যৌনশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কালোজিরা যেভাবে খাবেন?

যৌনশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ- আমরা কমবেশি সবাই কালোজিরা চিনি। ক্ষীর, পায়েস, পান, পিঠাপুলিসহ বেশকিছু তেলেভাজা খাবারে ভিন্ন স্বাদ আনতে আমরা হরহামেশা কালোজিরা ব্যবহার করে থাকি।কিন্তু আপনি জানেন কি, কালোজিরার ব্যবহার খাবারে ভিন্ন স্বাদ আনতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর রয়েছে বহুবিধ চিকিৎসাগুণ। কালোজিরার বীজ থেকে তৈরি তেল আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী।এতে রয়েছে ফসফেট, আয়রন, ফসফরাস যা আমাদের দেহকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কালোজিরার কিছু গুণের কথা।

১। রোগ প্রতিরোধে কালোজিরা: কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এটি যেকোনো জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

২। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কালোজিরা: কালোজিরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ কমিয়ে দেয়। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৩। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কালোজিরা: কালোজিরা নিম্ন রক্তচাপ বৃদ্ধি করে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দেহের কলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস করে শরীরে রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখে।

৪। যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে কালোজিরা: কালোজিরা নারী-পুরুষ উভয়ের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে কালোজিরা খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এটি পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তির সম্ভাবনাও তৈরি করে।

৫। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে কালোজিরা: নিয়মিত কালোজিরা খেলে দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। এতে করে মস্তিস্কে রক্ত সঞ্চালনের বৃদ্ধি ঘটে; যা আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

৬। হাঁপানী রোগ উপশমে কালোজিরা: হাঁপানী বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা সমাধানে কালোজিরা দারুণ কাজ করে। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা খেলে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা উপশম হয়।

৭। পিঠে ব্যাথা দূর করে কালোজিরা: কালোজিরার থেকে তৈরি তেল আমাদের দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘমেয়াদী রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া সাধারণ ভাবে কালোজিরা খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।

৮। শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে কালোজিরা: নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ালে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। কালোজিরা শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে।

বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার একমাত্র ঔষধ কাঁচা কলা

শরীরকে সুস্থ রাখতে, বিশেষত পেটকে, সেই ছোট বেলা থেকে কাঁচা কলা খেয়ে আসছি। কিন্তু দেখুন কি কান্ড একদল গবেষক কাঁচা কলার গুণাগুন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, কাঁচা কলা খাওয়া আদৌ উচিৎ কিনা, সেই নিয়েও নানা মহলে শুরু হয়েছে গবেষণা। তা এত গবেষণা করার পর কী জানা গেল? কাঁচা কলা খাওয়া কি সত্যিই উচিৎ নয়? শুনলে হয়তো অবাক হয়ে যাবেন যে প্রায় প্রতিটি গবেষণাতেই দেখা গেছে শুধু পেট খারাপ সারাতে নয়, আরও বেশ কিছু জটিল রোগের চিকিৎসাতেও কাঁচা কলার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে! তবে এখানেই শেষ নয়। নিয়মিত এই ফলটি খাওয়া শুরু করলে মেলে আরও অনেক উপকার। কিন্তু দেখুন সেদিকে আমাদের কারও খেয়াল নেই। তাই তো আজ এই প্রবন্ধের মাধ্যমে এই প্রকৃতিক সুপার ফুডটির বিষয়ে এমন কিছু তথ্য পরিবেশন করা হল, যা পড়তে পড়তে আপনার চোখ কপালে উঠবেই উঠবে। তাহলে আর অপেক্ষা কেন, চলুন ঝটপট জেনে ফেলা যাক কাঁচা কলা খাওয়া শুরু করলে কী কী উপকার পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে…

খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়: কাঁচা কলায় রেছে প্রচুর মাত্রায় ডায়াটারি ফাইবার, যা রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে থাকে, সেই সঙ্গে আর্টারির কর্মক্ষমতারে বাড়িয়ে তোলে। ফলে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি নানাবিধ রোগের রোগ দূরে থাকতেও বাধ্য হয়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে: গবেষণায় দেখা গেছে কাঁচা কলায় উপস্থিত পটাশিয়াম, শরীরে প্রবেশ করার পর ব্লাড ভেসেলের কর্মক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। সেই সঙ্গে শিরা-উপশিরায় অন্দরে তৈরি হওয়া প্রেসারকেও কমিয়ে ফেলে। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে কোনও ধরনের হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। তাই আপনার পরিবারে যদি হাই ব্লাড প্রেসারের মতো রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে নিয়মিত কাঁচা কলা খেতে ভুলবেন না যেন!

পেটকে ঠান্ডা রাখে: কাঁচা কলায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি ডাইজেস্টিভ ট্র্যাকের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং বাওয়েল মুভমেন্টের উন্নতি ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই শুধু পেট খারাপ নয়, যারা প্রায়শই গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় ভুগে থাকেন, তারা কাঁচা কলাকে কাজে লাগিয়ে আরোগ্য লাভ করতে পারেন কিন্তু

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে: কাঁচা কলা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। বরং সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে এই ফলটি। তাই তো ডায়াবেটিকরা নিশ্চিন্তে কাঁচা কলা খেতে পারেন। তবে ইচ্ছা হলে এ বিষয়ে একবার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতেই পারেন।

উপকারি ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়: বেশ কিছু স্টাডি অনুসারে নিয়মিত কাঁচা কলা খেলে ইন্টেস্টাইনে উপকারি ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে নানাবিধ পেটের রোগও দূরে পালায়।

পটাশিয়ামের ঘাটতি দূর করে: এক কাপ কাঁচা কলায় প্রায় ৫৩১ এম জি পটাসিয়াম থাকে, যা পেশির গঠনে উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি নার্ভ এবং কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, রক্তে যাতে কোনও ধরনের ক্ষতিকারক উপাদান থাকতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখে কাঁচা কলায় উপস্থিত পটাশিয়াম। তাই যে কোনও মরসুমে যদি শরীরকে চাঙ্গা রাখতে হয়, তাহলে রোজের ডায়েটে কাঁচা কলাকে অন্তর্ভুক্ত করতে ভুলবেন না যেন!

ওজন কমাতে সাহায্য় করে: কাঁচা কলায় উপস্থিত রেজিস্টেন্স স্টার্চ হজম হতে সময় নেয়। ফলে বহুক্ষণ ক্ষিদে পায় না। আর ক্ষিদে না পেলে খাবার খাওয়ার পরিমাণও কমতে শুরু করে। ফলে শরীরে ক্যালরির প্রবেশ ঘটে কম। আর এমনটা দীর্ঘ দিন ধরে যখন হতে থাকে, তখন ওজন কমতে সময় লাগে না।

পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়: খাবারে উপস্থিত পুষ্টিকর উপাদানগুলি যাতে ঠিক মতো শরীরের কাজে লাগতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখে কাঁচা কলায় উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান। ফলে নিয়মিত এই ফলটি খেলে অনায়াসেই পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। আর এমনটা হওয়া মাত্র শরীরের কর্মক্ষমতা যে বৃদ্ধি পায়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

ভিটামিনের চাহিদা মেটায়: কাঁচা কলায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় বিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি। এই দুটি ভিটামিন শরীরের গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন ধরুন ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দিয়ে সংক্রমক রোগকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। অন্যদিকে ভিটামিন বি৬ শরীরে এনার্জির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি ত্বক এবং চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

মধুর সঙ্গে আমলকির রস মিশিয়ে খেলে পাবেন বিস্ময়কর যেসব উপকারিতা

মধুর সঙ্গে আমলকির- সাধারণত যে যে প্রাকৃতিক উপাদানগুলি দিন-রাত ২৪ ঘন্টা শরীরকে পাহারা দিয়ে থাকে, তাদের মধ্যে অন্যতম হল আমলকি এবং মধু। সূতরাং আজ থেকেই এই দুটি প্রকৃতিক উপাদানকে একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারবে না। আসলে আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং উপকারি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যেখানে মধু নানাবিধ ভিটামিন এবং মিনারেল সমৃদ্ধ। সেই কারণেই তো প্রতিদিন আমলা রস এবং মধু একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে নানা উপকার মেলে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কী সেগুলো।

জ্বরের প্রকোপ কমায়: চিকিৎসকেদের মতে এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত মধু এবং আমলকির রস খেলে জ্বরের দাপট কমে যায়। সেই সঙ্গে হাঁচি-কাশি এবং জ্বর ঠোসার প্রকোপও হ্রাস পেতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আগে অনেকেরই গলা ব্যথা হয়ে থাকে। এমন ধরনের সমস্যা কমাতেও আমলকির রস এবং মধু দারুন কাজে আসে।

কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়: শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বাড়ার কারণে চিন্তায় আছেন? তাহলে আজ থেকেই আমলকি এবং মধু খাওয়া শুরু করুন।দেখবেন উপকার মিলবে। কারণ মধু এবং আমলকির রসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উপকারি অ্যামাইনো এসিড রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ডায়াবেটিস রোগকে লাগাম পরায়: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। তাই যারা ইতিমধ্যেই ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তারা সুস্থ থাকতে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটির সাহায্য নিতেই পারেন। তবে একবার আমলকির রস খাওয়া শুরু করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে ভুলবেন না যেন!

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়: আমলকি প্রকৃতিতে অ্যালকেলাইন। যে কারণে আমলকির রস খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে থাকা বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ডায়জেস্টিভ সিস্টেম এতটাই কর্মক্ষম হয়ে ওঠে যে হজম শক্তি বাড়তে সময়ই লাগে না।

লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ায়: শরীরের ভেতরে যে কয়টি ভাইটাল অর্গ্যান রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল লিভার। সেই কারণেই তো এই অঙ্গটিকে সবদিক থেকে বাঁচিয়ে রাখা একান্ত প্রয়োজন। আর এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে আমলকি এবং মধু। কীভাবে? একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে আমলকি রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এই উপাদানটি লিভারের ক্ষতি করতে পারে এমন বিষাক্ত উপাদানদের শরীরে থেকে বের করে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই লিভারের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই যারা নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন করেন, তারা লিভারকে নানাবিধ ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে আমলকির রস খেতে ভুলবেন না যেন!

পুষ্টিকর উপাদানের ঘাটতি দূর করে: শরীরকে সচল রাখতে দৈনিক যে যে ভিটামিন এবং মিনারেলের প্রয়োজন পড়ে, তার বেশিরভাগই সরবরাহ করে আমলকি। সেই সঙ্গে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি এবং ফসফরাসের মতো উপাদানের ঘাটতিও দূর করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

চুলের সৌন্দর্য বাড়ায়: চুলের গঠনে প্রোটিনের অবদানকে অস্বীকার করা সম্ভব নয়। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে আমলকিতে যেমন প্রোটিন রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যামাইনো অ্যাসিড। সেই কারণেই তো নিয়মিত আমলকি খাওয়ার অভ্যাস করলে চুলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস পায়।

ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়: আমলকির রস এবং মধু মিশিয়ে বানানো মিশ্রনে তুলা চুবিয়ে তা দিয়ে যদি ভাল করে মুখ পরিষ্কার করা যায়, তাহলে কালো ছোপ ছোপ দাগ, ব্রণের দাগ এবং বলিরেখা কমে। সেই সঙ্গে ত্বকের ঔজ্জ্বল্যও ব্যাপকভাবে বাড়ে

ওষুধ ভুলে যান! পুরুষদের জন্যে আসছে জন্ম নিয়ন্ত্রক জেল

পুরুষদের জন্য জন্ম নিয়ন্ত্রক ওষুধের পর এবার বাজারে আসতে চলেছে জন্ম নিয়ন্ত্রক জেল। কিছু দিনের মধ্যেই এটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই জেলের বিষয়ে এখনও গবেষণা চলছে। আর এই ওষুধ বাজারে এলেই জন্ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষরাও দায়িত্ব নিতে পারবেন। এমনটাই মনে করছেন গবেষকরা।

উত্তর ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাইকেল ও’রান্ড জানাচ্ছেন, এই ওষুধ পুরুষদের বীর্যে থাকা প্রোটিনকে বেঁধে রেখে তার চলাচলের গতিকে স্লথ করে দেবে। কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই জন্ম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে এই ওষুধ। এমনটাই দাবি গবেষক মাইকেলের।

গবেষক দলের অন্যতম সদস্য ড. ডায়ানা ব্লাইদিও এই কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে পুরুষের জন্মনিরোধক পদ্ধতি হিসেবে শুধু ভ্যাসেকটমি আর কনডমের ব্যবহার প্রচলিত রয়েছে। তার বিশ্বাস-এ গবেষণায় সাফল্য মিললে আরও একটি নিরাপদ ও কার্যকরী পদ্ধতি হিসেবে এই জেল জন্ম নিয়ন্ত্রণে পুরুষদের সহায়ক হয়ে উঠতে পারে।

ড. ডায়ানা আরও জানাচ্ছেন, এই জেল মাখতে হবে পুরুষের পিঠে ও কাঁধে। এই জেলে মূলত দুটি উপাদান রয়েছে। এক হচ্ছে-টেস্টোস্টেরন ও দুই সেজেস্টেরন অ্যাসিটেট নামের একটি প্রজেস্টিন। এই প্রজেস্টিন পুরুষের শুক্রাশয়ে টেস্টোস্টেরনের উৎপাদন বন্ধ করে দিতে সক্ষম। প্রজেস্টিনের প্রভাবে শুক্রাণুর উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এই জেলে থাকা টেস্টোস্টেরন পুরুষের রক্তে হরমোনটির মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে। ফলে শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে চলতে থাকবে। এ জেলটির নাম এনইএস/টি।

শীতে ব্যথা থেকে রেহাই পেতে দেখুন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

শীতকালে একটু ঠোকাঠুকিতেই যেন ব্যথা কয়েক শো গুণ মনে হয়৷ এই ধরুন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেছেন৷ হঠাৎ অনুভব করলেন ঘাড় ঘোরাতে পারছেন না৷ আবার হঠাৎ বুঝতে পারলেন কোমরে টান ধরেছে৷ গাঁটে গাঁটে ব্যথা তো লেগেই থাকে শীতকালে৷ ঘাড় থেকে ব্যথা ধীরে ধীরে কাঁধ, বাহু, হাত ও আঙুল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে থাকে৷ গোটা শরীরে যেন অবশ অবশভাব৷

ঘাড়ের স্টিফনেস বাড়তে থাকে৷ ফলে ঘাড় ঘোরাতে কষ্ট হয়৷ যাদের ওজন বেশি হয় তাঁদের কোমরে ব্যথা শুরু হয়৷ শীতে হাত ও পায়ের দিকে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়৷ ফলে শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে, মাংস পেশিতে ব্যথা শুরু হয়৷ সকালেই উঠে যদি এতো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়৷ তাহলে সারাদিনের কাজ করার ইচ্ছেটাই চলে যায়৷ বিভিন্ন ব্যথার মলম লাগিয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না৷ ভাবছেন তো কী করবেন? কোন ওষুধেই বা এই রোগগুলি সারবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে আমাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ কমে যায়৷ ফলে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায়৷ তাই সহজেই কোনও রোগ আমাদের শরীরে আক্রমণ করতে পারে৷ হাড় ও জয়েন্টে ব্যথা বাড়ে৷ অনেক সময় পেশিগুলি ফুলেও যায়৷ শীতকালে আমাদের শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়৷ তাই সহজেই ক্লান্তি আসে। শুধু ব্যথাই নয়৷ মাংসপেশির স্টিফনেসের সমস্যাও হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে প্রচুর পরিমাণ জল পান করতে৷ সঙ্গে পুষ্টিকর খাবার বেশি করে খেতে বলছেন৷ সবুজ শাক সবজি, ফলও বেশি করে খেতে হবে৷ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও মলম বা ওষুধ খেতে বারণ করছেন তাঁরা৷ পাশাপাশি ঠাণ্ডা লেগে যেন সর্দি কাশি যেন না লাগে সেই দিকেও খেলায় রাখতে বলছেন তাঁরা৷

কিডনির পাথর থেকে বাঁচতে হলে শুধু ২টি কাজ করবেন

আমাদের দেহের রক্ত পরিশোধনের অঙ্গ কিডনি। এছাড়াও শরীরে জমে থাকা অনেক রকম বর্জ্যও পরিশোধিত হয় কিডনির মাধ্যমে। কিডনির নানা সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কিডনিতে পাথর হওয়া।কিন্তু ঠিক কি কি কারণে কিডনিতে পাথর হওয়া রোধ করতে পারবেন, জানেন কি? আসুন জেনে নেয়া যাক কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণগুলো সম্পর্কে, যা হয়তো আপনার জানা নেই।

কাচা লবন খাবেন না’ অনেকেই খাবারে লবণ খান যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণ লবণের সোডিয়াম খুব সহজে কিডনি দূর করতে পারে না এবং তা জমা হতে থাকে কিডনিতে। এছাড়াও অতিরিক্ত সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের কারণেও কিডনিতে পাথর জমার সম্ভাবনা বাড়ে। পানি পান করুন কিডনির কাজ হচ্ছে দেহের বর্জ্য ছেঁকে দেহকে টক্সিনমুক্ত করা।

আর এই কাজটি কিডনি করে পানির সহায়তায়। যদি আপনি পানি পরিমিত পান না করেন তাহলে কিডনি সঠিকভাবে দেহের বর্জ্য দূর করতে পারে না যা কিডনিতে জমা হতে থাকে পাথর হিসেবে। সুতরাং পরিমিত পানি পান করুন।

মেয়েরা যে কারণে ছেলেদের দেখলে ওড়না ঠিক করে :: হাদীস শরীফে নারীদেরকে বলা হয় ‘আওরত’। এর অর্থ গুপ্ত বা আবৃত। সুতরাং নারীর নামের সঙ্গেই মিলেমিশে আছে তাদের জন্য পর্দা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং আবশ্যকীয়। শরীয়তে নারীদের জন্য পর্দাকে ফরজ করা হয়েছে। আর সেই পর্দা নিয়েই বিভিন্ন সময় নানান ধরণের যুক্তি শোনা যায়। সমাজে তিন শ্রেণীর নারীদের দেখা যায়, ১. পর্দাশীল নারী, ২. বেপর্দা নারী আর ৩, সুযোগ-সন্ধানী পর্দার নারী।

এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণীর নারীরা অংশ বিশেষ কিংবা প্রয়োজনবোধে পর্দা করেন। এটা সবারই জানা যে, ছেলেদের দেখলেই মেয়েরা তাদের মাথার কিংবা বুকের ওড়না ঠিক করেন। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই অনেক ধরনের কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবতা কয়জনই বা জানেন?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক এক পাঠক লিখেছেন, হ্যাঁ। এটা সত্য এবং খুব সচরাচর দেখা যায়। এটা কী কারণে করে সেটা বলা মুশকিল। তবে মেয়েরা তাদের ওড়না ঠিক করার কারণ ধরনভেদে বিভিন্ন অর্থ হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি ধরণ হল…

১.মাথার ওড়না ঠিক করা: অনেক সময় দেখা যায় মেয়ের গলায় ওড়না ঠিকই আছে কিন্তু সেটা পুরুষ বা ছেলেদের দেখলেই মাথায় তুলছে কিংবা ঠিকভাবে পরে নিচ্ছে। এটার কারণ হিসেবে যেটা প্রতীয়মান তা হলো মেয়ের প্রতি মা-বাবার শেখানো পারিবারিক মূল্যবোধ। সমাজে গ্রহণযোগ্য এবং নৈতিকতা সম্পর্কে শিক্ষাদান প্রতিটি বাবা-মায়েরই দায়িত্ব। তারই ধারাবাহিকতায় খুব ছোটোবেলা থেকেই সন্তানদের বিভিন্ন আচরণের ধরণ শেখান মা-বাবা। আর এই পরিবেশে বেড়ে উঠার কারণেই তার মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই মাথায় ওড়না ঠিক করার অভ্যাস গড়ে ওঠে।

২. বুকের ওড়না ঠিক করা: নারীদেহের যে কয়েকটি অঙ্গ বাহ্যিকভাবে খুব আকর্ষণীয় এবং পুরুষদের নজরে পড়ে তার মধ্যে স্তন অন্যতম। ধরুন কোনো মেয়ের গলায় ওড়না আছে। কিন্তু সেটি বুকের ওপর নেই। ওই সময় পুরুষের নজর পড়লেই দেখা যায় অধিকাংশ মেয়েরা বুকের অংশে ঠিকঠাক করে ওড়না দেয়। এর দুটি কারণ থাকতে পারে ১টি, পুরুষের কু-দৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করা। আর দ্বিতীয়টি ছোটবেলা থেকেই পরিবার থেকে যে শিক্ষা পেয়েছেন তার যথাযথ প্রয়োগ।

পুকুরে স্ত্রীর, বিছানায় শিশুদের, দড়িতে যুবকের লাশ

চাঁদপুরে একই পরিবারের চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভোরে দেখতে পান বাড়ির পুকুরে ভাসছে নারীর লাশ, বাড়ির বিছানায় ওই নারীর দুই শিশুর লাশ আর বাড়ির আড়ায় ঝুলছে ওই নারীর স্বামীর লাশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন পরিবারটির কর্তা।

আজ সোমবার ভোরে সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের দেবপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে ওই চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত চারজন হলেন মাইনুদ্দিন সরদার (৩০), তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বেগম (২৪) এবং ওই দম্পতির দুই শিশু মিথিলা (৫) ও সিয়াম (২)।

লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে মাইনুদ্দিনের বাড়ির সামনে ভিড়। ছবি : এনটিভি

জানা যায়, মাইনুদ্দিন সরদারের সঙ্গে সাত বছর আগে ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে তাঁদের মধ্যে কলহ শুরু হয়। এরই জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি ফাতেমার পরিবারের।

রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন জানান, নিহত মাইনুদ্দিনের সরদারের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে জানা যায় গত দুই দিন আগে মাইনুদ্দিন  স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে নিজ বাড়ি নিয়ে আসেন। আজ ভোর রাত ৫টায় প্রথমে স্ত্রী ফাতেমা বেগকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেন। পরে মেয়ে মিথিলা ও ছেলে সিয়ামকে হত্যা করে ঘরের বিছানায় ফেলে রাখে। পরে মাইনুদ্দিন সরদার নিজে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, খবরটি পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।

অনৈতিক কাজে রোহিঙ্গা নারীরা

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক পতিতাবৃত্তির আভাষ পাওয়া গেছে। কতিপয় স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা নারী ক্যাম্পের অভ্যন্তরে, বিভিন্ন বাসাবাড়ীতে, ইনানী হোটেল-মোটেল ও গেষ্ট হাউজে অভিনব কায়দায় ক্যাম্পে চাকুরীর অজুহাত দেখিয়ে পতিতাবৃত্তি করছে।

গত ৩ মাসে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ি হোটেলে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৮ জন নারী পুরুষকে অনৈতিকতার অভিযোগে আটক করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আনিসুর রহমান।

গত শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) ভোর রাতে শীলের ছড়া মোঃ আলীর ভিঠা নামক এলাকায় একটি বাড়ী থেকে অসৎ উদ্দেশ্য অপেক্ষমান কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নারী মৃত সোলতান আহম্মদের স্ত্রী এলেমা খাতুন প্রকাশ তৈয়বা (২২) ও শীলের ছড়া গ্রামের মৃত প্রদীপ বড়ুয়ার ছেলে সোহেল বড়ুয়াকে (২৭) স্থানীয়রা আটক করে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে অনৈতিক কাজের অভিযোগে তাদের আটক করে।

উখিয়া থানার সহকারী উপ পরিদর্শক বিলাশ জানান, আটককৃতদের উখিয়ার সহকারী কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফখরুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে জবানবন্দিতে এলামা খাতুন অনৈতিকতার আশ্রয় নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদেরকে পুলিশের মাধ্যমে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় বোদ্ধ সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রপন বড়ুয়া ও জালাল, দিদার মিয়া, কামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, ঐ বাড়িতে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা ও নারীদের নিয়ে অনৈতিক কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সোহেল বড়ুয়া ও মোজাম্মেল হক ক্যাম্প থেকে এক রোহিঙ্গা নারীকে এনে অনৈতিক কাজ করার খবর পেয়ে এলাকাবাসী কুরিয়া প্রবাসী বিবেক বড়ুয়ার ছোট ভাই সোহেল বড়ুয়া ও রোহিঙ্গা নারী এলামা খাতুনকে হাতে নাতে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।

যা রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনালে সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

ইশতেহারে জাতীয় ঐক্য গড়া, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানসহ ১৪ প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

প্রতিশ্রুতির মধ্য রয়েছে- জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সর্বদলীয় সত্যানুসন্ধান ও বিভেদ নিরসনে কমিশন গঠন করা হবে, হত্যা ও গুম পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল করা হবে।

নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরি করা হবে।

পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না।

পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ব্যতীত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের কোনো বয়সসীমা থাকবে না।

সরকারের দুর্নীতি তদন্ত করে বিচার করা হবে।

জেলা পরিষদ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে।

পিএসসি জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১২ হাজার টাকা। প্রথম বছরে গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু প্রমুখ ও ড. রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ে : মারা যাচ্ছে সাকিব-রুবার সব বাচ্চা

রুবা এবং সাকিব দুজনে সম্পর্কে কাজিন। বিয়ে করেছেন পরিবারের সম্মতিতেই। কিন্তু এই দম্পতি তাদের শরীরে এমন এক জিন বহন করছেন যার ফলে তাদের শিশু শৈশবেই মৃত্যুর তীব্র ঝুঁকিতে ছিল। এরইমধ্যে তারা তিনটি শিশুকে হারিয়েছেন। এখন আইভিএফ পদ্ধতির সাহায্য সন্তান নিতে চান রুবা, যার মাধ্যমে তাদের মিলবে স্বাস্থ্যকর একটি ভ্রূণ। অন্যদিকে তাদের আত্মীয়-স্বজনরা চান এই দুজন আলাদা হয়ে যাক এবং পুনরায় বিয়ে করুক। বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনে এমন সংবাদ পাওয়া গেছে।

ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ডে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা রুবা বিয়ের আগে কেবল দুইবার পাকিস্তানে বেড়াতে গিয়েছিলেন। প্রথমবার তার বয়স ছিল ৪ বছর এবং দ্বিতীয়বার যাওয়ার সময় তার বয়স ছিল ১২ বছর। এখন যে মানুষটির সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, ওই সময়ে সেই মানুষটির কথাও তিনি সেভাবে স্মরণ করতে পারেনা। তার সাথে কখনো একসাথে সময় কাটাতে পারেননি রুবা।

রুবার বয়স যখন ১৭ তখন ছেলেটির বয়স ছিল ২৭ । ছেলেটি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতেন। এত অল্পবয়সে বিয়ে করার মোটেই ইচ্ছা ছিল না রুবা বিবির। তার ইচ্ছা ছিল এ লেভেল শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার। কিন্তু তিনি তার স্কুল সার্টিফিকেট শেষ করার আগেই পাকিস্তানে তার বাবা মা তার বিয়ে দিয়ে দেন কাজিন সাকিব মেহমুদের সাথে।

তিনি বলেন, ‘আমি খুবই নার্ভাস ছিলাম কারণ তাকে আমি একটুও চিনতাম না। আমি ছিলাম খুবই লাজুক প্রকৃতির এবং বেশি কথা বলতাম না। ছেলেদের প্রতি আমার কোনো আগ্রহ ছিলনা। আমি শুধু বাবা-মাকে বলেছিলাম আমার স্কুল শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব না করতে। ‘

পাকিস্তানে ৩ মাসের মাথায় রুবা গর্ভবতী হয়ে পড়লে, ২ মাস পর তিনি ব্রাডফোর্ডে ফিরে আসেন। এত দ্রুত সন্তান ধারনের বিষয়টি তাকে বিচলিত করে তোলে, একইসঙ্গে আবার আনন্দিতও করে তাকে। ২০০৭ সালে যখন তাদের পুত্র হাসানের জন্ম হয় তিনি আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে স্বামী সাকিবকে জানান, সবকিছু ঠিকঠাক আছে। যদিও বাচ্চাটি প্রচুর ঘুমাচ্ছিল এবং তাকে খাওয়াতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। রুবা ভেবেছিলেন বিষয়টি স্বাভাবিক।

কয়েক সপ্তাহ পরে হাসানকে চেক আপের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান রুবা এবং চিকিৎসক তাকে দেখে নোট করলেন যে হাসানের নিতম্ব অসাড় হয়ে আছে। রুবা বলেন, ‘ডাক্তার বাচ্চাটিকে রেফার করতে চাইলেন কিন্তু আমি ভেবেছিলাম বিষয়টি সাধারণ। তারা কিছু টেস্ট দেন এবং তারপর আমাকে ফোনে বলা হয় পরীক্ষা নিরীক্ষার ফলাফলের জন্য শিশু-বিভাগে যেতে।’

রুবার ভাষায়, ‘টেস্টের রিপোর্ট দেখার পর চিকিৎসক জানান খুব খারাপ খবর আছে। তিনি আমার হাতে একটি লিফলেট দিয়ে বললেন আমার ছেলের এই সমস্যা রয়েছে এবং এটা খুবই বিরল। আমার জন্য এটি সহ্য করা ছিল ভয়াবহ ব্যাপার, আমি কেবল কাঁদছিলাম। আমি বাড়িতে ফিরে স্বামীকে পাকিস্তানে ফোন দিলাম, সে আমাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিল। বলছিল, সবাইকেই সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং আমরাও আমাদের সমস্যা একসাথে মোকাবেলা করব।’

রুবার কোনো ধারণা ছিলনা যে তিনি এবং তার কাজিন স্বামী দুজনের শরীর ‘আই-সেল’ বা ‘রিসিসিভ জিন’ (প্রচ্ছন্ন জিন) বহন করছে যা একটি শিশুর সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। এই ঘটনার ৭ মাস পরে সাকিব যুক্তরাজ্যে যাওয়ার ভিসা পান এবং প্রথমবার নিজের ছেলেকে কোলে তুলে নেয়ার সুযোগ হয় তার।

ওই সময়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে রুবা বলেন, ‘সে বলে, বাচ্চাকে দেখে মনে হচ্ছিল স্বাভাবিক একটি শিশু। সে বসত না বা হামাগুড়ি দিত না। কিন্তু আমার স্বামী বলে, কোনো কোনো শিশু এসব ক্ষেত্রে হাঁটাচলা দেরিতে শুরু করে থাকে।’

কিন্তু সমবয়সী অন্যান্য শিশুদের সাথে মেলালে নিজের বাচ্চার মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখত পেতেন রুবা। হাসানের বৃদ্ধি হচ্ছিল খুব ধীরে ধীরে এবং বুকে ইনফেকশন নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া-আসার মধ্যেই ছিল। এরপর ২০১০ সালে যখন তাদের পরবর্তী শিশুর জন্ম হয় তখন বিভিন্ন পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনিও বিরল ‘আই-সেল’ রোগে আক্রান্ত।

তৃতীয়বারের মত সন্তান ধারণের আগে রুবা লিডসের একজন মুসলিম পীর মুফতি যুবায়ের বাটের কাছে জান পরামর্শ নিতে। জানতে চান , ধর্মীয়ভাবে এমন কি করা যেতে পারে যাতে করে তার গর্ভাবস্থায় আই-সেল সমস্যা থাকলেও তা থেকে রক্ষা করবে তাকে? তিনি তাকে বলেন এমন ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে কিন্তু তাকে(রুবা) আরও সতর্ক হতে হবে।

ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, ‘আপনার যদি যেকোনো অবস্থাতেই বাচ্চা মারা যায় অথবা সে যদি দ্রুত মারা নাও যায়, তবু সে অসুস্থ থাকবে। যথেষ্ট কারণ আছে তার ভেতরে আত্মা প্রবেশের আগে তাকে শেষ করে দিতে হবে।’

রুবা সিদ্ধান্ত নেয় যে সে গর্ভপাত ঘটাবে না। ২০১৫ সালে সে যখন তৃতীয় সন্তানে ইনারাকে গর্ভে ধারণ করে, তখন সে মেডিকেল স্ক্যান নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য চিকিৎসকদের অনুরোধ উপেক্ষা করে। তার ভাষায়, ‘আমি স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার মতো করে বিষয়টিকে দেখাতে চেয়েছি। আমার মাথার ভেতর কোনো সন্দেহ ঢুকতে দিতে চাইনি। আমি অ্যাবরশন করাতে চাইছিলাম না, তাই আমি প্রেগন্যান্সিকে এনজয় করতে চাইছিলাম।’

‘আমি আমার স্বামীকে বলেছিলাম এই শিশুটিও অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি আছে। সে বলে, বেশ। আমার মনে হয় সে বিষয়ে সন্দেহ আছে- আমি জানতাম খারাপ যা কিছু ঘটবে তা আমাদের দুজনের জন্যই সমান। আমি সত্যিই খুশি হয়েছিলাম যে আমি একটি সন্তান পেয়েছি কিন্তু যখন তাকে দেখলাম আমরা যেন কিছুটা বুঝতে পারি। আমি দুঃখিত এবং হতাশ হয়ে গেলাম, আমরা একটা সুস্থ বাচ্চা আশা করেছিলাম। আমি জানতাম না কতটা কষ্টের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হবে, কিন্তু আমার স্বামী খুশি ছিল।’

প্রায় এক বছর আগে ইনারা মারা গেল, ২ বছর বয়সে। গত ডিসেম্বরে চেস্ট ইনফেকশনের কারণে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে দ্রুত তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। রুবার ভাষায়, ‘নিউইয়র্কের চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে শতভাগ চেষ্টা করেছেন। আমি আশা নিয়ে থাকলেও দেখতে পাচ্ছিলাম তার কত কষ্ট। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন রাখা হয়েছিল। বেশিরভাগ সময় আমি তাকে আমার হাতে ধরে রাখতাম।, তারপর তার পাশে শুয়ে থাকতাম। আমার স্বামী বুঝে গিয়েছিল যে সে তার জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটুকু নিচ্ছিল।’

৬টি মিসক্যারেজ এবং ৩টি শিশু মৃত্যুর পর শোকে হতবিহবল হয়ে পড়েন রুবা। ইনারার মৃত্যুর শেষদিকে আবারও গর্ভবতী ছিলেন কিন্তু সেটাও তিনি বুঝতে পারেননি। তিনি জানান ইনারার মৃত্যুর পর তার বাচ্চাদের দুর্ভাগ্য এবং কাজিনকে বিয়ের বিষয়টির মধ্যে একটা যোগসূত্র খুঁজে পান রুবা।

আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

২০১৩ সালে চিকিৎসা বিষয়ক জার্নাল ল্যাঞ্চেট একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে বলা হয়, ব্র্যাডফোর্ডে জন্ম নেয়া ৬৩% পাকিস্তানি মায়েদের কাজিন অর্থাৎ চাচাতো-মামাতো-খালাতো ভাইদের মত নিকটাত্মীয়দের সাথে বিয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ হতে দেখা যায় এবং তাদের জন্মগত বৈকল্য নিয়ে শিশু জন্মদানের ঝুঁকি দ্বিগুণ। জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়া শিশু বিশেষ করে হার্টের কিংবা নার্ভের সমস্যা নিয়ে জন্ম হার রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে এখনো অল্প কিন্তু তা ৩% থেকে বেড়ে ৬% হয়েছে।

ইনারার মৃত্যুর পর ব্রিটেনে নিজেদের আত্মীয়রা রুবা এবং সাকিবকে সুস্থ সন্তান পাওয়ার জন্য একে অপরের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদের পথ বেছে নেয়ার উপদেশ দিতে থাকেন। তাদের যুক্তি ছিল, এর মাধ্যমে দুজনের পুনরায় বিয়ে করার এবং অন্য কারো সাথে সংসার করে সুস্থ শিশু জন্মদানের সুযোগ হবে।

কিন্তু রুবা বলেন, ‘আমার স্বামীর বক্তব্য ছিল সৃষ্টিকর্তা যদি সন্তান দিতে চান তাহলে তোমার মাধ্যমেই দিতে পারবেন। তিনি তোমার মাধ্যমে আমাকে বাচ্চা দিয়েছিলেন, তিনিই তোমার মাধ্যমে সুস্থ বাচ্চা দিতে পারবেন। না আমি আবার বিয়ে করছি, না তুমি।’

যদিও ২০০৭ সালে রুবা বিয়ে করতে অনিচ্ছুক থাকলেও সেই বিয়ের ১০ বছর পরে এসে তিনি বিচ্ছিন্ন হতে চান না, ‘বাচ্চার জন্য স্বজনরা আমাদের আপোষে বিচ্ছিন্ন করতে চায়। কিন্তু তার সাথে সুস্থ সন্তান হলে সেই অনুভূতি আর অন্য আরেকজনের সাথে বিয়ে করে বাচ্চা হলে কি একই অনুভূতি হবে? সন্তান হয়তো পাব, কিন্তু সুখী বিবাহিত জীবন নয়।’

এখন তাদের সামনে একটাই সম্ভাবনা-আইভিএফ। এটার মাধ্যমে চিকিৎসকরা ভ্রূণের অবস্থা পরীক্ষা করতে পারবেন, এতে তারা আই-সেল ডিজিজকে রিজেক্ট করে রুবার পেটে স্বাস্থ্যকর ভ্রূণ স্থাপন করতে পারবেন। রুবা যদিও বলেন, তার স্বামী সাকিব এই বিষয়টিতে বিশ্বাসী নন। তিনি ভরসা রাখতে চান সৃষ্টিকর্তার ওপরে। তবে অপেক্ষা করে সময় নষ্ট করতে চাননা রুবা।

রুবা জানেন না সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে। এই দম্পতির করুণ কাহিনী পরিবারের মধ্যে অন্য অনেকের কাজিন ম্যারিজ বা রক্তের সম্পর্কের নিকটাত্মীয়র মাঝে বিয়ের বিষয়ে অনীহা তৈরি করেছে এমনকি রুবার নিজের ভাই সম্প্রতি এ ধরনের বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।