ব্যাংকার থেকে উদ্যোক্তা : তুলিকার সফলতার গল্প

নিজে ব্যাংকার, স্বামী চাকরী করেন প্রাইভেট কোম্পানিতে। সব মিলিয়ে ইসরাত জাহান চৌধুরীর সংসারটা বেশ সুখের। এই সুখটা আরো বেড়ে গিয়েছিল চিকিৎসকের কাছ থেকে সন্তান সম্ভাবনা হওয়ার খবর শুনে। সন্তানের নামও ঠিক হলো। নাম হবে তুলিকা। কিন্তু কথায় আছে, বেশি সুখের ভার নেয়া কঠিন। ইসরাত জাহানের জন্য এই ভার তীব্র হয়েছিল সন্তান কোলে আসার পর। এই অবস্থায় বাধ্য হয়ে চাকরি ছাড়তে হয় তাকে। আবার সন্তানের নামও তুলিকা রাখা হয়নি।

তবে যার হৃদয়ে অদম্য স্পৃহা তাকে দমায় কে? ইশরাত বলেন ‘আমার সন্তানের নাম তুলিকা রাখতে পারিনি সেই কষ্ট মনে ছিলো। তার উপরে সকলের অসহযোগিতায় চাকরি ছাড়লাম। এতে মনের কষ্ট আরো বেড়ে গেলো। ঢাকা রিজেন্সিতে কিছুদিন চাকরি করেও সুবিধা করতে পারিনি। তাই ভাবলাম এমন কিছু করবো যেটা আমার সংসার জীবনে কোনো সমস্যা তৈরি করবে না। সেই সাথে এর অর্থের যোগান দিতে কারো ধর্ণা দিতে হবে না। আর অবশ্যই সেই প্রতিষ্ঠানের নাম রাখবো ‘তুলিকা’।

ইশরাত নতুন কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে ২০১৫ সালে মাঠে নামেন। তার অনুপ্রেরণা তিনি নিজেই। কয়েকটা ব্যবসার কথা মাথায় এসেছিল। শেষ পর্যন্ত পাট পণ্য উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন। তবে হুট করেই ব্যবসা শুরু করেননি। ২ বছর এর বাজার ও পণ্য নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছিলেন। ‘আমি প্রথমে এই পণ্যের বাজার দেখেছি। যারা এই ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত তাদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। পাট পণ্যের আদি-অন্ত জেনেই ব্যবসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটাই আমার শেষ সুযোগ। আমার ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই কারণ এই ব্যবসায় আমাকে আমার শেষ পুঁজিটুকু বিনিয়োগ করতে হবে। এটা যদি হারাই তাহলে আমার হাতে আর কোনো সুযোগ থাকবে না। আমাদের সমাজে একজন ছেলের হাতে পরিবার দায়িত্ব দিতে পারে, কিন্তু একজন মেয়ের ওপর সামান্য আস্থা রাখতে পারে না’।

বাজার বিশ্লেষণের পর ২০১৭ সালে পাট পণ্য তৈরির ব্যবসায় নেমেছিলেন ইশরাত। অনেক শঙ্কা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বুকে ছিলো আশা আর মনে ছিলো পরিশ্রমের মানসিকতা। প্রথমদিকে তেমন সুবিধা করতে পারছিলেন না। কারণ পণ্যের বাজার ঘুরে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন; নিজে কাজ শুরু করে বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো ভিন্ন। কিভাবে বাজার ধরতে হবে, বিশেষ করে রপ্তানি করতে হবে সেটা সম্মন্ধে বাস্তব ধারণা ছিলো না তার। ‘আমি অনেক নার্ভাস ছিলাম। আমি জানতাম না কিভাবে রপ্তানির অনুমোদন নিতে হয়, ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়, বায়ার হ্যান্ডেল করতে হয়। কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিলো আমি পারবো। প্রতিটি ধাপ পেরোনোর সাথে সাথে সব কিছু সহজ মনে হতে থাকে। ২০১৭ সালের শেষের দিকে যখন একটি রপ্তানি আদেশ পাই তখন উৎসাহ ও সকলের সহযোগিতা আরো বেড়ে যায়। পরিবারের অন্যরাও আমার পাশে দাঁড়ায়। এরপরে আরো ২টি রপ্তানি আদেশ পাই। বর্তমানে একটি আদেশ রয়েছে’। মূলত ইতালি ও আয়ারল্যান্ডে পণ্য রপ্তানি করেন তিনি।

এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমাদের দেশে একটি প্রথা চালু হয়ে গেছে। সেটা হলো আমরা পড়ালেখা করি চাকরির জন্য। এটা শেষ করতে করতে আমরা ২৭-২৮ বছর বয়সে পৌছাই। ততদিন বাপের ‘অন্ন ধংস’ করতে থাকি। অথচ এই সময়টাতে লেখাপড়ার পাশাপাশি অন্য কাজ করারও সুযোগ রয়েছে। এতে যেমনি সাবলম্বী হওয়া যায় তেমনি পরিবারকেও সহায়তা করা যায়। একইসাথে নিজের মনোবলও বাড়ে। অন্যদের কর্মসংস্থানও তৈরি হয় এর মাধ্যমে।’

‘আমাদের বড় একটি মানসিক সমস্যা হলো, আমরা মনে করি ব্যবসা করতে অনেক বেশি টাকা লাগে। এই টাকার যোগান কিভাবে দিবো সেই চিন্তা করতে গিয়ে মনোবল নষ্ট করে ফেলি আমরা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আমাদের এক লাফে অনেক বড় মাপের ব্যবসায়ী হতে হবে সেই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমি মাত্র ১ লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি। এখন আমার প্রতিষ্ঠানে ১০ জন শ্রমিক কাজ করেন। বর্তমানে মূলধন রয়েছে ৫ লাখ টাকারও বেশি। অথচ ব্যবসার বয়স মাত্র ২ বছর পার হলো। তাই যার কিছু করার ইচ্ছা আছে, তার উচিত যতটুকু সামর্থ আছে সেটুকু নিয়েই মাঠে নেমে পড়া। তবে ব্যবসা করার আগে অবশ্যই তার সম্ভাব্যতা এবং কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে। আর অবশ্যই পণ্যের মানের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে। মান ভালো হলে ক্রেতা আপনার কাছে আসবেই।’

বাধা বিপত্তির প্রসঙ্গে এই নারী উদ্যোক্তা জানান, ‘মেয়েদের ক্ষেত্রে পরিবার থেকে একটু বেশিই বাঁধা থাকে। তারপরও নতুন উদ্যম নিয়ে মেয়েদেরকে এগিয়ে যেতে হবে’। উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন,‘বর্তমানে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো- সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া। যদি তরুণ উদ্যোক্তাগণকে ৪-৫ শতাংশ হার সুদে ঋণ দেয়া হয়, তাহলে তারা আরো সহজে ব্যবসা করতে সক্ষম হবেন।’

অস্ট্রেলিয়ার এমপির মাথায় ডিম ভাঙা নিয়ে মুখ খুললো সেই কিশোর

অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভেঙে ওই কিশোর এখন রীতিমতো তারকা। ওই কিশোরের নাম উইল কনোলি। তার বয়স ১৭ বছর। কনোলি অস্ট্রেলিয়ারই বাসিন্দা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে উপাধি দেওয়া হয়েছে ‘এগ বয়’ বা ‘ডিম বয়’ নামে।

শনিবার এক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভাঙে উইল কনোলি। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে অস্ট্রেলীয় খ্রিস্টান শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি হামলার ঘটনার পর মুসলমানদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং। এর পরই তিনি তোপের মুখে পড়েন। এরই প্রতিক্রিয়ায় ওই কাণ্ডটি ঘটান কিশোর কনোলি। ঘটনার পর এক টুইট বার্তায় কনোলি জানান, কেন তিনি ওই ঘটনা ঘটান।

টুইটে কনোলি লিখেছে, ‘ওই মুহূর্তে মানুষ হিসেবে আমি গর্বিত। আপনাদের বলতে চাই, মুসলমানরা সন্ত্রাসী নয় এবং সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই। যারা মুসলমানদের সন্ত্রাসী সম্প্রদায় মনে করে, তাদের মাথা অ্যানিংয়ের মতোই শূন্য।’

গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে অস্ট্রেলীয় খ্রিস্টান শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি ব্রেন্টন ট্যারান্টের হামলায় ৫০ জন নিহত হন। এরপরই অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং মুসলিমদের অভিবাসন নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে নামাজ আদায়ের কথা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। গোলাগুলির শব্দ পেয়ে দ্রুত হোটেলে ফিরে যান তারা।

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার পর মুসলমানদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং। টুইট বার্তায় ওই সিনেটর বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের রাস্তায় ওই ঘটনার প্রকৃত কারণ হচ্ছে অভিবাসন কর্মসূচি, যা উগ্র মুসলিমদের নিউজিল্যান্ডে থাকার অনুমোদন দিচ্ছে।’

এদিকে ডিম ভাঙার ঘটনার পরেই ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে কনোলির অনুসারীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ছিল তিন লাখ ৩০ হাজারের মতো।

রবিবার কনোলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে। ওই ভিডিও বার্তায় সে হাসতে হাসতে বলে, ‘কখনো রাজনীতিবিদদের মাথায় ডিম ভাঙবেন না। ডিম ভাঙলেই ৩০ জন বোগোন্সকে (নিম্ন শ্রেণির ব্যক্তি) মোকাবিলা করতে হবে আপনাকে। আমার কঠিন শিক্ষা হয়ে গেছে।’

কনোলি আসলে ৩০ জন ব্যক্তি বলতে সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের নিরাপত্তারক্ষীদের বোঝাতে চেয়েছে। তবে কনোলি তাদের একটু ব্যঙ্গাত্মকভাবে সম্বোধন করেছে; বলেছে ‘নিম্ন শ্রেণির লোক’।

পরে কনোলি তার অনুসারীদের উদ্দেশে লেখে, ‘আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য অনেক ধন্যবাদ জানাই।’

শনিবার এক ভিডিওতে দেখা যায়, সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। হঠাৎ করেই সিনেটরের পেছনে থাকা কিশোর কনোলি তার হাতে থাকা একটি ডিম ফ্রেজারের মাথায় ভেঙে দেয়। অন্য হাত দিয়ে মোবাইল ফোনে এই ঘটনা ভিডিও করছিল সে নিজেই। সিনেটর ফ্রেজার ঘুরে গিয়ে কনোলিকে চড় মারেন। মারধরের সময়ও কনোলি তা মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিল।

কনোলিকে সমর্থন জানাতে এবং আরো ডিম কিনতে ‘গো ফান্ড মি’তে তহবিল গঠন করা হয়েছে। তহবিলের লক্ষ্য দুই হাজার ডলার থাকলেও এরই মধ্যে ওই তহবিলে ৩০ হাজার ডলার জমা পড়েছে। ঘটনার পরই কনোলিকে আটক করে নিরাপত্তী কর্মীরা। পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

অপরদিকে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম নেল সেভেনে প্রচারিত এই ভিডিও ৫০ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। সাধারণ জনগণ তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। অনেক তাকে অস্ট্রেলিয়ার সেরা নায়ক বলে মন্তুব্য করেছে| ইনস্টাগ্রামে একজন মন্তুব্য করেন, ‘আপনি একটি দেবদূত’। কেউ লিখেন, ‘পরম কিংবদন্তি’। কেউ লিখেন, ‘আপনার মতো আরো প্রয়োজন।’

নিউজিল্যান্ড হামলায় নিহতদের ছবি প্রকাশ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলায় নিহতদের মধ্যে আরও কয়েকজনের ছবি প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বাড়তি কিছু তথ্যও প্রকাশ করেছে তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, হামলার প্রায় তিন দিন পর আরও কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে ৫০ জন নিহত হলেও এখন পর্যন্ত ৩২ জনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন তথ্যে বলা হয়, হামলায় নিহতদের মধ্যে শিশুসহ শিক্ষার্থী পাইলট, প্রকৌশলী এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রয়েছেন। নিহত হওয়া ওজাইর কাদির নামের শিক্ষার্থী পাইলট নিউজিল্যান্ডের ইন্টারন্যাশলান এভিয়েশন একাডেমিতে পড়ালেখা করতেন।

এর আগে বুধবারের মধ্যে সব মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড সরকার। এজন্য নিহত ৫০ জনের মরদেহ শনাক্তে দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে। মুসলিম নিয়মানুযায়ী তাদের দাফন সম্পন্ন করতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

রোববার নিউজিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট জাসিন্ডা আরডার্ন জানান, শনাক্ত হওয়া মরদেহগুলোকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। বুধবারের মধ্যে সব মরদেহ সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ সম্পর্কে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালঞ্জ হলো সঠিকভাবে মরদেহগুলোকে চিহ্নিত করা। একজনের মরদেহ তার নিজের পরিবারের পরিবর্তে অন্য পরিবারের হাতে তুলে দেয়ার মতো বাজে কাজ আর দ্বিতীয়টি নেই। অবশ্য আমাদের এখানে এমনটি হবে না।

এদিকে, নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলায় অভিযুক্ত ব্রেনটন ট্যারান্টের চাচাতো বোন ডন্না কক্স জানিয়েছেন, তার আত্মীয়ের প্রাপ্য হলো মৃত্যুদণ্ড। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

কক্স অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে বসবাস করেন। ২৮ বছর বয়সী এই নারী বলেন, ট্যারান্ট ক্রাইস্টচার্চে হামলা চালিয়ে ৫০ জনকে মেরেছে, এটা জানার পর থেকে মনে হচ্ছে তার আত্মীয় হওয়াটা দুর্ভাগ্যের।

কক্স বলেন, ট্যারান্ট খুব ভালো পরিবারের সন্তান। বিশেষ করে তার বাবা-মাকে কমিউনিটির সবাই খুব সম্মান করতো। কিন্তু এই কাজের মাধ্যমে সে তাদের একেবারে নিচে নামিয়ে রেখে গেল।

কক্স আরও বলেন, সে যেভাবে বেড়ে উঠেছে তাতে এমন কাজ করার কথা নয়। অবশ্য আমি তাকে ডিফেন্ড করবো না। তবে জিজ্ঞেস করার সুযোগ থাকলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করতাম কেন সে এমনটি করেছে।

ট্যারান্টের মা শেরন একজন স্থানীয় স্কুলশিক্ষক। শুক্রবার হামলার পর ক্লাসের মধ্য থেকেই তাকে তুলে নিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড পুলিশ। বর্তমানে ট্যারান্টের মা এবং বোন পুলিশ হেফাজতে আছে। তাদেরকে ফোন ব্যবহার করতে দেয়া হচ্ছে না।-সূত্র: আরটিভি অনলাইন।

৩ লাখ নিয়োগের সার্কুলার আসছে

শিক্ষিত বেকারদের জন্য খুলছে চাকরির দ্বার। চলতি বছরেই তিন লাখ জনবল নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। কয়েক মাসের মধ্যেই এসব নিয়োগের সার্কুলার দেয়া হবে। সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শূন্য পদের বিপরীতে এসব জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সম্ভাব্য নিয়োগের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার লোক নিয়োগ হবে সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে। এ জন্য শিগগিরই ৪১তম বিসিএসের সার্কুলার হবে। ইতিমধ্যে ৪০তম বিসিএসের সার্কলার জারি হয়েছে।

তিন লাখ নিয়োগের জন্য যেসব খাত বাছাই করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে প্রথম শ্রেণির পদে ৫ হাজার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে ৬০ হাজার, শিক্ষা খাতে ৪০ হাজার, স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার, ব্যাংকিং খাতে ২০ হাজার অন্যতম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী জুন মাস থেকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শূন্য পদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ওইসব পদের মধ্যে ১০ শতাংশ শূন্য পদ রেখে বাকি পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘পদ শূন্যের ভিত্তিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনবল নিয়োগ দেয়। শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে সরকারি সংস্থাগুলোর শূন্য পদে লোক নিয়োগ চলমান প্রক্রিয়া। কিন্তু বর্তমানে কিছু কিছু খাতে শূন্য পদের সংখ্যা বেশি। এটি পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থায় শূন্য পদের তথ্য এবং পদ পূরণের জন্য কর্মপরিকল্পনা চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। খুব শিগগিরই তারা ওই তথ্য ও পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর পর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

সরকারি চাকরিতে ২০ লাখ ৫০ হাজার ৮৬১টি পদের মধ্যে বর্তমানে শূন্য রয়েছে তিন লাখ ৯৯ হাজার ৮৯৭টি পদ। এর মধ্যে পুলিশে ৫০ হাজার, আনসার-ভিডিপি, বিজিবি ও দমকলসহ বিভিন্ন বাহিনীতে পাঁচ হাজার, শিক্ষা খাতে ৫০ হাজার, স্বাস্থ্য খাতে ৩০ হাজার, ব্যাংক সেক্টরে ২০ হাজার, খাদ্য, কৃষি মন্ত্রণালয় ও রেলওয়েতে ৬০ হাজার ও অন্যান্য খাতে ৫০ হাজার নিয়োগ দেয়া হবে।

মুসলিমরা প্রতিশোধ নেয় না,’ হামলাকারীকে ক্ষমা করে দিলেন স্ত্রী হারানো বাংলাদেশি

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলায় অল্পের জন্য প্রানে বেঁচে যান বাংলাদেশের নাগরিক ফরিদ উদ্দীন। নিজের জীবন তুচ্ছ করে অন্যদের এবং স্বামীর জীবন বাঁচাতে গিয়ে সেদিন হামলাকারীর হাতে খুন হন ফরিদ উদ্দীনের স্ত্রী হোসনে আরা।

ফরিদ উদ্দিন বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি তার স্ত্রীর হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি, কিন্তু আমি হত্যাকারীকে ঘৃণা করি না। একজন মানুষ হিসেবে আমি তাকে ভালবাসি। কিন্তু আমি দুঃখিত, সে যা করেছে আমি তা সমর্থন করতে পারি না।

আমার মনে হয় সে (হামলাকারী) তার জীবনে কখনো আঘাত পেয়েছে, সেই আঘাত পেয়ে সে ভাল কিছু না করে এমন জঘন্য কাজ করেছে।’

তিনি আরো বলেন, যারা সন্ত্রাসী হামলা করে তারা চায় জনগণকে ভয় পাক। তারা এক জাতি থেকে অন্য জাতির মধ্যে বিদ্বেষ লাগাতে চায়।

ফরিদ উদ্দিন বলেন, তারা (সন্ত্রাসীরা) হয়ত আশা করে মুসলিমদের ওপর হামলা করলে, মুসলিমরা প্রতিশোধ নিবে, কিন্তু আমরা মুসলিম নেতারা বলছি তা কখনো হবে না। মুসলিমরা এমন না।

আমরা মুসলিমরা কাউকে ভয় পেতে দিব না এবং কাউকে ঘৃণা করতে হবে এটাও ছড়াতে দিব না।

তিনি আরো বলেন, আমার তার (হামলাকারীর) বিরুদ্ধে কোন আক্রোশ নেই। আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তার জন্য দোয়া করছি আল্লাহ যেন তাকে সঠিক পথ দেখায় এবং একদিন অন্যের জীবন রক্ষাকারী হয়ে ওঠে সে।

গত শুক্রবারে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুইটি মসজিদে হামলায় ৫০ জন নিহত হয়। হামলায় গুরুতর আহত হয় ৪০ জনের বেশি। নিউজিল্যান্ডের পুলিশ জানায়, অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্রারান্ট একাই হামলা চালিয়েছে।

ইতিমধ্যে ওই হামলাকারীকে শনিবার দেশটির আদালতে হাজির করা হয়েছে। অভিযুক্ত করা হয়েছে হত্যা মামলায়। বর্তমানে ওই হামলাকারী রিমান্ডে আছে।

মসজিদে হামলা নিয়ে এরদোয়ানের ডাকে বৈঠকে বসছে ওআইসি

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বিশ্বের মুসলিম প্রধান দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সংগঠন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের আহ্বানে আগামী ২২ মার্চ ইস্তাম্বুলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমদু কুরেশি ওআইসির ওই বৈঠকের ব্যাপারে বলেন, ‘ইসলাম বিদ্বেষের লাগাম টানতে কৌশলগত করণীয় নির্ধারণ ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার লক্ষ্যে এই বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।’

শাহ মেহমদু কুরেশি বলেন, বিদ্বেষমূলক বক্তৃতার নিন্দা জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার এক সিনেটরের মাথায় এক কিশোরের ডিম নিক্ষেপ-সহ বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটছে। একই ধরনের একটি ঘটনা লন্ডনেও দেখা গেছে। তিনি বলেন, যদি পুরো ওআইসি এবং মুসলিম বিশ্ব একই কণ্ঠে কথা বলে, তাহলে সেটি অনেক ওজন বহন করবে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, তুরস্ককে লক্ষ্যবস্তু বানাতে চেয়েছিল নিউজিল্যান্ডের দুই মসজিদে হামলাকারী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট। তুরস্কের মুসলমানদের বিরুদ্ধে সে হুমকিও দিয়েছে। শনিবার এক নির্বাচনী সমাবেশে এ কথা বলেন এরদোগান।

এ সময় তিনি উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে নিউজিল্যান্ডের ওই হামলাকারীর তীব্র মুসলিমবিদ্বেষী ইশতেহারের ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন করেন। মসজিদে হামলার অস্পষ্ট করে দেয়া ফুটেজও দেখান তিনি।

রজব তাইয়েব এরদোয়ান বলেন, ওই হামলাকারী হুঁশিয়ারি উল্লেখ করেন, যাতে সে বলেছে, ইউরোপে তুর্কিদের কোনো ঠাঁই নেই। ইতঃপূর্বে দুই দফায় সে তুরস্ক সফর করেছে। তার ওই সফর নিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা ক্রস (খ্রিষ্টান ধর্ম) ও ক্রিসেন্টের (ইসলাম) মধ্যে ফের একটি সঙ্ঘাত চাই না।

তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের ওই হামলাকারী বলেছে, সে ইউরোপের মাটি থেকে তুর্কি মুসলমানদের উৎখাত করতে চায়। এরদোগান বলেন, ‘আমাদের ৫০ জন ভাইবোনকে শহীদ করা এই দুষ্ট লোক বলছে, আমরা শুধু আনাতোলিয়ায় (তুরস্কের এশিয়া অংশ) থাকতে পারব। আমার ইউরোপীয় অংশে যেতে পারব না। এ নিয়ে চিন্তা করার তুমি কে?’

এর আগে শুক্রবার এরদোগান বলেন, এই বন্দুকধারী আমাদের দেশ, আমাদের জাতি ও আমাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে চায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে পশ্চিমা দুনিয়ার উচিত ইসলামবিদ্বেষের উত্থান রোধে ব্যবস্থা নেয়া।

এরদোগান বলেন, ‘মুসলমানদের বিরুদ্ধে অক্লান্ত শত্রুতা প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। মুসলমানদের ব্যক্তিগতভাবে যে হয়রানি করা হতো, তা ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সীমান্ত ছাড়িয়ে গণহত্যায় রূপ নিয়েছে। এই হামলা প্রমাণ করেছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও ইসলামের বিরুদ্ধে শত্রুতা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। ইসলামভীতি কেমন বিকৃত ও খুনি মানসিকতার জন্ম দেয়, তা এর আগেও আমরা দেখেছি। দুনিয়াজুড়ে এ ধরনের মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত। এখনই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে আমাদের আরো বিপর্যয়ের খবর শুনতে হবে।’

অবশেষে নির্মাতা সৃজিতকে বিয়ে করছেন মিথিলা

বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল হিসেবে পরিচিত রাফিয়াথ রশীদ মিথিলা। প্রতিভার ছাপ রেখেছেন বিনোদনের প্রায় সব স্তরেই। গায়ক-অভিনেতা তাহসানের সাবেক এ স্ত্রীকে নিয়ে প্রেম-বিয়ের গুঞ্জন ওঠেছে কলকাতায়।

তিনি নাকি বিয়ে করতে চলেছেন সেখানকার হিট নির্মাতা সৃজিত মুখার্জিকে। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুজনের কারোই মন্তব্য ছাপেনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজের প্রযোজনা সংস্থা থেকে একাধিক সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি মিউজিক ভিডিও’র সঙ্গে যুক্ত সৃজিত। তার প্রতিষ্ঠানের নতুন ভিডিওতে থাকছে ঢাকার অর্ণবের গান।

সেই ভিডিও’র দৃশ্যায়ন হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রায়চকে। সেখান ইন্দ্রাশিস রায় ও অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন মিথিলা, যিনি সম্পর্কে অর্ণবের মামাতো বোন।

এই সময় জানান, মিথিলা কলকাতায় পা রাখার পর সৃজিত শহর ঘুরে দেখান তাকে। সেখান থেকে নাকি তাদের সম্পর্ক আঁচ করে নিয়েছে সবাই!

আর শুধু প্রেম নয়, একেবারে ঘনিষ্ঠ মহলের বরাত দিয়ে জানায়, আগামী বছরের গোড়াতে সাত পাকে বাঁধা পড়ার কথা ভাবছেন সৃজিত। আর দুইয়ে-দুইয়ে চার করলে জল্পনা আরও বাড়ছে। মানে মিথিলাকে বিয়ে করছেন ‘জাতিস্মর’ নির্মাতা।

এদিকে ঢাকার আরেক নায়িকা জয়া আহসানের সঙ্গে সৃজিত প্রেম করছেন- এমন গুঞ্জন শোনা যেতো বছরখানেক আগেও।

গণভবনে গিয়ে আমার মনযোগ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল: নুর

গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রনে গিয়ে অনেক কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারেননি বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর।

১৭ মার্চ রবিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গণভবনে অনেক কথা বলতে পারিনি। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দেখে আমার মনযোগ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে আমি গণভবনে গিয়েছি।’

গতকাল শনিবার ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদের নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে গণভবনে আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী। আমন্ত্রণে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করেন নুর। পরবর্তীতে কাজ করার জন্য সহযোগিতাও চান প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গণভবনে গিয়েছিলেন দাবি করে নুর বলেন, ‘আমার বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো কারণ নেই। শিক্ষার্থীদের সবার দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে সকল পদে পুনর্নির্বাচন চাইছি।’

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডাকসুর এজিএস প্রার্থী ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন। তিনি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং নির্বাচনকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত ও দাবির আলোকে ১১ মার্চের এই বিতর্কিত নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে প্রশাসনের কাছে নতুন নির্বাচন দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে পুননির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে আগামীকাল ১৮ মার্চ সোমবার ক্লাস বর্জন ও উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন বর্জনকারী প্যানেলগুলো। পৃথক এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জনকারী প্যানেলগুলোর পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন স্বতন্ত্র জোট থেকে ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান। তাদের দাবিগুলো হল- পুনঃতফসিল দেয়া, উপাচার্যের পদত্যাগ, মামলা প্রত্যাহার ও হামলাকারীদের বিচার।

মুসা (আঃ)কে শিশুকালে একটি জুড়িতে করে কেন নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর মা

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)- বর্ণনা করেন, যখন হযরত মূসা (আঃ) এর জন্মগ্রহনের সময় হলো তখন তাঁর মাতা একজন দাত্রীকে ডাকলেন। এই দাত্রী সেই দাত্রীদের অন্যতম, যাদেরকে ফেরাউনের লোকেরা নিযুক্ত করে রেখেছিল। যে বাড়িতে কোনো শিশুর জন্ম হতো, তাদের কাজ ছিল ফেরাউনের লোকদেরকে নবজাত শিশুর জন্মের সংবাদ দেওয়া।

এ খবরের ভিত্তিতেই ফেরাউনের ঘাতক বাহিনী এসে নবজাত শিশুকে হত্যা করতো। কিন্তু এ ধাত্রীটির সঙ্গে মূসা (আঃ) এর জননীর অন্তরঙ্গতা ছিল। যথাসময়ে প্রসব বেদনা আরম্ভ হলে তাকে ডাকা হয়। সে আসলে হযরত মূসা (আঃ) এর -মাতা তাকে বলেন, আমার যে এ অবস্থা, তা তুমি জান, তবে তোমার বন্ধুত্বের দ্বারা আমি উপকৃত হতে চাই, ধাত্রী তার দায়িত্ব পালন করলো।

হযরত মূসা (আঃ) এর মায়া মহাব্বত দ্বারা তার অন্তর পরিপূর্ণ হলো। তখন ধাত্রীর হাতে হযরত মূসা (আঃ) জন্ম গ্রহণ করলেন। ধাত্রী তাকে কোলে নিলো। মূসা (আঃ)-এর চক্ষুদ্বয়ের মাঝখান দিয়ে একটি নূর বের হয়।

এ দৃশ্য দেখে ধাত্রী অত্যন্ত বিস্মিত হলো, তার দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কম্পমান হলো। আর হযরত মূসা (আঃ) এর মায়া মহাব্বত দ্বারা তার অন্তর পরিপূর্ণ হলো। তখন ধাত্রী হযরত মূসা (আঃ) এর মাকে বলল, আমাকে যখন ডাকা হয় এবং আমি তোমার নিকট আসি, তখন আমার পিছনে তোমার সন্তানের ঘাতকরা ছিল।

অর্থাৎ, আমার ইচ্ছা ছিল জন্ম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে ঘাতকদের হাতে অর্পণ করবো; কিন্তু এখন আমার অন্তরে তোমার সন্তানের জন্য এমন মায়া সৃষ্টি হয়েছে যে, জীবনে এমন মায়া আমি কারো জন্য উপলব্ধি করিনি। এজন্যে আমি বলছি, তোমার পুত্রের হেফাজত করো! এরপর যখন ধাত্রী হযরত মূসা (আঃ) এর গৃহ থেকে বের হচ্ছিল তখর ফেরাউনের একজন গোয়েন্দা তাকে দেখে ফেলেছিল।

তারা সঙ্গে সঙ্গে সেই গৃহদ্বারে উপস্থিত হলো এবং ঘরে প্রবেশ করতে চাইলো। তখন হযরত মূসা (আঃ) এর ভগ্নি দ্রুত এসে তার মাতাকে খবর দিল যে সৈন্যবাহিনী এসে পড়েছে এবং তারা ভিতরে প্রবেশ করতে চায়। তখন হযরত মূসা (আঃ) এর বোন তাকে কাপড়ে জড়িয়ে চুলোয় নিক্ষেপ করলো, সে বুঝতেই পারেনি যে সে কি করছে।

এরই মধ্যে সৈন্যরা ভিতরে প্রবেশ করলো, চুলোয় আগুন জ্বলছিল হযরত মূসা (আঃ) এর মাতার চেহারায় কোনো ভাবান্তর হলো না। সৈন্যরা জিজ্ঞাস করলো, ধাত্রী কেন এখানে এসেছিল ? তিনি বললেন সে আমার বান্ধবী, আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল। এরপর তারা ফিরে গেল। তখন চুলোর কাছে গিয়ে মা দেখলেন, এরই মধ্যে চুলোর আগুন নিভে গেছে এবং শিশু মূসা নিরাপদে রয়েছেন, তিনি তাকে কোলে তুলে নিলেন।

কিছু দিন ফেরাউনের সৈন্যরা ঘরে ঘরে শিশু সন্তানের অনুসন্ধান করতে লাগল, তখন তিনি তার পুত্রের ব্যাপারে ভীত হয়ে পড়লেন। ঐ সময় আল্লাহ পাক তার অন্তরে ইলহাম করলেন যে শিশুটিকে একটি জুড়িতে করে নীলনদে ভাসিয়ে দাও।এ ঘটনার বিবরণ পবিত্র কুরআনে এভাবে বিকৃত হয়েছে-

অর্থ- আমি মূসা-জননীর নিকট এ প্রত্যাদেশ করলাম যে, তাকে সাগরে নিক্ষেপ কর, তথা নীলনদে ভাসিয়ে দাও। হযরত মূসা আঃ এর মাতার অন্তরে এ ধারনা আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি এক কাঠ মিস্ত্রিকে বাক্স তৈরীর নির্দেশ দিলেন। লোকটি বলল, এমন বাক্সের তোমার কি প্রয়োজন? তখন মূসা (আঃ)-এর জননী মিথ্যা বলেননি। তিনি জবাব দিলেন, আমার একটি শিশু সন্তান রয়েছে, তাকে এর মধ্যে লুকিয়ে রাখব। কাঠ মিস্ত্রি জিজ্ঞেস করল, লুকিয়ে রাখবে কেন?

তিনি বললেন, ফেরাউনের সৈন্যদের ভয়ে। যাহোক, তিনি বাক্সটি নিয়ে রওয়ানা হলেন। এদিকে মিস্ত্রি সৈন্যদের নিকট এ খবর দেওয়ার জন্য হাজির হলো। সে কিছু বলতে চাইল; কিন্তু আল্লাহ পাক তার বাকশক্তি ছিনিয়ে নিলেন। এরপর সে হাতের ইশারায় কিছু বুঝাতে চাইল; কিন্তু যখন সে তাতেও ব্যর্থ হলো তখন সৈন্যদের সরদার তাকে পিঠিয়ে বের করার নির্দেশ দিল।

যখন সে তার স্থানে প্রত্যাবর্তন করল, তখন আল্লাহ পাক তার বাকশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। আর সে পুনরায় সংবাদ পৌঁছানোর জন্য সৈন্যদের নিকট হাজির হলো। কিন্তু এবারও তার বাকশক্তি চলে গেল, তার দৃষ্টিশক্তিও চলে গেল। অবশেষে লোকেরা তাকে মেরে বহিষ্কার করে দিল। এখন সে চরম দুরবস্থার সম্মুখীন।

হাঁটতে হাঁটতে সে একটি ময়দানে উপস্থিত হলো এবং মনে মনে এ নিয়ত করলো যে, যদি আল্লাহ পাক তার দর্শন ও বাকশক্তি ফিরিয়ে দেন তবে সে আর কখনো সেই শিশুর ব্যপারে গোয়েন্দাগিরী করবে না। আল্লাহ তার এ নিয়তের কারণে তার দর্শন ও বাকশক্তি ফেরত দিলেন।

সে সঙ্গে সঙ্গে সিজদায় পড়ে গেল এবং দোয়া করল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তোমার এই নেক বান্দার ঠিকানা জানিয়ে দাও। আল্লাহ পাক তাকে মূসা (আঃ)- এর ঠিকানা জানিয়ে দিলেন। সে তাঁর নিকট পৌঁছল এবং ঈমান আনলো। সে এ সত্য উপলব্ধি করলো যে, সবকিছু আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকেই হয়েছে।

ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ (রহ.) বর্ণনা করেছেন, হযরত মূসা (আঃ) এর মাতা যখন অন্তঃসত্ত্বা তখন তিনি তার অবস্থা গোপন রাখলেন। কেউ এ সম্পর্কে অবগত হলো না। যেহেতু আল্লাহ তা’য়ালা বনী ইসরাঈলের প্রতি ইহসান করতে ইচ্ছা করলেন, তাই তিনি পৃথিবীতে হযরত মূসা (আঃ)-এর আগমনের অবস্থাকে গোপন রাখলেন।

এখানে উল্লেখ্য যখন বনী ইসরাঈলের অনেক পুত্র সন্তানকে হত্যা করা হলো, তখন ফেরাউনের জাতির পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ করা হয় এ মর্মে যে, যদি তাদের কে এভাবে হত্যা করা হয়, তবে অবশেষে আমরা গোলাম কোথায় পাবো। এবং পরিণামে আমাদেরকেই যাবতীয় কাজ করতে হবে।

ফেরাউনের জাতি কিবতীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এ দাবীর প্রেক্ষিতে ফেরাউন এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো, এক বছর বনী ইসরাঈলের পুত্র সন্তনদেরকে হত্যা করা হবে না, আর এক বছর করা হবে। যে বছর হত্যা না করার সিদ্ধান্ত ছিল সে বছর হযরত হারূন (আঃ) জন্ম গ্রহন করেছিলেন। আর যে বছর হত্যা করার সিদ্ধান্ত ছিল, সে বছরই হযরত মূসা (আঃ) এর জন্ম হল।

যেহেতু ফেরাউনের লোকেরা বনী ঈসরায়েলের পুত্র সন্তনদের ব্যাপারে ধাত্রীদেরকে গোয়েন্দাগিরির কাজে ব্যবহার করে, তাই প্রতি মুহুর্তে ঘরে ঘরে অনুসন্ধান কার্য চলত। আল্লাহ পাক তাঁর বিশেষ রহমতে এ ব্যবস্থা করেছেন যে, হযরত মূসা (আঃ) এর মাতার দেহে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।

যখন হযরত মূসা (আঃ) জন্ম গ্রহন করলেন, তখন তার ভগ্নি মারইয়াম ব্যতিত আর কেউ জানতেই পারল না। আল্লাহ পাক হযরত মূসা (আঃ) এর মাতার অন্তরে এ কথার ইলহাম করলেন যে, তুমি শিশু সন্তানটিকে দুধ পান করাতে থাক, যখন ফেরাউনের লোকদের তরফ থেকে কোনো প্রকার আশঙ্কা হয়, তখন তাকে নীল নদে ভাসিয়ে দিও।

মূসা (আঃ) এর মাতা শিশু সন্তানটিকে তার কোলে লুকিয়ে দুধ পান করাতে থাকেন। শিশু মূসা কাঁদতেন না এমনকি, নড়াচড়াও করতেন না, কিন্তু এতদাসত্ত্বেও মূসা জননীর আশঙ্কা হল যে, ফেরাউনের লোকেরা যে কোন সময় আক্রমণ করতে পারে। তাই তিনি একটি সিন্দুক তৈরি করালেন। সিন্ধুকের মধ্যে শিশু সন্তানকে রেখে তাকে নীলনদে ভাসিয়ে দিলেন।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, ফেরাউনের শুধু একটি কন্যা সন্তান ছিল, পুত্র সন্তান ছিল না। ঐ কন্যা সন্তানটিও শ্বেত রোগে আক্রান্ত ছিল, তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা হওয়া সত্ত্বেও সে সুস্থ হয়নি। জাদুকররা বলেছিল, তার আরোগ্য লাভ করা সম্ভব হবে নীলনদের দিক থেকে।

মানবাকৃতির কোনো প্রাণী এ নীলনদে পাওয়া যাবে, তার মুখের লালা যদি ব্যবহার করা যায়, তবে শ্বেতরোগগ্রস্ত এ কন্যাটি সুস্থ হবে। আর তা পাওয়া যাবে অমুক দিন সূর্য উদিত হওয়ার সময়। ঐ দিন ছিল সোমবার। ফেরাউন নীলনদের তীরে তার বসবাস স্থান তৈরি করালো, তার সাথে ছিল স্ত্রী আছিয়া বিনতে মোজাহেম।

ফেরাউনের এ অসুস্থ কন্যাটিও ছিল। হঠাৎ একটি সিন্দুক ভাসমান অবস্থায় দেখা গেল, ফেরাউন আদেশ দিল ভাসমান বস্তুুটি নিয়ে আসতে, ক্ষণিকের মধ্যে তার পরিচালকরা সিন্দুকটি ফেরাউনের সামনে এনে রেখে দিল। তারা সিন্দুকটি খোলার চেষ্টা করল; কিন্তু ব্যর্থ হলো। পরে ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া কাছে আসলেন এবং তিনি সিন্দুকের ভিতর একটি নূর দেখতে পেলেন, যা অন্য কেউ দেখতে পারেনি।

যাহোক, তিনি সিন্দুকটি খুলে ফেললেন, যার ভিতর থেকে সুন্দর একটি ফুটফুটে শিশু শায়িত অবস্থায় পাওয়া গেল। যার চক্ষুদ্বয়ের মাঝখানে নূর চমকাচ্ছিল। আল্লাহ পাক তাঁর রিজিক তাঁর আঙ্গুল সমূহের মধ্যে দিয়ে দিয়েছিলেন, সে এ আঙ্গুল চুষে দুধ পান করতো, এ নিষ্পাপ শিশুটির প্রতি অসাধারণ ¯েœহমায়া আছিয়ার অন্তরে সৃষ্টি হলো, এমনকি ফেরাউনও তাকে ভালবাসতে লাগল।

সিন্দুক থেকে শিশুটিকে বের করা হল, তার অসুস্থ কন্যা এসে পড়ল। সে এ নবজাত শিশুর মুখের লালা নিয়ে তার শ্বেতরোগগ্রস্থ দেহে মালিশ করল। সঙ্গে সঙ্গে সে সুস্থ হলো। ঐ কন্যা শিশুটিকে চুম্বুন করল এবং টান দিয়ে বুকে টেনে এনে আদর করল।পবিত্র কোরআনে এ ঘটনাটিকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে-

অর্থ- “এরপর ফেরাউনের পরিবারের লোকজন তাকে উঠিয়ে নেয়, যাতে সে তাদের শত্রু এবং দুঃখের কারণ হয়”। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে হযরত মূসা (আ.) তাদের দুশমন হবেন এবং তাদের দুশ্চিন্তার করন হবেন। এরপর ইরশাদ হচ্ছেঃ- অর্থাৎ-“ নিশ্চয় ফেরাউন, হামান এবং তাদের সৈন্যবাহিনী ভুল করেছিল।”

আর তাদের ভুল প্রত্যেক ব্যপারেই ছিল, যেমন হযরত মূসা (আ.) জন্ম গ্রহন করবেন এই ভয়ে হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশুকে তারা হত্যা করেছে। এটি ছিল তাদের মারাত্মক ভুল। দ্বিতীয়ঃ শিশু মূসাকে তারা নীলনদ থেকে তুলে নিয়েছে এবং নিজের বাড়িতেই লালান পালন করেছে, পরবর্তীকালে যা হবার তা হয়েছে।কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার এ আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, নিশ্চয় ফেরাউন এবং হামান ও তাদের সৈন্যবাহিনী ছিল অপরাধী।

হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করার মতো বড় অপরাধ আর কি হতে পারে! আর এজন্যেই আল্লাহ পাক ফেরাউন ও তার সহযোগীদেরকে হযরত মূসা (আ.) এর দ্বারা শাস্তি দিয়েছেন এবং যে শিশু থেকে আত্মরক্ষার জন্যে হাজার হাজার শিশুকে ফেরাউন হত্যা করেছে, সেই শিশুটিকে আল্লাহ পাক তার বাড়িতে, তারই নাকের ডগায়, তারই দ্বারা লালন পালন করিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাকের অনন্ত অসীম কুদরতের এক বিস্ময়কর নিদর্শন। উৎস: ইসলামের গল্প।

৪ মেয়ের পড়াশোনার জন্য লড়াই করা এক বাবার গল্প

প্রায় মধ্যরাতে রাজধানীর ফার্মগেট ফুট ওভারব্রিজের ওপর দিয়ে দ্রুত হেঁটে বাসায় ফেরার পথে দৃষ্টি গেল এক মরিচ বিক্রেতার দিকে। কয়েক ডজন বোম্বাই মরিচ নিয়ে মাথা নিচু করে বসে আছেন তিনি। মরিচ কেনার প্রয়োজন না থাকলেও শুধুমাত্র কথা বলার উদ্দেশ্যেই মরিচের দাম জানতে চাওয়া তার কাছে। কিন্তু কয়েকবার প্রশ্ন করার পরও কোনো সাড়া মিলল না। পরে শরীরে মৃদু ধাক্কা দিতেই চোখ মেললেন তিনি।চোখ মেলেই তার মন্তব্য, ‘ঘুমাই গেছিলাম বাজান। মরিচ নিবেন? একেবারে আসল বোম্বাই মরিচ’

ক্ষীণ কণ্ঠে মরিচ বিক্রির অনুনয় শুনে না করা গেল না। কিছু মরিচ দিতে বলে নাম-ঠিকানা জানতে চাইলাম। তিনি জানালেন, নাম নিখিল চন্দ্র দাস। বাড়ি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামে।

নিখিল জানান, গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীর কাওরান বাজারের কাঁচামালের আড়তে শ্রমিকের কাজ করেন। একই সঙ্গে ট্রাক থেকে পড়ে যাওয়া কিংবা ফেলে দেওয়া সবজিও কুড়িয়ে জমা করেন। এরপর কোনো আড়তের এক কোনায় শরীর এলিয়ে ঘুমিয়ে নেন কিছুটা সময়। পরে আবার নিজের কুড়ানো সবজি বিক্রির জন্য বিভিন্ন পথের ধারে বসে পড়েন তিনি।

এ সময় পরিবারের সদস্যদের কথা জানতে চাইলে নিখিলের বিষণ্ন মুখে নিমিষেই হাসি ফুটে উঠে। জানালেন পরিবারে স্ত্রী ও চার মেয়ে তার। সবচেয়ে বড় মেয়ের নাম সুইটি, তারপর তিথি, তার ছোট বৃষ্টি আর সবচেয়ে ছোট মেয়ে সাথী।

তিনি জানান, বড় মেয়ে সুইটি নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় একটি কলেজে অনার্সে পড়েন। তিথি আগামী বছর এসএসসি দেবে। বৃষ্টি চলতি বছরে ক্লাস এইটে উঠেছে। আর সাথীকে এখনও স্কুলে ভর্তি করাননি।

নিখিল জানান, নিজে পড়াশোনা করতে পারেননি, তাই মেয়েদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন তার। মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে দিনরাত লড়াই করছেন তিনি। বাড়িতে কিছু টাকা বেশি পাঠানোর জন্য ঢাকায় কোনো মেস বা বাসাও ভাড়া নেননি তিনি। সেজন্য ঘুমানোর প্রয়োজন হলে কোনো আড়তের কোনায় জায়গা খুঁজতে হয় তাকে। তিনবেলায় খেতে হয় রাস্তার ধারের কমমূল্যের কোনো হোটেলে।

তবে এতেও কোনো কষ্ট নেই নিখিলের। হাতে কিছু টাকা জমলেই বাড়িতে গিয়ে সবাইকে দেখে আসেন তিনি। আর বড় মেয়ে এখন প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের খরচের অনেকটাই আয় করতে শিখে গেছে, এটা নিয়েও অনেক আনন্দ নিখিলের।