রাতের আধারে আল-আকসা মসজিদের ইমামকে ধরে নিয়ে গেল ইসরাইল

আল-আকসা মসজিদের ইমামকে ধরে নিয়ে- বিশ্বের মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেইখ ওয়ালিদ সিয়ামকে আটক করেছে ইসরাইলের সেনাবাহিনী।

গত মঙ্গলবার রাতে একদল ইহুদিবাদী সেনা বাস ভবনে হানা দিয়ে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

গতকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি, বুধবার আল-আকসা মসজিদের পাণ্ডুলিপি বিভাগের পরিচালক রেজওয়ান আমরু বলেছেন, ইমাম শেইখ ওয়ালিদ সিয়ামের বাসা পুরোণো কুদসের খান আয-যেইত এলাকায় অবস্থিত।

ইহুদিবাদী সেনারা রাতের আধারে তার বাসায় হানা দিয়েছে। কোনো অপরাধ ছাড়াই সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হযেছে বলে তিনি জানান।

এদিকে, পশ্চিম তীরের আল-খলিল শহরের পুরোণো এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইহদিবাদীরা। ওই এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জমি দখল করে গড়ে তোলা উপশহরের অধিবাসীরা এ হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে।

উপ-শহরবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুল সংখ্যক ইসরাইলি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ইসরাইলি দৈনিক হারতেজ তাদের এক প্রতিবেদনে স্বীকার করেছে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইহুদি উপশহরবাসীর হামলা-নির্যাতন আগের বছরের চেয়ে তিনগুণ বেড়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সেখানে ২০১৮ সালে ফিলিস্তিনিদের ওপর ৪৮২ দফা হামলা হয়েছে। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৪০।

মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকতে হয় মইন উদ্দীনকে

আত্মহত্যা, খুন, পঁচনধরা কিম্বা গলিত-অর্ধগলিত অথবা ক্ষত-বিক্ষত কোনো লাশ বহন করতে ভোগান্তি বা দুশ্চিন্তার কোনো অন্ত নেই। এসব লাশ বহন না করতে থানাপুলিশ কিম্বা গ্রামের গণ্যমান্য লোকজনের ভয়ে পালিয়ে যায় অনেক গাড়িচালক। কিন্তু ময়েন উদ্দীনের ক্ষেত্রে একদম ভিন্ন চিত্র। নওগাঁর রাণীনগরের সিম্বা গ্রামের মইন উদ্দীনই একমাত্র মানুষ যিনি লাশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

মাথায় সাদা টুপি আর পরনে সাদা পাঞ্জাবী মইন উদ্দীনের। রাত হোক আর দিন হোক খবর পেলেই হাজির হয়ে যান লাশ বহন করতে। সেই লাশ মর্গে যাওয়া আবার মর্গে থেকে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত লাশের সাথে থাকেন এই মইন উদ্দীন।মইন উদ্দীন পেশায় একজন লাশ বহনকারী। তার ক্ষেত্রে লাশ বহন করা একদম নেশা বা পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৪ বছরে প্রায় ১১০টি লাশ বহন করেছেন তিনি।

কিন্তু ভালো নেই লাশের এই ঘনিষ্ঠ বন্ধু মইন আলী। স্থায়ী কোনো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় মইন আলীর সংসার চলে জোড়াতালী দিয়ে। মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকতে হয় মইন উদ্দীনকে। রাণীনগর উপজেলার সিম্বা গ্রামের মৃত আশরাফ আলী মন্ডলের ছেলে মইন উদ্দীন। তিনি জানান, সংসার জীবনে এক মেয়ে, এক ছেলে এবং স্ত্রী নিয়ে অভাব-অনটনের সংসার তার।

