বিএনপির নেতাকর্মীর সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ

কিশোরগঞ্জে বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশ চলাকালে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় ৩জন বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর কুলিয়ারচর উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের চমুরি বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী শরীফুল আলম ও পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহসানসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বিএনপি প্রার্থী শরীফুল আলম বলেন, নির্বাচনী সমাবেশে চলার শেষ পর্যায়ে আমি বক্তৃতা করছিলাম। এসময় পুলিশ ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সমাবেশে হামলা চালায়। এতে আমি পায়ে আঘাত পাই। এছাড়াও ১৫ জনের মতো আহত হয়েছে এবং পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নান্নু মোল্লা বিডি২৪লাইভকে বলেন, নির্বাচনী সমাবেশের কাছ দিয়ে পুলিশের গাড়ি যাওয়ার সময় বিএনপির সমাবেশ থেকে গাড়িতে হামলা চালায়। পরে পুলিশ এটি প্রতিরোধের চেষ্টা করে। এতে পুলিশের দুইজন এসআই এবং
একজন এএসআই আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৩জন বিএনপি কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

যা বললেন রিকশাচালককে মারধরকারী সেই নারী

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাস্তায় মারমুখী ভঙ্গিতে একজন নারী এক রিকশাচালককে মারছে- এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নিজের দল আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন ওই নারী।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মকবুল হোসেন তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রিকশাচালককে মারধোরের ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে যে নারীকে দেখা গেছে, তিনি মিরপুরের ঐ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মহিলা-সম্পাদিকা সুইটি আক্তার শিনু। ভিডিও দেখার পর মিজ. সুইটিকে দলীয় কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে মি. মকবুল জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যে ভিডিওটা ভাইরাল হইছে সেইটা আমরা দেখছি। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে বসে সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে দল কমিটি থেকে বহিষ্কার করার’।

মিজ. সুইটি এক-দেড় বছর আগে এই কমিটিতে যুক্ত হন। তিনি স্থানীয় একজন এমপির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক কমিটির সদস্য বলে জানান মকবুল হোসেন তালুকদার।

কী বলছেন সুইটি আক্তার?

যে ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে নানারকম আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে, সেটির বিষয়ে সুইটি আক্তার কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। ওই ঘটনা নিয়ে তিনি এখন ‘লজ্জিত’ বলেও জানান।

তিনি বলেন, ‘আমি একদম স্যরি, যেহেতু আমার ভুল হয়ে গেছে। আমার এটা করা উচিত হয়নি। আমি স্যরি বলতেছি।’

এ ঘটনার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ভুল হইছে। আমার দল ঠিক করেছে।’

তাঁর দাবি, ‘দলের বাইরের কিছু লোক ভিডিও করে তাকে অপব্যবহার করছে।’

এই ভিডিও ভাইরাল হওয়া সম্পর্কে সুইটি আক্তার বলেন, ‘এই ইলেকশনকে কেন্দ্র করে এইগুলা করতেছে। বেশি আমাদের বিপক্ষের লোকগুলা লেখালেখি করতেছে।’

এই ঘটনার পরে ফেসবুকে বেশ কিছু ফেক আইডি তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনটিতে তাকে ‘বিএনপি নেত্রী’ আবার কোনটিতে তাকে ‘আওয়ামী লীগ নেত্রী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

কেন মারধোর করলেন তিনি?

সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যেটুকু দেখা গেছে তার আগে কিছু ঘটনা ঘটেছে তা লোকজনের নজরে আসেনি বলেও তিনি দাবি করেন।

‘বাসায় আমার বাচ্চা আছে এবং চুলায় রান্না চাপানো আছে- এটা বলার পরও রিকশাচালক তার কথা না শুনে ধীরে ধীরে চালাচ্ছিলেন এবং ভাঙ্গা জায়গা দিয়ে রিকশা চালাচ্ছিলেন,’ বলেন মিজ. সুইটি।

এরপর তিনি ‘রিকশা থেকে পড়ে যান’ বলেও উল্লেখ করেন।

তবে তিনিতো চাইলে অন্য রিকশায় উঠে যেতে পারতেন-সে প্রশ্ন করা হলে মিজ সুইটি স্বীকার করেন, ‘এমনটা করা হয়নি।’

এছাড়া তিনি জানান, এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে তিনি লজ্জার মুখে পড়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আপনাকে বলে বোঝাতে পারবো না গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে আমি কিসের মধ্যে আছি।’

ভিডিওতে কী আছে?

রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি রিকশার সিটে আরোহী একজন নারী। যিনি সমানে চিৎকার করছেন আর মারছেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশা চালককে। লোকজন জড়ো হয়ে গেছে আশেপাশে। এমন একটি ভিডিও হঠাৎ ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে বিবিসি বাংলা।

ওই প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয়- অনেকের শেয়ার করা ভিডিওটিতে দেখা যায়, সালোয়ার কামিজ পরা রিকশারোহী ওই মহিলা রিকশাওয়ালাকে ‘তুই’ সম্বোধন করে কথা বলছেন।

ভিডিওটি যেখানে শুরু হয় সেখানে দেখা যায় রিকশাটি রাস্তার ধারে থেমে আছে এবং মারমুখী ভঙ্গিতে থাকা ওই নারীটি রিকশাওয়ালাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, ‘তোরে আমি নিয়া ছাড়মু তুই যাবি…।’ এ সময় রিকশাওয়ালা কিছু বলে উঠলে ওই নারীটি বলেন, ‘তোর ভাড়ার গুষ্টি কিলাই, তোকে ডাবল (দ্বিগুণ) ভাড়া দিবো, তুই যাবি।’

এই ঘটনা দেখে দাঁড়িয়ে পড়া উৎসুক জনতার মধ্য থেকে কেউ একজন এই ভিডিওটি করেন। পরবর্তীতে সেটাই ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক মাধ্যমে।

রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাওয়ালাকে প্রথমে দেখা যায়নি। তবে ওই নারী চালককে বলতে দেখা যায়, ‘যা চালা। চালা…চালা…।’

এরপর দ্রুত তিনি আবার উঠে বসেন রিকশায়। কিন্তু রিকশাওয়ালা তখন রাস্তায় জড়ো হয়ে যাওয়া লোকজনের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকেন, ‘উনি বলতেছে তাড়াহুড়া কইরা চালাইতে…।’
তার কথার মাঝে ওই নারীটি বলে ওঠেন, ‘তোরে কী বলছি? আমি বলছি ভাই জোরে চালাও, তুই কী করলি ভাঙ্গাচুরাতে রিকশা…’ এ পর্যন্ত বলেই তিনি রিকশাওয়ালাকে আবার মারতে শুরু করেন।

এবার পা দিয়ে লাথি মারতে দেখা যায় তাকে। সেইসাথে গালিও দিতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘তোরে সাবধান করছি, আমি তোরে কইছি তাড়াহুড়া কর…।’

মহিলাটি রিকশায় বসেই রিকশাটির চালককে এবার হাতে থাকা মোবাইল সেটটি দিয়ে মারেন।

এ সময় আশেপাশে দাঁড়ানো লোকজনের মধ্য থেকে কেউ কেউ প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ রূপে থাকা ওই নারীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি ওনাকে মারতেছেন কেন?’

এর জবাবে রিকশারোহী নারীটি তাদের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে ওঠেন। হাত নেড়ে বলেন, ‘যান এখান থেকে।’

এ সময় দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের কয়েকজন প্রতিবাদ করলে ওই নারীটি তাদের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করতে থাকেন। লোকজনের মধ্য থেকে কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনিতো ভালো কাজ করতেছেন না।’

আরেকজন বলেন, ‘আপনি তো ভদ্রমহিলা না।’

অন্য একজন লোককে বলতে দেখা যায়, ‘আপনি মহিলা মানুষ। …রিকশাওয়ালাকে মেরে আপনি ভালো কাজ করেন নাই, গায়ে হাত তুলছেন…আমি এখানে দাঁড়াইয়া দেখছি…।’

একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘বেয়াদব মহিলা’। তবে তার মুখ দেখা যায়নি।

আরেকজন বলে ওঠেন, ‘আপনাকে কে পারমিশন (অনুমতি) দিয়েছে?’

এমন সময় রিকশা থেকে ওই মহিলাকে নেমে মারমুখী ভঙ্গিতে একজন পুরুষের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির দৈর্ঘ্য এই পর্যন্তই। সেখানে একজন নারীকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে তাঁকে কোনও কথা বলতে ভিডিওতে দেখা যায়নি।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এভাবে একজন নারীর মারমুখী আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আবার কেউ কেউ ভিডিওটি শেয়ার করে ব্যঙ্গ-রসাত্মক বক্তব্য লেখেন। একটি অনলাইন পোর্টালের “জনসম্মুখে ‘পুরুষ নির্যাতন’, ভিডিও ভাইরাল” এই শিরোনামের খবরও অনেকে শেয়ার করেন।

আবার একজন নারীকে নিয়ে এভাবে ট্রল করার প্রতিবাদ করে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন।

তাদের বক্তব্য- বাংলাদেশের অনেক স্থানেই যেখানে রাস্তাঘাটে রিকশা-চালক বা বাসের হেলপারদের মারতে দেখা যায়। কিন্তু এই ঘটনার ক্ষেত্রে হামলাকারীর ভূমিকায় একজন নারীকে দেখতে পেয়ে কি লোকজনের প্রতিক্রিয়া এত তীব্র? তারা এই ঘটনাকে সমর্থন না করলেও বলছেন, সেসব সময় কেন ভিডিও করা হয় না?

রোকসানা ইসলাম জেরিন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘রিকশাওয়ালাকে এর আগে কেউ কোন দিন মারে নাই। এই প্রথম কেউ এভাবে মারলো। এই নারীর কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।’

সেখানে মন্তব্য করেছেন যারা তার মধ্যে ডিজি সুখন নামে একজন লিখেছেন, ‘অবশ্যই মারছে, আমিও মারছি। বাট এই মা… এর জাতের লোকটার কথা বলার ধরন, ফিজিক্যাল মুভমেন্ট এবং বয়স্ক/সম্মানী ব্যক্তির সাথে বাকবিতণ্ডা একটু মনোযোগ দিয়ে দেখা আবশ্যক। এন্ড ইয়েস, তার গেট-আপ এবং জেশ্চার আমাদের চোখে অবশ্যই অশোভনীয়।’

একই পোস্টে শ্রাবণী জলি লিখেছেন, ‘মারছে কিন্তু ভিডিও হয় নাই’।

ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপেও এই ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। একটি গ্রুপে কবীর খান নামে একজন সেটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘একজন রিকশাচালক হিসেবে লোকটির দোষ সে ধীরে রিকশা চালাচ্ছিল! যাত্রী হিসেবে মহিলার ব্যবহার! মহিলাটাকে আইনের আওতায় নিয়ে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।’

আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘একটা ছেলে গায়ে হাত তুললে সেটা যদি সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল না হয় তাহলে একজন নারী করলে সেটা হবে কেন?’

