)

অর্থাৎ যে আল্লাহকে ভয় করবে এবং আনুগত্য দেখাবে, আল্লাহ তার সকল সংকট দূর করে দেবেন এবং তার কল্পনাতীত স্থান থেকে রিজিকের সংস্থান করে দেবেন। আর যে কেউ তার উদ্দেশ্য হাসিলে একমাত্র আল্লাহর শরণাপন্ন হয় তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। বলাবাহুল্য এই তাকওয়ার পরিচয় মেলে হালাল উপার্জনে চেষ্টা এবং সন্দেহযুক্ত কামাই বর্জনের মধ্য দিয়ে।

দ্বিতীয় আমল : তাওবা ও ইস্তেগফার করা, অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার এবং বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও রিজিক বাড়ে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর অন্যতম নবী ও রাসূল নূহ আলাইহিস সালামের ঘটনা তুলে ধরে ইরশাদ করেন, ﴿ فَقُلۡتُ ٱسۡتَغۡفِرُواْ رَبَّكُمۡ إِنَّهُۥ كَانَ غَفَّارٗا ١٠ يُرۡسِلِ ٱلسَّمَآءَ عَلَيۡكُم مِّدۡرَارٗا ١١ وَيُمۡدِدۡكُم بِأَمۡوَٰلٖ وَبَنِينَ وَيَجۡعَل لَّكُمۡ جَنَّٰتٖ وَيَجۡعَل لَّكُمۡ أَنۡهَٰرٗا ١٢ ﴾ (نوح: ١٠، ١٢)

‘আর বলেছি, ‘তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল’। (তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলে) ‘তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ‘আর তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা’। (সূরা নূহ, আয়াত : ১০-১২)

হাদীসে বিষয়টি আরেকটু খোলাসা করে বলা হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُ ».

‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের সংস্থান করে দেবেন।’ (আবূ দাঊদ : ১৫২০; ইবন মাজা : ৩৮১৯; তাবরানী : ৬২৯১)(1)

অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, مَنْ أَكْثَرَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَمِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُ ‘যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।’ (বাইহাকী : ৬৩৬; হাকেম, মুস্তাদরাক : ৭৬৭৭ সহীহ সূত্রে বর্ণিত।)

তৃতীয় আমল: আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা
আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের হক আদায়ের মাধ্যমেও রিজিক বাড়ে। যেমন : আনাস ইবন মালেক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি ইরশাদ করেন, مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ أَوْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ ‘যে ব্যক্তি কামনা করে তার রিজিক প্রশস্ত করে দেওয়া হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বুখারী : ৫৯৮৫; মুসলিম : ৪৬৩৯)

চতৃর্থ আমল : নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পড়া

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠেও রিজিকে প্রশস্ততা আসে। যেমনটি অনুমিত হয় নিম্নোক্ত হাদীস থেকে। তোফায়েল ইবন উবাই ইবন কা‘ব রাদিআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন,
قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّى أُكْثِرُ الصَّلاَةَ عَلَيْكَ فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلاَتِى فَقَالَ « مَا شِئْتَ ». قَالَ قُلْتُ الرُّبُعَ. قَالَ « مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ». قُلْتُ النِّصْفَ. قَالَ « مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ». قَالَ قُلْتُ فَالثُّلُثَيْنِ. قَالَ « مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ». قُلْتُ أَجْعَلُ لَكَ صَلاَتِى كُلَّهَا. قَالَ « إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ ». قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ.

আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার প্রতি অধিকহারে দরূদ পড়তে চাই, অতএব আমার দু‘আর মধ্যে আপনার দরূদের জন্য কতটুকু অংশ রাখব? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। কা‘ব বলেন, আমি বললাম, এক চতুর্থাংশ। তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে যদি তুমি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, অর্ধেক? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও।

তবে তুমি যদি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। কা‘ব বলেন, আমি বললাম, তাহলে দুই তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, আমার দু‘আর পুরোটা জুড়েই শুধু আপনার দরূদ রাখব। তিনি বললেন, তাহলে তা তোমার ঝামেলা ও প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (তিরমিযী : ২৬৪৫; হাকেম, মুস্তাদরাক : ৭৬৭৭ (আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি ‘হাসান’ সহীহ।)

পঞ্চম আমল : আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা

আল্লাহর রাস্তায় কেউ ব্যয় বা দান করলে তা বিফলে যায় না। সে সম্পদ ফুরায়ও না। বরং তা বাড়ে বৈ কি। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- قُلۡ إِنَّ رَبِّي يَبۡسُطُ ٱلرِّزۡقَ لِمَن يَشَآءُ مِنۡ عِبَادِهِۦ وَيَقۡدِرُ لَهُۥۚ وَمَآ أَنفَقۡتُم مِّن شَيۡءٖ فَهُوَ يُخۡلِفُهُۥۖ وَهُوَ خَيۡرُ ٱلرَّٰزِقِينَ ٣٩
‘বল, ‘নিশ্চয় আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযক প্রশস্ত করেন এবং সঙ্কুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় কর তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিযকদাতা।’ (সূরা আস-সাবা’, আয়াত : ৩৯)

ষষ্ঠ আমল : বারবার হজ-উমরা করা

হজ ও উমরা পাপ মোচনের পাশাপাশি হজকারী ও উমরাকারীর অভাব-অনটন দূর করে এবং তার সম্পদ বাড়িয়ে দেয়। আবদুল্লাহ ইব্ন মাসঊদ রাদিআল্লাহু আনহুমা কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِى الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُورَةِ ثَوَابٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ

‘তোমরা হজ ও উমরা পরপর করতে থাক, কেননা তা অভাব ও গুনাহ দূর করে দেয়, যেমন দূর করে দেয় কামারের হাপর লোহা, সোনা ও রুপার ময়লাকে।’ (তিরমিযী : ৮১৫; নাসাঈ : ২৬৩১)

সপ্তম আমল: দুর্বলের প্রতি সদয় হওয়া বা সদাচার করা

মুস‘আব ইবন সা‘দ রাদিআল্লাহু আনহু যুদ্ধজয়ের পর মনে মনে কল্পনা করলেন, তিনি বোধ হয় তাঁর বীরত্ব ও শৌর্য-বীর্য হেতু অন্যদের চেয়ে নিজেকে বেশি মর্যাদাবান। সেই প্রেক্ষিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- هَلْ تُنْصَرُونَ وَتُرْزَقُونَ إِلاَّ بِضُعَفَائِكُمْ ‘তোমাদের মধ্যে থাকা দুর্বলদের কারণে কেবল তোমাদের সাহায্য করা হয় এবং রিজিক প্রদান করা হয়।’ (বুখারী : ২৮৯৬)

অষ্টম আমল: ইবাদতের জন্য ঝঞ্ঝাটমুক্ত হওয়া

আল্লাহর ইবাদতের জন্য ঝামেলামুক্ত হলে এর মাধ্যমেও অভাব দূর হয় এবং প্রাচুর্য লাভ হয়। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু কর্তৃক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ يَا ابْنَ آدَمَ تَفَرَّغْ لِعِبَادَتِى أَمْلأْ صَدْرَكَ غِنًى وَأَسُدَّ فَقْرَكَ وَإِلاَّ تَفْعَلْ مَلأْتُ يَدَيْكَ شُغْلاً وَلَمْ أَسُدَّ فَقْرَكَ ‘আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি ঝামেলামুক্ত হও, আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না কর, তবে তোমার হাত ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব দূর করব না।’ (তিরমিযী : ২৬৫৪; মুসনাদ আহমদ : ৮৬৮১; ইবন মাজা : ৪১০৭)

নবম আমল: আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করা

আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে হিজরত তথা স্বদেশ ত্যাগ করলে এর মাধ্যমেও রিজিকে প্রশস্ততা ঘটে। যেমনটি অনুধাবিত হয় নিচের আয়াত থেকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
وَمَن يُهَاجِرۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ يَجِدۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ مُرَٰغَمٗا كَثِيرٗا وَسَعَةٗۚ وَمَن يَخۡرُجۡ مِنۢ بَيۡتِهِۦ مُهَاجِرًا إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ثُمَّ يُدۡرِكۡهُ ٱلۡمَوۡتُ فَقَدۡ وَقَعَ أَجۡرُهُۥ عَلَى ٱللَّهِۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورٗا رَّحِيمٗا

‘আর যে আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করবে, সে যমীনে বহু আশ্রয়ের জায়গা ও সচ্ছলতা পাবে। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে মুহাজির হয়ে নিজ ঘর থেকে বের হয় তারপর তাকে মৃত্যু পেয়ে বসে, তাহলে তার প্রতিদান আল্লাহর উপর অবধারিত হয়। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত : ১০০)

আয়াতের ব্যাখ্যা আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস প্রমুখ সাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুদ বলেন, স্বচ্ছলতা অর্থ রিজিকে প্রশস্ততা।

দশম আমল: আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা

সাধারণভাবে আল্লাহ যে রিজিক ও নিয়ামতরাজি দান করেছেন তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া করা এবং তাঁর স্তুতি গাওয়া। কারণ, শুকরিয়ার ফলে নেয়ামত বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, ﴿ وَإِذۡ تَأَذَّنَ رَبُّكُمۡ لَئِن شَكَرۡتُمۡ لَأَزِيدَنَّكُمۡۖ وَلَئِن كَفَرۡتُمۡ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٞ ٧ ﴾

‘আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আযাব বড় কঠিন।’ (সূরা ইবরাহীম, আয়াত : ০৭)

আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা শুকরিয়ার বদৌলতে নেয়ামত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আর বলাবাহুল্য আল্লাহর বাড়ানোর কোনো সীমা-পরিসীমা নাই।

দ্বাদশ আমল : বিয়ে করা

আজকাল মানুষের দুনিয়ার প্রাচুর্য ও বিলাসের প্রতি আসক্তি এত বেশি বেড়েছে, তারা প্রচুর অর্থ নেই এ যুক্তিতে প্রয়োজন সত্ত্বেও বিয়ে বিলম্বিত করার পক্ষে রায় দেন। তাদের কাছে আশ্চর্য লাগতে পারে এ কথা যে বিয়ের মাধ্যমেও মানুষের সংসারে প্রাচুর্য আসে। কারণ, সংসারে নতুন যে কেউ যুক্ত হয়, সে তো তার জন্য বরাদ্দ রিজিক নিয়েই আসে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, ﴿ وَأَنكِحُواْ ٱلۡأَيَٰمَىٰ مِنكُمۡ وَٱلصَّٰلِحِينَ مِنۡ عِبَادِكُمۡ وَإِمَآئِكُمۡۚ إِن يَكُونُواْ فُقَرَآءَ يُغۡنِهِمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٞ ٣٢ ﴾ (النور : ٣٢)

‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।’ (সূরা আন-নূর, আয়াত : ৩২)

উমর ইবন খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহুমা বলতেন, ওই ব্যক্তির ব্যাপার বিস্ময়কর যে বিয়ের মধ্যে প্রাচুর্য খোঁজে না। কারণ স্বয়ং আল্লাহ বলেছেন, ‘তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন।’

ত্রয়োদশ আমল : অভাবের সময় আল্লাহমুখী হওয়া এবং তার কাছে দু‘আ করা

রিজিক অর্জনে এবং অভাব দূরীকরণে প্রয়োজন আল্লাহর কাছে দু‘আ করা। কারণ, তিনি প্রার্থনা কবুল করেন। আর আল্লাহ তা‘আলাই রিজিকদাতা এবং তিনি অসীম ক্ষমতাবান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَقَالَ رَبُّكُمُ ٱدۡعُونِيٓ أَسۡتَجِبۡ لَكُمۡۚ “আর তোমাদের রব বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব।” (সূরা আল-মু‘মিন, আয়াত : ৬০)

