দাঁতে পোকা ? রাতে ব্যাথায় ঘুম আসছে না ? এই ঘরোয়া চিকিৎসাতে দাঁতের ব্যাথা কমিয়ে ফেলুন

দাঁতে পোকা – কথাতেই আছে ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম কেউ বোঝেনা’… একথা কতটা সত্যি সেটা তারাই বোঝেন যারা দাঁত নিয়ে কষ্ট পাচ্ছেন বা পেয়েছেন। প্রতিদিন দাঁতের যত্ন নেওয়া অবশ্যই দরকার। যেমন, সকালে দাঁত ব্রাশ করা আর রাতে শুতে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশ করা খুবই দরকারি। কিন্তু অনেকেই এই নিয়ম মেনে চলেন না। তাই কষ্ট পান দাঁতের ব্যাথায়।

দাঁতে ব্যাথা হবার একটি খারাপ সময়ও আছে। সেটি হল রাতে ঘুমনোর সময় বা রাতে যখন সব ডেন্টিস্ট চেম্বার বন্ধ বা সব ওষুধের দোকান বন্ধ, ঠিক তখনই দাঁতের ব্যাথা চরম আকার ধারন করে। তখন সারা রাত সেই অসহ্য ব্যাথা সহ্য করা ছাড়া কিছু করার থাকেনা।

তারপর এখন এসেগেছে শীতকাল। শীতকাল সবরকম ব্যাথার জন্য খুবই সাংঘাতিক। আর সেটা যদি হয় দাঁতের ব্যাথা তাহলে তো কোন কথাই নেই। ব্যাথা যুক্ত দাঁত তুলে না ফেলা পর্যন্ত কোন রেহাই নেই। কিছু করার না থাকলে একমাত্র উপায় হল পেইনকিলার খাওয়া। কিন্তু পেইনকিলার শরীরের পক্ষে যথেষ্ট ক্ষতিকারক।

তাহলে কি উপায়ে ঠিক করবেন দাঁতের ব্যাথা ? উপায় আপনার ঘরেই পাবেন। এমন কিছু জিনিস যা আপনার ঘরেই আছে, তা আপনাকে দাঁতের ব্যাথা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক সেগুলি কি…

লবণ জল ঃ এটি দাঁতে ব্যাথা কমানোর একটি সাধারণ উপায়। লবণ এমন একটি উপাদান যা প্রত্যেক ঘরেই থাকে। দাঁতে ব্যাথা হলে উষ্ণ গরম জলে একটু লবণ মিশিয়ে বারবার কুলকুচি করুন। এতে দাঁতের ব্যাথা কমবে আর মুখে থাকা জীবাণু নাশ হবে। এর সঙ্গে মাড়িতে রক্ত চলাচল হবে ফলে মাড়ির ব্যাথাও কমে আসবে।

লবঙ্গ ঃ এই জিনিসটি সব বাড়িতেই থাকে। যখন দাঁতে ব্যাথা হবে তখন যে দাঁতটি ব্যাথা তার ওপরে একটি লবঙ্গ উলটো দিক দিয়ে চেপে ধরে থাকুন। অথবা দাঁতে লবঙ্গ তেল ব্যাবহার করতে পারেন। এর ফলে ব্যাথা থেকে সাময়িক মুক্তি পাবেন। তবে সাবধান, দু ফোঁটার বেশি তেল ব্যবহার করবেন না।

আদা ঃ দাঁতে ব্যাথা থেকে নিমিষে আরাম দেয় আদা। এক টুকরো আদা নিয়ে ব্যাথা যুক্ত দাঁত দিয়ে চিবতে থাকুন। যে দাঁতে ব্যাথা তার ওপরে আর আশে পাশে আদার রস দিন। কিছুক্ষন পর অবশ্যই ব্যাথা থেকে আরাম পাবেন।

রসুন ঃ এক কোয়া রসুন থেঁতো করে বা তাতে একটু লবণ মিশিয়ে দাঁতে লাগিয়ে রাখুন, উপকার পাবেন।

পেঁয়াজ : এক টুকরো পেঁয়াজ কেটে দাঁতের ফাঁকে দিয়ে রাখুন, নিশ্চয়ই উপকারে আসবে।

লঙ্কা : অবাক হচ্ছেন ? অবাক হওয়ার কিছু নেই। শুকনো লঙ্কা বা কাঁচা লঙ্কা পেস্ট তৈরি করে ব্যাথা দাঁতের উপর দিয়ে রাখুন। লঙ্কায় থাকা ক্যালসিয়াম ব্যাথা কমিয়ে দেবে।

বেকিং সোডা : একটু তুলো জলে ভিজিয়ে রেখে তার ওপর খানিকটা বেকিং সোডা নিয়ে ব্যাথা দাঁতের ওপর দিয়ে রাখুন। তারপর এক গ্লাস গরম জলে বেকিং সোডা নিয়ে কুলকুচি করুন, ব্যাথা থেকে অবশ্যই উপশম মিলবে।

ওজন কমানোর জন্য কিভাবে বানাবেন জিরা পানি, কখন ও কিভাবে খাবেন, জেনে নিন বিস্তারিত…

আজকের রেসিপি আয়োজনে রয়েছে জিরা পানি । আপনাদের কে দেখাবে কি ভাবে তৈরি করবেন দারুন মজার এই রেসিপিটি । খুব সহজে এবং তাড়াতাড়ি এই পদটি তৈরি করা যায়। চলুন জেনে নিই-

উপকরণ : তেঁতুল জুস স্বাদ মত, আখের গুড় ৫ টেবিল চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, জিরা হালকা করে ভাজা ২ চা চামচ, বিট লবণ ১ চা চামচ, পানি ৬ কাপ, সাদা গোল মরিচ গুড়া হাফ চামচ

প্রস্তুত প্রনালিঃ প্রথমেই তেঁতুলের জুস বানাবার মত পরিমাণে তেঁতুল বিশুদ্ধ পানিতে ভিজিয়ে রাখলাম প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট। ভিজিয়ে রাখার সময় পার হবার পর তেঁতুলের কাথ-টা ভালোমতো ছেঁকে নিয়ে তেঁতুলের বিচি ফেলে দিই। তেঁতুলের সেই ছেঁকে নেয়া কাথের সাথে ৬ কাপ খাবার পানি মিশিয়ে নিলাম।

চাইলে তেঁতুল এর পরিবর্তে লেবু ব্যবহার করতে পারেন। ২ চা চামচ জিরা ভেজে গুড়া করে নিতে হবে। গোল মরিচ গুড়া করে নিতে হবে। গুঁড়া করা জিরা, গোল মরিচ গুঁড়া, বীট লবণ, চিনি, আখের গুড় , ও লবণ দিয়ে ভালোভাবে মিশাই যতক্ষন না চিনি গলে যায়। যদি কেউ এই পানিয় ডায়েট এর জন্য খেতে চান তবে চিনির বদলে সুগার ফ্রী ব্যবহার করতে পারেন।

চিনি গলে যাবার পর শরবতটি ছেঁকে নিন।খাবার আগে গ্লাসগুলিকে রেফ্রিজারেটরে কিছুক্ষণ রেখে ঠান্ডা করে নিওয়া ভাল। পরিবেশনের আগে বরফ, পুদিনা পাতা দিয়ে সাজিয়ে দিতে পারেন। হয়ে গেল আমাদের জিরা পানি। জিরা পানি যেমন খেতে সুস্বাদু তেমনি পুষ্টি গুনে ভরপুর।

জিরা পানি এর স্বাস্থ্য উপকারিতাঃ ওজন কমাতে- দিনে দু’বার এই জিরাপানি খেলে এটি পেটের ক্ষুধা কমিয়ে দেয় যার ফলে খাওয়ার ইচ্ছেটা কমে যায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি- এতে আয়রনের পাশাপাশি বেশ ভালো পরিমান ভিটামিন এ ও সি থাকে যা থেকে অ্যান্টি অক্সিডেণ্টের সুবিধা পাওয়া যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কাজ পরিচালনা করে।

রক্তশূন্যতার চিকিৎসা- জিরাতে থাকা আয়রন রক্তস্রোতে অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিনের পরিমান বৃদ্ধি করে।

অ্যাসিডিটি- যেকোনো ভারী খাবার খাওয়ার পর জিরাপানি খেলে অ্যাসিডিটির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য- যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তারা দিনে দুইবার এই পানীয়টি পান করতে পারেন।

গ্যাসের সমস্যা- গ্যাসের কারনে পেট ফুলে থাকে তাহলে জিরাপানি খেতে পারেন যতক্ষন না পেটের গ্যাস দূর হয়।

পানিশূন্যতা দূরীকরণ- এর অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতার মাঝে একটি হচ্ছে গরম কালে এটি দেহকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

ভালো ঘুমের জন্য- যাদের মাঝে ইন্সমোনিয়া বা ঘুমের সমস্যা আছে তাদের জন্য জিরাপানি খুব উপকারী। নিয়মিত খেলে ভালো ঘুম হয়।

তলপেটের ব্যাথা কমাতে- মাসিকের দিনগুলোতে তলপেটে ব্যাথা অনুভব করেন অনেক নারীই, তাদের এই ব্যাথা কমাতে অল্প অল্প করে সারাদিন জিরাপানি খেতে পারেন।

ব্রণের চিকিৎসায়- জিরা পানি ব্রণের জন্য প্রাকৃতিক ঔষধের কাজ করে

চিনি মাখার উপকারিতা, যা জানলে আপনি এখনই তা করতে চাইবেন…

চিনি সম্পর্কে সকলেই জানেন, প্রত্যেকেই চিনি ব্যবহার করেন। চিনিকে আমরা খাদ্য উপকরণ হিসাবেই জানি। সব রান্নাতেই প্রায় আমরা চিনি ব্যবহার করে থাকি। চিনি হল মিষ্টি তৈরীর প্রধান উপাদান। চিনি দিয়ে তৈরী খাবার গুলি যতটাই সুস্বাদু হয় ঠিক ততটাই শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। অতিরিক্ত চিনি খেলে বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। যেমন – সুগার, ডায়বেটিস ইত্যাদি।

কিন্তু বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার দ্বারা দেখা যায় যে চিনি শরীরের জন্য অপকারী হলেও চুলের জন্য খুবই উপকারী। এটি চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। ব্রিটেনের বিখ্যাত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেস্কা ফুসকো ওয়েক্সলার বলেন যে শ্যম্পুর সাথে যদি চিনি মিশিয়ে শ্যম্পু করা যায় তাহলে চুল ঘন, কালো, মজবুত ও সুন্দর হয়।

চুলের বৃদ্ধিও হয় এবং পরিষ্কার থাকে। ফলে চুল আগের থেকে বেশি সিল্কি ও ঝলমলে দেখতে লাগে। শুধু শ্যম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করলে চুলে কোন ঔজ্জ্বল্য থাকেনা। শ্যম্পুর সাথে চিনি মিশিয়ে চুল ধুলে চুল উজ্জ্বল হবে এবং চুলের আদ্রতা বজায় থাকবে।

চুলের গ্রোথ কিভাবে হবে এই নিয়ে বিশেষজ্ঞরা অনেক পরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষার পর মারি ক্লেয়ার নামে এক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, যদি শ্যাম্পুর সাথে এক চা চামচের মতো চিনি মিশিয়ে মাথার ত্বকে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করা হয় তাহলে মাথায় খুস্কি সমস্যা দূর হয়।

চিনি এমন একটি জিনিস যার ভালো দিক খারাপ দিক দুটোই আছে। এর আরও অনেক কার্যকারিতা আছে। চিনি শুধু রান্না করা আর চুলের গ্রোথ বারানোর কাজেই লাগে না। চিনি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতেও উপকারী। নিয়মিত যদি ত্বকে চিনি ম্যাসেজ করা যায় তাহলে ত্বকের কালো দাগ, চোখের নীচে ডার্ক সার্কেল, ওপেন পোরস এর সমস্যা দূর হয়।

সব ধরনের ত্বকে দারুন স্ক্রাব হিসাবে কাজ করে চিনি। অলিভ অয়েলের সঙ্গে চিনি ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রন মুখে কিছুক্ষন লাগিয়ে রাখুন। রাখার পর হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে নিন। চিনি গ্লাইকোলিক এসিডের প্রাকৃতিক উৎস। রোদে ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের চিকিতসায় গ্লাইকোলিক এসিড ব্যবহার করা হয়। তাই রোদে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হলে চিনি ব্যবহার করা যেতে পারে।

যদি আপনি এই টিপস গুলি মেনে চলেন তাহলে কিছুদিনের মধ্যে আপনার ত্বকে এবং চুলে চোখে লাগার মতো পার্থক্য দেখতে পাবেন।

নাইজেরিয়ায় একসঙ্গে ৪০০ জনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যে প্রায় ৪০০ জন লোক ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছে বলে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি এর কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে।

দেশটির হাউসা সংবাদপত্র ‘রারিয়ার’ প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নাইজার রাজ্যের ওরানি এলাকায় চার শতাধিক লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে।এ উপলক্ষ্যে নাইজেরিয়ার মুসলিম নারীদের উদ্যোগে একটি দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তারা ধর্মান্তরিতদের সাহায্যের জন্য মালামার সুলতান সুফিয়ান আহমদের নেতৃত্বে ত্রাণ সহায়তা দিতেও সহযোগিতা করছে বলে খবরে বলা হয়। তবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি সংবাদমাধ্যমটি।-নাজি ডটকম!

সরে দাঁড়ালেন রওশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা বললেন সুযোগ নেই! ময়মনসিংহ-৭ আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

মহাজোটের শরিক দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে ময়মনসিংহ-৭ আসনে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন তিনি। তবে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এটি গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস।

ময়মনসিংহ-৪ আসনের পাশাপাশি ময়মনসিংহ-৭ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন রওশন এরশাদ। ময়মনসিংহ-৭ আসনে আওয়ামী লীগ হাফেজ রুহুল আমিন মাদানীকে প্রার্থী করেছে। তবে ময়মনসিংহ-৪ আসনে কোনো প্রার্থী রাখেনি আওয়ামী লীগ।

এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন রওশন। রওশন চিঠিতে লিখেছেন, ‘বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী মাদানীকে সমর্থন দিয়ে আমি সরে দাঁড়ালাম।’

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মহাজোটের শরিক আওয়ামী লীগের প্রার্থী রুহুল আমিন মাদানীকে সমর্থন দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহ-৭ আসন থেকে নির্বাচন করবেন না বলে জানিয়েছেন। বুধবার এ কথা জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার সংক্রান্ত একটি চিঠি আমাকে পাঠিয়েছেন তিনি। তবে গত সোমবার প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আর কোনো সুযোগ নেই তার।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৭ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এমএ হান্নান এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। যুদ্ধাপরাধের মামলায় গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে রয়েছেন তিনি।

কেন হয় বগলে বিচ্ছিরি কালো দাগ? দূর করার একদম সহজ কিছু উপায়

বগলের দাগ নিয়ে বিপাকে আছেন অনেকে। কিন্তু স্পর্শকাতর এই বিষয়টি থেকে মুক্তি চাইলেও মুখে বলতে পারেন না অনেকে। কিন্তু আপনি জানেন কি খুব সহজেই ঘরোয়া উপায়ে বগলের দাগ দূর করা যায়।

বগলের দাগ দূর করতে আলুর রস ব্যবহার করতে পারেন। তবে ভালো ফল পেতে এর সঙ্গে লেবুর রস, হলুদের গুঁড়ো ও শসার রস মিশিয়ে নিন

বগলের দাগ হবার কারণঃ অতিরিক্ত ঘামের কারণে কিংবা ডিওডরেন্ট ব্যবহারের কারণে আমাদের বগলের নিচের কালো দাগ হয়ে যায়।বগলের দাগ দূর করার বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বোল্ডস্কাই ওয়েবসাইটের জীবনধারা বিভাগে।

আসুন দেখে নেই কীভাবে দূর করবেন বগলের দাগঃ

প্রথম ধাপঃ প্রথমে একটি বাটিতে একটি বড় আলুর খোসা ছাড়িয়ে কুচি করে নিন। এই আলু ব্লেন্ডারে ভালো করে ব্লেন্ড করে একটি সুতির কাপড়ে চিপে এর রস বের করে নিন। আলুর রস প্রাকৃতিক ব্লিচের কাজ করে যা ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

দ্বিতীয় ধাপঃ এবার এর মধ্যে পাঁচ ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। লেবুর রসের সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বকের মরা কোষ দূর করে এবং এর ভিটামিন সি ত্বকের মেছতা দূর করতে কার্যকর।

তৃতীয় ধাপঃ এই মিশ্রণের মধ্যে সামান্য হলুদের গুঁড়ো দিন। হলুদের গুঁড়ো ত্বকের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দূর করে এবং ব্রণের জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

চতুর্থ ধাপঃ অর্ধেকটা শসা খোসা ছাড়িয়ে ব্লেন্ড করে এর রস বের করে নিন। এবার এক চা চামচ শসার রস এই মিশ্রণের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। শসার ভিটামিন বি ও বায়োটিন ত্বকের কালচে দাগ দূর করে।

পঞ্চম ধাপঃ এবার বগলের নিচে ক্লিনজার দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে মুছে নিন। একটি তুলার বলে মিশ্রণ নিয়ে বগলের নিচে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন।

ষষ্ঠ ধাপঃ এখন একটি তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে বগলের নিচে মুছে নিন। ভালো করে শুকিয়ে ওই অংশে কয়েক ফোঁটা গোলাপজল লাগান।

বরের বয়স ৬০, কনের ১৫

বরের বয়স ৬০, কনের বয়স ১৫! এটা পড়ে নিশ্চিয় অবাক হচ্ছেন। হ্যাঁ, এমনই এক বিয়ের ঘটনা ঘটেছে। তা হলো- নিজেদের ১৫ বছর বয়সী মেয়েকে ৬০ বছর বয়সী এক নাইজেরিয়ান ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন তার বাবা-মা।

ভারতের কর্নাটকে এই বিয়ের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি এ ঘটনাটি প্রকাশিত হয়েছে।

জানা যায়, নাইজেরিয়ান ওই ব্যবসায়ীর নাম আলহাজি আবাদান। মাসে কয়েক আগে ঘরোয়া পরিবেশে বিয়ের পর কনেকে নিজ দেশে নিয়ে গেছেন নাইজেরিয়ান ওই বর।

এ ঘটনা নিয়ে ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

জানা গেছে, ব্যবসায়ীক সূত্রে ভারতের কর্নাট রাজ্যে আসা-যাওয়া ছিল নাইজেরিয়ান ওই ব্যক্তির। এভাবে কর্নাটকের গুলবার্গার জামির আহমেদ সৌতের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে আবাদান নামের ব্যবসায়ীর।

এক পর্যায়ে মাহমুদ আলীর ছোট কন্যা কানিস ফাতিমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন আবাদান। সম্পদশালী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে কোনো রকম কালক্ষেপণ না করে রাজি হয়ে যান জামির আহমেদ।

যদিও এ বিয়ে নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে, কর্নাটকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই।
এ বিষয়ে নাতাশা চৌহান নামে এক নারী লিখেছেন, ‘এটি অনৈতিক কাজ। এ ঘটনাকে কোন ভাবেই বিবাহ বলা যায়। আদতে মেয়েটিকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।’

‘গার্লস নট ব্রাইড’ নামে সংগঠনের তথ্য মতে, ভারতে বাল্যবিয়ের হার বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশটিতে প্রায় ৪৭ ভাগ মেয়ের বিয়ে হয় বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগেই। বিহারে এ হার ৬৯ ভাগ পর্যন্ত।


তবে বেশিরভাগ বিয়ে হয় ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের মেয়েদের ক্ষেত্রে। ১৫ বছর বয়সী মেয়েদের বিয়ের ঘটনাও খুব বেশি হয় না।

এখনও ভারতের অনেক সম্প্রদায় মেয়েদের অর্থনৈতিক বোঝা মনে করে। তাই দ্রুত কন্যাদেরকে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে থাকেন দেশটির বহু বাবা-মা।

মাত্র ৩ টাকা খরচ করে সাত দিনের মধ্যে নিখুঁত মসৃন উজ্জ্বল ত্বক পান

শরীরের মধ্যে মুখ মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রিয়। ছেলে হোক বা মেয়ে সবাই চায় নিজের মুখ সুন্দর রাখতে। তার জন্য ব্যাবহার করে নানা রকম প্রসাধনী দ্রব্য। সুন্দর ত্বক বা সুন্দর চেহারা চাইলে সবার আগে নিজের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ঘবে। যদি শরীর অসুস্থ হয় তাহলে তার ছাপ পড়বে আপনার ত্বকে। আর শরীর সুস্থ হলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল। আপনার ত্বক থাকবে তরুন।

সুন্দর থাকার জন্য অনেকেই অনেক কিছু করে থাকেন। কেউ ভালো ফল পান আবার কেউ উলটো ফল পান। সুন্দর হতে গিয়ে হয়ে যায় কুৎসিত। কিছু ক্ষতিকারক পদার্থের কারণে ত্বকের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। ত্বক যদি সুস্থ না থাকে তাহলে আপনাকে কখনই সুন্দর দেখাবে না।

আমাদের দেশে সাদা রং সবাই পেতে চায়। ফর্সা হতে চায়না এমন মানুষ আমাদের দেশে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ফর্সা হওয়ার জন্য ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার করেন অনেকেই। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয় না।

চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক কীভাবে নিখুঁত ফর্সা, উজ্জ্বল ও সুন্দর ত্বক পাবেন…

আপনি বাজারের বিভিন্ন ফেয়ারনেস ক্রিম বা অন্য কোন প্রসাধনী দ্রব্য ব্যবহার করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন ? কোন ফল পাননি ? তাহলে আজ থেকেই শুরু করে দিন এই ঘরোয়া পদ্ধতিতে রূপচর্চা। যদি আপনার ত্বক ধুলোবালির কারণে, সূর্যালোকের কারণে বা ধোঁয়ার কারনে রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায় তাহলে এই ঘরোয়া প্রতিকারটি আপনাকে সুন্দর ত্বক ফিরে পেতে সাহায্য করবে।

মাত্র ৩ টাকা খরচা করে পান সুন্দর ত্বক। যে কোন ওষুধের দোকানে পেয়ে যাবেন ভিটামিন-ই ক্যাপসুল। যার একটির দাম ৩ টাকা। প্রথমে কিছু ভিটামিন-ই ক্যাপসুল কিনুন তারপর সেই ক্যাপসুলে একটি ছিদ্র করে নিন। তারপর ক্যাপসুলের ভিতরের তরল বের করে নিন। সেই তরলের সঙ্গে বাদাম তেল মেশান।

মেশানোর পর সেই মিশ্রণটি রাতে শোবার আগে পুরো মুখে ম্যাসাজ করুন। অল্প কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করার পর সেটিকে সারা রাত মুখে রাখতে হবে এবং পরের দিন সকালে মুখ পরিস্কার করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

এইভাবে বেশ কিছুদিন করার পর আপনি ফল পাবেন হাতে নাতে। ত্বক হবে চোখে পরার মত উজ্জ্বল সঙ্গে পাবেন সাদা রং।

এই ক্যাপসুল খেতেও পারেন। প্রতিদিন একটি করে খেলে আপনার ত্বক এবং চুল সুন্দর হবে। তবে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। কারণ সবার শরীরে এই ওষুধ সহ্য নাও হতে পারে। কারোর কারোর ক্ষেত্রে পার্শপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

এ বছর বেশি খোঁজা হয়েছে খালেদা জিয়া ও হিরো আলমকে

গুগলে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ তথ্য খোঁজে। গুগলে এ বছর বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কোন বিষয়টি বা কাকে খোঁজা হয়েছে তার তালিকা প্রকাশ করেছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা সার্চ জায়ান্ট গুগল।

গুগল ট্রেন্ডসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ট্রেন্ডিং সার্চের তালিকায় দেখা যায়, বাংলাদেশের মানুষ এ বছর গুগলে সবচেয়ে বেশি খুঁজেছেন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচকে। বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন ক্রোয়াট রাষ্ট্র প্রধান। ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচে মাঠে তার ঝলমলে উপস্থিতি সাড়া ফেলেছিলেন বিশ্ববাসীর মনে।

এরপরই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভারতের অভিনেত্রী প্রিয়া প্রকাশকে খুঁজেছে। ভারতের ১৮ বছর বয়সী প্রিয়ার প্রথম ছবি ‘অরু আদার লাভ’-এর একটি গান প্রকাশ পাওয়ার পরই ইন্টারনেটে তা ভাইরাল হয়। মাত্র ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপিং মাতিয়ে রাখে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগের সব মাধ্যম।

বাংলাদেশকে নিয়ে সার্চেস, পিপল ও মুভিজ- এই তিনটি ট্রেন্ড প্রকাশ করেছে গুগল। এর মধ্যে ‘পিপল’ অংশে ১০ জনের নামের তালিকা দিয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশিদের মধ্যে ৯ নম্বরে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ১০ নম্বরে আছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ব্যক্তি আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম।

এ বছর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের বিষয়টি আলোচিত ছিল। আর হিরো আলম বগুড়ার ডিশ ব্যবসায়ী থেকে দেশব্যাপী নানা সময়ে নানাভাবে আলোচিত হয়ে ওঠেন। বছর শেষে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম ক্রয় করে তুমুল আলোচনায় আসেন।

দেশভিত্তিক ও বৈশ্বিকভাবে গুগল সার্চ ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। পিপল ক্যাটাগরিতে আর কোনো বাংলাদেশি জায়গা পাননি।

ট্রেন্ডিং ২০১৮ ‘পিপল’ তালিকা:

১. কলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচ, ২. প্রিয়া প্রকাশ, ৩. মেগান মার্কেল, ৪. মিয়া খলিফা, ৫. সানি লিওন, ৬-কিলিয়ান এমবাপ্পে, ৭. মিয়া মালকোভা, ৮. নিক জোনাস, ৯. খালেদা জিয়া, ১০. হিরো আলম।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বাংলাদেশকে নিয়ে সার্চেস, পিপল ও নিউজ- এই তিনটি ট্রেন্ড প্রকাশ করেছিল গুগল। সে বছর বাংলাদেশ থেকে গুগল সার্চে শীর্ষে ছিলেন অভিনেত্রী সাবিলা নূর। তীয় অবস্থানে ছিলেন পর্নো তারকা মিয়া খলিফা, তৃতীয় অবস্থানে তাসকিন আহমেদ। চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন শাকিব খান, পঞ্চম স্থানে মোশাররফ করিম, ষষ্ঠ স্থানে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মুকুট হারানো জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল ও নবম স্থানে ছিলেন অভিনেত্রী শবনম বুবলী।

দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ৬ টি অজানা কৌশল জেনেনিন আজই…

যে কোন স্বাস্থ্য সচেতন ব্যাক্তিই রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানোর প্রধান উপায় হিসেবে চিহ্নিত করবেন পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, ব্যায়াম ইত্যাদিকে। কিন্তু এ লেখায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এমন কিছু কাজ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে যাদের সুপ্ত গুণাগুণ গুলো আমাদের অনেকেরই অজানা, যা নিয়মিত অনুসরণ অনেকগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার (immune system) সক্ষমতাকে।

১. বন্ধু এবং প্রিয়জনের সংস্পর্শে থাকুন নিয়মিত (Socialize More): বন্ধুদের সাথে নিয়মিত আড্ডা, প্রিয়জনের সাথে ঘুরে বেড়ানো আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষণায় জানা গেছে, যারা অনেক বেশি এবং বিভিন্ন চরিত্রের মানুষের সংস্পর্শে থাকেন, তাদের সাধারণ সর্দি,জ্বর ইত্যাদি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। এছাড়া প্রিয়জনে বা বন্ধুদের স্পর্শ আমাদের শরীরের এমন কিছু কোষকে উজ্জীবিত (stimulate) করে, যাদের কাজ হল বিভিন্ন রোগ এবং ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোকে (cancer cells) খুঁজে বের করে ধ্বংস করা।

২. গান শুনুন দিনের কিছুটা সময় (Listen to your favourite songs): দিনের কিছুটা সময় নিয়মিত গান শোনা বাড়িয়ে তোলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে (boosts our immunity)। এমন গান নির্বাচন করুন যা আপনার মনকে প্রশান্ত করে তোলে। আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশে ভাল লাগা বোধ জন্মায় তাকে উজ্জীবিত করে গান। তাই নিজের প্রিয় গানগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে নিন আজই।

৩. জোরালো শব্দ থেকে দূরে থাকুন (Stay away from harsh sound): তীব্র শব্দ মাংসপেশিতে টান, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্ত পরিবাহী নালীর সংকোচন এমনকি হজমের সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। কর্নেল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে কাজ করেন, তাদের হৃদরোগ (heart disease) হবার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে অনেকটাই কম থাকে।

৪. ইতিবাচক চিন্তা করুন (Think positive): যারা ইতিবাচক চিন্তা করেন (positive thinkers), যে কোন জিনিসের ভাল দিকটা দেখার চেষ্টা করেন তাদের গড় আয়ু নিরাশাবাদী লোকদের তুলনায় ১০-১২ বছর বেশি হয়। যারা জীবনের নেতিবাচক দিকটাই আগে দেখেন, নার্ভাস এবং রাগান্বিত থাকেন তাদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।

৫. রাতে বাতি নিভিয়ে ঘুমান (Sleep Soundly): আমাদের শরীর শুধু মাত্র অন্ধকারেই মেলাটোনিন (melatonin) নামক একধরণের হরমোন (hormone) তৈরি করে , যার অন্যতম কাজ হলো বিভিন্ন রোগ বিশেষ করে স্তন ক্যান্সারের (breast cancer) হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করা। অপর্যাপ্ত ঘুম, কিংবা রাতে বেশি আলো জ্বালিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস এই মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়। তাই রাতে ঘুমানোর সময় ঘরের আলো যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখুন ।

৬. হাসুন প্রাণ খুলে (Smile please!): যখনই সুযোগ পাবেন খুব প্রাণ খুলে হাসার চেষ্টা করুন । কারণ প্রথমত হাসি আমাদের মনকে সতেজ আর উৎফুল্ল রাখে, এছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধী এন্টিবডির (anti-body)সংখ্যাও বাড়িয়ে তোলে, আমাদের রক্ত চাপ (blood pressur) নিয়ন্ত্রণে রাখে, রক্ত পরিবাহী নালীগুলোকে প্রসারিত করে। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রাণখোলা হাসি অপরিহার্য। যার ফলে আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (immune system) হবে আরো কার্যকর।

যে ১০টি খাবার বাড়িয়ে তুলবে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

প্রতিটি মানুষের শরীরেই রোগ প্রতিরোধ করার সহজাত ক্ষমতা থাকে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে যেমন দূষণ, ভেজাল খাবার, অপুষ্টি, অনিয়মিত জীবনযাপন ইত্যাদির ফলে এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে থাকে। ফলস্বরূপ সামান্য রোগেই কাতর হয়ে যাওয়া। চিনে নিন কিছু খাবার, যেগুলো আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলবে।

১. পালংশাক: পালংশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আয়রন। আয়রন এমন একটি খনিজ উপাদান যা লোহিত রক্তকণিকা উত্‍পাদনের জন্য জরুরি তো বটেই, এটা রক্তস্বল্পতাও প্রতিরোধ করে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের কোষ বৃদ্ধির জন্যেও এটা জরুরি।

২. দই: দইয়ে থাকে অগণিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া। তাই দই এর স্বাদের জন্য খেলেও আদতে আপনি পরোক্ষভাবে আপনার শরীরেরই উপকার করছেন!

৩. গ্রিন টি: সব ধরনের চায়েই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তবে গ্রিন টি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষভাবে সমাদৃত।

৪. লেবুজাতীয় ফল: ভিটামিন সি বিভিন্ন ধরনের রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের প্রদাহও প্রতিরোধ করে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি বিশেষ ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা অনুচক্রিকা গঠনে সহায়তা করে এবং ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়ে। এই ভিটামিন সি লেবুজাতীয় সব ধরনের ফলে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। যেমন কমলা, মালটা, লেবু, জাম্বুরা ইত্যাদি।

৫. লাল ক্যাপসিকাম: সব প্রজাতির মরিচেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ক্যাপসিকামও এর বাইরে নয়, বিশেষ করে লাল ক্যাপসিকাম। এছাড়া এই উজ্জ্বল রঙের খাবারটিতে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী উপাদান।

৬. ব্রকোলি: ব্রকোলি থেকে আপনি পেতে পারেন প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ক্যাবেজ পরিবার থেকে আসা ফুলের মতো দেখতে এই খাবারটিতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি এবং ই, যা ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়ে।

৭. রসুন: ভেষজ গুণের রাজা বলা হয় রসুনকে। রসুন আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো কর্মক্ষম করে তোলে বহু গুণ। রসুনে রয়েছে অ্যালিকিন যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে লড়ে।

৮. হলুদ: হলুদ মোটা হবার প্রবণতা থেকে শুরু করে ক্যান্সার – সবকিছুর বিরুদ্ধেই লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। এটি দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহও সারিয়ে তোলে। এছাড়া এটি জ্বর, ঠাণ্ডা ও ফ্লু-এর বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

৯. আদা: আদায় উপস্থিত ভিটামিন সি কাশি এবং ঠাণ্ডার সমস্যা দ্রুত সারিয়ে তোলে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ প্রতিরোধেও আদার তুলনা নেই।

১০. কাঠবাদাম: কাঠবাদামে রয়েছে ভিটামিন ই যা খুবই শক্তিশালী একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ঠাণ্ডার সমস্যা ও কাশি প্রতিরোধ করে। এর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরে শক্তি প্রদান করে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বজায় রাখে এবং ক্ষতিকর বিভিন্ন উপাদান থেকে রক্ষা করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ার লক্ষণ

ভারতীয় পুষ্টিবিদ এবং ‘দি গ্রেট ইন্ডিয়ান ডায়েট’ বইয়ের লেখক ল্যুক কুটিনো স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ার লক্ষণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

সেখানে তিনি বেশ কয়েকটি বিষয় আলোচনা করেন। যেমন-

যখন তখন সংক্রমণ ও অ্যালার্জি: যদি অন্যদের তুলনায় বেশি অসুস্থ হন– বার বার ঠাণ্ডা লাগা, হাঁচি(ধুলার কারণে অ্যালার্জি), স্থায়ী কাশি, গলা ব্যথা, ত্বকে দানা দানা ওঠা ইত্যাদির মানে হল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম।

ফাঙ্গাসে আক্রান্ত, ডায়রিয়া, মাড়ি ফোলা, মুখে ফুসকুড়ি, লিম্ফ বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পানির মতো জমে ফুলে ওঠা ইত্যাদি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ার লক্ষণ।

অনেক মানুষ পরিবেশের সামান্য পরিবর্তনেই অসুস্থ হয়ে যায়। এর কারণ হতে পারে শরীরের তাপমাত্রা কম। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি ব্যক্তির সুস্থ অবস্থায় মুখের তাপমাত্রা ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হয় না। কারণ সাধারণ ঠাণ্ডার ভাইরাস যেমন- রাইনোভাইরাস ৩৩ ডিগ্রি তাপমাত্রায় শক্তি পায়। নিয়মিত শরীরচর্চা করা শরীরের তাপমাত্রা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া রসুন, আদা, দারুচিনি, এলাচ ইত্যাদি মসলা শরীর গরম রাখতে ভালো কাজ করে।

জ্বর না হওয়া: প্রয়োজনের সময় জ্বর না হওয়াও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ার লক্ষণ। শরীরের নানান রোগের প্রতিরোধের জন্য জ্বর হওয়া প্রয়োজন। অধিকাংশ মানুষই জ্বর কমানোর জন্য ওষুধ খায়, যা শরীরকে ঠিক মতো কর্মক্ষম থাকতে দেয় না। সংক্রমণ ছাড়া যদি কয়েক বছর জ্বর না হয়ে থাকে তাহলে বুঝতে হবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।

দুর্বল অন্ত্র: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ৮০ শতাংশ নির্ভর করে অন্ত্রের সুস্থতার উপর। দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, হজমে সমস্যা, অ্যাসিডিটি, পেটফাঁপা ইত্যাদি দুর্বল অন্ত্রের লক্ষণ। দুর্বল অন্ত্র বলতে ভালো ও খারাপ ব্যাকটেরিয়ার অসামঞ্জস্যতাকে বোঝায়। তাই প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি।

ভিটামিন ডি কম থাকা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে আমাদের অধিকাংশেরই এই ভিটামিন কম। রক্তে ভিটামিন ডি’য়ের মাত্রা কম থাকলে তা বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। তাছাড়া, সবসময় আসুস্থ থাকা, ক্লান্ত লাগা, ঘুম ঘুম ভাব, কোনো আঘাত ভালো হতে অনেক সময় লাগা, রক্ত শূন্যতা, হতাশা, চোখের নিচে কালো দাগ ইত্যাদি দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার লক্ষণ।

অতিরিক্ত ‘মিউকাস’ বা শ্লেষ্মা উৎপাদনও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমের লক্ষণ। বাড়তি চিনি, লবণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও দুধের তৈরি খাওয়া বাদ দেওয়া এক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।

শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ৫ উপায়

শীত আরামদায়ক ঋতু।কিন্তু এই সময় রোগব্যাধির প্রকোপ বাড়ে। জ্বর-সর্দি, ফ্লু, অ্যাজমা ইত্যাদি শীতের প্রচলিত সমস্যা। কিছু বিষয় শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে থাকে।

শীতের সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে এমন কিছু উপায়ের প্রয়োজনীয় কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মাইন্ডবডিগ্রিন।

১. ভিটামিন সি: ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।সতেজ ফল ও সবজি ভিটামিন ‘সি’র চমৎকার উৎস।আমলকী, আমড়া, কমলা, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদির মধ্যে ভিটামিন সি রয়েছে।

২. ভেষজ ও মসলা: পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ ইত্যাদি ভেষজ ও মসলা রান্নার সময় ব্যবহার করুন।এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে কাজ করে।

৩.পানি পান করুন: শীতে অনেকে পানি কম পান করেন।আপনি জানেন কী? শীতেও কিন্তু পানিশূন্যতার সমস্যা হয়। তাই শীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম: দীর্ঘমেয়াদি অবসন্নতা আর ঘুমের অভাবে রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। ভালোমতো ঘুম শরীরে অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে।তাই প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান।

৫. শারীরিক ব্যায়াম: শারীরিক ব্যায়াম শরীরকে চাঙ্গা রাখে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটা শরীরকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করুন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে যেসব মসলা

ভাইরাস জ্বর, সাধারণ ঠান্ডা লাগা, সর্দিকাশি এবং পেটের সমস্যা তো লেগেই থাকে। আর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণ বেড়েই যায়। এই সময়ে সুস্থ থাকার জন্য এবং আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজে আসতে পারে বিভিন্ন মশলা। এইসব মসলা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কাজ করে।

হিং: হিং অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টি-ভাইরাল। হিং আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, পেটে ব্যথা এবং গ্যাসের সমস্যায় হিং অব্যর্থ। তরকারি, ডাল এবং অন্যান্য রান্নতেও হিং যোগ করতে পারেন।

হলুদ: এক চিমটে হলুদ আপনার পেটের সমস্যা কমাতে পারে। রান্নায়, ডালে, এমনকি এক গ্লাস দুধে এক চিমটি হলুদ দিয়ে খেয়ে দেখুন। বেড়ে যাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

গোলমরিচ: গোলমরিচ গ্যাস এবং পেটে অন্যান্য সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। প্রদাহের সমস্যা কমানো ছাড়াও, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল হিসেবেও মরিচ খুবই উপকারী। ডিমে, স্যান্ডউইচে, স্যুপে, স্যালাডে, গোল মরিচ ব্যবহার করতে পারেন।

লবঙ্গ: লবঙ্গ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। লবঙ্গে আছে ইউগেনল যা রক্তে সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করে এবং শরীরে ব্যাক্টেরিয়া জনিত রোগব্যাধি থেকে লড়ার ক্ষমতা জোগায়।

মেথি: মেথি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এগুলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বর্ষাকালে জ্বর ও বিভিন্ন সংক্রমণের হাত থেকেও আমাদের রক্ষা করে।

দারুচিনি: দারুচিনি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এবং শরীরে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, ফাইবার এবং আয়রন সরবরাহ করে।

শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার ৫টি উপায়

দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারলে দ্রুত রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা কমে যায় এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার মত ক্ষমতা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় সামান্য রোগ শিশুদের জন্য মারাত্মক আকার ধারণ করে থাকে। ডায়রিয়া কিংবা ঠাণ্ডা লেগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুমৃত্যুর হার কমেনি এই আধুনিক চিকিৎসার যুগেও। এর প্রধান কারণ হচ্ছে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

শিশুদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকার কারণে সামান্য রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করে দেহকে অনেক দুর্বল করে তোলে। ইমিউন সিস্টেম ভেঙে পরার দরুণ রোগাক্রান্ত শিশুদেহ রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি পায় না। ফলশ্রুতিতে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই অভিভাবকের উচিৎ সব সময় নিজের শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করার চেষ্টা করা।

শিশুদের ওজন কম রাখার চেষ্টা করুন: একটু মোটাসোটা নাদুস-নুদুস বাচ্চা দেখতে যতই ভালো লাগুক না কেন শিশুদের জন্য বাড়তি ওজন অনেক ক্ষতিকর। কারণ বাড়তি ওজনের শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম থাকে।

বাচ্চাদের ওজন তার বয়স এবং উচ্চতা অনুযায়ী সঠিক রাখার চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য বাচ্চাদের উপযোগী কিছু সহজ শারীরিক ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে যেমন, সাইকেল চালানো, সাতার কাঁটা, বিকেলে শারীরিক খেলাধুলা করা। এতে দেহের সাদা রক্ত কনিকা বৃদ্ধি পাবে এবং দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত হবে।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে তুলুন: বাচ্চারা অনেক সময়ই হাবিজাবি খাবারের জন্য আবদার করে থাকে। যতই আদুরে হোক না কেন বাচ্চার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অভিভাবককে বাচ্চার বাজে খাদ্যাভাস বদলানোর চেষ্টা করতে হবে।

প্রতিদিন খাবার তালিকায় ফল এবং শাকসবজি রাখার চেষ্টা করবেন। বাচ্চা খেতে না চাইলে জোর না করে তাকে ফলমূল এবং শাকসবজি একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। তাকে ছোটবেলা থেকেই ভালো খাদ্যাভ্যাসে গড়ে নিতে পারলে দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত হবে।

খাবারে চিনির পরিমাণ কমিয়ে দিন: বেশি মাত্রায় চিনি জাতীয় খাবার ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে ফেলে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। গবেষকদের মতে ১ চা চামচ চিনি ৪ ঘণ্টার জন্য ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে ফেলতে সক্ষম। তাই চিনি জাতীয় খাবার কমিয়ে দিন একেবারে। এতে করে সুস্থ থাকবে আপনার শিশু।

সঠিক ঘুমের অভ্যাস তৈরি করুন: ঘুম খুব জরুরি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য। ঘুমের সময় দেহের ইমিউন সিস্টেম আপনাআপনি উন্নত হতে থাকে। বেশি রাত করে ঘুমানো এবং সকালে বেশি দেরি করে উঠা দেহের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে। এবং বাচ্চাদের জন্য ৯ ঘণ্টার কম ঘুম বেশ ক্ষতিকর। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাচ্চার ঘুমের সময় ঠিক রাখুন এবং প্রতিদিন ৯ ঘণ্টা ঘুমানর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

পরিষ্কার পরিচ্ছনতার ব্যাপারে শিক্ষা দিন: বাচ্চাকে পরিষ্কার পরিচ্ছনতার শিক্ষা দিন। তাকে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং গোসল করার ব্যাপারে উৎসাহী করে তুলুন ঘরোয়া শিক্ষায়। এতে করে সে ঘরের বাইরে স্কুলে যেয়েও খেলাধূলা করে, টিফিন খাবার আগে হাত ধোঁয়ার অভ্যাস বজায় রাখবে।

ঘরে গড়ে ওঠা এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা তার দেহে রোগ সংক্রামণেও বাঁধা দেবে। দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

ত্বকের মেছতার দাগ দূর করার দুইটি সহজ উপায় জেনে নিন

আমাদের দেহে মুখের ত্বকে সবচেয়ে বেশি ময়লা জমে থাকে। কারণ প্রতিদিনই কোন না কোন কাজে আমাদের বের হতে হয়। কাজকর্মের চাপ, কম ঘুম, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, বাইরের ধুলাবালি, সূর্যের আলো সব মিলিয়ে ত্বকে দেখা দেয় নানা ধরণের সমস্যা। এর মধ্যে অন্যতম হল ব্রণ ও রোদের পোড়া দাগ।

তবে শুধু ব্রণের দাগই নয়, চেহারায় অনেক সময় দেখা দেয় খয়েরি দাগ যাকে আমরা মেছতা বলে থাকি। তাছাড়া দুশ্চিন্তা, ভিটামিনের অভাব, প্রেগনেন্সির সময়ও ত্বকে এমন খয়েরি দাগ এর দেখা দেয়। আর এই দাগ দূর করতেই জেনে রাখুন কিছু সহজ উপায়।

ক্যাস্টর অয়েলঃ ক্যাস্টর অয়েলে আছে ত্বকের খয়েরি দাগ দূর করারা ক্ষমতা। শুধু ক্যাস্টর অয়েলই নয় দাগ দূর করতে আপনি ব্যবহার করতে পারেন নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, ভিটামিন ই অয়েল।

১। একটি কটন বলে ক্যাস্টর অয়েল নিয়ে আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে নিন।

২। ৫ মিনিটের মতো হালকা হাতে ম্যাসেজ করুন।

৩। তারপর ঘন্টা খানেক রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৪। প্রতিদিন সকালে ও রাতে এইভাবে ব্যবহার করুন ক্যাস্টর অয়েল আপনার ত্বকের দাগও দূর হবে এবং ত্বক টানটান হবে।

লেবুর রসঃ লেবুতে আছে ত্বক ব্লিচিং করার উপাদান। যা প্রতিদিন ব্যবহারে ফলে ত্বকের যেকোন দাগ দূর হয়।

১। ত্বকে খয়েরি দাগে আক্রান্ত জায়গায় লেবুর রস দিয়ে দিন। ৩০ মিনিট পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এইভাবে প্রতিদিন ব্যবহার করুন। জাহদের ত্বক খুব সেনসেটিভ তারা সরাসরি লেবু ব্যবহার না করে সাথে মধু ও গোলাপ জল মিশিয়ে দিতে পারেন। ২। লেবুর রসের সাথে পরিমাণ মতো চিনি নিয়ে পেস্ট তৈরি করে তা ত্বকে না মিলে যাওয়া পর্যন্ত ঘষুন। বিশেষ করে ত্বকের যেখানে খয়েরি আছে সেখানে বেশি করে ম্যাসেজ করুন। তারপর ১০ মিনিট পরে মুখ ধুয়ে ফেলুন। দিনে ২ বার এই কাজটি করুন সাথে চাইলে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন