জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বদলে দেয় নারীর শরীর

অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধ করার জন্য অনেক নারী জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল গ্রহণ করেন। মুখে খাওয়া হয় বলে এর ব্যবহার বিধি বেশ সহজ। এসব পিল বাজারজাতকরণকারী কোম্পানিগুলো মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিনিয়তই সৃষ্টিশীল সব বিজ্ঞাপন তৈরি করে চলেছে। কিন্তু এই ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিলের যে মারাত্মক সব ক্ষতিকর দিক রয়েছে সেগুলো বেশ কৌশলেই এড়িয়ে যায় কোম্পানিগুলো।

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

দীর্ঘদিন এসব পিল ব্যবহারে অভ্যস্ত নারী মাত্রই দেখতে পান তাদের শরীর আগের চেয়ে মুটিয়ে যাচ্ছে। শরীরের মেদ বাড়িয়ে শরীরকে ভারী ও অসাড় করে তোলে এই পিল। গবেষকরা অবশ্য পিল খাওয়ার জন্য ওজন বাড়ার সরাসরি কোনো প্রমাণ নাকি খুঁজে পাননি। তবে তারা দেখতে পেয়েছেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলে বদলে যেতে পারে নারীদের শরীরের গঠন। তাদের মতে, শরীরের চর্বির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এবং পেশির কম বৃদ্ধির কারণেই বদলে যায় শরীরের গঠন।

ওয়েসট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন নামক হরমোন থেকে তৈরি হয় জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং গবেষণা সহকারী মারিয়া গ্যালো বলেন, সব ওষুধেরই একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। সব মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রতিক্রিয়া এক রকম হয় না। এমনকি টিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ ওষুধেরও অনেক সময় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলের কারণে নারীদের শরীরের গঠন পরিবর্তন হওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মারিয়া গ্যালো বলেন, এর পেছনে তিনটি বড় কারণ রয়েছে। পিলের কারণে নারীদের পেশি, ফ্লুইড ধারণ এবং চর্বির ওপর প্রভাব পড়ে। যেসব নারী নিয়মিত পিলের ওপর নির্ভরশীল অন্যদের থেকে তুলনামূলকভাবে তাদের পেশি শতকরা ৪০ ভাগ কম বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে তাদের রক্তে খুবই কম মাত্রার ডিএইচইএ থাকে।

গবেষণায় যুক্ত অধ্যাপক রেইচম্যান বলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণকারী পিল ব্যবহারের কারণে শরীরে বিশেষ এক ধরনের হরমোন বেড়ে যায়। আর এই হরমোনের প্রভাবে স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে কম মাত্রায় বৃদ্ধি পায় পেশি। অন্যদিকে ঠিকই বাড়তে থাকে শরীরের চর্বি। পিল গ্রহণ না করা নারীদের তুলনায় পিল গ্রহণকারী নারীদের শরীরে পেশি এবং চর্বির মধ্যে তারতম্য দেখা দেয়। এর ফলে স্বাভাবিক নারীদের তুলনায় তাদের শরীরের গঠনে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। তবে এই পার্থক্য দুই এক মাসে ধরা পড়ে না। দীর্ঘ কয়েক বছরের শরীরের গঠন পর্যালোচনা করলে তা স্পষ্ট হয়।

১১৯৯ টাকার কিস্তিতে বিনা সুদে নতুন প্রাইভেট কার

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হলেও গাড়ি এখনো নিম্ন-মধ্যবিত্তের ক্রয়সীমার বাইরে। নতুন গাড়ি কেনার জন্য যে পরিমান নগদ অর্থের প্রয়োজন, সেই পরিমান অর্থ অনেক পরিবারের কর্তাদের জন্য সংগ্রহ করা কঠিন। নিম্নমধ্যবিত্তের গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ করতে এগিয়ে এলো পিএইচপি অটোমোবাইল লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বাজারে নিয়ে এলো ২০১৮ মডেলের নতুন একটি গাড়ি।

গাড়িটির মডেল প্রোটন সাগা ২০১৮। প্রতিদিন মাত্র ১১৯৯ টাকা কিস্তি পরিশোধ করে যে কেউ হতে পারেন এই গাড়িটির গর্বিত মালিক। জাপানের স্বনামধন্য গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিতশুবিশির সঙ্গে মালয়েশিয়ার অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রোটন যৌথভাবে এই গাড়িটি নির্মাণ করেছে।

প্রোটন সাগা ২০১৮ গাড়িতে রয়েছে ৪ সিলিন্ডার বিশিষ্ট ১৩৩২ সিসির ভিভিটি ইঞ্জিন, ৫ গিয়ারের সিভিটি (কন্টিনিউয়াসলি ভেরিয়েবল ট্রান্সমিশন) অটোমেটিক ট্রান্সমিশন গিয়ারবক্স, মাল্টি পয়েন্ট ইনজেকশন ফুয়েল সিস্টেম, ইবিডি এবং ব্রেকিং এর জন্য এবিএস রয়েছে।

গাড়িটির বোর এবং স্ট্রোক যথাক্রমে ৭৬ * ৭৩.৪। গাড়িটির সর্বোচ্চ অর্শ্ব শক্তি ৫৭৫০ আর পি এমে ৯৪ এইচপি। তৃতীয় প্রজন্মের এই গাড়িটি প্রতি লিটার তেলে ১৫ কিলোমিটার পাড়ি দিতে সক্ষম। সিটি রাইডে ১২ কিলোমিটারের কম বেশি হতে পারে। এই গাড়িটিতে ১৫ ইঞ্চি অ্যালয় হুইল ব্যবহার করা হয়েছে।

গাড়িটির রিয়ার ভিউ মিররে ব্যাক ক্যামেরা রয়েছে। মাল্টিমিডিয়া প্লেয়ারে রয়েছে এমপিথ্রি, এফএম, ব্লুটুথ এবং ইউএসবি কানেকটিভিটি।মাল্টিমিডিয়া স্টিয়ারিং কন্ট্রোলের মাধ্যমে গাড়িটির মিউজিক সিস্টেম কন্ট্রোলসহ ফোন রিসিভ করার অপশন রয়েছে। গাড়িটিতে হাইড্রলিক পাওয়ার স্টিয়ারিং ব্যবহার করা হয়েছে।

সাগা প্রিমিয়ামে রয়েছে দুইটি ইউএসবি চার্জার পোর্ট যা সহজেই মোবাইল চার্জ দেয়া যাবে। গাড়িটির পেছনের সিটে চিলড্রেন সিট যোগ করার অপশন রয়েছে। ২০১৮ মডেলের এই গাড়ির বুট স্পেস ৪২০ লিটার। চালক এবং প্রথম সিটের যাত্রীর জন্য এতে দুইটি এয়ারবেগ রয়েছে।

গাড়িটিতে ট্রাকশন কন্ট্রোল এবং হিল এসিস্ট অপশন রয়েছে যা দিয়ে পাহাড়ে ভ্রমণ করা যাবে নিশ্চিন্তে। সাগা প্রিমিয়াম ২০১৮ এর ওজন ১৪৮৫ কেজি। ৪৩৩১ মিলিমিটার (মি.মি.) দৈর্ঘ্য, ১৬৮৯ মিমি প্রস্থ এবং ১৪৯১ মিলিমিটার উচ্চতার এই গাড়িটির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৫০ মিলিমিটার।

 

পিএইচপি অটোমোবাইল লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা এস এম শাহিনুর রহমান ‘আমরা গাড়ি কেনার প্রক্রিয়াকে সহজ করেছি। মধ্যবিত্তের ক্রয় সীমার নাগালে মাত্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট করে সহজেই এই গাড়িটি কেনা যাবে। দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক যেকোন কিস্তিতে গাড়িটির বাকি মূল্য ৩ বছরে বিনা সুদে পরিশোধের সুযোগ থাকছে।’

তিনি আরো বলেন, প্রোটন সাগা প্রিমিয়াম ২০১৮ মডেলের গাড়িটি কিনলে ক্রেতারা পাঁচটি ফ্রি সার্ভিস পাচ্ছেন। গাড়িটিতে ৩০ হাজার কিলোমিটার বা ৩ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা রয়েছে। চট্টগ্রামে নিজস্ব সার্ভিস সেন্টার এবং সারা দেশে রহিম আফরোজের মাধ্যমে ক্রেতাদের গাড়ির বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করা হবে।