এ আয়াতে আল্লাহ দু‘আ করার নির্দেশ দিয়েছেন আর তিনি তা কবুলের জিম্মাদারি নিয়েছেন। যাবৎ না তা কবুলে পথে কোনো অন্তরায় না হয়। যেমন ওয়াজিব তরক করা, হারাম কাজে জড়ানো, হারাম আহার গ্রহণ বা হারাপ পরিচ্ছদ পরা ইত্যাদি এবং কবুলকে খানিক বিলম্বিতকরণ। আল্লাহর কাছে দু‘আয় বলা যেতে পারে-
‘হে রিজিকদাতা আমাকে রিজিক দান করুন, আপনি সর্বোত্তম রিজিকদাতা।

হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে পবিত্র সুপ্রশস্ত রিজিক চাই। হে ওই সত্তা, দানের ঢল সত্ত্বেও যার ভাণ্ডারে কমতি হয় না। হে আল্লাহ, আমাকে আপনি আপনার হালাল দিয়ে আপনার হারাম থেকে যথেষ্ট করে দিন আর আপনার দয়া দিয়ে আপনি ছাড়া অন্যদের থেকে যথেষ্ট হয়ে যান। হে আল্লাহ আপনি আমাকে যে রিজিক দিয়েছেন তা দিয়েই সন্তুষ্ট বানিয়ে দিন। আর যা আমাকে দিয়েছেন তাতে বরকত দিন।’

অভাবকালে মানুষের কাছে হাত না পেতে আল্লাহর শরণাপন্ন হলে এবং তাঁর কাছেই প্রাচুর্য চাইলে অবশ্যই তার অভাব মোচন হবে এবং রিজিক বাড়ানো হবে। আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, « مَنْ نَزَلَتْ بِهِ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِالنَّاسِ لَمْ تُسَدَّ فَاقَتُهُ وَمَنْ نَزَلَتْ بِهِ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِاللَّهِ فَيُوشِكُ اللَّهُ لَهُ بِرِزْقٍ عَاجِلٍ أَوْ آجِلٍ ».

‘যে ব্যক্তি অভাবে পতিত হয়, অতপর তা সে মানুষের কাছে সোপর্দ করে (অভাব দূরিকরণে মানুষের ওপর নির্ভরশীল হয়), তার অভাব মোচন করা হয় না। পক্ষান্তরে যে অভাবে পতিত হয়ে এর প্রতিকারে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হয় তবে অনিতবিলম্বে আল্লাহ তাকে তরিৎ বা ধীর রিজিক দেবেন। (তিরমিযী : ২৮৯৬; মুসনাদ আহমদ : ৪২১৮)

চতুর্দশ আমল: গুনাহ ত্যাগ করা, আল্লাহর দীনের ওপর সদা অটল থাকা এবং নেকীর কাজ করে যাওয়া
গুনাহ ত্যাগ করা, আল্লাহর দীনের ওপর অটল থাকা এবং নেকীর কাজ করা- এসবের মাধ্যমেও রিজিকের রাস্তা প্রশস্ত হয় যেমন পূর্বোক্ত আয়াতগুলো থেকে অনুমান করা যায়।

তবে সর্বোপরি আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা দুনিয়াতে চিরদিন থাকার জন্য আসি নি। তাই দুনিয়াকে প্রাধান্য না দিয়ে উচিত হবে আখিরাতকে অগ্রাধিকার ও প্রাধান্য দেয়া। আমাদের এদেন অবস্থা দেখে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ بَلۡ تُؤۡثِرُونَ ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا ١٦ وَٱلۡأٓخِرَةُ خَيۡرٞ وَأَبۡقَىٰٓ ١٧ ﴾ (الاعلى: ١٦، ١٧)

‘বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দিচ্ছ। অথচ আখিরাত সর্বোত্তম ও স্থায়ী।’ (সূরা আল-আ‘লা, আয়াত : ১৬-১৭

আর পরকালের মুক্তি ও চিরশান্তিই যার প্রধান লক্ষ্য তার উচিত হবে রিজিকের জন্য হাহাকার না করে অল্পে তুষ্ট হতে চেষ্টা করা। যেমন : হাদীসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আ‘স রাদিআল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَمَ وَرُزِقَ كَفَافًا وَقَنَّعَهُ اللَّهُ بِمَا آتَاهُ ».