নির্বাচনে যে দিন থেকে নামবে সেনাবাহিনী

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৯ দিন স্ট্রাইকং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ বুধবার (১২ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

এছাড়াও ১৫ ডিসেম্বর থেকে ৬৬ জেলায় সীমিত আকারে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আইনশৃঙ্খলা বিষয় নিয়ে বৈঠক করবে সেনাবাহিনী।

এর আগে সিইসি কেএম নূরুল হুদা বলেছিলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের পরেই স্বল্প পরিসরে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানো হবে। প্রতিটি জেলায় সেনা সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন এবং জেলা পুলিশের সহযোগিতায় কাজ করবেন। সেনাবাহিনী মূলত পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করবে।

সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ তাদের জোট ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, এর বিরোধিতা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলেছে, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েন করার কোনো সুযোগ নেই। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারে।

তখন ইসি বলেছিল, সেনাবাহিনী মোতায়েন করার চিন্তা তাদের রয়েছে। তফসিলের পর কমিশন বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ নিয়ে নানা মহলের নানা মত রয়েছে। সেনাবাহিনীকে শুধু স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এর মানে হচ্ছে, ভোটকেন্দ্রে তাদের উপস্থিতি থাকবে না। সেখানে বেআইনি সমাবেশ, গোলযোগ বা অরাজকতা হলে প্রয়োজনবোধে কেবল প্রশাসনিক ম্যাজিস্ট্রেট তাদের ডাকতে পারবেন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য। ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯-১৩১ ধারা অনুসারে সামরিক বাহিনীকে এভাবে ডাকলে এ জন্য অন্য কোনো আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। এভাবে ডাকা সামরিক বাহিনী ১৩১ ধারা অনুসারে উপযুক্ত ক্ষেত্রে কাউকে গ্রেপ্তার পর্যন্ত করতে পারে।

১০ বছরের বেশি মেয়েদের জিন্স পরায় নিষেধাজ্ঞা

১০ বছরের বেশি মেয়েদের জিন্স পরায় নিষেধাজ্ঞা

মেয়ের বয়স ১০ বছরের ওপরে হলে জিন্স প্যান্ট পরা যাবে না— এমনটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের নিম্নবর্গ হিন্দু সম্প্রদায় মালিগোষ্ঠী। সপ্তাহব্যাপী স্থানীয় গরবা অনুষ্ঠানে মালিগোষ্ঠীর নেত্রী মানজুলা মালি এই ঘোষণা করেন। খবর: এনডিটিভি

প্দেশটির আলিরাজপুর এলাকার মালিগোষ্ঠীর নেত্রী মানজুলা মালি বলেন, চলমান গরবা অনুষ্ঠানে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন থেকে ১০ বছরের বেশি বয়স হলে কোনো মেয়ে জিন্সপ্যান্ট পরতে পারবে না। তিনি জানান, শুধু বাইরেই নয়, ঘরের ভেতরেও জিন্স পরা যাবে না। জিন্স পরে কোনো অনুষ্ঠানেও যাওয়া যাবে না।

এমন সিদ্ধান্তের কারণ প্রসঙ্গে মানজুলা বলেন, জিন্সের মতো পোশাক পরলে পুরুষরা নারীদের দিকে অশালীন দৃষ্টিতে তাকান। অতএব বিষয়টি আমাদের নারীদের বুঝতে হবে। পুরুষদেরও উচিত আমাদের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এগিয়ে আসা। মালিগোষ্ঠীর প্রেসিডেন্ট হিম্মত মালি জানান, ছেলেরা মেয়েদের দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকায় বলে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষার্থে এটি পালন করা উচিত।

যে কারণে ঘুমের মধ্যে শরীরে ঝাঁকুনি দেয়: মাত্রই ঘুমে চোখটা বন্ধ হয়ে এসেছে। হঠাৎই একটা ঝটকা। শরীরটা প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল, যেন মনে হচ্ছে কোথাও পড়ে যাচ্ছিলেন। এটা শুধু আপনার সমস্যা নয়, শরীরের ঝাঁকুনির এমন অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন বিশ্বের অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষ।