জীবিকা নির্বাহের জন্য অনেক কষ্ট করে একটি ভটভটি কিনেছিলেন। প্রায় ১৪ বছর আগে ভটভটি চালানো অবস্থায় হঠাৎ একদিন তার গ্রামের একটি লোকের অর্ধগলিত লাশ বাধ্য হয়ে তার গাড়িতে বহন করতে হয়। লাশবাহী গাড়ি চালাতে চালাতে ভাবতে থাকেন সবাই তো যাত্রী বহন করে, লাশ বহন করার লোক পাওয়া যায় না।

লাশ নিয়ে পরিবারের লোকজনদের ও থানাপুলিশদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। পঁচনধরা অর্ধগলিত লাশ গাড়িতে বহন করতে চায় না কেউ। ঠিক তখনই সিদ্ধান্ত নেয় তিনি শুধুমাত্র লাশ বহন করবেন।তিনি থানাপুলিশকে বলেন, ‘স্যার লাশ নিয়ে আপনাদের আর কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।

আমাকে খবর দিবেন, আমি লাশ বহনের জন্য চলে আসবো।’ সেই থেকে রাণীনগর উপজেলায় ব্যক্তিপর্যায় ও থানাপুলিশের পক্ষ থেকে লাশ বহনের কাজটি মইন উদ্দীনই করে চলেছেন।

লাশের বোঝা টানতে টানতে ধর্মীয় অনুভূতি জাগে মনের মধ্যে। তিনি নামাজ পড়তে শুরু করলেন, মুখে দাঁড়িও রাখলেন। গত ১৪ বছরে তিনি প্রায় ১ শ’ ১০টি লাশ বহন করেছেন।

অজ্ঞাত, পঁচন ধরা, ভাসমান, দুর্গন্ধ হওয়া লাশ, রেল ও সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষত-বিক্ষত হওয়া, হত্যা-আত্মহত্যাসহ সব ধরণের লাশ কাপড় বা চাটাই দিয়ে মোড়ানো ও বহনের ক্ষেত্রে মইন উদ্দীনই যথেষ্ট। ঘটনাস্থল থেকে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে নেয়া থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা পর্যন্ত লাশের দায়িত্বে থাকতে হয় মইন উদ্দীনকে।

লাশ নিয়ে কাজ করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ায় অন্য কাজ করতেও মন চায় না মইনের। লাশ বহন করতে পারলেই যেন তার মনে তৃপ্তি আসে। লাশ বহন করে গাড়ি ভাড়া বেশ ভালো পাওয়ার কারণে তার সংসারও বেশ চলছে । লাশ বহনের জন্য তিনি নিজেই তৈরি করেছেন সাদা পোশাক। ঘটনাস্থল যত দূরে, ভাড়াটাও তত বেশি পাওয়া যায়। পঁচনশীল লাশের ক্ষেত্রেও ভাড়া খুব ভালোই হয়। প্রায় দেড় থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত এক একটি লাশের ভাড়া হয়।

এছাড়াও বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে লাশ বহনের মাধ্যমে এক রকম সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এতে বিপদগ্রস্ত পরিবারের লোকজন তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বলে মইন উদ্দীন জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, সব সময় লাশ বহনের কাজ হয় না। মাসে দু’একটি করে লাশের ভাড়া পাওয়া যায়। তাই অন্য সময় আমার গাড়ি দিয়ে যাত্রী বহন করতে গেলে ‘লাশের গাড়ি’ বলে গাড়িতে কেউ উঠতে চায় না। ফলে মাসের বেশির ভাগ সময় উর্পাজন ছাড়াই বসে থাকতে হয়। তারপরেও শতাধিক লাশ বহন করতে পারায় অনেক আনন্দিত তিনি।

রাণীনগর থানার ওসি এএসএম সিদ্দিকুর রহমান জানান, আমি এই থানায় আসার পর থেকেই দেখছি লাশ বহনের কাজ মইনই করছে। শুনেছি সে দীর্ঘদিন ধরে এই কাজের সাথে জড়িত। থানায় মইনের মোবাইল নাম্বার রাখা আছে। রাত কিম্বা দিন নেই, যখন প্রয়োজন পড়ে তখন মইনকে ফোন করলে হাজির হয়ে যায় মইন উদ্দীন।

নিজের জীবন দিয়ে শিশু সন্তানকে বাঁচিয়ে গেলেন মা !