প্রোটন সাগা প্রিমিয়ামের টার্নিং রেডিয়াস ৫.১ মিটার। যার কারণে স্বল্প জায়গাতে সহজেই গাড়িটি ঘোরানো যাবে। গাড়িটির সামনে ডিস্ক ব্রেক এবং পিছনে ড্রাম ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে। পুশ স্টার্টসহ গাড়িটির বেশ কিছু আকর্ষণীয় ফিচার রয়েছে। এতে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, হ্যালোজেন হেড ল্যাম্প, সামনে এবং পিছনে ফগ ল্যাম্প, সেন্সর, ৬টি বোতল এবং কাপ হোল্ডার, ৪টি স্পিকারসহ পিছনের সিটকে ফোল্ড করে মালামাল নেয়ার সুবিধা রয়েছে।

প্রতিটি গাড়ির সীমাবদ্ধতা থাকে। সে হিসেবে নতুন এই ব্র্যান্ড নিউ গাড়িটির সামনে এবং পিছনে হ্যান্ডরেস্ট নেই। গাড়িটির লেগরুম প্রশস্ত থাকলেও হেডরুম অতটা আরামদায়ক নয়। নতুন গাড়িগুলোতে এএমটি গিয়ার সিস্টেম নেই।

সিট কভারে ফেব্রিক্স ব্যবহার করা হয়েছে। ডিসপ্লে বোর্ডে গাড়ি সম্পর্কিত সব ধরণের তথ্য প্রদর্শন করে না। গাড়িটির মাল্টিমিডিয়া অংশে কোন ডিভিডি প্লেয়ার বা ডিসপ্লে সংযোজিত নেই।

গাড়িটির বাজার মূল্য ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সহজ কিস্তিতে গাড়ি কেনার অফারে কেমন সাড়া পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আক্তার পারভেজ বলেন, মধ্যবিত্তদের কথা চিন্তা করে আমরা এই গাড়িটি বাংলাদেশের বাজারজাত করেছি। পিএইচপি অটোমোবাইলস লিমিটেড বাংলাদেশে সিকেডি খুলেছে।

এখন দেশেই বিশ্বমানের গাড়িগুলো এসেম্বল করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ গাড়ি শিল্পে নিজেদের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো। প্রোটন সাগা প্রিমিয়াম ২০১৮ ক্রেতাদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।

শুধু চট্টগ্রামে আমরা ৩৫ টিরও বেশি ইউনিট বিক্রি করেছি। প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গাড়িটি সম্পর্কে আমরা প্রচুর জানার আগ্রহ দেখছি। আশা করা যায়, ব্র্যান্ড নিউ এই গাড়িটি গ্রাহকদের মধ্যে সারা ফেলবে।

বুকটা কেঁপে উঠলো ঘটনাটি পড়ে। হযরত ফাতিমা (রাঃ) এর ইন্তেকাল (সম্পূর্ণ ঘটনা)

হযরত আলী রাঃ,ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে গেছেন ৷ এদিকে হযরত ফাতিমা রাঃআঃ,গায়ে অত্যান্ত জ্বর অবস্থায়৷ ঘরের সমস্ত কাজ, শেষ করেছেন ৷আলী রাঃ, মসজীদ থেকে এসে দেখে,ফাতিমা কাঁদতেছেন, আলী (রাঃ),প্রশ্ন করলেন,ও ফাতিমা তুমি কাঁদ কেন? ফাতিমা কোন উত্তর দিলেন না৷ ফাতিমা আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন, আলী রাঃ কয়েকবার প্রশ্ন করার পরে, ফাতিমা রাঃ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ও আলী,,,,,আমি স্বপ্নের মধ্যে দেখতেছি,আমার আব্বাজান,

হযরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্ সাঃ আমার ঘরের মধ্যে ঢুকে কি যেন তালাশ করতেছেন ঘর থেকে বাহির হওয়ার সময়, আমি পিছন দিক থেকে,আমার আব্বাজান কে ডাক দিলাম৷ ও আব্বাজান আপনি কি তালাশ করতেছেন? আব্বাজান মুহাম্মাদুর রা:(সঃ) বলতেছেন, ও আমার ফাতিমা, আমিতো তোমাকে তালাশ করতেছি, তোমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য৷

আরো বললেনঃ ও আমার ফাতিমা,আজকে তো তুমি রোজা রাখবা ৷ সাহরী করবা আলীর দস্তরখানায়, আর ইফতার করবা আমি আব্বাজানের দস্তরখানায় ৷৷৷ আলী (রাঃ) এই স্বপ্ন শোনার পর, দু’জনের বুঝতে বাকী থাকলোনা, যে ফাতিমা আজকেই ইন্তেকাল করবেন৷ দুনো জন আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন৷ এই সময়ের মধ্যে হযরত হাসান হুসাইন (রাঃ) এসে জিজ্ঞাসা করতেছেন, ও আব্বাজান ও আম্মাজান আপনারা দু জন কাঁদেন কেন?

ফাতিমার রাঃ এর একটা অভ্যাস ছিল, যখন হাসান হুসাইন রাঃ কোন কাজে বিরক্তনকরতেন, তখন দু জনকে নানাজান এর কবরের কাছে যেতে বলতেন। আজকে ও ফাতিমা বলেন,তোমরা দুনোভাই এখন নানার কবরে চলে যাও, কবরের নিকট যাওয়ার সাথে সাথে,কবর থেকে আওয়াজ আসলো,ও আমার আদরের নাতীরা, এই মূহুর্তে তোমরা আমার কাছে কেন আসছো, আমার কাছে তো সব সময় আসতে পারবা, এখন যাও, যেয়ে মায়ের চেহারার দিকে তাকায়ে থাক, আজকের পরে তোমাদের মাকে আর পাবেনা৷

এই কথা শোনার পরে,দুভাই কাঁদতেছে আর দৌড়াতে দৌড়াতে আম্মার নিকট চলে গেলেন। যেয়ে আম্মাকে বললেন যে, তোমরা দুনোজন কেন কাঁদতেছ বুঝেছি, নানাজান আমাদেরকে বলে দিয়েছেন, আজকের দিনটা তোমার জন্য শেষ দিন, নানাজান তোমার চেহারার দিকে তাঁকায়ে থাকার জন্য আমাদের কে বলেছেন৷ বিকেলের দিকে হজরত ফাতিমা (রাঃ) এর শরীর বেশি খারাপ হলো। তাকে বিছানাতে শোয়ানো হলো। ফাতিমা রাঃ মৃত্যুর পূর্বক্ষনে আলী রাঃ কে,তিনটি কথা বলেন ৷

(০১) ও আলী যেদিন থেকে আমি আপনার ঘরে এসেছি, ঐ দিন থেকে নিয়ে, আজ পর্যন্ত আপনাকে আমি অনেক কষ্টট দিয়েছি,আলী আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন, তাহলে কিয়ামতের ময়দানে, আমি সন্তানের কারনে, (আমি মেয়ের কারনে) আমার আব্বাজান অনেক লজ্জীত হবেন৷ বলেন আপনি আমাকে ক্ষমা করলেন কি না,আলী রাঃ বলেন ও ফাতিমা, তুমি এসব কি বলতেছো,

আমি আলী তো তোমার যোগ্য ছিলাম না, তোমার আব্বাজান দয়া করে মেহেরবানী করে তোমাকে আমার,,, কাছে বিয়ে দিয়েছেন,বিয়ের দিন থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত, আমি আলী তোমাকে কোনদিন ঠিকমত দুইবেলা খানা খাওয়াতে পারিনাই, ও ফাতিমা তুমি বল, আমাকে ক্ষমা করছো কি না, তুমি যদি আমাকে ক্ষমা না কর, তাহলে আমাকে ও কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে ৷

(০২) ও আলী আপনার সাথে আমার দ্বিতীয় কথা হল, আমি মারা যাওয়ার পরে, আপনি বিয়েকরে নিবেন, দুনিয়ার যে কোন মহিলাকে, আপনার পছন্দমত৷ আপনাকে আমি অনুমতি দিলাম৷ আর আমার বাচ্চা দুইটাকে, সপ্তাহে একটা দিন আপনার কোলের মধ্যে করে নিয়ে ঘুমাবেন৷৷ (০৩) ও আলী আপনার সাথে আমার তৃতীয় কথা হল, হাসান হুসাইন যখন বালেগ হবে,তখন দুনো ভাইকে আল্লাহর রাস্তায় সপর্দ করে দিবেন৷ এবং আমাকে রাতের বেলায় দাফন করবেন।

হজরত আলী (রাঃ) বললেনঃ “তুমি নবীর মেয়ে। আমি সবখানে খবর দিয়ে তোমায় দাফন করবো।এতে সমস্যা কি? হজরত ফাতিমা (রাঃ) বললেনঃ “আামার কাফনের কাপড়ের ওপর দিয়ে সবাই অণুমান করবে যে, নবীর মেয়ে কতটুকু লম্বা ছিলো, কতটুকু সাস্হ ছিলো। এতে আমার পর্দা ভঙ্গ হবে।

”হজরত ফাতিমা (রাঃ) এর ইন্তেকালের পর তাঁর লাশের খাটিয়া বহন করার মানুষ মাত্র তিনজন। হজরত আলী (রাঃ) এবং শিশু হাসান ও হোসাইন (রাঃ)আনহুমা ৷ হজরত আলী ভাবছিলেন যে, খাটিয়া বহন করার জন্য মানুষ আরও একজন প্রয়োজন তবেই চার কোনায় চার জন কাঁধে নিতে পারবেন।

এমন সময় হজরত আবু জর গিফারী (রাঃ) এলেন ও খাটিয়ার এক কোনা বহন করলেন। হজরত আলী প্রশ্নকরলেন, ও আবুজর আমি তো কাউকে বলিনাই, আপনি জানলেন কিভাবে ? হজরত আবু জর গিফারী (রাঃ) বলেন,আমি আল্লাহর রসুল (সঃ) কে স্বপ্নে দেখেছি। তিনি বললেন, হে আবু জর! আমার ফাতিমার লাশ বহন করার জন্য লোকের অভাব, তুমি তাড়া তাড়ি চলে যাও।

ও আলী আমাকে তো হুজুরে আকরাম সঃ আসতে বলছেন ৷হযরত ফাতিমা রাঃ আনহা কে যখন কবরে নামাচ্ছেন, তখন হজরত আবু জর গিফারী (রাঃ) কবরের কাছে গিয়ে কবরকে উদ্দেশ্য করে বললেন.. আতাদরী মানিল্লাতী জি’না বিহা ইলায়কা? হে কবর, তুই কি জানিস, আজ তোর মধ্যে কাকে রাখছি?

০১ হা-যিহী সায়্যিদাতু নিসায়ী আহলিল জান্নাতী ফা-তিমাতা রাঃ আনহা,এটা জান্নাতের সকল মহিলাদের সর্দার,ফাতিমা (রাঃ)আনহা৷কবর থেকে কোন আওয়াজ নাই৷ ০২ হা-যিহী উম্মূল হাসনাইন রাঃ আনহুমা ,এটা হযরত হাসান হুসাইন এর আম্মা ৷ এবার ও কবর থেকে কোন আওয়াজ নাই। ০৩ হা-যিহী ঝাউযাতু আলিয়্যিন কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহ্, এটা হযরত আলী রাঃ এর স্ত্রী! এবার ও কবর থেকে কোন আওয়াজ নাই৷ ০৪ হা-যিহী বিনতু রসুলুল্লাহি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম,এটা ,দো জাহানের বাদশাহের মেয়ে। খবরদার কবর বেয়াদবী করবি না

“”আল্লাহ্ তায়ালা কবরের জবান খুলে দিলেন, কবর বললঃ ০১ আনা বায়তুয-যুলমাতি আমি অন্ধকার ঘর৷ ০২ আনা বায়তুদ-দূদাতী,আমি সাপ বিচ্ছ্যুর ঘর৷ ০৩ আনা বায়তুন-নফরাতী,আমি এমন একটি ঘর,যার মধ্যে কোন বংশ পরিচয় কাজ হয়না.. “আমি দো জাহানের বাদশাহের মেয়ে ফাতিমা কে চিনিনা,1 হজরত আলীর স্ত্রীকে চিনিনা, হাসান হোসাইনের আম্মাকে চিনিনা, জান্নাতের মহিলাদের সর্দারনীকে চিনিনা,4 আমি শুধু চিনি- ঈমান আর আমল ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার সকল মোহ থেকে “মহান আল্লাহ “আমাদের হেফাজত করুন।এবং মৃত্যু পরবর্তি কবরের ভয়ানক অবস্থা স্বরণ করে দুনিয়ার প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন।{{{আমিন}}}

যেমন ছিল নবীজির সংসার

স্ত্রীদের সাথে নবীজির ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা , আবেগ এবং নিবিড় ভালোবাসার সম্পর্ক। ওহী নাযিলের পর ভীষণ ভয় পেয়েছিলেন তিনি। সেই ভয় ও আশংকার কথা, সেই আশ্চর্য ঘটনার কথা সর্বপ্রথম খাদিজা রা. কাছেই খুলে বলেন। বিদায় হজ্জের সময় সাহাবাদের নিয়ে পেরেশানীর কথা আয়েশার কাছে খুলে বলেন। তিনি আয়েশাকে বলেন ‘সাহাবাদের বললাম যারা কুরবানীর পশু সঙ্গে আনে নি তারা যেন মাথা মুন্ডন করে হালাল হয়ে যায়, অথচ তারা ইতস্তত করছে! এমন হবে জানলে আমি কুরবানীর পশু আনতাম না এবং আমিও হালাল হয়ে যেতাম!’

১. এমন আরো অনেক উদাহরণ আছে। তিনি তার ব্যাপারগুলো শেয়ার করতেন। স্ত্রীরা কখনো তাঁকে পরামর্শ দিতেন, আর কখনো শুধু পেরেশানীর সঙ্গী হতেন। স্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করা, মতামতকে গুরুত্ব দেয়া : মতুলনামূলকভাবে হাদিসে নারীদের নাকিসাতুল আকল বলা হয়েছে।

এখানে আকল বলতে ইলমকে বুঝানো হয় নি। বুদ্ধি আর জ্ঞান এক বিষয় নয়। আর বুদ্ধির দিক দিয়ে অপরিপক্ক বলার মানেও এই না যে, সকল পুরুষই সকল নারীর চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান। এরমানে এটাও না যে, আপনার স্ত্রীর আপনার চেয়ে বুদ্ধি কম এ কথা মনে করে/বলে আপনি তার কোনো কথাই শুনবেন না!

নবীজির কাছে ওহী আসে, তিনি জ গতের সকল পুরুষের চেয়ে সবদিক দিয়েই শ্রেষ্ঠ! জ্ঞানের অভাব নেই, বুদ্ধির কমতি নেই। তারপরও নবীজি তাঁর প্রিয়তমাদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করেছেন, পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় যখন সাহাবারা বাইতুল্লাহ যেতে না পারার দুঃখে নবীজির মাথা মুন্ডানোর নির্দেশকে গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না, তখন উম্মে সালামা রা. এর পরামর্শ মতে নবীজি নিজের মাথা মুন্ডন করে হালাল হয়ে যান। উম্মে সালমার পরামর্শ কার্যকর প্রমাণিত হয়। সাহাবারাও দেখাদেখি হালাল হয়ে যান।

২. মক্কা বিজয়ের সময়ও আবু সুফিয়ান ইবনে হারিস ও আবদুল্লাহ ইবনে আবু উমাইয়া ক্ষমা চাইতে এলে তাদের ক্ষমা করে দেয়ার জন্য উম্মে সালমা পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, একজন আপনার চাচার ছেলে এবং একজন আপনার ফুফুর ছেলে ও শালা।’ নবীজি পরে তাদের ক্ষমা করে দেন।

৩. স্বামী-স্ত্রীর মতামত সবসময় মিলবে এমনটা সাধারণত না হওয়ারই কথা। নবীজিরও কখনো কখনো স্ত্রীদের সাথে মতের অমিল হতো। নবীজি কখনো কখনো এ নিয়ে রাগও করতেন। কখনো স্ত্রীরা রাগ করতেন। কিন্তু এ কারণে নবীজি স্ত্রীদের সিদ্ধান্ত দেয়ার অধিকার রহিত করে দেন নি। বরং তাদের বক্তব্য বলার অধিকার জারি রেখেছেন, তাদের কথা শুনেছেন, এবং তাদের পরামর্শের ওপর আমল করেছেন।

স্ত্রীর গোপনীয়তা রক্ষা করা : সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো স্ত্রীর গোপনীয়তারতা রক্ষা করা। নবীজি বলেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি সে, যে নিজের স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় অতঃপর সে এর গোপনীয়তা প্রকাশ করে বেড়ায়।

৪. স্ত্রীকে সম্মান করা : নবীজি তাঁর স্ত্রীদের সম্মান করতেন। সাফিয়া রা. আল্লাহর রাসূল বিয়েই করেছিলেন তাঁর সম্মান অক্ষুন্ন রাখার জন্য। সাফিয়া ছিলেন ইহুদিদের সরদারকন্যা।যুদ্ধবন্দী। সাহাবী দাহিয়া কালবি সাফিয়াকে বাদী হিসেবে পছন্দ করলে নবীজি অন্য একজন বাদীর বিনিময়ে তাঁকে মুক্ত করেন। এরপর আল্লাহর রাসূল চাইলেই ইহুদিদের সরদারকন্যাকে বাদী হিসেবে রেখে দিতে পারতেন। সে সময় মানুষের কত শত বাদী থাকতো! কিন্তু নবীজি তাঁকে স্ত্রীর মর্যাদায় সম্মানিত করেন।

৫. একবার নবীজি স্ত্রীদের সাথে হজ্জের সফরে ছিলেন। পথে সাফিয়া রা. এর উট বসে পড়ে। যায়নাব রা. কাছে উট ছিল সবচেয়ে বেশি। নবীজি তাকে বললেন, ‘তোমার বোন সাফিয়াকে একটা উট ধার দাও।’ যায়নাব বললেন, ‘আমি দেবো একজন ইহুদিকে উট ধার?’ এ কথা শুনে নবীজি অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন। মক্কায় পৌঁছেও যায়নাব রা. এর সাথে কথা বলেননি।

মদীনায় ফিরে এসেও না। দু’মাস চলে যায় তিনি তার কাছে আসেননি এবং তার জন্য দিনও ভাগ করেননি। অবশেষে রবিউল আউয়াল মাসে আয়েশার মধ্যস্থতায় নবীজি তার কাছে যান। ইসলামের গ্রহণের পর কাউকে কাফের বলা মহাপাপ। এ কারণে যায়নাব রা. শাস্তির উপযুক্ত হয়েছিলেন।

৬. আরেকবারের কথা। আয়েশা রা. বলেন, ‘একবার আমি রাসূল সা. সাফিয়া সম্পর্কে বললাম যে, সে খাটো। তিনি বললেন ‘তুমি এমন মন্দ কথা বলেছো! তোমার এ কথা সমুদ্রের পানিতে মেশানো হলে সব ময়লা হয়ে যাবে।’

৭. আরেকবার আয়েশা রা. ও হাফসা রা. সাফিয়া রা. কে বললেন, ‘আমরা তোমার চেয়ে মর্যাদার অধিকারী, আমরা নবীজির স্ত্রী, তারউপর তার চাচাতো বোন।’ সাফিয়া রা. এতে ভীষণ দুঃখ পান। নবীজি সা. পরে এটা জেনে তার সম্মানের জায়গা তাঁকে বুঝিয়ে দেন। নবীজি সা. বলেন, ‘তুমি কেন তাদেরকে একথা বললে না যে, তোমরা আমার চেয়ে মর্যাদার অধিকারী হতে পারো না, কারণ আমার স্বামী মুহাম্মাদ, আমার পিতা হারুণ এবং চাচা মূসা।’

৮. স্ত্রীর আবেগ-অনুভূতির প্রতি লক্ষ্য রাখা। নবীজি স্ত্রীদের রাগ-খুশির প্রতি লক্ষ রাখতেন। স্ত্রীর মনকে বুঝার চেষ্টা করা এবং আবেগ-অনুভূতির প্রতি লক্ষ্য রাখাও সংসারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। একবার নবীজি আয়েশাকে বলেন, ‘আয়েশা, আমি বুঝতে পারি, তুমি কখন আমার ওপর খুশি থাকো আর কখন আমার ওপর রেগে থাকো!’

আয়েশা বললেন, ‘কীভাবে বুঝেন?’ নবীজি বললেন, ‘তুমি আমার ওপর খুশি থাকলে বলো ‘মুহাম্মদের রবের কসম’ আর আমার ওপর নারাজ থাকলে বলো ‘ইবরাহীমের রবের কসম!’ আয়েশা বললেন, ঠিক বলেছেন, কিন্তু আল্লাহর শপথ আমি শুধু মুখেই আপনার নাম ত্যাগ করি। অন্তরে সবসময় আপনি থাকেন।

৯. আমাদের পথপ্রদর্শক রাসূল সা. অন্যান্য বিষয়ের মতো তাঁর উম্মাহকে সংসারের প্রতিটি ক্ষেত্রেও সফল ও সুখী হওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। (সূত্র: [১. মুসলিম— ১৩০] [২. বুখারী : ১/৩৮০] [৩. ইবনে হিশাম : ২/৪০০] [৪. মুসলিম : ২৫৯৭] [৫. মুসলিম : ১/৫৬৪, আবু দাউদ : ৩৯৩১] [৬. মুসনাদ : ৬/৩৩৭,৩৩৮। ফতহুর রাব্বানি : ২২/১৪৩] [৭. আবু দাউদ : ৪৮৬৫] [৮. মুসনাদ : ৩/১৩৫,১৩৬। তিরমিযী : ৩৮৯৪] [৯. মুসলিম : ২৪৩৯)

হাতিরঝিল, মধ্যরাত, প্রেম এবং…

ঢাকা। একটি মেগাশহর। মানুষ আর মানুষ। চারদিকে কোলাহল। মুখরিত নগরী। প্রতি মুহূর্তে ঢাকায় পা দিচ্ছে গ্রাম থেকে আসা অসংখ্য মানুষ। তাদের অনেকেই ঢাকায় নতুন। বুড়িগঙ্গা তীরের ৩০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই শহরে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মানুষের চাপ।সড়কে তীব্র যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেমে থাকে গাড়ি। দিনের কর্মব্যস্ত শহর রাতে পাল্টে যায়। দিনে ও রাতে অভিন্ন ঢাকা ধারণ করে ভিন্ন রূপ। শহরের রাতের রূপটি আকৃষ্ট করে অনেককেই। একইভাবে সুবিধাবঞ্চিতদের রাত্রি যাপন কষ্টও দেয়। সবমিলিয়ে এ এক আজব শহর।

রাত ১১টার পর থেকেই রাস্তা ফাঁকা হতে থাকে। থেমে যায় ব্যস্ত নগরীর কোলাহল। কোনো কোনো অলিগলিতে ভর করে নির্জনতা। সড়কজুড়ে তখন লাল, নীল আলোর খেলা। মাথার ওপর দাঁড়িয়ে আলো ছড়িয়ে দেয় লাইটপোস্টগুলো। নিস্তব্ধ রাতে পুলিশ, জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকা পথচারী, বিভিন্ন শপিংমলের নিরাপত্তাকর্মী, সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, ছিনতাইকারী, ভাসমান নারী, কুলি, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশাচালক, মজুর আর বেওয়ারিশ কুকুর মিলেমিশে সৃষ্টি হয় অন্য রকম এক দৃশ্যের।এছাড়াও রাতের শহরে গণমাধ্যমকর্মীদের দেখা মেলে। দূর থেকে গাড়ির হেডলাইটের আলো এসে পড়লে খুব ঠুনকো জিনিসকেও অনেক বড় মনে হয়। যানজটহীন সড়কে বাড়ে যানবাহনগুলোর গতি। কেউ কেউ উচ্চ শব্দে মিউজিক বাজিয়ে ড্রাইভ করেন বিলাসী গাড়ি। যানজটে যারা দিনের বেলাতে বাইরে বের হতে চান না তাদের অনেকেই বেছে নেন রাতের ঢাকা।

উত্তরার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন চৌধুরী জানান, ঢাকায় বাসা হলেও পেশাগত কারণে তিনি থাকেন ঢাকার বাইরে। ঢাকায় এলে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলা বের হন না। আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়াতে গেলে বেছে নেন রাতের সময়কে। রাত ১১টার পরে গাড়ি নিয়ে বের হন। তখন যানজটহীন শহরে অল্প সময়ে শহরের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে যাওয়া যায়।

রাতের শহরে আড্ডা জমে হাতিরঝিলে। সাধারণত রাত ৯টার পর থেকে কর্মজীবীরা ভিড় করেন সেখানে। বিলাসী মোটরসাইকেল, কারযোগে হাতিরঝিলে যান তারা। রামপুরা, মহানগর ও মধুবাগ ব্রিজে দাঁড়িয়ে-বসে আড্ডা। চিপস, বাদাম খান। হাতিরঝিলের রেস্টুরেন্টগুলো রাত ১০টায় বন্ধ। যে কারণে ফেরিওয়ালাদের চা, কফিতেই ভরসা তাদের। কেউ কেউ সিগারেটে সুখটান দেন। কোরাস কণ্ঠে গান করেন। সাধারণত রাতের আড্ডায় বন্ধু-বান্ধবী ও প্রেমিক-প্রেমিকাদের অংশগ্রহণই থাকে বেশি।

শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করেই ভালোবাসার উষ্ণতা ছড়ান তারা। কোনো কোনো জুটি আধো আলো-আঁধারে বসে, দাঁড়িয়ে রেলিংয়ে হাত রেখে গল্প করেন। ব্রিজের নিচের ঝিলের জলে তাকিয়ে কাব্য করেন। ঘটে ব্যতিক্রম ঘটনাও। গত শনিবার রাত সাড়ে ১২টা। মধুবাগ ব্রিজে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন চার জন। দুই তরুণ, দুই তরুণী। তিনটি মোটরসাইকেলে গুলশান থেকে এসেছেন তারা।

প্রেমিকার প্রতি সন্দেহমূলক প্রশ্ন প্রেমিকের, গতকাল দুপুরে কার সঙ্গে লাঞ্চ করেছেন তরুণী। সহকর্মীর সঙ্গে এতো ভাব কেন? ইত্যাদি নানা প্রশ্ন। তরুণী এসব প্রশ্নে ক্ষুব্ধ। অনেকটা চিৎকার করে তার সোজা সাপ্টা জবাব, বিশ্বাস যেখানে নেই, সেখানে ভালোবাসা থাকতে পারে না।

আশেপাশের অনেকের দৃষ্টি তখন এই জুটির দিকে। প্রেমিক ছেলেটিও রেগে যায়। ঘটায় পাগলামো কাণ্ড। নাইটরাইডার বাইকটির পিকাপ বাড়িয়ে দ্রত চলে যায় বেগুনবাড়ি সংলগ্ন হাতিরঝিলের সড়কে। স্বেচ্ছায় গুলশানগামী একটি গাড়ির মুখোমুখি হয় বাইকটি নিয়ে। গাড়ির ধাক্কায় সড়কের এক পাশে ছিটকে পড়ে। রক্তাক্ত হয়। গাড়ির চালকের সাবধানতার কারণে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা হয়। প্রেমিকাসহ সঙ্গীরা দ্রুত ছুটে যায় তার কাছে। আশেপাশের লোকজন ক্ষুব্ধ হন। পুলিশ ডাকতে উদ্যত হন। এর মধ্যেই দ্রুত এলাকা ছাড়ে তারা।

হাতিরঝিল ঘুরে দেখা গেছে, পুরো এলাকাজুড়েই রয়েছে পুলিশ ও হাতিরঝিলের নিরাপত্তাকর্মীদের টহল। রামপুরা ব্রিজ, রামপুরা ইসলাম টাওয়ার সংলগ্ন প্রবেশপথ, মগবাজার ব্রিজ, হাতিরঝিলের বেগুনবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। সন্দেহ হলেই চেক পোস্টে থামিয়ে চেক করছে পুলিশ। মেগাসিটির ব্যস্ততম এলাকাগুলো যখন জনশূন্য তখনও ব্যস্ততা শেষ হয় না সদরঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও বিমানবন্দর এলাকার। দেশের সবচেয়ে বড় কাঁচামালের হাট কাওরানবাজার, সদরঘাট, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, কমলাপুর, মতিঝিল, ফকিরাপুল, ফার্মগেট, মহাখালী, গাবতলী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগ তখন থাকে সরব।

দিনের চেয়ে রাতেই ব্যস্ততা বেশি কাওরানবাজারে। রাত ১০টার পর থেকেই এখানে আসতে থাকে কাঁচামাল ভরা ট্রাক, পিকআপ। ট্রাক-পিকাপে দখল করে মূল সড়কের একটি লেন। ট্রাক দেখলেই প্রতিযোগিতায় নামেন শ্রমিকরা। ভ্যান নিয়ে দ্রুত ট্রাকের চারপাশ ঘিরে রাখেন। ট্রাক থেকে পণ্য নামালেই টাকা পাবেন তারা। এমনকি পণ্য কেনার জন্য বেপারীরাও আটক করেন ট্রাক। উড়া হাতে শ্রমিকরাও ভিড় করেন বিভিন্ন আড়তে। এরমধ্যেই একদল কিশোর ও নারীরা চালক এবং শ্রমিককে ফাঁকি দিয়ে ট্রাক থেকে নিয়ে যান সবজি। এমনকি চিল ছোবলের মতো মোরগ নিয়ে যেতেও দেখা যায় তাদের। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত আশপাশের রেস্টুরেন্ট ও চা-রুটির দোকানগুলো বেশ ব্যস্ত। তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না সেখানে। কাওরানবাজারের ক্ষুদে ব্যবসায়ী সোহাগ জানান, দিনের তুলনায় রাতে কয়েকগুণ বেশি বিক্রি হয় এখানে।

পাশেই পাঁচ তারকা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও। বিভিন্ন অনুষ্ঠান শেষে এখান থেকে বের হন সাহেব-বিবিগণ। নাচ-গানে অংশ নেয়া সুন্দরীদেরও দেখা মেলে এখানে। তাদের জন্য হোটেলের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা। রাতের শহরে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা থাকে খুব কম। সড়কে নিয়ম-কানুন মানেন না ট্রাকের চালকরা। কাওরানবাজারের ভিড় নীরবেই সহ্য করেন রাতের শহরের যাত্রীরা। ফার্মগেট, পান্থকুঞ্জ, প্রেস ক্লাব মোড়, বিজয় সরণি, মহাখালী, এফডিসি এলাকায় দেখা যায় ভাসমান নিশিকন্যাদের। পুলিশের বাজির আওয়াজ পেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। আবার ফিরে আসেন। এ যেন চোর পুলিশ খেলা। রাতে জমে মাজার পার্টি। ঢাকার মাজারগুলোতে রাতে ভিড় করেন ভক্ত-অনুরাগীরা। প্রতি বৃহস্পতিবারে ওরশ হয় শাহআলী (র.) মাজারে। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষরা অংশ নেন এতে।

শাহবাগ থেকে প্রেস ক্লাব, হাইকোট মাজার, গোলাপশাহ মাজার, মতিঝিল, খিলগাঁও, ফকিরাপুল, কমলাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটপাথে, স্টেশনে, অফিসের বারান্দায় রাত্রি যাপন করেন হাজার হাজার মানুষ। তারা সুবিধাবঞ্চিত। কাঁথা, চটের বস্তা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে থাকেন তারা। এক কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার এই শহরে তাদের কোনো ঘর নেই। পলিথিন বা মশারি দিয়ে নিজেদের ঘরের মতো করে তৈরি করেন অনেকে। জনসংখ্যার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম শহর ও বিশ্বের নবম বৃহত্তম শহর ঢাকা। এই শহরে প্রতি বর্গমাইল এলাকায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ বাস করেন। বৈচিত্র্যময় শহরের বৈচিত্র্যময় মানুষ। সূত্র: মানবজমিন।

হাতিরঝিল, মধ্যরাত, প্রেম এবং…

ঢাকা। একটি মেগাশহর। মানুষ আর মানুষ। চারদিকে কোলাহল। মুখরিত নগরী। প্রতি মুহূর্তে ঢাকায় পা দিচ্ছে গ্রাম থেকে আসা অসংখ্য মানুষ। তাদের অনেকেই ঢাকায় নতুন। বুড়িগঙ্গা তীরের ৩০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই শহরে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মানুষের চাপ।সড়কে তীব্র যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেমে থাকে গাড়ি। দিনের কর্মব্যস্ত শহর রাতে পাল্টে যায়। দিনে ও রাতে অভিন্ন ঢাকা ধারণ করে ভিন্ন রূপ। শহরের রাতের রূপটি আকৃষ্ট করে অনেককেই। একইভাবে সুবিধাবঞ্চিতদের রাত্রি যাপন কষ্টও দেয়। সবমিলিয়ে এ এক আজব শহর।

রাত ১১টার পর থেকেই রাস্তা ফাঁকা হতে থাকে। থেমে যায় ব্যস্ত নগরীর কোলাহল। কোনো কোনো অলিগলিতে ভর করে নির্জনতা। সড়কজুড়ে তখন লাল, নীল আলোর খেলা। মাথার ওপর দাঁড়িয়ে আলো ছড়িয়ে দেয় লাইটপোস্টগুলো। নিস্তব্ধ রাতে পুলিশ, জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকা পথচারী, বিভিন্ন শপিংমলের নিরাপত্তাকর্মী, সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, ছিনতাইকারী, ভাসমান নারী, কুলি, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশাচালক, মজুর আর বেওয়ারিশ কুকুর মিলেমিশে সৃষ্টি হয় অন্য রকম এক দৃশ্যের।

এছাড়াও রাতের শহরে গণমাধ্যমকর্মীদের দেখা মেলে। দূর থেকে গাড়ির হেডলাইটের আলো এসে পড়লে খুব ঠুনকো জিনিসকেও অনেক বড় মনে হয়। যানজটহীন সড়কে বাড়ে যানবাহনগুলোর গতি। কেউ কেউ উচ্চ শব্দে মিউজিক বাজিয়ে ড্রাইভ করেন বিলাসী গাড়ি। যানজটে যারা দিনের বেলাতে বাইরে বের হতে চান না তাদের অনেকেই বেছে নেন রাতের ঢাকা।

উত্তরার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন চৌধুরী জানান, ঢাকায় বাসা হলেও পেশাগত কারণে তিনি থাকেন ঢাকার বাইরে। ঢাকায় এলে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলা বের হন না। আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়াতে গেলে বেছে নেন রাতের সময়কে। রাত ১১টার পরে গাড়ি নিয়ে বের হন। তখন যানজটহীন শহরে অল্প সময়ে শহরের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে যাওয়া যায়।

রাতের শহরে আড্ডা জমে হাতিরঝিলে। সাধারণত রাত ৯টার পর থেকে কর্মজীবীরা ভিড় করেন সেখানে। বিলাসী মোটরসাইকেল, কারযোগে হাতিরঝিলে যান তারা। রামপুরা, মহানগর ও মধুবাগ ব্রিজে দাঁড়িয়ে-বসে আড্ডা। চিপস, বাদাম খান। হাতিরঝিলের রেস্টুরেন্টগুলো রাত ১০টায় বন্ধ। যে কারণে ফেরিওয়ালাদের চা, কফিতেই ভরসা তাদের। কেউ কেউ সিগারেটে সুখটান দেন। কোরাস কণ্ঠে গান করেন। সাধারণত রাতের আড্ডায় বন্ধু-বান্ধবী ও প্রেমিক-প্রেমিকাদের অংশগ্রহণই থাকে বেশি।

শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করেই ভালোবাসার উষ্ণতা ছড়ান তারা। কোনো কোনো জুটি আধো আলো-আঁধারে বসে, দাঁড়িয়ে রেলিংয়ে হাত রেখে গল্প করেন। ব্রিজের নিচের ঝিলের জলে তাকিয়ে কাব্য করেন। ঘটে ব্যতিক্রম ঘটনাও। গত শনিবার রাত সাড়ে ১২টা। মধুবাগ ব্রিজে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন চার জন। দুই তরুণ, দুই তরুণী। তিনটি মোটরসাইকেলে গুলশান থেকে এসেছেন তারা।

প্রেমিকার প্রতি সন্দেহমূলক প্রশ্ন প্রেমিকের, গতকাল দুপুরে কার সঙ্গে লাঞ্চ করেছেন তরুণী। সহকর্মীর সঙ্গে এতো ভাব কেন? ইত্যাদি নানা প্রশ্ন। তরুণী এসব প্রশ্নে ক্ষুব্ধ। অনেকটা চিৎকার করে তার সোজা সাপ্টা জবাব, বিশ্বাস যেখানে নেই, সেখানে ভালোবাসা থাকতে পারে না।

আশেপাশের অনেকের দৃষ্টি তখন এই জুটির দিকে। প্রেমিক ছেলেটিও রেগে যায়। ঘটায় পাগলামো কাণ্ড। নাইটরাইডার বাইকটির পিকাপ বাড়িয়ে দ্রত চলে যায় বেগুনবাড়ি সংলগ্ন হাতিরঝিলের সড়কে। স্বেচ্ছায় গুলশানগামী একটি গাড়ির মুখোমুখি হয় বাইকটি নিয়ে। গাড়ির ধাক্কায় সড়কের এক পাশে ছিটকে পড়ে। রক্তাক্ত হয়। গাড়ির চালকের সাবধানতার কারণে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা হয়। প্রেমিকাসহ সঙ্গীরা দ্রুত ছুটে যায় তার কাছে। আশেপাশের লোকজন ক্ষুব্ধ হন। পুলিশ ডাকতে উদ্যত হন। এর মধ্যেই দ্রুত এলাকা ছাড়ে তারা।

হাতিরঝিল ঘুরে দেখা গেছে, পুরো এলাকাজুড়েই রয়েছে পুলিশ ও হাতিরঝিলের নিরাপত্তাকর্মীদের টহল। রামপুরা ব্রিজ, রামপুরা ইসলাম টাওয়ার সংলগ্ন প্রবেশপথ, মগবাজার ব্রিজ, হাতিরঝিলের বেগুনবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। সন্দেহ হলেই চেক পোস্টে থামিয়ে চেক করছে পুলিশ।

মেগাসিটির ব্যস্ততম এলাকাগুলো যখন জনশূন্য তখনও ব্যস্ততা শেষ হয় না সদরঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও বিমানবন্দর এলাকার। দেশের সবচেয়ে বড় কাঁচামালের হাট কাওরানবাজার, সদরঘাট, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, কমলাপুর, মতিঝিল, ফকিরাপুল, ফার্মগেট, মহাখালী, গাবতলী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগ তখন থাকে সরব।

দিনের চেয়ে রাতেই ব্যস্ততা বেশি কাওরানবাজারে। রাত ১০টার পর থেকেই এখানে আসতে থাকে কাঁচামাল ভরা ট্রাক, পিকআপ। ট্রাক-পিকাপে দখল করে মূল সড়কের একটি লেন। ট্রাক দেখলেই প্রতিযোগিতায় নামেন শ্রমিকরা। ভ্যান নিয়ে দ্রুত ট্রাকের চারপাশ ঘিরে রাখেন। ট্রাক থেকে পণ্য নামালেই টাকা পাবেন তারা।

এমনকি পণ্য কেনার জন্য বেপারীরাও আটক করেন ট্রাক। উড়া হাতে শ্রমিকরাও ভিড় করেন বিভিন্ন আড়তে। এরমধ্যেই একদল কিশোর ও নারীরা চালক এবং শ্রমিককে ফাঁকি দিয়ে ট্রাক থেকে নিয়ে যান সবজি। এমনকি চিল ছোবলের মতো মোরগ নিয়ে যেতেও দেখা যায় তাদের। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত আশপাশের রেস্টুরেন্ট ও চা-রুটির দোকানগুলো বেশ ব্যস্ত। তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না সেখানে। কাওরানবাজারের ক্ষুদে ব্যবসায়ী সোহাগ জানান, দিনের তুলনায় রাতে কয়েকগুণ বেশি বিক্রি হয় এখানে।

পাশেই পাঁচ তারকা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও। বিভিন্ন অনুষ্ঠান শেষে এখান থেকে বের হন সাহেব-বিবিগণ। নাচ-গানে অংশ নেয়া সুন্দরীদেরও দেখা মেলে এখানে। তাদের জন্য হোটেলের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা। রাতের শহরে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা থাকে খুব কম।

সড়কে নিয়ম-কানুন মানেন না ট্রাকের চালকরা। কাওরানবাজারের ভিড় নীরবেই সহ্য করেন রাতের শহরের যাত্রীরা। ফার্মগেট, পান্থকুঞ্জ, প্রেস ক্লাব মোড়, বিজয় সরণি, মহাখালী, এফডিসি এলাকায় দেখা যায় ভাসমান নিশিকন্যাদের। পুলিশের বাজির আওয়াজ পেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। আবার ফিরে আসেন। এ যেন চোর পুলিশ খেলা। রাতে জমে মাজার পার্টি। ঢাকার মাজারগুলোতে রাতে ভিড় করেন ভক্ত-অনুরাগীরা। প্রতি বৃহস্পতিবারে ওরশ হয় শাহআলী (র.) মাজারে। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষরা অংশ নেন এতে।

শাহবাগ থেকে প্রেস ক্লাব, হাইকোট মাজার, গোলাপশাহ মাজার, মতিঝিল, খিলগাঁও, ফকিরাপুল, কমলাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটপাথে, স্টেশনে, অফিসের বারান্দায় রাত্রি যাপন করেন হাজার হাজার মানুষ। তারা সুবিধাবঞ্চিত। কাঁথা, চটের বস্তা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে থাকেন তারা। এক কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার এই শহরে তাদের কোনো ঘর নেই।

পলিথিন বা মশারি দিয়ে নিজেদের ঘরের মতো করে তৈরি করেন অনেকে। জনসংখ্যার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম শহর ও বিশ্বের নবম বৃহত্তম শহর ঢাকা। এই শহরে প্রতি বর্গমাইল এলাকায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ বাস করেন। বৈচিত্র্যময় শহরের বৈচিত্র্যময় মানুষ।

আমি সেই মুসলিম নারীর কথা কখনই ভুলবো না : কানাডা প্রধানমন্ত্রী

কানাডার সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির দায়িত্ব নিয়েছেন লিবারেল পার্টির প্রধান জাস্টিন ট্রুডো। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর দেয়া ভাষণে হিজাবি এক নারীর কথা তুলে ধরেন জাস্টিন।

কানাডার বৈচিত্রের কথা স্মরণ করে মুসলিমদের অধিকার রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন তিনি। জাস্টিন ট্রুডো তার বক্তৃতায় বলেন, এক সভায় এক তরুণী মা তার সন্তানকে নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, তিনি একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিম। মাথায় হিজাব পরা ওই নারী তার শিশু সন্তানকে আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে যে কথাটি বললেন, সেটি আমি কখনই ভুলবো না। ওই হিজাবি নারী বললেন, আমাদের সন্তানের অধিকার রয়েছের তার নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার।

আমি আপনার দলকে ভোট দিচ্ছি এই আশায় যে, তার এ অধিকার আপনারা রক্ষা করবেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ওই নারীসহ কানাডার সব মুসলমান এবং কানাডাবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি জানি কানাডাকে গড়ে তোলার জন্য পৃথিবীর সব প্রান্ত থেকে আসা, সব বিশ্বাসের মানুষদের ভূমিকা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা বৈচিত্রময় দেশ। এই বৈচিত্র ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। তার এমন প্রতিশ্রুতিতে উপস্থিত জনতা তুমুল করতালি দিয়ে তার বক্তব্যকে স্বাগত জানান।

সূরা ইয়াসিনে আল্লাহর ৬ বার্তা

সূরা ইয়াসিন সকল মানুষের প্রতিই পৃথিবীতে আল্লাহর দুটি মু’জিযার প্রতি লক্ষ্য করতে একটি সাধারণ আহবান জানায়। প্রথমটি কুরআন যা আল্লাহর বাণীর ধারক এবং দ্বিতীয়টি সৃষ্টিজগত যা আল্লাহর ক্ষমতার প্রমাণ। সূরা ইয়াসিনে মোট ছয়টি ভাগ রয়েছে:১. ঐশী বাণী এবং অবহেলাকারীদের মনোভাব [১-১২]সূরাটির সূচনা হয়েছে কুরআন নাযিল এবং তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে। আরবরা রাসূলের ধারণার সঙ্গে পরিচিত ছিল না। একারনে কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,

لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّا أُنذِرَ آبَاؤُهُمْ فَهُمْ غَافِلُونَ“যাতে আপনি এমন এক জাতিকে সতর্ক করেন, যাদের পূর্ব পুরুষগণকেও সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা গাফেল।” (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৬)এছাড়া আল্লাহর বাণীর প্রতি অসতর্ক ও অবহেলাকারীদের প্রতিও সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে। وَسَوَاء عَلَيْهِمْ أَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لاَ يُؤْمِنُونَ “আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের পক্ষে দুই-ই সমান; তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।” (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ১০)

২. ইতিহাসের উদ্ধৃতি [১৩-৩০]পরবর্তী ভাগে অতীত এক জাতির প্রতি তিন জন রাসূলের দাওয়াত এবং তাদের একজন সমর্থকের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। বিভিন্ন দিক থেকে এই ঘটনাটি আকর্ষনীয়। প্রথমত কোন স্থান বা জাতির নিকট একত্রে তিনজন রাসূল পাঠানো খুবই বিরল। রাসূলদের নাম এখানে উল্লেখ করা হয়নি এবং তাদের বক্তব্যের বিস্তারিতও এখানে আলোচনা করা হয়নি, তথাপি তাদের একজন সমর্থকের বক্তব্যকে এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

إِذْ أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوا إِنَّا إِلَيْكُم مُّرْسَلُونَ “আমি তাদের নিকট দুজন রসূল প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর ওরা তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। তখন আমি তাদেরকে শক্তিশালী করলাম তৃতীয় একজনের মাধ্যমে। তারা সবাই বলল, আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।” (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ১৪)

وَجَاء مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ “অতঃপর শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা রসূলগণের অনুসরণ কর। (সূরা ইয়াসিন আয়াত: ২০)নিজের জাতির প্রতি তার এত ভালোবাসা ছিল যে, তার জাতি যখন তাকে শহীদ করলো এবং তিনি যখন জান্নাতে প্রবেশ করলেন, তখনও তিনি তার জাতির হেদায়েতের কথা চিন্তা করছিলেন।

৩. চতুর্পাশে দৃষ্টি দান ও আল্লাহর সৃষ্টি অবলোকন [৩১-৪৪]এর পরের ভাগে সূরাটি তার পাঠক ও শ্রোতাদের কাছে দাবি করছে, তোমরা যদি ইতিহাস থেকে কোন শিক্ষাই নিতে না পারো, তবে আল্লাহর এই বিশাল সৃষ্টিজগতের দিকে লক্ষ্য কর। وَآيَةٌ لَّهُمُ الْأَرْضُ الْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَاهَا وَأَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَأْكُلُونَতাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে। (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৩৩) وَآيَةٌ لَّهُمْ اللَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَإِذَا هُم مُّظْلِمُونَতাদের জন্যে এক নিদর্শন রাত্রি, আমি তা থেকে দিনকে অপসারিত করি, তখনই তারা অন্ধকারে থেকে যায়। (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৩৭)

৪. একগুঁয়েমী ও অন্ধত্ব [৪৫-৪৭]ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহবানকে প্রত্যাখ্যানকারী এবং সৃষ্টিজগত নিয়ে ভাবতে ব্যর্থ মানুষকে আল্লাহ এরপরেও আহবান করছেন:وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّقُوا مَا بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ. وَمَا تَأْتِيهِم مِّنْ آيَةٍ مِّنْ آيَاتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা সামনের আযাব ও পেছনের আযাবকে ভয় কর, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়, তখন তারা তা অগ্রাহ্য করে। যখনই তাদের পালনকর্তার নির্দেশাবলীর মধ্যে থেকে কোন নির্দেশ তাদের কাছে আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখে ফিরিয়ে নেয়। (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৪৫-৪৬)

৫. কিয়ামতের দিন অবিশ্বাসীদের অবস্থা [৪৮-৭০]পরবর্তী ভাগে বলা হয়েছে ভবিষ্যতের কথা। কিয়ামতের দিন অবিশ্বাসীদের পরিণাম কি হবে, তা বর্ণনা করা হয়েছে এবং তার জন্য মানুষকে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। هَذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ. اصْلَوْهَا الْيَوْمَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَএই সে জাহান্নাম, যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হতো। তোমাদের কুফরের কারণে আজ এতে প্রবেশ কর। (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৬৩-৬৪) وَلَوْ نَشَاء لَطَمَسْنَا عَلَى أَعْيُنِهِمْ فَاسْتَبَقُوا الصِّرَاطَ فَأَنَّى يُبْصِرُونَ আমি ইচ্ছা করলে তাদের দৃষ্টি শক্তি বিলুপ্ত করে দিতে পারতাম, তখন তারা পথের দিকে দৌড়াতে চাইলে কেমন করে দেখতে পেত! (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৬৬)

৬. সমাপ্তি: আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি অবাধ্যতার মনোভাব [৭১-৮৩]সূরার প্রথম অংশে আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি অবিশ্বাসীদের অবহেলার দিকে দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছে। একইভাবে অন্তরের অপর একটি রোগ সম্পর্কে সূরার শেষ এই অংশে আলোচনা করা হয়েছে যা হল অহংকার ও অবাধ্যতা। এটি মানুষকে অবিশ্বাসের দিকে ধাবিত করে এবং এর ফলে সে আল্লাহর কিতাব ও তার সৃষ্টির নিদর্শন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়।

أَوَلَمْ يَرَ الْإِنسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِن نُّطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُّبِينٌ. وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ قَالَ مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ. قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ
“মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি বীর্য থেকে? অতপর তখনই সে হয়ে গেল প্রকাশ্য বাকবিতন্ডাকারী। সে আমার সম্পর্কে এক অদ্ভূত কথা বর্ণনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে কে জীবিত করবে অস্থিসমূহকে যখন সেগুলো পচে গলে যাবে? বলুন, যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত।” (সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৭৭-৭৯

কেউ মারা গেলে ৩দিন চুলা জ্বালানো নিষেধ, কি বলে ইসলাম

আল্লাহর মনোনিত ও সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম। শান্তির ধর্ম ইসলাম জীবনকে সহজ করেছে, দিয়েছে সবার প্রাপ্য মর্যাদা। তবে ইসলাম ধর্মের মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে আছে কুসংস্কারসহ নানান আজগুবি ধ্যান ধারনা, যেগুলো কখনো ইসলাম সমর্থন করেনা। তেমনি একটি কুসংস্কার হলো পরিবারের কেউ মারা গেলে বাড়িতে রান্না করার জন্য চুলা জ্বালানো যায় না।পরিবারের ক্মেউ মারা গেলে চুলা জ্নবালানো যায় কী-না এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

প্রশ্ন : পরিবারের কেই মারা গেলে পাঁচ দিন বা তিন দিন কি ওই বাড়িতে চুলা ধরানো যায় না? বলা হয় এখানে নাকি আত্মারা আসে।উত্তর : না, এগুলো কুসংস্কার। তিন দিন বা পাঁচ দিন আগুন জ্বালানো যাবে না, চুলা ধরানো যাবে না, আত্মার আগমন হবে ইত্যাদি ইত্যাদি এগুলো আমরা ভিন্ন সংস্কৃতি থেকে পেয়েছি। খুব কাছাকাছি একটা সংস্কৃতি আছে, যেখানে অনেকেই মনে করে থাকেন মানুষ মারা গেলে তার আত্মা আশপাশে ঘোরাফেরা করে। এ ধরনের বক্তব্য আমরা অন্য সংস্কৃতি থেকে নিয়েছি। এটি ইসলামী সংস্কৃতির সঙ্গে সামান্যতম মিল নেই। ইসলাম এটি কোনোভাবেই অনুমোদন দেয়নি।

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

জিতে গেলো পতিতা হেরে গেলো ভালোবাসার সততা

দীর্ঘ নয় বছর প্রেম। প্রচণ্ড ভালোবাসতেন প্রেমিকাকে। বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারেন বিভিন্ন ছেলের সাথে হোটেলে রাত কাটায় তার প্রেমিকা। এরপরেও সব ভুলে বিয়ে করে শুরু করে সংসার।এর কিছুদিন পরে আবার জানতে পারে নতুন কিছু পরকীয়া প্রমিকদের সাথে রাত কাটাচ্ছে তার স্ত্রী। এতকিছু সহ্য না করতে পেরে অবশেষে নিজের জীবন দিয়ে দিলেন।বলছিলাম চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকার মোস্তফা মোরশেদ প্রকাশ আকাশের কথা। পেশায় ছিলেন চিকিৎসক।বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ৪টার দিকে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ডাক্তার মুসতাফা মুরশেদ আকাশ। সেখানে নিজের আত্মহত্যার কথা জানান তিনি।

স্ট্যাটাসে নিজের স্ত্রীর একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা এবং ছবি ও এসএমএসের স্ক্রিন শট পোস্ট করেন তিনি। পোস্টে আত্মহত্যার জন্য নিজের বউকে দায়ী করেন। পাশাপাশি শ্বশুর শাশুড়িকেও দায়ী করেন তিনি।এরপর বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর ৫ টার দিক চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ডি ব্লকের ২ নম্বর রোডের ২০ নম্বরের নিজ বাসায় শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেন তিনি।আকাশ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাংলাবাজার বরকল এলাকার মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে। তিনি এমবিবিএস শেষ করে এফসিপিএস পড়ছিলেন।

নিহতের খালাতো বোন শেখ লিমা থাকেন এই বাসার চার তলায়। তিনি জানান, তিন তলায় থাকতেন আকাশ।ভোর ৫টার দিকে খালা জোবায়দা খানম আকাশ ভাই এর রুমে গিয়ে দেখতে পান তিনি বাথরুমের কাছে মেঝেতে পড়ে রয়েছেন। এ সময় তার অবস্থা ছিলো গুরুতর। বাথরুমে বেশি কিছু সিরিঞ্জ পড়ে থাকতে দেখা যায়।এরপর আমরা তাকে গাড়িতে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নেই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।তিনি জানান, মুস্তফা মুরশেদ আকাশ ডাক্তার ছিলেন। তিনি কোন হাসপাতালে জয়েন্ট করেননি। নগরীর চক বাজারের থ্রি ডক্টরস নামের একটি কোচিং সেন্টারের মালিকদের একজন ছিলেন তিনি। সেখানেই পড়াতেন।

তিনি জানান, ১৮ জানুয়ারি আমার বিয়ে হয়। আমার বিয়ে উপলক্ষে ১৪ জানুয়ারি আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে আসেন ভাবি তানজিলা চৌধুরী হক মিতু। দুই মাস তার বাংলাদেশে থাকার কথা।তিনি পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানান, আকাশ ভাই এর নির্দেশ অমান্য করে রাত ৪টার দিকে ভাবি তার বাবার পাঁচলাইশের বাসায় চলে যান। আকাশ ভাই ভাবিকে বলেছিলেন, তুমি চলে গেলে আমি আত্মহত্যা করবো।স্ত্রীকে নিয়ে আকাশ মানসিক যন্ত্রণায় ‍ভুগছিলেন বলেও জানান তিনি।ফেসবুক শেষের স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘ভালো থেকো আমার ভালোবাসা, তোমার প্রেমিকদের নিয়ে’