আপনার উচ্চতা অনুযায়ী ওজন কত হওয়া উচিত, জেনে নিন

শরীর সুস্থ সবল রাখতে, শরীরের নমনীয়তা ও স্ফুর্তি অটুট রাখতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। শরীরের ওজন যদি খুব বেড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে নানা সমস্যা দেখা দেয়। আবার শরীরের ওজন যদি কমে যায়, তাহলেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। উচ্চতা অনুযায়ী শরীরের ওজনের একটা মাপকাঠি রয়েছে। এর থেকে ওজন কমলেও সমস্যা, আবার বাড়লেও মুশকিল। উচ্চতা অনুযায়ী আপনার ওজন কত হওয়া উচিত, তা না জেনে যদি ওজন কমাতে বা বাড়াতে যান, সে ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হবে আপনাকে। তাই আমাদের জেনে রাখা জরুরি, শারীরিক উচ্চতা অনুযায়ী সঠিক ওজন ঠিক কত।

আদর্শ ওজন নির্ণয়ের পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তির ওজন কিলোগ্রামে মাপা হয় এবং উচ্চতা মিটারে মাপা হয়। ওজনকে উচ্চতার বর্গফল দিয়ে ভাগ করা হয়। এই ভাগফলকেই বিএমআই (BMI) বলা হয়। বিএমআই ১৮ থেকে ২৪-এর মধ্যে হলে তা স্বাভাবিক বলে মনে করা হয়। আসুন এ বার জেনে নিন আপনার উচ্চতা অনুযায়ী আপনার ওজন কত হওয়া উচিত…

উচ্চতা: ৪ ফুট ৭ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৩৯-৪৯ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৩৬-৪৬ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৪১-৫০ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৩৮-৪৮ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৪ ফুট ৯ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৪২-৫২ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৩৯–৫০ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৪৪-৫৪ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৪১–৫২ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৪৫-৫৬ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৪২-৫৩ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৫ ফুট ০ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৪৭-৫৮ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৪৩-৫৫ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৫ ফুট ১ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৪৮-৬০ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৪৫-৫৭ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৫ ফুট ২ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৫০-৬২ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৪৬-৫৯ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৫১-৬৪ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৪৮-৬১ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৫৩-৬৬ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৪৯-৬৩ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৫৫-৬৮ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৫১-৬৫ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৫৬-৭০ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৫৩-৬৭ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৫৮-৭২ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৫৪-৬৯ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৬০-৭৪ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৫৬-৭১ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৬২-৭৬ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৫৭-৭১ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৬৪-৭৯ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৫৯-৭৫ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৬৫-৮১ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৬১-৭৭ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৬ ফুট ০ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৬৭-৮৩ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৬৩-৮০ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৬ ফুট ১ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৬৯-৮৬ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৬৫-৮২ কিলোগ্রাম।

উচ্চতা: ৬ ফুট ২ ইঞ্চি-> পুরুষ: ৭১-৮৮ কিলোগ্রাম / মহিলা: ৬৭-৮৪ কিলোগ্রাম।

নবী-রাসুলদের কার কোন পেশা ছিল

আল্লাহ তাআলা সর্বযুগে সব জাতির কাছে নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘প্রতিটি জাতির জন্য পথ-প্রদর্শনকারী রয়েছে।’ (সুরা : আর রাদ, আয়াত : ১৩) অন্যত্র ইরশাদ করেছেন, ‘আমি রাসুল প্রেরণ না করে কাউকে শাস্তি দিই না।’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ১৬৫)

সব নবী-রাসুলের কোনো না কোনো পেশা ছিল, তাঁরা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতেন না। বরং স্বীয় হস্তে অর্জিত জিনিস ভক্ষণ করাকে পছন্দ করতেন। মহানবী (সা.)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোন ধরনের উপার্জন উত্তম ও শ্রেষ্ঠ? তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন, ব্যক্তির নিজ হাতে কাজ করা এবং সৎ ব্যবসা। (সুয়ুতি আদদুররুল মানসুর, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২২০) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হালাল রুজি অর্জন করা ফরজের পর একটি ফরজ।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

ঈসা (আ.) এক ব্যক্তিকে অসময়ে ইবাদাতখানায় দেখে প্রশ্ন করলেন, তুমি এখানে বসে ইবাদত করছ, তোমার রিজিকের ব্যবস্থা কে করে? লোকটি বলল, আমার ভাই আমার রিজিকের ব্যবস্থা করে। ঈসা (আ.) তাকে বলেন, সে তোমার চেয়ে অনেক উত্তম। (হেদায়াতুল মুরশিদিন)। কবির ভাষায়, ‘নবীর শিক্ষা কোরো না ভিক্ষা, মেহনত করো সবে।’ নবী-রাসুলরা হলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব। তাঁরা স্বহস্তে অর্জিত সম্পদে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

আদম (আ.) ছিলেন একজন কৃষক। তিনি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর ছেলেদের পেশাও ছিল চাষাবাদ। তা ছাড়া তিনি তাঁতের কাজও করতেন। কারো কারো মতে, তাঁর পুত্র হাবিল পশু পালন করতেন। কৃষিকাজের যন্ত্রপাতির নাম আল্লাহ তাআলা তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। যেমন—আল্লাহর বাণী, ‘আর আল্লাহ আদমকে সব নামের জ্ঞান দান করেছেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩১)

শিস (আ.)ও কৃষক ছিলেন। তাঁর পৌত্র মাহলাইল সর্বপ্রথম গাছ কেটে জ্বালানি কাজে ব্যবহার করেন। তিনি শহর, নগর ও বড় বড় কিল্লা তৈরি করেছেন। তিনি বাবেল শহর প্রতিষ্ঠা করেছেন। (ইবনে কাসির)

ইদরিস (আ.)-এর পেশা ছিল কাপড় সেলাই করা। কাপড় সেলাই করে যে অর্থ উপার্জন করতেন, তা দিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।  ইদরিস শব্দটি দিরাসা শব্দ থেকে নির্গত। তিনি বেশি পরিমাণে সহিফা পাঠ করতেন বলে তাঁকে ইদরিস বলা হয়। পড়াশোনার প্রথা তাঁর সময় থেকে চালু হয়। একদল পণ্ডিত মনে করেন, হিকমত ও জ্যোতির্বিদ্যার জন্ম ইদরিস (আ.)-এর সময়ই হয়েছিল।

নুহ (আ.) ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। আল্লাহ তাআলা তাঁকে নৌকা তৈরির কলাকৌশল শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর নির্দেশে তিনি নৌকা তৈরি করেছিলেন। আল্লাহর বাণী—‘আর তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওহি অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ করো।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৩৭) তিনি ৩০০ হাত দীর্ঘ, ৫০ হাত প্রস্থ, ৩০ হাত উচ্চতাসম্পন্ন একটি বিশাল নৌকা তৈরি করেন।

হুদ (আ.)-এর জীবনী পাঠান্তে জানা যায় যে তাঁর পেশা ছিল ব্যবসা ও পশু পালন। ব্যবসা ও পশু পালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।

সালেহ (আ.)-এর পেশাও ছিল ব্যবসা ও পশু পালন।

লুত (আ.)-এর সম্প্রদায়ের লোকেরা চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত ছিল। এতে প্রতীয়মান হয় যে তিনিও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করতেন চাষাবাদের মাধ্যমে।

ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনী পাঠান্তে জানা যায় যে তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য কখনো ব্যবসা, আবার কখনো পশু পালন করতেন।

ইসমাইল (আ.) পশু শিকার করতেন। তিনি ও তাঁর পিতা উভয়ই ছিলেন রাজমিস্ত্রি। পিতা-পুত্র মিলে আল্লাহর ঘর তৈরি করেছিলেন।

ইয়াকুব (আ.)-এর পেশা ছিল ব্যবসা, কৃষিকাজ করা ও পশু পালন।

ইউসুফ (আ.) রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বেতন হিসেবে রাষ্ট্রীয় অর্থ গ্রহণ করতেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার রব! আপনি আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতা দান করেছেন।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০১)

শোয়াইব (আ.)-এর পেশা ছিল পশু পালন ও দুধ বিক্রি। পশু পালন ও দুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর কন্যারা চারণভূমিতে পশু চরাতেন।

দাউদ (আ.) ছিলেন রাজা ও নবী। সহিহ বুখারির ব্যবসা অধ্যায়ে রয়েছে যে দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন, হে আল্লাহ! এমন একটি উপায় আমার জন্য বের করে দিন, যেন আমি নিজ হাতে উপার্জন করতে পারি। অতঃপর তাঁর দোয়া কবুল হয় এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে লোহা দ্বারা বর্ম ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করার কৌশল শিক্ষা দেন। শক্ত ও কঠিন লোহা স্পর্শ করলে তা নরম হয়ে যেত। যুদ্ধাস্ত্র, লৌহ বর্ম ও দেহবস্ত্র প্রস্তুত করা ছিল তাঁর পেশা। এগুলো বিক্রি করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।

সোলায়মান (আ.) ছিলেন সমগ্র পৃথিবীর শাসক ও নবী। তিনি তাঁর পিতা থেকে অঢেল ধন-সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। তিনি নিজেও অঢেল সম্পদের মালিক ছিলেন। ভিন্ন পেশা গ্রহণ করার চেয়ে নিজ সম্পদ রক্ষা ও তদারকি করাই ছিল তাঁর প্রদান দায়িত্ব। মানব-দানব, পশু-পাখি, বাতাস ইত্যাদির ওপর তাঁর কর্তৃত্ব ছিল। তাঁর সাথি ঈসা ইবনে বরখিয়া চোখের পলক ফেলার আগে বিলকিসের সিংহাসন সোলায়মান (আ.)-এর সামনে এনে হাজির করেন।

মুসা (আ.) ছিলেন একজন রাখাল। তিনি শ্বশুরালয়ে মাদায়েনে পশু চরাতেন। সিনাই পর্বতের পাদদেশে বিরাট চারণভূমি মাদায়েনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। লোকজন সেখানে পশু চরাত। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন মুসা (আ.)। আট বছর তিনি স্বীয় শ্বশুর শোয়াইব (আ.)-এর পশু চরিয়েছেন।

হারুন (আ.)-এর পেশাও ছিল পশু পালন। পশু পালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।

ইলিয়াস (আ.)-এর পেশাও ছিল ব্যবসা ও পশু পালন।

আইউব (আ.)-এর পেশা ছিল গবাদি পশু পালন। তাঁর প্রথম পরীক্ষাটি ছিল গবাদি পশুর ওপর। ডাকাতরা তাঁর পশুগুলো লুট করে নিয়ে গিয়েছিল। (আনওয়ারে আম্বিয়া, ই. ফা. বাংলাদেশ)

ইউনুস (আ.)-এর গোত্রের পেশা ছিল চাষাবাদ। সুতরাং কারো কারো মতে, তাঁর পেশাও ছিল চাষাবাদ।

জাকারিয়া (আ.) ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে মহানবী (সা.) বলেছেন, জাকারিয়া (আ.) কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাই তাঁর শত্রুরা তাঁর করাত দিয়েই তাঁকে দ্বিখণ্ডিত করে। (সহিহ বুখারি)

ইয়াহইয়া (আ.) প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে তিনি জীবনের একটি সময় জঙ্গলে ও জনহীন স্থানে কাটিয়েছিলেন। আহার হিসেবে তিনি বৃক্ষের লতাপাতা ভক্ষণ করতেন। (আনওয়ারে আম্বিয়া)

জুলকিফল (আ.)-এর পেশা ছিল পশু পালন।

ইয়াসা (আ.)-এর পেশা ছিল ব্যবসা ও পশু পালন।

ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-এর আবাসস্থল প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আমি তাদের উভয়কে এক উচ্চ ভূমি প্রদান করেছিলাম, যা সুজলা ও বাসযোগ্য ছিল।’ (সুরা : আল মুমিনুন, আয়াত : ৫০)

এই উচ্চ ভূমি হলো ফিলিস্তিন। তিনি ফিলিস্তিনে উৎপন্ন ফলমূল খেয়ে বড় হয়েছেন। তিনি ঘুরে ঘুরে অলিতে-গলিতে দ্বিনের দাওয়াতি কাজ করতেন। যেখানে রাত হতো, সেখানে খেয়ে না খেয়ে নিদ্রা যেতেন। তাঁর নির্দিষ্ট কোনো পেশা ছিল না।

মহানবী (সা.) ছিলেন একজন সফল ও সৎ ব্যবসায়ী। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ীদের হাশর হবে নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে।’ (আদ্দুররুল মানসুর, ষষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২০) তিনি গৃহের কাজ নিজ হাতে করতেন। বকরির দুধ দোহন করতেন। নিজের জুতা ও কাপড় সেলাই ও ধোলাই করতেন, গৃহ ঝাড়ু দিতেন। মসজিদে নববী নির্মাণকালে শ্রমিকের মতো কাজ করেছেন। খন্দকের যুদ্ধে মাটি কেটেছেন। বাজার থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করতেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘বর্শার ছায়ার নিচে আমার রিজিক নির্ধারণ করা হয়েছে—তথা গণিমতের মাল হলো আমার রিজিক।’ (কুরতুবি, ১৩তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২)

নবী-রাসুলদের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য এই যে বৈষয়িক ধন-সম্পদের প্রতি তাঁদের কোনো আকর্ষণ ছিল না। তাঁরা কখনো ধন-সম্পদ সঞ্চয় করতেন না এবং সঞ্চয় করা পছন্দও করতেন না। তথাপি যেহেতু তাঁরা মানুষ ছিলেন, সেহেতু বৈষয়িক প্রয়োজনে যতটুকু জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজন, ততটুকু সম্পদ অর্জনে বিভিন্ন পেশা গ্রহণ করেছেন। সদা-সর্বদা নিজেদের কষ্টার্জিত সম্পদ থেকে ভক্ষণ করা পছন্দ করতেন। মানুষদের থেকে কখনো তাঁরা নজর-নেওয়াজ, এমনকি বেতনও গ্রহণ করতেন না। বরং যথাসম্ভব নিজেদের উপার্জন থেকে গরিব ও দুস্থদের সাহায্য করতেন। সব নবী-রাসুল ছাগল চরাতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এমন কোনো নবী নেই, যিনি ছাগল চরাননি।’ জনৈক সাহাবি প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনিও কি ছাগল চরিয়েছেন? প্রত্যুত্তরে রাসুল (সা.) বলেন, ‘হ্যাঁ, আমিও মক্কায় অর্থের বিনিময়ে ছাগল চরিয়েছি।’ বলা বাহুল্য যে মহানবী (সা.)-এর সাহাবিরা অনেকেই ব্যবসা করতেন। বিশেষ করে মুহাজিররা ছিলেন ব্যবসায়ী আর আনসাররা ছিলেন কৃষক।

লেখক : প্রধান ফকিহ, আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসা, ফেনী।

‘হাসিনা: এ ডটার’স টেল’ দেখতে আজও উপচেপড়া ভিড়

বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার জীবনীভিত্তিক ডক্যুড্রামা হাসিনা: এ ডটার’স টেল দেখতে দ্বিতীয় দিনের প্রিমিয়ার শো’তেও ভিড় করেছেন বিভিন্ন বয়সী দর্শক। শুক্রবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে উপচে পড়া দর্শকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

প্রিমিয়ার শো’র অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় প্রদর্শন শুরু হয় ডক্যুড্রামাটির। ৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার জীবন ও সংগ্রামের গল্প দেখতে প্রেক্ষাগৃহে যান বিভিন্ন স্তরের মানুষ। ৭০ মিনিট ব্যাপ্তির এই পরিবেশনায় পরিচালক মুন্সিয়ানার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

চলচ্চিত্রটিতে ব্যক্তি শেখ হাসিনার আদর্শিক লড়াই, জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি উঠে এসেছে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বঙ্গবন্ধু পরিবারের ত্যাগের গল্প। মুজিব আদর্শের এই চিত্রায়নে মুগ্ধ সবাই।

আগামীতেও এমন ঐতিহাসিক ঘটনার বড় পর্দায় চিত্রায়ন প্রত্যাশা করেন তারা। বিকেল থেকে ঢাকার তিনটি ও চট্টগ্রামের একটি প্রেক্ষাগৃহে সর্বসাধারণের জন্য চলচ্চিত্রটির বাণিজ্যিক প্রদর্শন শুরু হবে।

স্থগিত হয়নি বিশ্ব ইজতেমা

বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত হয়নি, তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পরামর্শক্রমে পরবর্তীতে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করা হবে।

শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শরীফ মাহমুদ অপু সাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ১৫ নভেম্বর আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান এবং তাবলীগ জামাতের বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার লক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তাবলীগ জমাতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভি’র বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার লক্ষে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শ্রীঘ্রই ভারতের দেওবন্দে যাবার সিদ্ধান্ত হয়। প্রতিনিধি দল ভারতের দেওবন্দ থেকে এসে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পরামর্শক্রমে ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ের সাথে সমন্বয় করে বিশ্ব ইজতেমার একটি তারিখ নির্ধারণ করা হবে মর্মে সিদ্ধান্তগৃহীত হয়।’

এতে আরও বলে হয়, ‘গতকাল থেকে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। সভার সঠিক সিদ্ধান্ত হল- বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত হয়নি, তাবলীগ জমাতের দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পরামর্শক্রমে পরবর্তীতে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করা হবে।’

সভায় সেতুবিভাগের সিনিয়র সচিব, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, ধর্ম সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আবদুল্লাহ, মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান এবং তাবলীগ জমাতের দুই পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়াও আলেম ওলামাগণসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়।

ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে ডা. জাফরুল্লাহর ৫ প্রস্তাব

ঐক্যফ্রন্ট গঠনে উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন- ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বর্তমানে তিনি এই জোটের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচটি বিষয় যুক্ত করতে গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রস্তাব দেবেন বলে জানা গেছে।

আইন ও বিচার বিভাগের সংস্কার, বিচারকদের স্বচ্ছ নিয়োগ পদ্ধতি ও বিচারকাজে তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার, গণভোট, ন্যায়পাল নিয়োগের প্রস্তাব দেবেন তিনি।

এ বিষয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমার এ প্রস্তাব ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতাদের দেব। আশা করি, তারা বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করবেন।’

প্রস্তাবগুলো হলো:

১. (ক). স্থানীয় সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন খরচের সর্বোচ্চ দ্বিগুণ মূল্য স্থির হবে বিক্রয়মূল্য হিসেবে এবং নগরবাসী কৃষিপণ্য পাবেন উৎপাদক সমবায় সমিতির নির্ধারিত মূল্যের সর্বোচ্চ ২-৩ গুণ বেশি মূল্যে। অর্থাৎ কৃষকের প্রতি কিলোগ্রাম মুলার স্থানীয় বিক্রয় দর ৫ টাকা হলে নগরবাসী পাবেন ১০-১৫ টাকায়।

(খ). প্রয়োজন মাফিক সব কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য ভর্তুকি দেওয়া হবে, যেন কৃষিতে কর্মসংস্থান বাড়ে এবং ভারত ও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে কৃষিজাত পণ্যের আমদানি কমে।

২. বাজারমূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ হবে এবং সামরিক বাহিনীর দরে সব শ্রমিককে রেশন দেওয়া হবে। শ্রমিকরা মাসিক মাত্র ২৫০ টাকা প্রিমিয়ামে সব স্বাস্থ্য সুরক্ষা বীমা সুবিধা পাবেন। শ্রমিকরা কেবল ওষুধের মূল্য দেবেন।

৩. (ক). সারাদেশের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দ্রুত উন্নয়নের নিমিত্তে ‘১৯৮২ সালের জাতীয় ঔষুধনীতির’ সুষ্ঠু প্রয়োগ হলে তিন মাসের মধ্যে সব অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য ন্যূনতম অর্ধেক হবে এবং সব ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার দর কমপক্ষে ৫০ শতাংশ কমে আসবে। হৃদরোগের চিকিৎসা খরচও একই হারে কমবে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ্য, স্টেন্ট স্থাপন ২৫ হাজার টাকায় করা যাবে। প্রাথমিক অবস্থায় ঢাকা শহরে নতুন কোনো হৃদরোগের সরকারি হাসপাতাল তৈরি না করে ৮টি প্রধান শহরে হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

(খ). গ্রামীণ জনসাধারণকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সব ইন্টার্ন চিকিৎসককে এক বছর ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রে সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান করে এক বছর প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে।

(গ) সব বড় ও জেলা শহরে জেনারেল প্র্যাকটিশনার্স প্রথা চিকিৎসা সৃষ্টি করে দ্রুত যথাযথ চিকিৎসার জন্য রেফারেল ব্যবস্থা শুরু হবে।

(ঘ). আইনের সংশোধন করে অঙ্গ প্রতিস্থাপন নিয়মাবলি সহজলভ্য করা হবে। বাংলাদেশের সর্বত্র ৬ মাসের মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন হবে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকায়।

৪. (ক). দুই বছরের মধ্যে ৫ লাখ গ্রাজুয়েটের কর্মসংস্থান হবে।

(খ). সব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের তিন মাস বাধ্যতামূলক সামরিক শিক্ষা দেওয়া হবে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে।

(গ). বয়োবৃদ্ধরা ১/২ দরে বাস ও ট্রেনে ভ্রমণ সুবিধা পাবেন এবং শিক্ষিত বয়োবৃদ্ধদের জন্য অবৈতনিক কর্মসংস্থান হবে।

৫. (ক). মুখে রক্ত সঞ্চার স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়, বরং মৃত্যুর ঘণ্টা। ঢাকা শহরে আর একটিও সরকারি বিল্ডিং, এমনকি সরকারি হাসপাতালও নয়। দুই বছরের মধ্যে প্রশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও টেক্সট বই প্রকাশনা, গণপরিবহন, নারী উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ ব্যবস্থাপনা ৮টি প্রদেশ বা ১৭টি স্টেটভিত্তিক বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকবে সুপ্রিমকোর্ট, সেনাবাহিনী, পররাষ্ট্র, বৈদেশিক বাণিজ্য, বিমান ও সমুদ্রবন্দর, আন্তঃজেলা মহাসড়ক এবং ইনকাম ট্যাক্স ও শুল্ক ব্যবস্থাপনা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও নৌবাহিনীর সদর দপ্তর এবং নৌ ও বন্দর মন্ত্রণালয় চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত হবে।

(খ). আইন ও বিচার বিভাগের সংস্কার, বিচারকদের স্বচ্ছ নিয়োগ পদ্ধতি ও বিচারকাজে তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ। হাইকোর্টের বিচারপতিদের বার্ষিক ছুটি ৪ সপ্তাহে সীমিতকরণ এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যে মামলার রায় চূড়ান্ত করা হবে। সব সিভিল ও ক্রিমিনাল মানহানি মামলায় বাধ্যতামূলক কোর্ট ফি নির্ধারণ, পুলিশ বা অন্যভাবে সৃষ্ট মিথ্যা মামলার জন্য ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা এবং কেবল অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাসস্থানের শহর-আদালতে মানহানির মামলা করতে হবে, অন্যত্র নয়। অহেতুক মামলার জট কমানোর লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ মানহানির মামলা করতে পারবেন না।

(গ). আইনের অপপ্রয়োগ নয়, সঠিক প্রয়োগই লক্ষ্য। খুনের মামলা ছাড়া অন্য মামলার আসামিদের হাইকোর্টে জামিন হলে সরকার সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে অহেতুক সময় ও অর্থ ব্যয় করবে না।

(ঘ). সংবিধানের সংস্কার করা হবে, গণভোট, ন্যায়পাল নিয়োগ হবে। আলাদা সাংবিধানিক কোর্ট স্থাপন করা হবে প্রত্যেক প্রদেশ বা স্টেটে। সুপ্রিমকোর্ট বসবে কেন্দ্রীয় রাজধানীতে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ‌‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন করবে। বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না।

মান্না বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট একটি ‘কমন’ প্রতীকে নির্বাচন করবে। প্রতীক হবে ধানের শীষ।’

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যে মাহমুদুর রহমান, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন প্রমুখ।

জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের ভাবনা কী

বাংলাদেশের আসছে সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের সাথে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা নির্বাচনে কীভাবে অংশ নেবেন সেটি বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে। কারণ বিএনপি সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামের নতুন জোটের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি পুরনো ২০ দলীয় জোটও রয়েছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি বাংলা।

সমীকরণ জটিল হওয়ায় আরেকটি কারণ হচ্ছে, বিএনপি ছাড়া জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের অন্য শরীক দলগুলোর জামায়াতে ইসলামী বিরোধী অবস্থান রয়েছে।

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।

মি: আহমদ জানান, বিএনপির মধ্যে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে দুই ধরণের মতামত আছে। একটি অংশ মনে করছে যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচন করলে কোন ক্ষতি নেই। আরেকটি অংশ মনে করে, ধানের শীষ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের নির্বাচন না করাই ভালো। আসন ভাগাভাগির বিষয় নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান এবং মির্জা আব্বাস এ কমিটির সদস্য।আসন ভাগাভাগির প্রশ্নে তারা বিভিন্ন দলের সাথে কথা বলবেন। এরপর সে কমিটি একটি খসড়া তৈরি করে স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠাবে। বিএনপি মনে করছে ১০ শতাংশ নিয়ে জোটের শরীক দলগুলোর সাথে জোরালো দরকষাকষি হতে পারে।

মি: আহমদ বলেন, “যেখানে আমাদের ভালো প্রার্থী আছে সেটাকে আমরা চাইবো না যে বিসর্জন দিতে। একটা বিষয়ে সবাই একমত যে আমাদের এমন প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া উচিত যার জেতার সম্ভাবনা আছে।”
এদিকে আজ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান গত বুধবার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তারা জোটের ভিত্তিতেই নির্বাচনে অংশ নেবেন। জামায়াতের এই নেতা বিবিসি বাংলাকে ধারণা দিয়েছেন যে তাদের ৫০-৬০ জন এবারের নির্বাচনে অংশ নেবেন।

ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সময় বিএনপি’র সাথে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আপত্তি তোলে ঐক্যফ্রন্টের কয়েকজন নেতা। বিএনপি যেন জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা ত্যাগ করে – এমন পরামর্শও দেয়া হয় তাদের।

এরকম পরিস্থিতিতেও কোনো একটি আসনে ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা কাজ করবেন বলে নিশ্চিত করেন মি. রহমান। “একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্যকে যদি সফল করতে হয় তাহলে সবাইকে বড় মনের পরিচয় দিতে হবে”, বলেন মি. রহমান।

একইভাবে যেসব আসনে জামায়াতের নেতারা প্রার্থিতা করবেন, সেসব আসনে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের কোন ভাবনা নেই বলে উল্লেখ করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা এবং গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী।

এখানে জামায়াতে ইসলামী আসার কোন সুযোগ বা সম্ভাবনা আছে বলে আমরা মনে করছি না। জামায়াতে ইসলামীর দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও তাদের নেতারা নিবন্ধিত দলের প্রতীক কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারবেন।

যেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা প্রার্থী হবে সেখানে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী দেবে কি না? এমন প্রশ্নে সুব্রত চৌধুরী বলেন, “জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যেখানে প্রার্থী দেবে সেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী থাকার কোন প্রশ্নই আসেনা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ৩০০ আসনে সর্বসম্মতভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে।”

কাদেরের প্রশ্নের জবাব দিলেন ড. কামাল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের বলে জানিয়েছেন ড. কামাল হোসেন।

শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে সম্পাদকদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এরআগে গতকাল এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঐফ্রন্টের কাছে জানতে চান তারা নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রী হবেন কে? তার প্রশ্নের উত্তরে আজ ড. কামাল এ কথা জানান।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।

সম্পাদকদের মধ্যে আছেন-নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএইজ সম্পাদক নুরুল কবীর, বাংলাদেশ প্রতিদিনের যুগ্ম-সম্পাদক আবু তাহের, আমাদের সময় সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, সাপ্তাহিক বুধবার সম্পাদক আমির খসরু, সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তজা, ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মুন্সি আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশের খবরের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রমুখ।

শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করবেন না, ফরমও নেননি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অথচ তিনি সবসময়ই গণমাধ্যমে বিএনপির হয়ে সরব ছিলেন।

১২ নভেম্বর থেকে হাজার হাজার সংসদ সদস্যের মনোনয়ন প্রত্যাশীর মাঝে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করে গেলেও তিনি নিজে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি।

কেন নির্বাচন করছেন না এমন প্রশ্নে গণমাধ্যমকে রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবো না আমি। এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। দলীয় কোনো বিষয় নয়।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে মনে করেন না। তবে যদি নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার দেয়া হতো তাহলে নির্বাচন করতেন বলে জানান। কিন্তু তা দিবে না এই সরকার।

রুহুল কবির রিজভী বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত৷ ১/১১ বিএনপি যখন নেতৃত্বহীন প্রায়, সংস্কারপন্থীদর দ্বারা বিএনপি যখন ভেঙে যাওয়ার পথে এবং বেগম খালেদা জিয়া যখন কারাবন্দি সেসময় নিয়মিত সরব থেকে বিএনপিকে চাঙ্গা রাখেন।

ছাত্রজীবনে রাকসুর নির্বাচিত ভিপি ছিলেন রিজভী। ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত এবং পরে নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।

বর্তমানে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রিজভী আহমেদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অত্যন্ত বিশ্বস্ত নেতা হিসেবে পরিচিত।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম কিনে ইতোমধ্যে জমা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া স্থায়ী কমিটির প্রায় সবাই এর মধ্যে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।

কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষেও তিনটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া ৭ এর মনোনয়ন ফরম কেনা হয়েছে খালেদা জিয়ার জন্য।

তবে তারেক রহমানের জন্য কোনো মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়নি। বর্তমানে তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন।

অবশেষে বাংলাদেশে হচ্ছে ১৪২ তলা আইকনিক টাওয়ার

অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্রস্তাবিত ১৪২ তলা আইকনিক টাওয়ার নির্মিত হতে যাচ্ছে। পূর্বাচলের ১৯ নং সেক্টরের সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (সিবিডি) এলাকায় একশ’ একর জমিতে লিজ দেয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। তাই এখনই ১৪২ তলা আইকনিক নির্মাণকাজ শুরু করতে কোনো বাধা রইলো না। সহসাই আইকনিক টাওয়ার নির্মাণকাজ শুরু করবে কনসোর্টিয়াম অফ পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড অ্যান্ড কাজিমা করপোরেশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক বছরের বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেপিসি গ্রুপ এক প্রস্তাবে পূর্বাচলের ১৯ নং সেক্টরে সিবিডি এলাকায় ১৪২ তলা আইকনিক টাওয়ার, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম (৫০ হাজার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন), ১০ হাজার ধারণক্ষমতার একটি অত্যাধুনিক কনভেনশন সেন্টার, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মর্ডান মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতাল নির্মাণসহ ইকোপার্ক ও গলফ কোর্স উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য একটি প্রস্তাব দেয়। এসব প্রস্তাব নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কেপিসি গ্রুপের দফায় দফায় বৈঠক হয়।

কেপিসি গ্রুপ তাদের প্রস্তাবে জানায়, অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আমেরিকার নেডেল ইনকরপোরেশন এবং সুউচ্চ টাওয়ার নির্মাণে বিশ্ববিখ্যাত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যের অ্যারাবিয়ান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (এসিসি) কেপিসি গ্রুপের নির্মাণ সহযোগী হিসেবে নিয়োজিত থাকবে। তারা প্রস্তাবে উল্লেখ করেন, এসব স্থাপনাগুলো নির্মাণ করতে প্রায় আড়াইশ’ একর জমি তাদের প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ১৯ নং সেক্টরে অবস্থিত সিবিডি’র আওতাভুক্ত ১১৩ একর জমির মূল্য একরপ্রতি ১০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য সেক্টরে কমবেশি ১০৩ একর জমির মূল্য প্রতি একর ৭ কোটি টাকা। এসব জমির মূল্য বার্ষিক চারটি সমান কিস্তিতে ১৫ বছরে পরিশোধ করা হবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়ার পর ১৪২ তলা আইকনিক টাওয়ার নির্মাণের জন্য জমি লিজ দেয়ার কাজ শুরু করে রাজউক। প্রতিষ্ঠানটির ০৭/২০১৭তম কর্তৃপক্ষের সভায় নিলাম দরপত্র অনুমোদন পায় এবং নয় সদস্যের মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়। নিলাম দরপত্র আহ্বানের পর মাল্টিপ্লেক্স হোল্ডিংস লিমিটেড, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড, স্ট্র্যাটেজিক গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট, ইনকরপোরেশন, মরিয়ম কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এবং আন্না করপোরেশন (বিডি) লিমিটেড দরপত্র দলিল কিনে। কিন্তু দরপত্র দাখিল করে স্ট্র্যাটেজিক গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট ইনকরপোরেশন- নেডেল কনসোর্টিয়াম এবং কনসোর্টিয়াম অফ পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড অ্যান্ড কাজিমা করপোরেশন।

এর মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট ইনকরপোরেশন-নেডেল কনসোর্টিয়াম প্রতি একর জমির দাম ৩০ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং কনসোর্টিয়াম অফ পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড অ্যান্ড কাজিমা করপোরেশন ৩০ কোটি ২৫ লাখ একশ’ টাকা দর দেয়। এর মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কনসোর্টিয়াম অফ পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড অ্যান্ড কাজিমা করপোরেশন-এর দরপ্রস্তাব গ্রহণ করার সুপারিশ করে মূল্যায়ন কমিটি। এর ভিত্তিতেই রাজউকের সর্বশেষ বোর্ড সভায় বিষয়টি অনুমোদন পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্যারিস-এর আইফেল টাওয়ার, দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার-এর মতো ১৪২ তলা আইকন টাওয়ারটি নির্মিত হলে এটি বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টাওয়ার হিসেবে পরিচিতি পাবে। ফলে বাংলাদেশ মর্যাদার উচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও পর্যটন শিল্পে এক অভূতপূর্ব সাফল্যের বিপ্লব বয়ে আনবে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে সর্বোত্তম ও স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি আদর্শ শহর গড়ে তোলার জন্য পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ঢাকার অদূরে শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীর সংলগ্ন মধ্যবর্তী স্থানে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার সাড়ে চার হাজার একর, গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় এক হাজার ৫৭৭ একর এবং ঢাকা জেলার খিলক্ষেত থানার দেড়শ’ একর জমি অর্থাৎ সব মিলিয়ে ছয় হাজার ২২৭ একর জমিতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প অবস্থিত।

প্রকল্পের আওতায় মোট প্লটের সংখ্যা সাতাশ হাজার আটটি। এর মধ্যে আবাসিক প্লটের সংখ্যা ২৫ হাজার ১৬টি, বাণিজ্যিক প্লট এক হাজার ৩৩টি, প্রাতিষ্ঠানিক প্লট ৪২৩টি, প্রশাসনিক প্লট ৪৭৩টি এবং ডিপ্লোম্যাটিক প্লট ৬৩টি। প্রকল্পটিকে একটি অত্যাধুনিক স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ১৯ নং সেক্টরে সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (সিবিডি)- তে ২৪৫ একর, ১ নং সেক্টরে কমবেশি এক লাখ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি আর্ন্তজাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য ৩৭ দশমিক ৪৯ একর, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, ইকোপার্ক, গলফ কোর্স, পাঁচ তারকা হোটেল, ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ লেক নির্মাণের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে জমি রাখা হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজ: মাত্র ৬ হাজার টাকায় মোটরসাইকেল, সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ফ্রি

নতুন হোক বা একটু পুরানো। মাত্র ৬ হাজার টাকা দিলেই হাতে পাচ্ছেন নান্দনিক একটি বাইক। সঙ্গে বাইকের কাগজপত্রও। বাইক চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে এমন তথ্য। কলকাতার বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানার বাকাঁদহ বাজার থেকে বেশ কয়েকদিন আগে একটি বাইক চুরির ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনায় তদন্ত শুরু করে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। তদন্তে পুলিশ গড়বেতা থেকে সরফরোজ মল্লিক নামে বাইশ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করে। তাকে জেরা করে বেরিয়ে আসে বেশ কিছু তথ্য।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ মোটরবাইক চুরির এক বড়সর চক্রের সন্ধান পায়। খোঁজ মেলে আন্তঃজেলা গাড়ি চুরির চক্রেরও। পরে বাঁকুড়া জেলা পুলিশ এই ঘটনার তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করে।

সরফরোজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও দু’জনের নাম বেরিয়ে আসে। সূত্র ধরে বাঁকুড়ার ওন্দা থানার পুনিসোল গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত সাদেক আলি খান ও মজবুর আলি দালাল নামে দুই ব্যক্তিকে। ওই দু’জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে হদিশ পায় চুরি যাওয়া বাইকের।

তল্লাশি অভিযান চালিয়ে পুনিসোল এলাকা থেকে সতেরোটি বাইক উদ্ধার করে পুলিশ। যেগুলি অনেকে কিনে বাড়িতে রেখেছিল। তৈরি করে দেয়া হয়েছিল নকল রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র।

জেলা পুলিশ সুপার সুখেন্দু হীরা জানান, উদ্ধার হওয়া বাইকগুলির একটি বাকাঁদহ থেকে চুরি হওয়া আর বাকিগুলি খড়গপুর, মেদিনীপুর, কোতোয়ালি, চন্দ্রকোনা এলাকা থেকে চুরি হওয়া।

বাইক চুরি করত আর সাদেক ও মজবুর সেগুলি মাত্র ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হত। আর বাইকের নকল কাগজও তৈরি করে দেওয়া হতো রাতারাতি।