কুমিল্লায় বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারী নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম বৈশাখী পাল (২৮)। তবে নিজে জীবন দিলেও এই মা নিজের শিশু সন্তানকে বাঁচিয়ে গিয়েছেন।

বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি হরিণধরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও সাতজন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় আহত এক নারী জনান, বৈশাখী পালের শিশু সন্তানটি লেগুনার মধ্যে তার কোলেই ছিল। বাসটি যখন সামনে থেকে ধাক্কা দিচ্ছিল তখন নিশ্চিত দুর্ঘটনা বুঝে নিজের ১৪ মাসের ছেলেকে কোলের ভেতর জাপটে ধরেন তিনি। এতে লেগুনার হুডের আঘাতে তিনি নিহত হলেও, মায়ের বুকের কোটরে সুরক্ষিত থাকায় শিশুটির কোনো ক্ষতি হয়নি।

বেঁচে যাওয়া ওই শিশুর নাম প্রেরণা চন্দ্র পাল। তার বাবার নাম মানিক চন্দ্র পাল। বৈশাখী-মানিক দম্পতির সন্তান প্রেরণা বাবা-মার সাথে বুড়িচং উপজেলার রামপুর গ্রামে থাকতেন।

ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে কোম্পানীগঞ্জগামী সুগন্ধা পরিবহনের নামে একটি বাসের সঙ্গে লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়। তবে দুর্ঘটনায় কোনো ক্ষতি হয়নি ওই শিশুর।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে বলে জানান তিনি।

খেয়ে যান বিনামূল্যে ! টাকা লাগবে না

সদরের বাঁকাল এলাকায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাজে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত সেখানে। হাসপাতালের সামনে ছোট হোটেল ‘গরিবে নেওয়াজ’।

বাস্তবিক অর্থে অভাব ও বিপদে থাকা মানুষদের বিনামূল্যে খেতে দেন এই হোটেলের মালিক আব্দুর রশিদ সরদার। চেষ্টা করেন সাধ্যের সবটুকু দিয়ে বিপদে পড়া মানুষটির আপ্যায়ন করার। কেউ যদি বলেন টাকা নাই তাহলে তাকে বিনামূল্যে খাওয়ান রশিদ।

হোটেলের সামনে ‘গরিবে নেওয়াজ’ নামে ছোট সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘তেল মাথায় দেন, গামছা নেন, গোসল করেন, ভাত খান, পয়সা থাকলেও খাবেন, না থাকলেও খাবেন।’

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের চরবালিথা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ সরদার। স্ত্রী ফজিলা খাতুন ও ছেলে সাগরকে নিয়ে বর্তমানে বসতি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছোট হোটেলের মধ্যেই।

হোটেলের নামকরণ ও পয়সা থাকলেও খাবেন, না থাকলেও খাবেন এমন সাইনবোর্ডে এমন লেখার বিষয়ে হোটেল মালিক আব্দুর রশিদের সঙ্গে বুধবার দুপুরে কথা হয় জাগো নিউজের এই প্রতিনিধির।

হোটেল মালিক আব্দুর রশিদ সরদার জাগো নিউজকে বলেন, কে কখন কোথায় বিপদে পড়েন তার কথা কারও জানা নেই। বিপদগ্রস্ত মানুষ যদি আমাকে এসে তার বিপদের কথা জানায় তবে তাকে আমি দেখব। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমি তাকে খাওয়াব। এমন কেউ থাকলে আমি তাকে বলি, পয়সা দেয়া লাগবে না, বিনামূল্যে খেয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই আসেন রোগীর সঙ্গে। গরিব মানুষ। অনেক সময় তাদের ফ্রি খেতে দিতে হয়। অসহায় মানুষ কি করব? যেটুকু পারি দেই। আমার মৃত্যুর আগে যদি একটু দোয়া দেয়, তাই গরিবের জন্য এসব করি। মেডিকেল কলেজের অনেক ছাত্ররা আমার এখান থেকে খেয়ে যায়। অনেক সময় অনেকে টাকা দিতে পারে না। পরে তারা দিয়ে দেয়। মেডিকেল কলেজ এলাকার প্রথম দোকানদার আমি করেছি ছয় বছর আগে। তখন ভ্যানের ওপর ছিল ছোট দোকান। খাবার বিক্রি করতাম। হোটেলটা করেছি তিন বছর আগে। স্ত্রী ও ছেলেটা আমার হোটেলের সহযোগী।

দুঃখ প্রকাশ করে আব্দুর রশিদ বলেন, কিছুদিন আগে শ্যামনগর উপজেলা থেকে একটা রোগী ভর্তি হয়েছিল। তারা খুব গরিব মানুষ। আমাকে জানানোর পর তাকে দেখেছি। তার সঙ্গে থাকা স্বজনকে খেতে দিয়েছি। তবে সে আর সুস্থ হয়নি, মারা গাছে। তার মৃত্যুতে খুব দুঃখ পেয়েছি আমি।

এই দোকান মালিকের সঙ্গে আলাপকালে পাশে থাকা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র মেকানিক মিজানুর রহমান বলেন, চাচা দূর থেকে আসা মানুষদের অনেক উপকার করেন। সাধারণত কেউ হোটেলে ফ্রিতে খেতে আসে না। তবে তার কাছে এসে বিপদের কথা জানালে তিনি তাকে বিনামূল্যে খাওয়ান।

সিলেটে নামাজের সময় মাছ বিক্রি বন্ধ : ব্যবসায়ীরা প্রশংসিত

সিলেটের ওসমানীনগরে নামাজের সময় মাছ বিক্রি বন্ধ! ব্যবসায়ীরা সর্বমহলে হচ্ছেন প্রশংসিত। তাদের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সর্বমহলের মানুষ। ওসমানীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তাজপুর বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা গত রবিবার থেকে নিজ উদ্যোগে এ সিদ্ধান্ত নেন।

গতকাল মাছ বাজারের গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের আযানের ধ্বনি হওয়ার সাথে সাথে মাছ বিক্রি বন্ধ করে দেন। এ সময় তারা ক্রেতাদের জানিয়ে দেন নামাজের পর আসেন। এখন আমরা নামাজে যাব। ব্যবসায়িরা তাদের ক্যাশ বাক্স রেখেই নামাজে চলে যাচ্ছেন।

এ বিষয়টি গত চারদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হতে থাকে। অনেককে বলতে শুনা যায়, তারা নামাজের জন্য ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে ধর্মীয় অনুস্বরণের একটি উজ্জ্বল দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছে। যা বর্তমান সময়ে কোথাও পাওয়া যায় না।

এ যেন নবী মোহাম্মদ (সা:)’র সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিল। তাদের এ সিদ্ধান্ত সর্ব মহলে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবসায়িরাও নামাজের সময় ব্যবসা বন্ধ রাখার কথাও চিন্তা করছেন বলে তাজপুর বাজার সেক্রেটারী জানালেন।

তাজপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুহেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা গত ৪দিন ধরে এই প্রশংসিত উদ্যোগ নিয়েছেন। তাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

মাছ ক্রেতা আলহাজ খলিলুর রহমান বলেন, আসরের নামাজের সময় মাছ কিনতে এসে দেখি মাছ বিক্রি বন্ধ। নামাজের এ জন্য তারা বন্ধ রেখে। তাদের উদ্যোগে আমি খুশি এবং ধন্যবাদ জানাই।

মাওলানা ছাদিকুর রহমান শিবলী বলেন, নামাজ হচ্ছে ইসলামের ফরয কাজ। মাছ ব্যবসায়িরা নামাজের জন্য বন্ধ রেখে সকলকে চোঁখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন ফরয বিধান কিভাবে পালন করতে হয়।

মাছ ব্যবসায়ি আসকর মিয়া বলেন, নামাজের জন্য আমরা মাছ বিক্রি বন্ধ রেখেছি। আমরা অন্যান্য মুসলিম ব্যবসায়িদের অনুরোধ করবো, নামাজের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে।

গ্যাস হয়ে পেট ফেঁপে থাকে? নিরাময়ে যেসব খাবার খাবেন

হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা হলে গ্যাস হয়ে পেট ফেঁপে থাকে। এই সমস্যা নিরাময়ে ঘরোয়া কিছু সমাধান গ্রহণ করা যেতে পারে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক এ সমস্যা সমাধানে কি ধরনের খাদ্য খাওয়া যেতে পারে।

পানি
পেট এমনিতেই ফুলে আছে, তাই পানির কথা শুনে বিস্মিত হচ্ছেন? কিন্তু লেভি বলেন, ‘সাধারণ পানি আপনার পেট ফাঁপা কমাতে ভূমিকা রাখে।’ পানিকে সুস্বাদু করতে এতে শসা, কমলা অথবা লেবুর স্লাইস যোগ করতে পারেন।

আদা
পেট খারাপের একটি প্রাচীন প্রাকৃতিক চিকিৎসা হচ্ছে আদা। এটি সেসব খাবারের একটি যা পেট ফাঁপাও হ্রাস করতে পারে। ক্যারিংটন ফার্মস হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশনের কনসালটেন্ট এবং রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান ডেবোরাহ অরলিক লেভি বলেন, ‘এটি হজমে সাহায্য করে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।’ পেট ফাঁপা দূর করতে আদার চকলেট, আদার চা এবং দইয়ে তাজা আদা যোগ করে খেতে পারেন।

কেফির ও দই
যদি দুগ্ধজাত খাবার আপনার জন্য সমস্যা না হয়, তাহলে কেফির (ফার্মেন্টেড মিল্ক বেভারেজ) এবং দই খেতে পারেন। সিয়েটল সাটন’স হেলদি ইটিংয়ের প্রধান পুষ্টি বিশেষজ্ঞ রেনে ফিসেক বলেন, উভয়টিতেই প্রোবায়োটিকস থাকে, যা পেট ও শরীরের জন্য ভালো এবং পেট ফাঁপায় কার্যকর। কেফির ও দই অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে, যা ডাইজেস্টিভ ট্র্যাককে অধিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। ফলে আপনার গ্যাস জমা ও পেট ফাঁপা হওয়ার প্রবণতা কমে যাবে।’

পেঁপে
পেঁপে দেখতে সুন্দর, খেতে সুস্বাদু। এটি পেট ফাঁপা হ্রাসে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার লাসিক ক্লিনিকের সেন্টার ফর ওয়েট লস অ্যান্ড নিউট্রিশনের পরিচালক অ্যাড্রিয়েন ইউডিম বলেন, ‘একটি ছোট গবেষণায় পেঁপের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের গ্যাসীয় সমস্যা হ্রাস পেয়েছিল, যার মধ্যে পেট ফাঁপাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।’

মৌরি
মৌরি আপনার পেট ফাঁপা হ্রাস করতে পারে। মৌরির বীজ খেতে পারেন অথবা মৌরি চা পান করতে পারেন। ডা. নিকো বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে যে, মৌরি গ্যাসের প্রতিক্রিয়া এবং পেট ফাঁপা হ্রাসের জন্য চমৎকার উৎস, এছাড়া অন্যান্য উপকার তো আছেই।’

শসা
শসা পেট ফাঁপা কমাতে পারে। ফিসেক বলেন, ‘শসা ফাইবারে ভরা, যা ডাইজেস্টিভ ট্র্যাককে ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।’

টমেটো
পেট ফাঁপা হ্রাসের জন্য টমেটো চমৎকার। ফিসেক বলেন, ‘টমেটো পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ, যা শরীরে সোডিয়ামের মাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে, এর ফলে পানি জমা ও পেট ফাঁপা হ্রাস পায়।’

পিপারমিন্ট
‘কোনো খাবার খাওয়ার পর হজম সহায়তার জন্য পিপারমিন্টের চা চমৎকার।’ পিপারমিন্ট একটি থেরাপিউটিক হার্ব, যা অনেক ডাইজেস্টিভ সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে পেট ফাঁপাও আছে। পেপারমিন্ট চায়ের মধ্যে পুদিনা পাতার চা অন্যতম।

ইটের মাপ ছোট হওয়ায় দুই ভাটা মালিককে জরিমানা

কুষ্টিয়ার মিরপুরে ইটের মাপ ছোট হওয়ায় এমআরবি ব্রিকসের ও পিপিআর ব্রিকসের মালিককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এ জরিমানা করেন। ইটভাটাক দুটি উপজেলার বাড়ুইপাড়া ইউনিয়নের মশান বাজারের পাশে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জান।

তিনি জানান, ইটের মাপ ছোট থাকায় এমআরবি ব্রিকসের মালিক শরিফুল ইসলাম মুকুল ও পিপিআর ব্রিকসের মালিক আব্দুর রাজ্জাককে জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৮ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক ভাটা মালিকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

পাম অয়েলের সঙ্গে ফেবিকল গাম মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘খাঁটি গাওয়া ঘি’

পাম অয়েলের সঙ্গে ফেবিকল গাম মিশিয়ে- ঘিয়ের নূন্যতম উপাদান নেই, অথচ নাম তার ‘খাঁটি গাওয়া ঘি’।

পাম অয়েল, সুজি, ক্ষতিকারক রং ও ফেবিকল গাম একত্রে চুলায় জাল দিয়ে, তার সঙ্গে ফ্লেবার মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এই ঘি।

একটি চক্র চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌর এলাকার এগার মাইল নাজির পাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে রকমারি ও বাহারি এমনকি নামি-দামি কোম্পানির মোড়ক লাগিয়ে অত্যাধুনিক মেশিনে টিনের কৌটাজাত করে হাটহাজারীসহ বিভিন্ন উপজেলায় বাজারজাত করছে এ ভেজাল ঘি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার দুপুরে ও গত সোমবার রাতে ওই ভেজাল ঘি তৈরির দুটি কারখানায় হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে দুই হাজার ৭ শ’ লিটার ভেজাল ঘি ও সাড়ে ৬ হাজার কৌটা, ৭০ কেজি ডালডা, ৫০ কেজি ক্ষতিকারক কেমিক্যাল, রং ও ঘি তৈরির নানান ভেজাল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ভেজাল ঘি তৈরিকারকরা পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, ভেজালবিরোধী অভিযান দুর্বার গতিতে চলবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগের চেয়ে অভিযান আরো বেশি জোরদার করা হবে।

যারা খাদ্যে ভেজাল দিচ্ছেন তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে, যেন তারা সাবধান হয়ে সু-পথে চলে আসেন।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তৎপরতা : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কংগ্রেসের কড়া চিঠি

বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে পররাষ্ট্র দফতর কি পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পের কাছে মঙ্গলবার চিঠি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি। নির্বাচন জালিয়াতি, ভোট কারচূপি, ভোটার নির্যাতনের নানা দিক তুলে ধরে এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় ওই চিঠিতে।

মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো বিষয়টি সামনে আসে কমিটির টুইট বার্তায়। পরে অবশ্য হাউজ ফরেন আফেয়ার্স কমিটির ওয়েবসাইটে পুরো চিঠিটি প্রেস রিলিজ আকারে প্রকাশ করা হয়।

এদিকে, একই দিন যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের আর্মর্ড সার্ভিস কমিটির শুনানিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘এক দলীয় শাসন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

হাউজ ফরেন এফেয়ার্স কমিটির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়, আমরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের নেতিবাচক প্রবণতা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবের গুরুতর অভিযোগ এ প্রবণতাটিকে আরো শক্তিশালী করেছে। এ নেতিবাচক প্রবণতার বিষয়টি আমলে নিয়ে এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর পদক্ষেপ সম্বলিত একটি রূপরেখা প্রণয়নের আমরা অনুরোধ জানাই।

আরো বলা হয়, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারে প্রতি সমর্থন একান্ত জরুরি। সেই যাত্রায় বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যে ব্যাপকভিত্তিক অনিয়মের প্রতিবেদন বেড়িয়েছে, তা মার্কিন স্বার্থের প্রতি চরমভাবে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের এশীয় নীতির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, এ বছর এশিয়ায় আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং থাইল্যান্ডে সিরিজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তার অব্যাহত অঙ্গীকার ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা। যেটি বাংলাদেশে থেকেই শুরু হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের নির্বাচনটিকে একটি বড়মাত্রার জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচন আখ্যা দিয়ে এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয় ওই চিঠিতে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ও গর্বিত গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন চলাকালে প্রচারণায় সহিংসতা, গণগ্রেফতার এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের বিষয়ে আমরা বরবরই হতাশ ছিলাম। বলা চলে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাটিই হুমকির মুখে পড়েছিল। আওয়ামী লীগ দাবী করে যে, এ নির্বাচনে তারা ৯৬ শতাংশ আসনে বিজয়ী হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হেেচ্ছ ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তার জোট এ নির্বাচনের চেয়েও বেশি আসনে জিতেছিল। যে নির্বচনটি দেশের প্রধান বিরোধী দল (বিএনপি) বর্জন করেছিল এবং আওয়ামী লীগ অর্ধেকের চেয়েও বেশি আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন করেছিল।

ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন প্রসঙ্গে আরো বলা হয়, যদিও সরকারনিযুক্ত নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে যে নির্বাচন বৈধ ছিল, তা সত্ত্বেও আমরা বিশ্বাস করি নির্বাচনে ব্যাপকভিত্তিক কারচুপি এবং ব্যাপকভিত্তিক ভোটারদের দমনের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা উচিত।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী যখন ভোটগ্রহণ শুরু হয় তখন সন্দেহজনকভাবেই ব্যালট বক্সগুলো ভর্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও এমন খবরও পাওয়া গেছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা ভোটারদের ভোটপ্রদানে বাধা প্রদান করেছে। দুপুরের খাবারের সময়েই অনেক ভোটকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে অথবা ব্যালট প্যাপার শেষ হয়ে গেছে। অনেক ভোটার অভিযোগ করেছেন, তাদের ভোট ইতোমধ্যেই দেয়া হয়ে গেছে। নির্বাচনী ব্যাবস্থাটি আরো নাজুক করবার জন্য, বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাপুষ্ট বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থার অ্যাক্রিডিটেশন এবং ভিসা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একদলীয় ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ হয় যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের শুনানীতে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সিনেট ভবনে ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ফিলিপস এস ডেভিডসন সিনেটে উপস্থাপিত শুনানীতে এ মন্তব্য করেন।

এ সময় শুনানীতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জয় পাকাপোক্ত করে অব্যাহতভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার যে প্রবণতা দেখা গেছে তা উদ্বেগকে সামনে নিয়ে আসে। নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশটিকে কার্যত এক দলের শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

শুনানির বাংলাদেশ অংশে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তার বিষয়ে জোর দিয়ে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সাথে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বলয় কৌশল তৈরিসহ বেশ কিছু মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।

শুনানীতে বলা হয়, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সাথে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, এটা করতে হবে কৌশলগত বড় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। সেই সাথে আন্তর্জাতিক মান বজায়, প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করতে এখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হবে।

এশিয়ায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম নিরাপত্তা অংশীদার উল্লেখ করে শুনানিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির স্বার্থে এ অংশীদারির গুরুত্ব রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ দমন, মুসলিম সংখ্যাধিক্যতা, চরমপন্থা দমন, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা আর জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেয়ার কারণে দেশটির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।’

রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রসঙ্গে এতে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার এক মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আর তা নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে বাংলাদেশ।

২০৭০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্ম হবে ইসলাম

আগামী ২০৭০ সালের মধ্যে ইসলাম ধর্ম বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্ম হয়ে উঠবে। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় এ তথ্যে উঠে এসেছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টার বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধর্মের বিকাশের গতি, জন্মহার, তরুণ জনগোষ্ঠির মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা এবং ধর্মান্তরকরণের হার বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে যে, বর্তমানে ইসলামই সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম। আর এই হার অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালেই ইসলাম খ্রীষ্ট ধর্মের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলবে বলে গবেষণাটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছে।

২০১০ সালের হিসেব থেকে দেখা যায়, ২১৭ কোটি খ্রিষ্টানের বিপরীতে বিশ্বের ১৬০ কোটি মানুষ ইসলাম ধর্মানুসারী। আর গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বলছে ২০৫০ নাগাদ এই সংখ্যা দাঁড়াবে, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ২৯২ কোটি এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠি ২৭৬ কোটি। যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার যথাক্রমে ৩১.৪ এবং ২৯.৭ শতাংশ। হিন্দু জনগোষ্ঠি হবে তৃতীয় বৃহত্তম, ১৪.৯ শতাংশ।

মজার ব্যাপার হলো, এরপরেই সবচেয়ে বড় অংশটি কোনো ধর্মই অনুসরণ করেন না এমন মানুষদের। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১৩.২ ভাগ নিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকবেন এই জনগোষ্ঠি। বৌদ্ধ ধর্ম একমাত্র ধর্ম যার অনুসারীরা এই সময়ের মধ্যে সংখ্যায় বাড়বে না। এর কারণ হিসেবে দীর্ঘায়ু এবং কম জন্মহারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইউরোপ এবং আমেরিকা উভয় অঞ্চলেই খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা হ্রাস পাবে। যুক্তরাষ্ট্রে এই হার তিন চতুর্থাংশ থেকে দুই তৃতীয়াংশে নামবে। ইউরোপের ১০ শতাংশ মানুষের ধর্ম হবে ইসলাম। অন্যদিকে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে বাড়বে নাস্তিকদের সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্রে অখ্রিষ্টীয় ধর্ম হিসেবে ২০৫০ নাগাদ ইসলাম জনপ্রিয়তায় ইহুদিবাদকে ছাড়িয়ে যাবে বলে বলছে গবেষণাটি।

গবেষণাটি আরও বলছে, ২০৫০ সালে ইন্দোনেশিয়াকে হটিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হবে ভারত, তবে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতা তখনও থাকবে দেশটিতে। মূলত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাবে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা।

বিশ্বের ১৭৫টি দেশের ২ হাজার ৫০০ জরিপ থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণ করেছে পিউ; অর্থাৎবিশ্বের বর্তমান মোট জনসংখ্যার ৯৫ ভাগ এই গবেষণার আওতায় এসেছে। ধর্মান্তরকরণের হারের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাদ পড়েছে শুধু ভারত আর চীনের মতো বৃহত্তর জনসংখ্যার দেশ দু`টি।

তবে গবেষণাটি বলছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বড় ধরণের সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক পরিবর্তন, সশস্ত্র যুদ্ধ, ইত্যাদি বিষয়গুলো এই স্বাভাবিক প্রবণতাকে ব্যাহতও করতে পারে। আর তা না হলে, ২০৫০ সাল নাগাদ এমনটাই হবে বিশ্বের ধর্মভিত্তিক ভূগোল।