‘ওই ব্যক্তি প্রকৃত সফল যে ইসলাম গ্রহণ করেছে আর তাকে জীবন ধারণে (অভাবও নয়; বিলাসও নয়) পর্যাপ্ত পরিমাণ রিজিক দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তাতে তুষ্টও করেছেন। (মুসলিম : ২৪৭৩; তিরমিযী : ২৩৪৮; আহমদ : ৬৫৭২)

পরিশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের এসব উপায়-উপকরণ যোগাড় করে রিজিক তথা হালাল উপার্জনে উদ্যোগী ও সফল হবার তাওফীক দান করেন। তিনি যেন আপনাদের রিজিক ও উপার্জনে প্রশস্ততা দান করেন। আমীন।

পুরুষের যৌবন ক্ষমতা বাড়াবে ১ টুকরো আদা! কিন্তু কখন কিভাবে খাবেন

পুরুষের যৌবন ক্ষমতা বাড়াবে ১ টুকরো আদা! কিন্তু কখন কিভাবে খাবেন? আদা ছাড়া বাঙালির রান্নাঘর ভাবাই যায় না। সুস্বাদু রান্নার জন্য রান্না ঘরে আদা চাই-ই চাই। কিন্তু আদা শুধু খাবারের স্বাদ ও গন্ধ বাড়ায় না, এক টুকরো আদা পুরুষের যৌবন ক্ষমতা বাড়িয়ে জীবনও বদলে দিতে পারে। কি বিশ্বাস হচ্ছে না তো!

নিয়মিত আদা খেলে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ে। সহজেই স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি করে আদা।প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক উপাদানে ভরপুর আদা। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস করলে ছোটখাটো অনেক রোগের হাত থেকেই মুক্তি মেলে।

.

দুর্বল লাগছে? কারণ, যাই হোক এক টুকরো আদা খেয়ে নিন। অনেকটা শক্তি পাবেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, জানুন দুর্বলতার কারণ।নিয়মিত আদা খেলে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ে। সহজেই স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি করে আদা।

প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক উপাদানে ভরপুর আদা। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস করলে ছোটখাটো অনেক রোগের হাত থেকেই মুক্তি মেলে।

দুর্বল লাগছে? কারণ, যাই হোক এক টুকরো আদা খেয়ে নিন। অনেকটা শক্তি পাবেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, জানুন দুর্বলতার কারণ।

সত্যিকার ‘বড়লোক’দের আচরণ এমনই হয়

বিল গেটস এই মুহূর্তে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী। তার মোট সম্পদের আর্থিক মূল্য ৯ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। বাংলাদেশের দুই বছরের মোট জাতীয় বাজেটের সমান প্রায়। তিনি চাইলে দুটো বাংলাদেশে কিনে ফেলতে পারবেন।

মানবেতিহাসের সবচেয়ে বড় দাতব্য প্রতিষ্ঠান বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনও তারই। সে হিসেবে তিনিই সবচেয়ে বড় দানবীরও বটে।

অথচ সেই তিনিই কিনা সামান্য একটি বার্গার, ফ্রাইস এবং কোক কেনার জন্য সাধারণ মানুষদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়েছেন!

আসলে সত্যিকার ধনী অর্থাৎ যারা সম্পদ ও মন উভয় দিকে থেকেই বড়লোক বা অভিজাত তাদের আচরণ এমন বিনয়মূলকই হয়। কারণ এরা মূলত জ্ঞান-বিজ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মধ্যদিয়েই শুধু বড়লোক বা অভিজাত হয়েছেন; অন্য কোনোভাবে নয়।

সত্যিকার বড়লোক বা অভিজাতরা কখনো সোনা দিয়ে মোড়ানো টয়লেট সিট বানিয়ে নিজের ‘বড়লোকি’ প্রদর্শণ করেন না। জনগণ তথা সরকারি সম্পদের অপব্যবহার করে ‘বড়লোকি’ দেখান না। সরকারের দেয়া গাড়ি, বাড়ি, কর্মচারি এবং ভিআইপি প্রটোকল নিয়ে ‘বড়লোকি’ দেখান না। এবং সুখি হওয়ার ভুয়া হাসি হাসেন না।

অথচ ‘নিম্নরুচি’র ‘বড়লোকিই’ বেশি প্রদর্শণ করতে দেখা যায় তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে। বিশেষ করে যেসব দেশ এখনো মধ্যযুগীয় ধরনের রাজতন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্র থেকে মুক্তি পায়নি। যেসব দেশে এখনো সত্যিকার গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বিল গেটসদের মতো বড়লোকরা নিজেদের সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেন। অন্যদিকে, তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশেই এখনো বড়লোকরা শুধু তাদের নিজেদের জনগণকে শোষণ-নিপীড়ন করেই আরো ‘বড়লোক’ হয়ে ওঠেন; জ্ঞান-বিজ্ঞান, দক্ষতা, পেশাদারিত্বের মধ্য দিয়ে নয়।

যে ৫টি খাবার মেয়েদের যৌন ইচ্ছা বাড়ায়

সাম্প্রতিক পরীক্ষা বলছে, সেক্স নারীর সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে অন্তত একবার সেক্স করা উচিত। তাতে আয়ু বাড়ে। শরীর ভালো থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ক্ষতিকারক জীবাণুদের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। খাদ্যতালিকায় ৫টি খাবার যোগ করলে বাড়তে পারে সেক্স করার স্বাভাবিক ইচ্ছে, বাড়তে পারে উত্তেজনা। সেইসঙ্গে শরীরটাও ভালো থাকে।

চকোলেট

চকোলেটে রয়েছে কোকোবিন, যা যৌনইচ্ছা বাড়ায়। রয়েছে ফেনিলিথাইলামিন। এই উপাদানটি এন্ডোফিন হরমোন নিঃসরণে বৃদ্ধি ঘটায়। ফলত, সেক্সের চাহিদা বাড়ে। চকোলেট শরীরে ডোপামাইন তৈরি করে, যা কিনা মহিলাদের অরগ্যাজ়মের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিউট্রিশনিস্টদের বক্তব্য, দুধে তৈরি চকোলেটের চেয়ে ডার্ক চকোলেট বেশি কার্যকরী। কেননা, ডার্ক চকোলেটে কোকোর পরিমাণ বেশি।

চিজ

হরমোনের সঠিক পরিমাণে নিঃসরণ হওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া একান্ত জরুরি। এতে মহিলাদের সেক্স হরমোনও সঠিক পরিমাণে নিঃসরিত হতে পারে। সেক্স ড্রাইভ বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রোটিনে ভরপুর খাবার অত্যন্ত কার্যকরী। সেক্ষেত্রে চিজ খেতে পারেন নিয়ম করে। এছাড়াও, মাছ, মাংস, ডিম খান।

বাদাম

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ভেজানো কাঠ বাদাম (আমন্ড) খেয়ে নিন। স্বাস্থ্য ভালো হওয়ার পাশাপাশি আপনার সেক্স ড্রাইভও বাড়বে। বাদামে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। বাড়ে এনার্জি।

অ্যাভোকাডো

স্বাস্থ্যকর মোনোস্যাচুরেটেড অ্যাসিড ও ভিটামিন B6-এ ভরপুর অ্যাভোকাডো এনার্জি ও সেক্স ড্রাইভ দুটোই বাড়াতে পারে বলে মনে করেন নিউট্রিশানিস্টরা। অ্যাভোকাডোয় রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি মুড বুস্ট করে। মিলনেচ্ছা বাড়ায়।

আদা

আদার অনেকগুণ। স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব উপকারী এই প্রাকৃতিক উপাদান। আদা মিলেনচ্ছা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সর্দিকাশি থেকে বাঁচায়। আদার গুণে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

সাম্প্রতিক পরীক্ষা বলছে, সেক্স নারীর সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে অন্তত একবার সেক্স করা উচিত। তাতে আয়ু বাড়ে। শরীর ভালো থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ক্ষতিকারক জীবাণুদের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। খাদ্যতালিকায় ৫টি খাবার যোগ করলে বাড়তে পারে সেক্স করার স্বাভাবিক ইচ্ছে, বাড়তে পারে উত্তেজনা। সেইসঙ্গে শরীরটাও ভালো থাকে।

চকোলেট

চকোলেটে রয়েছে কোকোবিন, যা যৌনইচ্ছা বাড়ায়। রয়েছে ফেনিলিথাইলামিন। এই উপাদানটি এন্ডোফিন হরমোন নিঃসরণে বৃদ্ধি ঘটায়। ফলত, সেক্সের চাহিদা বাড়ে। চকোলেট শরীরে ডোপামাইন তৈরি করে, যা কিনা মহিলাদের অরগ্যাজ়মের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিউট্রিশনিস্টদের বক্তব্য, দুধে তৈরি চকোলেটের চেয়ে ডার্ক চকোলেট বেশি কার্যকরী। কেননা, ডার্ক চকোলেটে কোকোর পরিমাণ বেশি।

চিজ

হরমোনের সঠিক পরিমাণে নিঃসরণ হওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া একান্ত জরুরি। এতে মহিলাদের সেক্স হরমোনও সঠিক পরিমাণে নিঃসরিত হতে পারে। সেক্স ড্রাইভ বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রোটিনে ভরপুর খাবার অত্যন্ত কার্যকরী। সেক্ষেত্রে চিজ খেতে পারেন নিয়ম করে। এছাড়াও, মাছ, মাংস, ডিম খান।

বাদাম

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ভেজানো কাঠ বাদাম (আমন্ড) খেয়ে নিন। স্বাস্থ্য ভালো হওয়ার পাশাপাশি আপনার সেক্স ড্রাইভও বাড়বে। বাদামে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। বাড়ে এনার্জি।

অ্যাভোকাডো

স্বাস্থ্যকর মোনোস্যাচুরেটেড অ্যাসিড ও ভিটামিন B6-এ ভরপুর অ্যাভোকাডো এনার্জি ও সেক্স ড্রাইভ দুটোই বাড়াতে পারে বলে মনে করেন নিউট্রিশানিস্টরা। অ্যাভোকাডোয় রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি মুড বুস্ট করে। মিলনেচ্ছা বাড়ায়।

আদা

আদার অনেকগুণ। স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব উপকারী এই প্রাকৃতিক উপাদান। আদা মিলেনচ্ছা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সর্দিকাশি থেকে বাঁচায়। আদার গুণে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

প্রমাণ করতে পারলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইব : ওমর সানী

একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন চিত্রনায়িকা আরিফা পারভিন মৌসুমী। এদিকে মৌসুমীর মনোনয়ন ফরম কেনাকে নিয়ে উঠতি গুজবের কড়া জবাব দিলেন মৌসুমীর স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী।

গতকাল বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন মৌসুমী। তবে অভিনেত্রীর মনোনয়ন ফরম কেনার পর থেকে নানা মহলে ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক গুজব। কোথাও এই অভিনেত্রীকে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জাসাস) নেত্রী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও আলোচনা হচ্ছে, স্বামী ওমর সানীর সমর্থনেই জাসাসের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন মৌসুমী।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী মৌসুমীর স্বামী ওমর সানী। ঢালিউডের এই অভিনেতা আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মৌসুমী জাসাসের প্রোগ্রামে গিয়েছিল। রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিএনপি ছিল, জাসাসের আমন্ত্রণে গিয়ে দেখে সেখানে তারেক রহমান। কিন্তু কোনো আমন্ত্রণে যাওয়া মানেই কিন্তু সেই দলের সদস্য হয়ে যাওয়া নয়। আমি চ্যালেঞ্জ করলাম, পৃথিবীর কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে মৌসুমী জাসাস করতো তাহলে আমি প্রকাশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে সকলের কাছে হাতজোড় করে মাফ চাইবো।’

ওমর সানী আরও বলেন, ‘যদি সেই অর্থে সদস্য বলেন, তাহলে রিয়াজ, পূর্ণিমা, অমিত হাসান, মিশা সবাই জাসাস করতো; আপনাদের সাংবাদিকের হিসেব অনুযায়ী এটাই তো হয় তাই না? রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা তাদের থাকে তাদের কিছু কিছু বিষয় উপেক্ষা করা যায় না। এটা দৃষ্টিকটু, ধৃষ্টতা। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ছবি রয়েছে। অনেক তারকার ছবি রয়েছে। আল্লাহ না-চাক কোনোদিন যদি অন্য সরকার আসে, সেই সময় একটা শ্রেণি এইসব ছবি নিয়ে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করবে। মৌসুমী জাসাস করেনি, তার কোথাও কোনো স্বাক্ষর কিংবা নাম দেখাতে পারবে না, এটা আমি চ্যালেঞ্জ করলাম। সকল সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ করলাম, পারলে আপনারা নাম দেখান।’

একটি শিক্ষামূলক পোস্ট, শালী মারা যাওয়ার পর লাশের …এমন সময় তার দুলাভাই…

শালী মারা যাওয়ার পর লাশের চার পাশে মহিলারা কুরআন তেলাওয়াত করতেছে। এমন সময় তার দুলাভাই এসে দাবি করল,”আমি আমার শালীকে শেষ গোসলটা করাইতে চাই!

এই কথা শুনে আশে পাশের মানুষ হামলে পড়ল, তারা দুলা ভাইকে বুঝিয়ে দিল, ফতোয়া কত প্রকার কি কি? একজন তো হেব্বি গরম হয়ে বলেই ফেলল, “মরার পরে শালীকার মুখ দেখাও নাজায়েয, আর তুই গোসল করাইতে চাস মানে!?”

এইবার দুলাভাই বলা শুরু করল, আমার শালীকা যখন জীবিত ছিলো, তখন কতবার হাত চেপে ধরছে ৫০০ টাকার জন্য, গলা জড়িয়ে ধরছে মেলায় যাওয়ার জন্য, আমার মটর সাইকেলের পিছনে উঠার জন্য, কত কি যে করেছে! তখন সবই জায়েজ ছিলো, আর মরার সাথে সাথে মুখ দেখাও নাজায়েজ হয়ে গেল?এতদিন কোথায় ছিল আপনাদের ফতোয়া??

তখন একজন বুঝিয়ে দিল, মৃত অবস্থার তুলনায় জীবিত থাকা অবস্থাতেই দুলা ভাইয়ের সামনে পর্দা মেইনটেইন করা অনেক বেশি জরুরী ছিল।

দুনিয়াতে জীবিত থাকা অবস্থায় তার জন্য পর্দা করা ফরজ ছিল। কিন্তু আজ যদি আপনি তার কাফনের ৫ টুকরা কাপড়ের উপরে আরও ৬ টুকরা এক্সট্রা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন, তাতে কোনো লাভ হবেনা।

আর মরা মানুষকে কুরআন তেলোয়াত শুনিয়ে লাভ কি? জীবিত থাকতে কেউ যদি কুরআন মেনে চলতে না পারে, তাহলে মরার পরে কুরআনকে তাবিজ বানিয়ে তার কবরে পাঠিয়ে দিলেও বিন্দু পরিমাণ লাভ হবে না।

আল কোরআন মরা মানুষের জন্য নাযিল হয় নাই! আল কোরআন নাযিল হয়েছে আমরা যারা জীবিত আছি তাদের হেদায়াতের জন্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক ভাবে দ্বীন বুঝার তৌফিক দান করুন — আমিন!