ঘুমের মধ্যে এমন ঝাঁকুনিকে ‘হিপনিক জার্কস’ বলা হয়। জেগে থাকা অবস্থা থেকে হঠাৎ ঘুমাতে যাওয়ার অবস্থার মধ্যে এই ‘হিপনিক জার্কস’ ঘটে থাকে। এই সময় মানুষ পুরোপুরি ঘুমের মধ্যে থাকে না। বরং বলা যায়, সে তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকে। এই অবস্থাতেই স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে জাগরণ ও স্বপ্নের সীমানাকে অনেক সময়েই মস্তিষ্ক বুঝে উঠতে পারে না। ফলে তার ধাক্কা এসে লাগে শরীরে। এ থেকেই তৈরি হয় ‘হিপনিক জার্কস’।

ঠিক কেন মস্তিষ্ক বুঝে উঠতে পারে না শরীরের অবস্থা? আসলে শরীরে তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব নেমে এলে মাস্‌ল এবং পেশীগুলো আস্তে আস্তে অবশ হতে থাকে। কিন্তু মস্তিস্ক শরীরে পেশীর এই অবস্থান বুঝে উঠতে না পেরে সেই প্রক্রিয়া আটকানোর চেষ্টা করে, ফলে শারীরে ঝাঁকুনি হয়।

যদিও কিছু মানুষ একে শারীরিক অসুবিধা ভেবে ভয় পান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে এতে ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই। তবে অনেক সময়ে নাক ডাকা থেকেও ‘হিপনিক জার্কস’ ঘটে থাকে। স্নায়ুতন্ত্রের উত্তেজনাপ্রবাহ ঠিকমতো ঠাহর করতে না পারায় এক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে শরীরে ঝাঁকুনি হয়।

রক্তস্বল্পতা নির্ণয়ের পরীক্ষা কী

রক্তস্বল্পতায় নারীরা বেশি ভোগেন। আয়রনের ঘাটতি রক্তস্বল্পতার প্রধান কারণ। দুর্বলতা, বুক ধড়ফড় করা, একটু কাজ করেই হাঁপিয়ে ওঠা ইত্যাদি রক্তস্বল্পতার লক্ষণ। রক্তস্বল্পতা নির্ণয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়।

রক্তস্বল্পতা নির্ণয়ের পরীক্ষার বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩২৮২তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. সালমা আফরোজ বর্তমানে বারডেম জেনারেল হসপিটালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন ও ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : রক্তস্বল্পতা নির্ণয়ে কী পরীক্ষা করেন?

উত্তর : সাধারণত রক্তস্বল্পতা নির্ণয়ে আমরা একটি সিবিসি করি। আধুনিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে অনেক প্যারামিটার পাওয়া যায়। প্যারামিটার দেখলে অনেক সময় বোঝা যায় কী কারণে রক্তস্বল্পতা হচ্ছে। এটি কি আয়নের ঘাটতির কারণে হচ্ছে, নাকি অন্য কোনো কারণে হচ্ছে।

আমাদের দেশে কনজেনিটাল এনিমিয়াও এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জন্মগতভাবে অনেকে রক্তস্বল্পতায় ভুগছে।

আইপিএল নিলামে মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ, কার দাম কত

২০১৯ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) প্রাথমিকভাবে বিশ্বব্যাপী ১০০৩ জন ক্রিকেটারের নাম নিলামের জন্য রাখা হয়েছিল। তবে আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজির রিভিউ শেষে এই সংখ্যাটি নেমে এসেছে ৩৪৬-এ। যেখানে বাংলাদেশের আছেন শুধু দুই ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

আগের তালিকায় বাংলাদেশ থেকে ১০ ক্রিকেটারের নাম নিবন্ধন করা হয়েছিল। সাকিব আল হাসানকে আগেই তার দল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ রেখে দিয়েছিল। তবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ছেড়ে দিয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানকে। কিন্তু ২০১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এবারের নিলামে বিসিবি কাটার মাস্টারকে দেয়নি।

মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহকে নিলামে ৫০ লাখ বেজ প্রাইজে রাখা হয়েছে। যেখানে মুশফিক উইকেটরক্ষক ক্যাটাগরি ও মাহমুদউল্লাহ অলরাউন্ডার ক্যাটাগরিতে আছেন। আগামী ১৮ ডিসেম্বর জয়পুরে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ থেকে শুরুতে এই তালিকায় যাদের নাম শোনা গিয়েছিলো এরা হলেন- তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, ইমরুল কায়েস, আবু হায়দার রনি, লিটন কুমার দাস, ও নাঈম হাসান। তবে মাত্র দুজনই রইলেন সংক্ষিপ্ত তালিকায়।

এ তালিকায় সর্বোচ্চ ২২৬ ক্রিকেটার রয়েছেন আয়োজক দেশ ভারতের। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার ২৬, অস্ট্রেলিয়ার ২৩, উইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের ১৮, নিউজিল্যান্ডের ১৩, আফগানিস্তানের ৮, শ্রীলংকার ৭ এবং জিম্বাবুয়ের দুজন জায়গা পেয়েছেন। এ ছাড়া আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের একজন করে ক্রিকেটার নিলামের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

আইপিএল ২০১৯-এর পর্দা উঠবে আগামী ২৯ মার্চ। বিশ্বকাপের ঠিক আগে ১৯ মে পর্দা নামবে মাল্টি মিলিয়ন ডলারের এ টুর্নামেন্টের। তবে খেলোয়াড়দের বিশ্রামের কথা মাথায় রেখে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টুর্নামেন্টটির সূচি খানিকটা এগিয়ে আনা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রথম আসরেই বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। বাম-হাতি এই স্পিনার সেসময় র‌য়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। পরের আসরেই কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে মাঠ মাতান বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেবারই মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে অংশ নেন মোহাম্মদ আশরাফুল।

২০১১ সাল থেকে শুরু হয় সাকিব আল হাসান অধ্যায়। কলকাতার হয়ে টানা সাত আসরে অংশ নিয়ে দুইবার শিরোপা জিতে নেন বিশ্ব সেরা এই অলরাউন্ডার। গেল আসরে খেলেছেন সানরাইর্জাস হায়দরাবাদের হয়ে। আর তাই দ্বাদশ আসরেও সাকিবকে দলে রেখে দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ২০১২ সালে পুনে ওয়ারিয়র্সের স্কোয়াডে জায়গা পেলেও মাঠে নামা হয়নি তামিম ইকবালের।

২০১৬ সালে হায়দারাবাদের হয়েই খেলেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথমবারের মতো আইপিএল শিরোপা জয়ের পাশাপাশি দারুণ বল করে জিতে নিয়েছিলেন ‘ইমার্জিন প্লেয়ার অব দ্যা ইয়ার’ এর পুরস্কার। তবে ইনজুরির কারণে পরের আসরে নিজেকে তেমন মেলে ধরতে পারেনি তিনি। সবশেষ ২০১৮ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে অংশ নেন কাটার মাস্টার খ্যাত এই তারকা।

ফায়ার সার্ভিসের ৬০০ নিয়োগ, আবেদন ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে ফায়ারম্যান পদে ৫৫৫ জন, ডুবুরি পদে ১১ এবং নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট পদে ৩৪ কর্মী নেবে।

অনলাইনে আবেদন করা যাবে ১৪ ডিসেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

উল্লিখিত এসব পদে শুধু পুরুষরা আবেদন করতে পারবেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যাবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের ওয়েবসাইটে (www.fireservice.gov.bd) ও bit.ly/2QirzYp শর্টলিংকে।

আবেদনের যোগ্যতা

ফায়ারম্যান, ডুবুরি ও নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট পদে আবেদনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি। শারীরিক যোগ্যতা—উচ্চতা ন্যূনতম ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং বুকের মাপ ন্যূনতম ৩২ ইঞ্চি চাওয়া হয়েছে। শারীরিক গঠন ত্রুটিমুক্ত হতে হবে।

১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে আবেদনকারীর বয়সসীমা হবে ১৮-২০ বছর। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩২ বছর। হতে হবে অবিবাহিত। গাড়ি চালনা জানা ও হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

যেভাবে আবেদন করবেন

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য http://fscd.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।

আবেদন ফরম পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমা দেয়া শুরু হয়েছে ৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে। আবেদন করার শেষ সময় ১৪ ডিসেম্বর বিকাল ৫টা। আবেদনের সময় প্রার্থীর ৩০০ বাই ৩০০ পিক্সেল রঙিন ছবি ও ৩০০ বাই ৮০ পিক্সেলের স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে।

আবেদনের সময় পাওয়া ট্র্যাকিং নম্বর ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করতে হবে। অনলাইনে আবেদনের সময় থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দেয়া যাবে। পরীক্ষার ফি ৫৬ টাকা।

পরীক্ষার ধরন

নির্ধারিত সময়ে পাওয়া আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে যোগ্যদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ওয়েবসাইটেও (www.fireservice.gov.bd) পাওয়া যাবে সব তথ্য। একই ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে নিতে হবে।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের জন্য প্রথমে নেয়া হবে শারীরিক পরীক্ষা। উত্তীর্ণ হলে বসতে হবে লিখিত পরীক্ষায়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সবশেষ নেয়া হবে মৌখিক পরীক্ষা।

বেতনভাতা

ফায়ারম্যান, ডুবুরি ও নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট-এ তিন পদেই জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১৮তম গ্রেডে ৮৮০০-২১৩১০ স্কেলে বেতনভাতা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া পাওয়া যাবে সরকারি নিয়মানুসারে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।

ধানের শীষের জয় হবেই হবে

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া বেসরকারি মেডিকেল কলেজের লেকচারার ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা।

পেশায় চিকিৎসক সানসিলা প্রার্থী হয়েছেন শেরপুর-১ (সদর) আসনে। তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. হযরত আলীর মেয়ে। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এই তরুণ প্রার্থী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন।

ডা. প্রিয়াংকার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের চারবারের এমপি মো. আতিউর রহমান আতিক।

নবীন-প্রবীণের এ লড়াই ভালোই জমে উঠেছে শেরপুরে। পাড়া-মহল্লা থেকে অলিগলি সব জায়গাই একটিই আলোচনা-কে হচ্ছেন এ আসনের এমপি।

রাজনীতিতে নবীন প্রিয়াংকা চারবারের এমপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপভোগ করছেন। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এ আসনে ধানের শীষের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তবে এখানে আওয়ামী লীগের একজন হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। একজন সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে হুইপ আতিউর রহমানের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। এ জন্য নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।

জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী প্রিয়াংকা। তিনি বলেন, রাজনীতিতে হারজিত থাকবেই। তবে নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তবে ধানের শীষের জয় হবেই।

সানসিলা স্থানীয়দের কাছে ডা. প্রিয়াংকা নামে পরিচিত। রাজনীতিতে আনকোরা প্রিয়াংকা চিকিৎসক হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। তিনি ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষক।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া ডা. সানসিলার তথ্যানুযায়ী-তার জন্ম ১৯৯৩ সালের ২২ জুন। তিনি ২০০৮ সালে এসএসসি পাস করেন। এইচএসসি পাস করেন ২০১০ সালে। আর এমবিবিএস পাস করেন ২০১৬ সালে।

এই আসনে দীর্ঘ ২২ বছর পর দলীয় প্রার্থী পেলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে মো. নজরুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এরপর একই বছর ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নজরুল ইসলাম পুনরায় প্রার্থী হলেও নির্বাচিত হতে পারেননি।

এরপর থেকে এ আসনটি হাতছাড়া হয়ে যায়। ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসনে এমপি হন আওয়ামী লীগের আতিক। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর আতিককে সংসদের হুইপ করা হয়।

এবার ধানের শীষের প্রার্থী পেয়ে খুশি এই আসনের বিএনপির নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের দাবি-ডা. প্রিয়াংকা বিভিন্ন সময় তার নির্বাচনী এলাকায় চরাঞ্চলের দুস্থ মানুষকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে সেবা দিয়েছেন।

এখন নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন।ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছেন।

নির্বাচন যেনো দুধ ভাত খেলা

‘নির্বাচন যেনো দুধ ভাত খেলা’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের কর্মীরা যেনো দুধভাত। আমাদের কার্যালয় ভেঙে যাবে, কর্মীদেরকে মারধর করা হবে। আর উনারা বলবেন দেখবেন দেখবেন।

আজ বুধবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এসে ববি হাজ্জাজ এ অভিযোগ করেন।

সাংবাদিকদের কাছে বি হাজ্জাজ অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার মধ্যরাতে তার কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে ওই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশিদের লোকজন।

তিনি বলেন, আমাদের ৫৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তাদের প্রত্যের কাছ থেকেই আমরা অভিযোগ পাচ্ছি। গতকাল মধ্যরাতে আমার প্রতিপক্ষ ঢাকা-৬ আসনে কাজী ফিরোজ রশিদ সাহেব উনি উনার গুন্ডা বাহিনী দিয়ে আমার গেন্ডারিয়ার দপ্তর ভাঙচুর করেন। আমার নেতাকর্মীদের অত্যাচার চালান এবং হুমকি ধামকি দেন। আমার অফিস দখল করে রেখেছেন। এখানে আসার আগ পর্যন্ত তারা আমার নির্বাচনি অফিস দখল করে রেখেছিলেন।

সেই অভিযোগ ইসিতে জানাতে এসে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দেখা পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ববি। তিনি বলেন, কোনো প্রতিকার তো পেলামই না, কমিশনার দু’মিনিট সময় বের করতে পারেননি যে আমাদের কিছু একটা বলতে পারেন।

সিইসিকে না পেয়ে ববি তার অভিযোগের চিঠি দিয়েছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের হাতে। কিন্তু তার কাছ থেকেও কোনো আশ্বাস মেলেনি।

তিনি আরো বলেন, সচিব সাহেব কোনো প্রতিকার দিতে পারেননি বা কিছু করেননি। আমাদের কার্যালয় ভেঙে যাবে, কর্মীদেরকে মারধর করা হবে। আর উনারা বলবেন, দেখবেন দেখবেন। আর কিছু করার উনাদের নেই। নির্বাচন যেন একটা দুধ-ভাত খেলা, আমাদের কর্মীরা যেন দুধ-ভাত।

একজন প্রার্থীর কথা যদি নির্বাচন কমিশন না শোনে, তাহলে নির্বাচনে কী ধরনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হচ্ছে- সেই প্রশ্ন তোলেন ববি। তিনি বলেন, নির্বাচন একটা যুদ্ধ ছাড়া কিছু না, আমরা নোংরাভাবে নির্বাচন করতে চাই না।

উল্লেখ্য, বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের বড় ছেলে ববি এক সময় ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এই এম এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টা। এখন তিনি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (এনডিএম) চেয়ারম্যান। দলের নিবন্ধন না থাকায় ঢাকা-৬ আসনে তিন প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মার্কা হারিকেন নিয়ে।

মির্জা ফখরুলের উপর হামলা, বিব্রত সিইসি

ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা অনাকাঙ্খিত। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন বিব্রত বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

বুধবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার আমরা আনন্দের সঙ্গে বলেছিলাম দেশে নির্বাচনের হাওয়া বইছে। দেশে নির্বাচনের পরিবেশ অত্যান্ত সুন্দর রয়েছে। কিন্তু গতকাল দুটো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালীতে যুবলীগ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আর ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা অনাকাঙ্খিত। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন অত্যান্ত বিব্রত।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিযোগিতা যেন প্রতিহিংসায় পরিণত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নির্বাচন কমিশন চাই না কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটুক।