সঠিক তথ্য ছাড়া প্রবাসীদের তল্লাশির না করার নির্দেশ

প্রবাসীদের সহায়তার জন্য সার্বক্ষণিক হটলাইন চালু এবং বিমানবন্দর থেকে শহরগামী প্রবাসীদের সঠিক তথ্য ছাড়া তল্লাশির নামে হয়রানী না করার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান পিপিএম।

বুধবার বিকালে সিএমপি সদর দপ্তরে চট্টগ্রাম সমিতি ওমান’র প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

সভায় দেশে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা কথা তুলে ধরে চট্টগ্রাম সমিতি ওমান’র সভাপতি ও এনআরবি-সিআইপি এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন চৌধুরী সিআইপি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসীরা চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নানা তল্লাশী শেষে শহর ঢোকার মুখে প্রায় পুলিশি তল্লাশির মুখে পড়তে হয়। মাঝে মাঝে হয়রানিরও শিকার হন।

সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন কাউকে তল্লাশির ব্যাপারে আপত্তি নেই উল্লেখ করে ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরার পথে গড়পড়তা সকল প্রবাসী এমন পরিস্থিতি যেন পড়তে না হয়, তল্লাশির নামে হয়রানি না হয় সেদিকে নজর রাখার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

বৈঠকে চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় প্রবাসীদের পুলিশি সেবা নিশ্চিতে সহায়তা ডেস্ক চালুরও অনুরোধ জানানো হয়।

রেমিট্যান্সযোদ্ধা খ্যাত প্রবাসীদের সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে এমনকি দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই তারা দেশে এসে কোন ধরণের দুর্ভোগের শিকার না হন সে দিকে সবাইকে সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে।

প্রবাসীদের সব ধরণের সহায়তা দিতে সিএমপি সদর দপ্তরে নগর বিশেষ শাখার তত্বাবধানে একটি সার্বক্ষণিক হটলাইন চালুর ঘোষণা দিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, এই হটলাইনে দেশ বা প্রবাস থেকে যোগাযোগ করে প্রবাসীরা তাদের যে কোন অভিযোগ, সমস্যা জানাতে পারবেন এবং সহায়তা চাইতে পারবেন। মহানগর পুলিশ তা দ্রুত নিরসনে ব্যবস্থা নিবে।

প্রবাস থেকে ফিরে আসা শহরগামী প্রবাসীরা কোন প্রকার হয়রানির শিকার না হয় সেদিক থেকে নগর পুলিশ সচেষ্ট ভূমিকা পালন করবে বলে পুলিশ কমিশনার আশ্বাস দেন এবং সঠিক তথ্য ছাড়া কোন প্রবাসীকে তল্লাশি থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে নির্দেশ দেন।

সভায় সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) আমেনা বেগম, বিপিএম-সেবা, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিএসবি) মো. আব্দুল ওয়ারীশ, স্টাফ অফিসার সহকারী পুলিশ কমিশনার মুজাহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেষ্ঠ্য সাংবাদিক এজাজ মাহমুদ, চট্টগ্রাম সমিতি ওমান’র উপদেষ্টা এম শাহজাহান মিয়া সিআইপি, প্রকৌশলী কেবিএম আবু তাহের চৌধুরী, সহ-সভাপতি প্রকৌশলী আশরাফুর রহমান সিআইপি, সহ-প্রচার সম্পাদক বাবলু চৌধুরী, সহ-আপ্যায়ন সম্পাদক আজিজ মোহাম্মদ, সদস্য মহিম উদ্দিন খান, স্থপতি ইফতেখার মেহেদি, এনআরবি-সিআইপি এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি দুবাই প্রবাসী মো. সেলিম সিআইপি, সুইজারল্যান্ড প্রবাসী নুরুল আজিমসহ সিএমপির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রশংসনীয় কাজের মাধ্যমে অবদান রাখায় বিপিএম-সেবা পদকের জন্য সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের পক্ষ থেকে ফুল ও ওমানী স্মারক দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

অন্য ছেলের সঙ্গে হোটেলে রাত কাটায় স্ত্রী, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ‘হতভাগা’ স্বামীর আত্মহত্যা

চট্টগ্রাম নগরীর নিজ বাসা থেকে মোস্তফা মোরশেদ প্রকাশ আকাশ (৩২) নামে এক চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার দুই নম্বর সড়কের ২০ নম্বরে নিজ বাসা থেকে ওই চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আকাশ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরকল এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে। তিনি এমবিবিএস শেষ করে এফসিপিএস পড়ছিলেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত নায়েক মোহাম্মদ হামিদ বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আকাশকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আকাশ ইনজেকশন পুশ করে নাকি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই।’

স্বজনরা জানিয়েছেন, রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে আত্মহত্যা করেন আকাশ।

এদিকে মৃত্যুর আগে ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি তার স্ত্রী সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের অনৈতিক সম্পর্ক থাকার কথা বলেন। আকাশ তার সেই স্ট্যাটাসে লেখেন-

“আমার সাথে তানজিলা হক চৌধূরী মিতুর ২০০৯ সাল থেকে পরিচয় প্রচন্ড ভালবাসি ওকে । ও নিজেও আমাকে অনেক ভালবাসে আমরা ঘুরে বেড়ায়, প্রেম করে বেড়ায় আমাদের ভালবাসা কম বেশি সবাই জানে। অনেকে বউ পাগলাও ডাকত। ২০১৬ তে আমাদের বিয়ে হয় বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারি কিছুদিন আগে শোভন নামে চুয়েটের ০৮ ব্যচের এক ছেলের সাথে ও হোটেলে রাত কাটায় আর কত কি লজ্জা লাগছে সব লিখতে। ততদিনে সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া শেষ আমাকে যেহেতু চট্রগ্রামের সবাই চিনে তাই বিয়ে কেনসেল করতে পারিনি লজ্জাতে। ওর মোবাইল এ দেখি ভাইবারে দেখতে পাই মাহবুব নামে কুমিল্লা মেডিকেলের ব্যচম্যটের সাথে হোটেলে সেক্সের ছবি শতশত ছবি। আমিতো বেচে থেকেও মৃত হয়ে গেলাম। তারপর ক্ষমা চাইল শবে কদরের রাতে কান্না করে পা ধরে আর কখনো এমন হবেনা। আমিও ক্ষমা করে দিয়ে ১বছর ভালভাবেই সংসার করলাম। তারপর ও দেশের বাইরে আমেরিকা গেল মাঝখানে একবার ঈদ পালন করতে আসল ,সেপ্টেম্বরে ২০১৮ আবার চলে গেল ইউএসএমএলই এর প্রিপারেশন নিচ্ছিল সাথে ফেব্রুয়ারীতে ২০১৯ এ আমার ইউএস এ যাওয়ার কথা। জানুয়ারী ২০১৯ জানতে পারি ও রিগুলার ক্লাবে যাচ্ছে মদ খাচ্চে প্যটেল নামে এক ছেলের সাথে রাত কাটাচ্ছে । আমি বারবার বলছি আমাকে ভাল না লাগলে ছেড়ে দাও কিন্তু চিট করনা মিথ্যা বলনা। আমার ভালবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিল।আমি আর সহ্য করতে পারিনি । আমাদের দেশেতো ভালবাসায় চিটিং এর শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম আর আমি চির শান্তির পথ বেচে নিলাম।তোমাদেরও বলছি কাউকে আর ভাল নালাগলে সুন্দর ভাবে আলাদা হয়ে যাও চিট করনা মিথ্যা বলনা।আমি জানি অনেকে বিশ্বাস করবেনা এত অমায়িক মেয়ে আমিও এসব দেখে ভালবেসেছিলাম।ভিতর বাহির যদি এক হত।সবাই আমার দোষ দিবে সবকিছুর জন্য তাই ব্যখ্যা করলাম।

আমার শাশুড়ী এর জন্য দায়ী এসবের জন্য, মেয়েকে আধুনিক বানাচ্ছে। একটু বেশি বানিয়ে ফেলেছে। উনি চাইলে এখনো সমাধান হত।

ও মা তুমি মাফ করে দিও তোমার স্বপ্ন পূরন করতে পারলামনা।মায়ের ভালবাসার কখনো তুলনা চলেনা। বারবার বলছি ভাল না লাগলে আলাদা হয় যাও চিট করন , মিথ্যা বলনা বিশ্বাস ভাঙ্গিওনা।

হাজার হাজার ছবি আছে আরো খারাপ খারাপ দিলামনা যারা বিলিভ করবে এতেই করবে, না করলে নাই। এই ৯ বছরে বয়ফ্রেনড স্বামী স্ত্রীর মত আবার সাথে সবি করে গেল। ও আমাকে আর কি ভালবাসল? কিসের বিয়ে করল?

আমি শেষ পর‍্যন্ত চাইছি সব চুপ রেখে সমাধান করে অকে নিয়ে থাকতে। আমার শশুড় আর শাশুড়ী কে বারবার বলছি উনারা সমাধান করতে পারত! আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ৯ টা বছর যাকে ১০০% ভালবাসছি, ওকে প্ররোচনা দিছে মইন মিথি নামে দুই ফ্রেন্ড ওর মা বাবা আমাকে মানসিক কষ্ট দিয়ে মারছে।আমাই এই বেইমানি মেনে নিতে পারিনাই।তারপর ও ভুলে আমি সুন্দর সংসার করতে চাইছি আমার শাশুড়ি শশুড় আর বউ নামের কলংক করতে দিলনাআমাকে প্রতি নিয়ত প্রেশার দিয়ে গেছে আমার বউ আমার মার নামে যা তা যা তা বলে গেছে। ।আমাকে ভাল না লাগ্লে ছেড়ে চলে যাইতে বলছি ১০০ বার।আমি বোকা ছিলাম তুমি সুখে থেক।অনেকেকে ওর ফ্যান বিলিভ করবেনা আমিঞ্জানি তবে এটাই সঠিক মরার আগে কেউ মিথ্যা বলেনা আর বাইরে থেকে মানুশের ভিতরের চেহারা বুঝা যায় না। ও সুন্দরী, পড়াই ভাল, গান পাড়ে সত্য কিন্তু ও ভাল অভিনেত্রী ভাল চিটার। যাদের ঈচ্ছা বিলিভ কবে যাদের ঈচ্ছা নাই করবেনা। তবে কাউকে ভালবেসে চিটার গিরি করনা।”

ধারণা করা হচ্ছে, এই স্টাস্টাস দেওয়ার পরই আত্মহত্যা করেন আকাশ।

মুখের গন্ধ দূর করতে পান, সাথে ১০ অসুখ ভালো হবে…..

মুখের গন্ধ দূর করতে পান- পান পাতায় উপস্থিত একাধিক উপাদান নানাবিধ রোগের প্রকোপ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু পান পাতার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা তেমন অবগত নই। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে নানা রোগের চিকিৎসায় এই পাতাটির ব্যবহার করা হয়। আসুন জেনে নেয়া যাক কী কী রোগের চিকিৎসায় এই প্রাকৃতিক উপাদানটি কাজে আসে:

১. নিমেষে মাথা যন্ত্রণা কমিয়ে ফেলে: শুনতে আজব লাগলেও একথার মধ্যে কোনও ভুল নেই যে নিয়মিত পান পাতা খাওয়া শুরু করলে শরীরের ভেতরে “কুলিং প্রপাটির” মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যার প্রভাবে মাথা যন্ত্রণা কমে যেতে শুরু করে।

প্রসঙ্গত, মাথা যন্ত্রণা কমাতে আরেক ভাবেও পান পাতাকে কাজে লাগানো যেতে পারে। কীভাবে? এবার থেকে যখনই মাথা যন্ত্রণা করবে তখনই ১-২ টা পান পাতা নিয়ে কপালে লাগিয়ে ফেলবেন। দেখবেন কষ্ট কমতে সময় লাগবে না।

২. কনস্টিপেশনের মতো রোগ দূরে পালায়: বেশ কিছু গবেষনায় দেখা গেছে পান পাতায় উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে “পি এইচ লেভেল” স্বাভাবিত হতে সময় লাগে না। ফলে কোষ্টকাঠিন্যের মতো রোগের প্রকোপ কমতে শুরু করে।

৩. ব্রণের প্রকোপ কমায়: পান পাতার অন্দরে উপস্থিত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রপাটিজ একদিকে যেমন ব্রণের প্রকোপ কমায় অন্যদিকে স্কিন অ্যালার্জি এবং চুলকানির মতো সমস্যা দূর করতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

এখন প্রশ্ন হল, ত্বকের পরিচর্যায় কীভাবে কাজে লাগাতে হবে পান পাতাকে? এক্ষেত্রে কয়েকটি পান পাতা নিয়ে প্রথমে ভাল করে বেটে নিতে হবে। তারপর অল্প পরিমাণ হলুদ, পান পাতার সঙ্গে মিশিয়ে সারা মুখে ভাল করে লাগিয়ে কম করে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা।

৪. ওজন হ্রাসে সাহায্য করে: যে কোনও অনুষ্টান বাড়িতে মহাভোজের পর পান পরিবেশন করার রেওয়াজ রয়েছে কেন জানেন? কারণ পান পাতায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা আমাদের বিপাক প্রক্রিয়াকে জোরদার করে।

সেই সঙ্গে হজমে সহায়ক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে দিয়ে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। এখানেই শেষ নয়, পান পাতায় উপস্থিত ফাইবার, কনস্টিপেশন দূর করে এবং শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বিকে গলিয়ে দেয়। ফলে একাধারে যেমন ওজন হ্রাস পায়, তেমনি নানাবিধ শারীরিক সমস্যাও কমতে শুরু করে।

৫. ক্ষত সারাতে কাজে দেয়: পান পাতায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এই উপাদানটি যে কোনও ক্ষত সারিয়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে ক্ষতস্থানে প্রথমে অল্প করে পান পাতার রস দিয়ে দিন। তারপর তার উপর কয়েকটি পান পাতা রেখে বেঁধে দিন। এমনভাবে ১-২ দিন থাকলেই দেখবেন ক্ষত একেবারে সেরে গেছে।

৬. অবসাদ কমাতে এবং মন ভাল করতে কাজে আসে: যারা মারাত্মক মানসিক চাপে ভুগছেন তারা আজ থেকেই পান পাতা খাওয়া শুরু করুন। কারণ এতে উপস্থিত বেশ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান নিমেষে মন ভাল করে দেয়। সেই সঙ্গে ডিপ্রেশন কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে রাতের খাবার শেষ করে ১-২ টা পান পাতা চিবোলেই দারুন উপকার পাওয়া যায়।

৭. জয়েন্ট পেইন কমায়: পলিফেনাল নামে এক ধরনের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে পান পাতায়, যা প্রদাহ বা যন্ত্রণা কমাতে দারুন কাজে আসে। সেই কারণেই তো আর্থ্রাইটিস রোগীদের পান পাতার রস লাগানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

৮. মুখের গন্ধ দূর করে: মুখ গহ্বরে উপস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে মুখের বদ গন্ধ দূর করতে পান পাতার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে পান পাতা চিবানোর সময় প্রচুর মাত্রায় স্যালাইভা তৈরি হয়, যা গন্ধ সৃষ্টিকারি ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে। সেই সঙ্গে পি এইচ লেভেলকে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসে। ফলে গন্ধ একেবারে গায়েব হয়ে যায়।

৯. গলা ব্যথা কমায়: অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকার কারণে গলা ব্যথা এবং ঠান্ডা লাগার মতো সমস্যা কমাতে পান পাতা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন পান পাতার সঙ্গে অল্প করে মধু খেলে গলার সংক্রমণও দূর হয়। তাই আবহাওয়া বদলের সময় যারা খুব রোগে ভুগে থাকেন, তারা এমন সময় সঙ্গে পান পাতা রাখতে ভুলবেন না।

১০. বদ হজমের সমস্যা দূর করে: যারা প্রায়শই বদ হজমে ভুগে থাকেন তারা আজ থেকেই পান পাতা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার পাবেন। কারণ এতে রয়েছে গ্যাস্ট্রো প্রটেকটিভ এজেন্ট। সেই সঙ্গে রয়েছে অ্যান্টি-ফ্লটুলেন্ট এবং কার্মিনেটিভ এজেন্ট যা স্যালিভারি জুসের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে।

গ্যাস-অম্বলে ভুগছেন? রোগ সারান এই ঘরোয়া উপায়ে

বাঙালির উঠতে বসতে গ্যাস-অম্বল। সমাধানে মুঠো মুঠো ট্যাবলেট নয়। বদহজম বা গ্যাসের সমস্যায় ঘরোয়া টোটকাই দিতে পারে প্রাথমিক সমাধান। কীভাবে? কখন চিকিত্‍সকের পরামর্শ নেবেন? পরামর্শ দিলেন গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডাঃ সন্দীপ পাল।

সোমা মজুমদার: কারও গলা-বুক জ্বালা, কারও চোঁয়া ঢেকুর, কারও আবার পেট ফাঁপা, গ্যাসের সমস্যা। চটজলদি আরাম পেতে সবার ভরসা অ্যান্টাসিড। একটানা ওষুধ খেয়ে গেলে যে শরীরে অন্য কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, তার তোয়াক্কাই করেন না কেউ কেউ।

তবে কথায় কথায় গ্যাস অম্বলের সমস্যা আর মুঠো মুঠো নিজের মতে ওষুধ খেয়ে তার সমাধান মোটেই ভাল অভ্যাস নয়। রোজকার জীবনধারায় সামান্য পরিবর্তন এবং খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার সংযোজন করলেই নিত্যদিনের এই সমস্যা থেকে স্বস্তি পেতে পারেন। শুধু তাই নয়, সামান্য কিছু নিয়মবিধি মেনে চললে কয়েকদিনের মধ্যেই গ্যাস অম্বলের চিরবিদায়।

পাকস্থলীর গ্যাসট্রিক গ্ল্যান্ডে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণের ফলে অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা হয়। সাধারণত অনেকক্ষণ খালি পেটে খাকলে, অতিরিক্ত চা,কফি পান করলে, মশলাযুক্ত ও ভাজাভুজি খাবার বেশি খেলে, খাওয়ার অনিয়ম হলে, রাতের খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস থাকলে, অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা ইত্যাদি কারণে পেটে গ্যাস হতে পারে। গ্যাস, অম্বলের কারণেই পেট ফুলে ওঠে, ঢেকুর ওঠে, বুক জ্বালা করে ও পেটের অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়।

১. কলায় প্রচুর পটাশিয়াম থাকে। যা প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড। তাই অ্যাসিড রিফ্লাক্সের বিরুদ্ধে এটি প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে। প্রতিদিন একটি করে কলা খেলেই আপনার গ্যাস-অম্বলের সম্ভাবনা কমবে।

২. তুলসীপাতা পাকস্থলিতে শ্লেষ্মার মতো পদার্থ উত্‍পাদন বাড়াতে উদ্দীপনা যোগায়। তুলসীপাতায় শীতলীকরণ এবং বায়ুনাশক উপাদান রয়েছে যা গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির কার্যকারিতা কমাতে সহায়ক। গ্যাসের সমস্যা হলেই ৫-৬টি তুলসীপাতা চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন। অথবা ৩-৪টি তুলসীপাতা সেদ্ধ করে সেই জলে একটু মধু মিশিয়ে খেলে চটজলদি আরাম পাবেন।

৩. দারুচিনিতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড যা হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। আধ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো এক কাপ জলে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। এরপর ঠান্ডা করে পান করুন। প্রতিদিন এভাবে তিনবার দারুচিনি মিশ্রিত জল পান করলেই আরাম পাবেন।

৪. পুদিনা পাতা অ্যাসিড নিঃসরণের গতি কমায় এবং হজম ক্ষমতা বাড়ায়। এই পাতার একটি শীতলীকরণ প্রভাবও আছে যা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সঙ্গে গলা, বুক জ্বালা কমায়। কয়েকটি পুদিনা পাতা একটি পাত্রের জলে নিয়ে ফুটিয়ে সেই জল ছেঁকে ঠান্ডা করে পান করলে উপকার।

৫. তাত্‍ক্ষণিকভাবে অ্যাসিড কমিয়ে স্বস্তি দিতে পারে মৌরি। খাওয়ার পর মৌরি চিবিয়ে খেলে এই উপকার পাওয়া যায়। বদহজম এবং পেট ফাঁপার চিকিত্‍সায়ও এটি বেশ কার্যকর। এক গ্লাস জলে কয়েকটি মৌরি সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে তা পান করলে শরীর ঠান্ডা থাকবে এবং গ্যাস অম্বলের সম্ভাবনাও কমবে।

৬. টক দইয়ে থাকা ক্যালসিয়াম পাকস্থলীতে অ্যাসিড জমা হওয়া প্রতিরোধ করে। এর সঙ্গে গোলমরিচ যোগ করলে আরো ভালো ফল পাওয়া যাবে। টক দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড হজম প্রক্রিয়াকেও শক্তিশালী করে।

৭. লবঙ্গ পাকস্থলীর গ্যাস উত্‍পাদন প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন দুটি লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে উপকার।

৮. ডাবের জল পাকস্থলীতে শ্লেষ্মা উত্‍পাদনে সহায়ক। যা পাকস্থলীতে অতিরিক্ত গ্যাস জমতে দেয় না। ফলে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা দূর হয়।

৯. ঠাণ্ডা দুধ খেলে পাকস্থলির গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড স্থিতিশীল হয়ে আসে। দুধে ক্যালসিয়াম রয়েছে যা পাকস্থলীতে অ্যাসিড তৈরি প্রতিরোধ করে। তাই অ্যাসিডিটির সমস্যা হলেই এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ পান করুন।

১০. এলাচ হজম ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। এটি অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণের সম্ভাবনা দূর করে। গ্যাস অম্বলের সমস্যায় দুটি এলাচ গুঁড়ো করে জলে ফুটিয়ে খেলে উপকার পাবেন।

১১. আদা কুচি করে বিট নুন দিয়ে খেলে গ্যাস,অম্বল রোধে অত্যন্ত ভাল ফল পাওয়া যায়।[ব্রিদ অ্যানালাইজারে ক্যানসারের জীবাণু ধরার চেষ্টায় কেমব্রিজের গবেষকরা] জীবনধারায় পরিবর্তন

১. রাতে খাওয়ার অন্তত এক থেকে দু’ ঘণ্টা পর ঘুমোতে যান। পারলে খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটার অভ্যাস করুন।

২. একেবারে অনেকটা না খেয়ে অল্প পরিমাণে বার বার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৩. প্রতিদিন অন্তত আধ ঘন্টা এক্সারসাইজ, যোগা করুন।

৪. অনেকক্ষণ খালি পেটে থাকবেন না। এতে গ্যাস ও অ্যাসিডিটি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। প্রতি দু’ঘন্টা অন্তর কিছু খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, কারণ- স্থূলতা হজমের সমস্যা হওয়ার একটি বড় কারণ।

৬. সারাদিনে ৩ থেকে ৪ লিটার জল পান করতে হবে। পারলে মাঝে মাঝে ইষত্‍ উষ্ণ জল খেতে পারেন।

৭. বাইরের অতিরিক্ত মশলাযুক্ত কিংবা তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন।

৮. পরিমিত পরিমাণে অ্যালকোহল খান এবং ধূমপান বর্জন করুন।

৯. দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে সবসময় মানসিকভাবে হালকা থাকার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে সারাদিনে নিজের জন্য কিছু সময় রাখুন এবং সেই সময়ে নিজের পছন্দের কাজ করে মন ভাল রাখুন।

বিয়ে না করেই পুত্র সন্তানের মা হলেন শাহরুখের নায়িকা

বিয়ে না করেও যে সন্তানের সুখ পাওয়া যায় তা অনেকবারই প্রমাণ করেছেন বলিউডের সেলিব্রিটিরা৷ তুষার কাপুর, করণ জোহরের মতো সেলিব্রিটিরা কারোর সঙ্গে সম্পর্কে না জড়িয়েও বাবা হয়েছেন৷ এবার সেই পথে হাঁটলেন একতা কাপুরও৷ বিয়ে না করেই পেলেন মাতৃত্বের সুখ৷ অনেকটা থ্যাংকস টু সারোগেসি৷

সারোগাসির মাধ্যমে মা হলেন ডেইলি সোপ ক্যুইন৷ গত ২৭ জানুয়ারি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে তাঁর৷ এমনটাই জানিয়েছে মুম্বই মিরর৷ খবরে প্রকাশ, একতার সন্তান সুস্থ আছে৷ খুব তাড়াতাড়ি সন্তানকে বাড়ি নিয়ে আসবেন তিনি৷ ৪২ বছর বয়সী একতা মা হওয়ার আকাঙ্খার কথা আগেই জানিয়েছিলেন৷ একটি সাক্ষাতকারে জানিয়েছিলেন, তিনি মা হতে চান৷ কিন্তু বিয়ে নয়৷ বিয়ে কবে করবেন সেই নিয়ে বিশেষ ভাবনাও চিন্তা নেই তাঁর৷ কারণ বিয়ে করার সময় নেই একতার কাছে৷ বরং তিনি স্পা যাওয়া বেশি প্রেফার করবেন৷

একতার আগে তাঁর ভাই তুষার কাপুরও সারোগেসির মাধ্যমে বাবা হয়েছিলেন৷ ২০১৬ সালে লক্ষ্য নামে পুত্র সন্তানের সিঙ্গল ফাদার হন তুষার৷ পরে তিনি জানান, বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা দারুণ৷ সেটা শব্দের মাধ্যমে বোধানে সম্ভব নয়৷

ঠিক একই পদ্ধিততে সিঙ্গল ফাদার হন করণ জোহর৷ তিনি এখন যশ ও রুহি নামে যমজ সন্তানের প্রাউড ফাদার৷ একে একে বহু সেলিব্রিটি সারোগেসি পদ্ধতি

৬০০ কোটির সম্পত্তি ফিরিয়ে ‍দিলেন প্রীতি

বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা বরাবরই একটু ভিন্ন ধরণের। অন্যরা শুধু অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও প্রীতির চিন্তাটা একটু ভিন্ন।

প্রীতি একজন সফল ব্যবসায়ীও বটে। সেই সঙ্গে ক্রিকেট তার ভীষণ পছন্দ। বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব দলের মালিকও তিনি।

সেই প্রীতি জিনতা এবার ফিরিয়ে দিলেন ৬০০ টাকার সম্পত্তির অফার।অবশ্য তার পক্ষেই এটি সম্ভব।

প্রীতি এই সম্পত্তি তিনি পেয়েছিলেন দত্তক বাবা শানদার আম্রোলির সূত্রে। বলিউড পরিচালক কামাল আম্রোলির ছেলে শানদার আম্রোলি প্রীতিকে দত্তক নিয়েছিলেন। প্রীতি তার কাছেই বড় হন। মানদারের মৃত্যুতে ৬০০ কোটি টাকার সম্পত্তির অধিকারী হন প্রীতি। কিন্তু সেই সম্পত্তি নিতে না করে দিলেন প্রীতি।

কারণ হিসেবে জানা গেল, নিজের পরিশ্রমের ওপর বেশি ভরসা এই প্রীতির। আর সে কারণেই তিনি আজ সফল ব্যবসায়ী। সে কারণেই খুব অনায়াসেই তিনি ৬০০ কোটির সম্পত্তি পায়ে ঠেলতে পারলেন।

বিনা পয়সার যে খাবারটি যৌ’বন ধরে রাখে ও নতুন চুল গজায়ঃ দেখে নিন কিভাবে খাবেন…

সমস্যা সমাধান ও রোগ নিরাময়ের জন্য আমরা কত কিনা করি। চিকিৎসা করতে গিয়ে বেশ ক্ষতি ডেকে আনি নিজেদের জন্যই। কষ্ট লাঘবে তখন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টা মাথায় থাকে না। বিশেষ করে টাইফয়েড জ্বর, ডায়রিয়া, কলেরার মতো পেটের রোগে অ্যান্টিবায়োটিকও চলে আকছার। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত ওই সব ওষুধগুলির দামও অনেক সময় নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে হয়ে যায়। অথচ আমাদের হাতের কাছেই কিছু ভেষজ গাছ রয়েছে, যেগুলি অত্যন্ত অল্প দামে বা একটু খুঁজলে বিনামূল্যেও পাওয়া যায়, আমরা জানি না। অনেক সময় জেনেও, বিশ্বাস হয় না। তেমনই একটি ভেষজ উদ্ভিদ হল থানকুনি।

থানকুনি আমাদের অতিপরিচিত পাতা। পুকুরপাড় বা জলাশয়ে হামেশাই দেখা মেলে। কথায় বলে, পেট ভালো থাকলে মনও ফুরফুরে থাকে। চিকিত্‍সকরাই বলছেন, থানকুনি পাতার এমন ভেষজ গুণ রয়েছে, মিয়মিত খেতে পারলে, পেটের অসুখে কোনও দিনও ভুগতে হবে না। শরীর-স্বাস্থ্য তো সতেজ থাকেই, ছোট থেকে খাওয়াতে পারলে বুদ্ধিরও বিকাশ হয়। দেখে নেওয়া যাক, যৌবন ধরে রাখতে ও সুস্থ থাকতে থানকুনি পাতার ভেষজ গুণগুলি।
১. পেটের রোগ নির্মূল করতে থানকুনির বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলে যে কোনও পেটের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পেট নিয়ে কোনও দিনও সমস্যায় ভুগতে হয় না। ২. শুধু পেটই নয়, আলসার, এগজিমা, হাঁপানি-সহ নানা চর্মরোগ সেরে যায় থানকুনি পাতা খেলে। ত্বকেও জেল্লা বাড়ে।

৩. থানকুনি পাতায় থাকে Bacoside A ও B। Bacoside B মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে ও রক্ত চলাচল বাড়ায়। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। ৪. থানকুনি স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

৫. মৃতকোষের ফলে চামড়ায় অনেক সময়ই শুষ্ক ছাল ওঠে। রুক্ষ হয়ে যায়। থানকুনি পাতার রস মৃতকোষগুলিকে পুনর্গঠন করে ত্বক মসৃণ করে দেয়। ৬. পুরনো ক্ষত কোনও ওষুধেই না সারলে, থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে তার জল লাগালে সেরে যায়। সদ্য ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালে, ক্ষত নিরাময় হয়ে যায়। ৭. থানকুনি পাতা চুল পড়া আটকে দেয়। এমনকি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। ৮. বয়স বাড়লেও, যৌবন ধরে রেখে দেয় থানকুনি পাতার রস। প্রতিদিন একগ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে, চেহারায় লাবণ্য চলে আসে। আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। ৯. দাঁতের রোগ সারাতেও থানকুনির জুড়ি মেলা ভার। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে বা দাঁতে ব্যথা করলে একটা বড় বাটিতে থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে, তারপর ছেঁকে নিয়ে সেই জল দিয়ে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায় চটজলদি।

একটি ইঁদুর এক চাষীর ঘরে গর্ত করে লুকিয়ে থাকতো। একদিন ইঁদুরটি দেখলো চাষী আর তার স্ত্রী থলে থেকে কিছু একটা জিনিস…..

একটি ইঁদুর এক চাষীর ঘরে গর্ত করে লুকিয়ে থাকতো। একদিন ইঁদুরটি দেখলো চাষী আর তার স্ত্রী থলে থেকে কিছু একটা জিনিস বের করছেন। ইঁদুর ভাবলো থলের ভিতর নিশ্চয়ই কোনো খাবার আছে, তাই সে গুটি গুটি পায়ে এগোলো। এগিয়ে দেখলো সেটা খাওয়ার কিছু নয়, সেটা ছিল একটা ইঁদুর ধরার ফাঁদ। ফাঁদ দেখে ইঁদুর পিছোতে থাকলো। ইঁদুরটি বাড়ির পিছনের এক খোপে থাকা পায়রাকে গিয়ে বলল- জানো আজ বাড়ির মালিক একটা ইঁদুর ধরার ফাঁদ এনেছে।

এটা শুনে পায়রা হাসতে থাকলো আর বলল- তাতে আমার কি? আমি কি ওই ফাঁদে পড়তে যাব না কি? নিরাশ হয়ে ইঁদুরটি মুরগীকে গিয়ে এই কথা বলল। মুরগী ইঁদুরকে হেয় করে বলল- যা ভাই এটা আমার সমস্যা নয়। ইঁদুরটি হাঁপাতে হাঁপাতে মাঠে গিয়ে ছাগলকে শোনালো। ছাগল শুনে হেসে লুটোপুটি অার ঘাস খেতে থাকলো। সেই দিন রাত্রে একটি শব্দ হলো যাতে একটি বিষাক্ত সাপ আটকে গিয়েছিল। অন্ধকারে চাষীর স্ত্রী সাপের লেজকে ইঁদুর ভেবে বের করলো, আর সাপটি তাকে কাঁমড়ে নিল।

অবস্থা খারাপ দেখে চাষীটি ওঝাকে ডাকলো। ওঝা তাকে পায়রার জুস খাওয়ানোর পরামর্শ দিল। **পায়রাটি এখন হাঁড়িতে **। চাষীর স্ত্রীর এই সংবাদ শুনে তার বাড়িতে আত্মীয় সজ্জন এসে হাজির হল। তাদের খাওয়ার বন্দোবস্তের জন্য **মুরগীকে যবাই হল। **মুরগীও এখন হাঁড়িতে। দুইদিন পর চাষীর স্ত্রী মারা গেল। আর তার দোয়া অনুষ্ঠানে **ছাগলটিকে যবাই হল। **ছাগলও হাঁড়িতে চলে গেল।

ইঁদুর দুরে পালিয়ে গিয়েছিল বহুদূরে। **যদি কেউ আপনাকে তার সমস্যার কথা শোনায় আর আপনি ভাবেন যে এটাতো আমার সমস্যা নয়, তবে দাঁড়ান আর একবার ভালো করে চিন্তা করুন। আমরা সবাই বিপদে আছি। সমাজের একটা অংশ, একটি ধাপ-পর্যায়, একজন নাগরিক, যদি বিপদে থাকেন তবে পুরো দেশ বিপদে আছে। নিজের মধ্যে সিমীত না থেকে সামাজিক হোন..আর মানবধর্মের জন্য একত্রিত হোন।

ভরসা করুন আল্লাহর উপর বিয়ের আগে থেকেই মনে মনে চাইতাম, আল্লাহ যদি আমাকে সন্তান দেন, সেটা যেন মেয়ে হয়। কিন্তু সুবাইতা যখন তার মায়ের পেটে আসে, তখন সেই দুআটা আর করতাম না। ভয় লাগতো, যদি আল্লাহ না দেন, খারাপ লাগবে খুব। বরং এভাবে দুয়া করতাম, আল্লাহ সুস্থ সন্তান দিও। ছেলে হোক, মেয়ে হোক, তোমার ফায়সালাতেই রাজি। আল্লাহ মেয়ে দিলেন। সুস্থ হিসেবেই দুনিয়াতে আনলেন।

প্রথমবারের মত উপলব্ধি করলাম, আমার মুখের ভাষা, দুআর শব্দ যিনি শুনেন, তিনি তো মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা ইচ্ছেটাও জানেন। সর্বময় ক্ষমতার অধিকারি আমার রব তার বান্দাকে চোখে পানি চলে আসার মত খুশি করে দিলে তার তো কোন ক্ষতি নেই। দ্বিতীয় বার। প্রথমটা যেহেতু মেয়ে, বাসার সবাই চায় ছেলে হোক। প্রতিবার আলট্রাসোনাগ্রাফির সময় বাচ্চার মা ডক্টরকে জিজ্ঞেস করেন, ছেলে না মেয়ে।

একেকবার একেক কারনে ডক্টর বলেন না। মনে মনে আগেরবারের মতই দু’আ করি, আল্লাহ যা দিবা, আমি খুশি। একবার যা চেয়েছি তাই পেয়েছি, দ্বিতীয়বার আল্লাহর ফায়সালাতেই রাজি থাকি। ডেলিভারির দুইদিন আগে জানতে পারলাম, ছেলে হবে ইন শা আল্লাহ। তখনো বিশ্বাস হচ্ছিল না। দুইদিন পর যখন পুচকাটাকে কোলে নেই, ডক্টর আযান দিতে বলে, অনেকক্ষন মুখ দিয়ে কিছু বের হচ্ছিল না।

কাঁদতে থাকলে মানুষ কি কথা বলতে পারে? বিয়ের আগে ও পরে এরকম শত শত দু’আ করেছি, যার ধারে কাছেও কখনো পাই নি। বরং যা চেয়েছি তার উলটোটাও হয়েছে বহুবার। মুষড়ে পড়েছি, কষ্টও লেগেছে। অভিমান তো হতই। আজ যখন দুই ভাই বোন পাশাপাশি ঘুমাচ্ছিল, শান্ত দু খানা মুখের দিকে তাকিয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করছিলাম, কোনটা বেশি? অপ্রাপ্তির কষ্ট না প্রাপ্তির আনন্দ? উত্তর আসতে দেরী হল না একটুও।

প্রাপ্তির আনন্দ – সে তো তুলনাহীন ভাবে বেশি। ভরসা রাখুন তার ওয়াদার উপর। যিনি আপনার সব প্রার্থনা শোনার পরও আপনার আশা পুরন করছেন না, তিনি নির্দয় নন, পরম দয়ালু। বাঁধ ভাঙ্গা খুশিই হয়তো অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। একটু ধৈর্য ধরলেই যার নাগাল পেয়ে যাবেন আপনি। “নিশ্চয়ই যিনি কাঁদান, তিনিই হাসান।”- সুরা নাজম।

প্রিয় নবী বিদায় হজ্জের ভাষণে যে চারটি কথা বিশেষভাবে মনে রাখতে বলেছেন

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর মাত্র একবার হজ্জ পালন করেছেন। যাকে ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জ বলা হয়।

দশম হিজরিতে হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন ঘোষণা করলেন, তিনি হজ্জ পালন করবেন তখন সারা আরবে এক অভূতপূর্ব সাড়া পড়ে গেল। হাজার হাজার ভক্ত-অনুরক্ত সাহাবায়েকেরাম পবিত্র মক্কায় একত্রিত হতে লাগলেন।
figure>

১০ম হিজরিতে অর্থাৎ ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে আরাফাতের ময়দানে হযরত মুহাম্মাদ (স:) কর্তৃক প্রদত্ত খুৎবা বা ভাষণই বিদায় হজ্জ। হজ্জ্বের দ্বিতীয় দিন আরাফাতের মাঠে অবস্থানকালে অনুচ্চ জাবাল-এ-রাহমাত পাহাড়ের শীর্ষে দাঁড়িয়ে উপস্থিত সমবেত মুসলমানদের উদ্দেশ্যে তিনি এই ভাষণ দিয়েছিলেন।ইসলামের প্রকৃত মূল্যবোধ অনুযায়ী মুসলমানদের করণীয় সম্পর্কে এই ভাষণে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা ছিলো।

বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূল (সা.) যে চারটি কথা বিশেষভাবে মনে রাখতে বলেছেন। এই চারটি কথা হলো:-
১. আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কারও উপাসনা করো না।২. অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করো না।৩. অন্যের ধন-সম্পদ আত্মসাধ অপহরণ করো না।৪. কারো ওপর অত্যাচার করো না।
figure>

অ্যাঙ্গোলায় দ্রুত প্রসার লাভ করছে ইসলাম ধর্ম

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধর্ম হওয়া সত্ত্বেও অ্যাঙ্গোলাতে ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার এ দেশটিতে প্রায় তিন কোটি মানুষ রয়েছে, যাদের ৭৫ শতাংশ খ্রিষ্টান। তাদের অধিকাংশই ক্যাথেলিক খ্রিষ্টান। অন্য দিকে অ্যাঙ্গোলায় মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় আট লাখ বলে জানিয়েছেন সেখানকার মুসলিম কমিউনিটির প্রধান ডেভিড আলবার্তো জা।

আলবার্তো জা আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, যদিও অ্যাঙ্গোলাতে অনেক আগে থেকেই ইসলামের শিকড় প্রোথিত রয়েছে, কিন্তু ইসলাম ধর্ম সেখানে দ্রুত প্রসার লাভ করে ১৯৯০ সালের দিকে পশ্চিম আফ্রিকান দেশ মালি, সেনেগাল ও গিনি থেকে গণহারে অভিবাসনের মাধ্যমে। তিনি বলেন, অ্যাঙ্গোলার ধর্ম জাতির বিশেষ বাস্তবতা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, যার রাজনৈতিক ইতিহাস সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ ও বহু বছরের গৃহযুদ্ধের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।

রাজনৈতিক ও আইনি সংস্কারের গতি এখানে খুবই ধীর। আগের শাসকেরা ইসলাম ধর্ম ইস্যুতে ততটা উদার ছিলেন না। ফলে অ্যাঙ্গোলার মুসলমানেরা আজ অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বর্তমানে এখানে সবচেয়ে বিতর্কিত ইস্যুগুলোর একটি হচ্ছে ধর্মবিষয়ক আইন।

২০০৪ সালে সেখানে যে আইন করা হয়, তাতে বলা হয় যেকোনো ধর্মকে অবশ্যই রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত হতে হবে, এর কমপক্ষে এক লাখ সদস্য থাকতে হবে এবং দেশের দুই-তৃতীয়াংশ জায়গায় তাদের উপস্থিতি থাকতে হবে। এ ছাড়া কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে বৈধ করতে হলে ওই ধর্মের লোকদের কমপক্ষে ৬০ হাজার স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে।

অ্যাঙ্গোলায় বর্তমানে এক হাজার ধর্মীয় সম্প্রদায় রয়েছে, যাদের মধ্যে মাত্র ৮৪টিকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। আলবার্তো জা বলেন, ইসলাম এখন এখানকার বাস্তবতা, যা অস্বীকার করা যায় না। এখন তারা ৬০ হাজার স্বাক্ষর গ্রহণের কর্মসূচি পালন করছেন। তিনি বলেন, আগে এ সংখ্যাটি এক লাখ ছিল। পরে আইন সংশোধন করে তা ৬০ হাজারে নামিয়ে আনা হয়।

অ্যাঙ্গোলার আইনি সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আলবার্তো জা মুসলমানদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী। তিনি বলেন, আমি বলতে চাই, অ্যাঙ্গোলার বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কারের ফলে মুসলমানরা রাষ্ট্র ও সমাজের সাথে আরো ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে পারছে।

অনেক আইনজীবী অবশ্য জানান, ধর্মবিষয়ক আইনে যেসব নীতি পালন করা হচ্ছে, তা ধর্মের স্বাধীনতাকে অনেকটাই সীমাবদ্ধ করে ফেলছে, যা ধর্মীয় ও নৃগোষ্ঠীর অধিকারের পরিপন্থী। তবে আইনি স্বীকৃতির অভাব সত্ত্বেও অ্যাঙ্গোলার মুসলমানরা অনেক দশক ধরেই স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশটিতে এখন ৬০টি মসজিদ রয়েছে।

অ্যাঙ্গোলার ইসলামিক রিলিজিয়াস গাইডেন্স অ্যান্ড কোঅপারেশনের প্রধান মোহাম্মদ সালেহ জাবু বলেন, আমরা স্বাধীনভাবে আমাদের ধর্ম পালন করছি। কিন্তু সরকার এখনো ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি।

এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া উচিত। আমরা আমাদের ধর্মকে বৈধকরণের প্রক্রিয়া চালাচ্ছি। জাবু বলেন, বিচার মন্ত্রণালয় লুয়ান্ডার অ্যাঙ্গোলিয়ান মুসলিমদের সর্বোচ্চ পরিষদকে স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বীকৃতি পাওয়ার পথে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি সহায়তার আহ্বান জানিয়ে জাবু বলেন, অ্যাঙ্গোলান মুসলিমদের শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলামি দেশগুলোর সহায়তা প্রয়োজন।-আনাদোলু

বিখ্যাত আইরিশ গায়িকার ইসলাম গ্রহণ

সুপরিচিত আইরিশ গায়িকা সিনিড ও’কনর ঘোষণা করেছেন যে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন নাম পরিবর্তন করে তিনি নিজের নাম রেখেছেন শুহাদা।

উনিশশো নব্বই সালে রিলিজ করা ‘নাথিং কমপেয়ার্স টু ইউ’ গানটির জন্যে তিনি সবচেয়ে সুপরিচিত। ওই বছরের সবচেয়ে হিট গানের তালিকায় ছিল এই গানটি।
টুইটারে দেয়া বার্তায় তিনি তাকে সাহায্য করার জন্য অন্য মুসলমানদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর এই সিদ্ধান্ত “যেকোনো বুদ্ধিমান ধর্মতত্ববিদের সফরের স্বাভাবিক পরিণতি”।

তিনি নিজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যাতে দেখা যাচ্ছে যে তিনি আজান দিচ্ছেন।বৃহস্পতিবার শেখ ড. উমর আল-কাদরী নামের একজন আইরিশ ইমাম একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায় যে গায়িকা সিনিড ও’কনর ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস স্থাপনের জন্য কলেমা পাঠ করছেন। টুইটার বার্তায় আইরিশ গায়িকা আরও বলেন, সব ধর্মশাস্ত্রের অধ্যয়ন শেষ পর্যন্ত ইসলামের দিকেই ধাবিত হয়।

তিনি বলেন যে তিনি একজন মুসলমান হতে পেরে গর্বিত।তবে ধর্ম নিয়ে ও’কনর এই প্রথমবারের মত কথা বলেছেন, তা নয়। ১৯৯২ সালে তিনি একটি মার্কিন টেলিভিশনের এক লাইভ অনুষ্ঠানে পোপের ছবি ছিঁড়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।

সাত বছর পর মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি চার্চ তাকে যাজক হিসেবে ঘোষণা করে। তবে যেহেতু ক্যাথলিক চার্চ নারীদের যাজক হওয়া অনুমোদন করে না, তাই তার ওই অনুষ্ঠানটিও তারা অনুমোদন করেনি।
গত বছর অবশ্য সিনিড ও’কনর আইনগতভাবে নিজের নাম পরিবর্তন করেন এবং নতুন নাম রাখেন মাগদা ড্যাভিট।

চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে ওমানে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩ হাজার প্রবাসী নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ওমানের ওয়াফক ও ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় একজন মুখপাত্র ‘টাইমস অব ওমান’কে বলেন, ‘জানুয়ারির শুরু থেকে ৩০ মে পর্যন্ত, প্রায় ৩ হাজার মানুষ ইসলাম ধর্মান্তরিত হয়েছেন। নতুন ধর্মান্তরিদের বেশিরভাগই ইউরোপীয় এবং তারপরেই রয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশের নাগরিকরা।’

গত ২৫ মে শুক্রবার ওমানের ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ২৬ জন নারী ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। অনুষ্ঠানে অমুসলমানদের ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানা ও শেখার সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এই ধর্মের কিছু বিষয়ে তাদের সন্দেহ থাকলে তা স্পষ্ট করা হয়।

‘দ্য কোরআন স্পিকস টু ইউ’ বা ‘কোরআন আপনাকে বলে’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠানে সম্প্রতি ধর্মান্তরিত হওয়া দু’জন ব্যক্তি তাদের ইসলামের যাত্রা, ইসলামের ধর্মান্তরের কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং যারা ধর্মান্তরিত হওয়ার কথা চিন্তা করছেন, তাদেরকে পরামর্শ দেন।

এই ইভেন্টে ৮০০০ জনেরও বেশি নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। অ-মুসলিমরা যাতে ইসলাম সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে ও বুঝতে পারেন, সেজন্য এই ইভেন্টে সরাসরি প্রার্থনা এবং ইফতারও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।গত বছরের পবিত্র রমজান মাসেও বিভিন্ন দেশের ৭২ জন প্রবাসী নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অনুষ্ঠানে আগত অনেকেই ইসলাম সম্পর্কে তাদের পূর্ববর্তী ধারণার কথা আমাদের বলেন। তাদের বেশিরভাগই মনে করতেন যে ইসলাম অত্যন্ত কঠোর এবং কঠিন, কিন্তু ইসলামে একে অপরকে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিষয়টি দেখে তারা অবাক হন।’

একজন ব্যক্তি ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তিনি যাতে আরো ভালো মুসলমান হতে পারেন এবং ধর্মকে ভালভাবে বুঝতে পারেন, সেজন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় তাদের বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় পুস্তক প্রদান করে থাকে। পুরুষদের ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে খৎনা করাতে হয়।

একজন কর্মকর্তা বলেন, ইসলামে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি করা হয়েছে। ধর্মান্তরিতদের ধর্মান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদেরকে একটি প্রমাণপত্র প্রদান করা হয়।

বিশ্বজুড়ে ইসলাম বিদ্বেষ কমছেবিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন এবং মুসলিম বিদ্বেষের নজরদারি করে গত ১০ বছর ধরে প্রতিবছর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। ওআইসির সর্বশেষ বছরের বাৎসরিক রিপোর্টে (২০১৭-১৮ সালের জুলাই-এপ্রিল) বলছে, আগের বছরের তুলনায় বিশ্বজুড়েই ইসলাম বিদ্বেষ কিছুটা কমেছে, কিন্তু পরিস্থিতি এখনও আতঙ্কিত হওয়ার মতো।

মিয়ানমারে মুসলিমদের ওপর সেদেশের সরকারের বিদ্বেষের বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সহ যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভারতে মুসলিমদের ওপর নানা সহিংস ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।

ওআইসি বলছে- অনেকে দেশে মুসলিমরা সুবিচার চাওয়ার সুযোগই পাচ্ছেনা, ফলে সেসব জায়গা থেকে তথ্য জোগাড় কঠিন হয়ে পড়ছে।তবে একই সাথে ওআইসি বলছে, গতবছরের তুলনায় সামগ্রিকভাবে ইউরোপ আমেরিকায় কিছুটা ইতিবাচক লক্ষণ চোখে পড়েছে।

গার্মেন্ট শ্রমিকদের নতুন বিপদ

গার্মেন্ট সেক্টরে চলছে অরাজক পরিস্থিতি। একদিকে চাকরিচ্যুতি, অন্যদিকে গ্রেফতারের ভয়ে হাজার হাজার শ্রমিক এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের পরিবার-পরিজন এখন না খেয়ে থাকছে। শ্রমিকরা বলছেন, অত্যাচারের মধ্যে রয়েছেন তারা। চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তাদের। শ্রমিক নেতারা জানান, গার্মেন্ট মালিক পক্ষ ও সরকার থেকে যে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল তার অধিকাংশই উল্টো হচ্ছে।

গত নভেম্বরে ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর কয়েকটি গ্রেড নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গত ৫ জানুয়ারি গার্মেন্ট শ্রমিকরা তাদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নামে। ওই দিন তারা রাজধানী উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গার্মেন্ট মালিকদের আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা ওই দিন রাস্তা ছেড়ে দেয়। কিন্তু সেই আশ্বাস পূরণ না হলে ৬ জানুয়ারি আবারো রাস্তায় নামে তারা। উত্তরার এই আন্দোলন সাভার, টঙ্গী, গাজীপুর, আশুলিয়া এবং রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, শাহআলী, ভাসানটেকসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনের একপর্যায়ে গত ৮ জানুয়ারি সাভারে সুমন মিয়া নামের এক গার্মেন্ট শ্রমিক পুলিশের গুলিতে নিহত হন। সেখানে আহত হয় আরো কয়েকজন। আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুলিবর্ষণ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, লাঠিপেটা ও শ্রমিকদের গ্রেফতার করে। শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটায়।

শ্রমিকদের এই আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একপর্যায়ে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। সরকার ও মালিকপক্ষের আশ্বাসের ভিত্তিতে একপর্যায়ে শ্রমিকরা ঘরে ফিরলেও তারা এখন চরম বিপাকের মধ্যে পড়েছেন বলে বেশ কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন।

ইলিয়াস নামের এক শ্রমিক বলেন, তাকে কারখানা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তার নামে মামলা হয়েছে। এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তার অনেক সহকর্মী এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে ইলিয়াস অভিযোগ করেন। শিল্পী নামের অপর এক গার্মেন্ট শ্রমিক বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুইজনই কাজ করে সংসার চালাতেন। তাদের এখন চাকরি নেই। নতুন চাকরি জোগাড় হওয়া পর্যন্ত হয়তো তাদের না খেয়ে থাকতে হবে।

শ্রমজীবী ও শিল্পরক্ষা আন্দোলনের সদস্যসচিব হারুনার রশিদ ভূঁইয়া গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, ৪-৫ হাজার শ্রমিক এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, মামলায় যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তার চেয়ে কয়েক গুণ অজ্ঞাত আসামি দেয়া হয়েছে। ওই অজ্ঞাতের সূত্র ধরে এখন শ্রমিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। অনেক শ্রমিক যারা হয়তো আন্দোলনে নেমেছেন তারা এখন বাসা-বাড়িতে ঘুমাতে পারেন না। তাদের চাকরি চলে গেছে, অপরদিকে তাদেরকে পুলিশ হয়রানি করছে। চাকরি না থাকায় তাদের পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তিনি বলেন, সরকার এবং মালিকের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল কোনো শ্রমিককে হয়রানি করা হবে না। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। তিনি বলেন, যারা চাকরিচ্যুত হয়েছে তারা আবারো আন্দোলনে নামতে পারে।

গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের সভাপতি মোশরেফা মিশু গতকাল বলেন, শ্রমিকরা খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আছেন। তারা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। অন্তত ৫০ জন শ্রমিক এখনো গ্রেফতার অবস্থায় আছেন। মিশু বলেন, সরকার ও মালিকপক্ষ যা বলেছিলেন তার কিছুই কার্যকর হয়নি। সরকার বলেছিল মামলা হবে না। কোনো শ্রমিককে হয়রানি করা হবে না। দায়েরকৃত মামলা তুলে নেয়া হবে। মালিকপক্ষ বলেছিলেন, শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়া হবে।

কোনো শ্রমিক ছাঁটাই হবে না। এসবের কিছুই হয়নি বলে মিশু উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের প্রতিশ্রুতি কার্যকর যাতে হয় সে জন্য শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে শ্রমিক নেতারা বসবেন।

জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার বলেন, শ্রমিকরা অসহায় অবস্থায় আছেন। হাজার হাজার শ্রমিক পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, ৫ হাজারের ওপরে শ্রমিক এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তারা চাকরিচ্যুত হয়েছেন। শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা তুলে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাদের মধ্যে অনেক নারী শ্রমিকও রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেক রয়েছেন যারা একেবারেই নিরপরাধ। আন্দোলনেও তাদেরকে দেখা যায়নি। অথচ তারা মামলার আসামি হয়েছেন।

এদিকে শ্রমিকদের এই হয়রানি ও চাকরিচ্যুতির ব্যাপারে জানার জন্য বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।