রাতে খাওয়ার পরে এই কাজটি না করে ঘুমোতে গেলে হতে পারে মারাত্মক বিপদ

এক এক জন মানুষের রাত্রিকালীন অভ্যাস এক এক রকমের হয়। খাওয়ার পরে কেউ গান শুনতে ভালবাসেন, কেউ বা বই নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়েন, কেউ আবার খেয়ে উঠেই সটান লম্বা হন ঘুমোবেন বলে।

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

এই সমস্ত অভ্যাসের মধ্যে কোনগুলি শরীরের পক্ষে ভাল, কোনগুলোই বা অস্বাস্থ্যকর? স‌েগুলি নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু অন্তত একটি কাজ খেয়ে উঠে শুতে যাওয়ার আগে না করলে হতে পারে গুরুতর শারীরিক সমস্যা— এমনটাই মনে করছেন ডায়েটিশিয়ান লেজলি ব্যাক।

‘দা গ্লোব অ্যান্ড মেইল’ নামের দৈনিকে লেজলি জানাচ্ছেন, রাতে খেয়ে ওঠার পরে আর কিছু করুন না করুন, দু’তিন ঘন্টার বেশি কিছুতেই জেগে থাকবেন না। যদি খাওয়ার পরে চার বা পাঁচ ঘন্টা বাদে শুতে যান, তাহলে শরীরে মেটাবলিজম রেটে যেমন গুরুতর পরিবর্তন আসে, তেমনই ঘুমেও সমস্যা দেখা দেয়।

এর ফলে রক্তচাপের ইতরবিশেষ ঘটে এবং হার্টের রোগ দেখা দিতে পারে। কাজেই লেজলির পরামর্শ, যদি রাত্রে খাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকতেই হয় তাহলে ফল কিংবা অন্য কোনও সহজপাচ্য খাবার খেয়ে নিন।

কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমোতে যাওয়ার কথা বলছেন লেজলি। তাঁর বক্তব্য, খেয়ে উঠেই ঘুমিয়ে পড়লে গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল রিফ্লাক্সের ফলে গ্যাস, অম্বল বা বুক জ্বালার মতো সমস্যা দেখা দেয়।কাজেই খাওয়া এবং ঘুমোতে যাওয়ার মধ্যে ঘন্টা দেড়-দুই ব্যবধান রাখাই আদর্শ, এমনটাই মত লেজলির। সূত্র: দা গ্লোব অ্যান্ড মেইল।

দুর্নীতির ভারে ধসে পড়ল মেডিক্যালের ছাদ

সরকারি হাসপাতাল নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর এক বছর আগেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তখন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার খেসারত দিতে হলো নিরীহ এক শ্রমিকের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্মাণাধীন হাসপাতালের মূল ভবন ধসে পড়ে মারা গেছেন বজলুর রহমান নামের এক শ্রমিক। ভবন ধসে চাপা পড়ে আরো চার শ্রমিক এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

ঘটনাটি দক্ষিণের জনপদ কুষ্টিয়ার। কুষ্টিয়া শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের হাউজিংয়ের বিপরীতে নির্মাণ করা হচ্ছে কুষ্টিয়াবাসীর বহু প্রত্যাশিত কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই নির্মাণ প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কম খরচে সঠিক ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গেওই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। উল্টো হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ধসে কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন শ্রমিক বজলুর রহমান।

যে হাসপাতাল থেকে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছিলেন বজলুর রহমান, সে হাসপাতালের ভবন ধসেই মর্মান্তিক মৃত্য হলো তাঁর। ঠিকাদারের খামখেয়ালি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ল এই দিনমজুরের পরিবার।

২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদনের পর কেন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি তা দেখতে গত বছর মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনে যায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ওই সময়কার পরিচালক ডা. আখতারুজ্জামানসহ একটি প্রতিনিধিদল। পরিদর্শন শেষে তিনি এই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠান।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা একনেকে অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন করে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো ভবন নির্মাণ করছে। একই সঙ্গে দর বাড়িয়ে কার্যাদেশ নেওয়া হয়েছে। সব কটি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেই নকশা পরিবর্তনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে আইএমইডি বলেছে, বেঁধে দেওয়া ব্যয়ের সীমা লঙ্ঘন করে অনুমোদন না নিয়েই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, যা ক্রয় আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’। অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় মাঝখানে কিছু সময় বরাদ্দও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। গতকাল যে ভবনটি ধসে পড়ে, সে ভবন নির্মাণেও অনিয়ম খুঁজে পায় আইএমইডি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হাসপাতাল ভবনের এক লাখ ৫৫ হাজার বর্গফুট ভিত্তির পরিবর্তে করা হয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার বর্গফুট, যা অনুমোদিত নকশার চেয়ে ১৭ হাজার বর্গফুট কম। নকশায় হাসপাতাল ভবনটি ১০ তলা ভিত্তির ওপর সাততলা নির্মাণের কথা থাকলেও তা করা হয়েছে ১০ তলা ভিত্তির ওপর তিনতলা। গতকাল তৃতীয় তলার ছাদই ধসে পড়ে। এ ভবনের জন্য ১১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৯২ কোটি টাকার চুক্তি হয়।

জানতে চাইলে গতকাল রাতে ডা. আখতারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি সরেজমিন গিয়ে প্রকল্পটিতে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র দেখতে পাই। ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছিল নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে। আমি আমার প্রতিবেদনে সেসব কথা উল্লেখ করেছি। তখন যদি ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে আজ এত মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না।’

আইএমইডির ভারপ্রাপ্ত সচিব আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়েজুল্লাহ গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেকোনো প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না তা দেখার দায়িত্ব আইএমইডির। কুষ্টিয়ায় যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তা সরেজমিন দেখতে আমি আমার সংশ্লিষ্ট শাখার মহাপরিচালককে দ্রুত পাঠাব। তারপর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

এলাকাবাসী জানিয়েছে, নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এক ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বজলুর মৃহদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাড়ি কুমারখালী উপজেলার চড়াইকোল গ্রামে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৪০ বর্গফুট আয়তনের তৃতীয় তলার ওই ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। ঢালাইয়ের শেষ দিকে বিকেল সাড়ে ৪টায় হঠাৎ পুরো ছাদটি ধসে পড়ে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানায়, নির্মাণাধীন হাসপাতালের মূল ভবনের তৃতীয় তলার ৫০ ফুট বাই ৩০ ফুট ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। ছাদটি মাটি থেকে প্রায় ৩০ ফুট ওপরে। ঢালাইয়ের সময় নিচে স্টিলের পাইপের পরিবর্তে বাঁশের খুঁটি দিয়ে শাটারিং দেওয়া হয়েছিল। ফলে ভার সইতে না পেরে কয়েক টন ওজনের ছাদটি ধসে পড়ে।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক ফিরোজ কুতুবী জানান, নিম্নমানের দুর্বল জোড়াতালি দেওয়া বাঁশের খুঁটির ওপর ভর দিয়ে এই বিশাল স্থাপনার ঢালাই চলছিল। এ ছাড়া জয়েন্ট রডে কোনো ওয়েলডিং ছিল না। এ কারণে ভবনের ওই অংশের ছাদটি ধসে পড়েছে। ভবনের ধসে পড়া স্তূপের নিচ থেকে এক শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এত বড় অনিয়মের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার ছাদ ঢালাই কেন এত জোড়াতালি দিয়ে হচ্ছিল, আর অফিসাররা সেটা কেন মেনে নিয়ে চুপ করে ছিলেন? আমরা আইনের আশ্রয় নিব।’

এ ব্যাপারে গণপূর্ত সার্কেল কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী এ জে এম শফিউল হান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নানা কারণে অনেক দিন বিরতির পর সম্প্রতি আবার এখানে বিভিন্ন ধরনের কাজ চলছিল। কোনো ঢালাইয়ের আগে ঠিকাদারের লোকজনের আমাকে অবহিত করার কথা। কিন্তু তারা আমাকে কোনো রকম ইনফরমেশন না দিয়ে এই ঢালাই দিচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর আমি খবর পেয়ে এখানে আসি। এ ব্যাপারে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।’কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, এই দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই প্রকল্পে বালি ভরাট কাজে ইতিমধ্যে প্রচুর টাকা ব্যয় হয়েছে বলা হলেও প্রতিটি ভবনের মাঝে বিশাল বিশাল গর্ত হয়ে আছে ভরাট না করায়। শুধু ভবনের অংশটুকুতেই বালি আছে আর সব গর্ত। এই প্রকল্পের কোনো সীমানা দেয়াল এখনো পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়নি। নেওয়া হয়নি কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প অনুমোদনের সময় মাটি ভরাট ও সীমানা দেয়াল অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে স্থানীয়রা বলছে, নকশা পরিবর্তনসহ নানা জটিলতায় এই প্রকল্পের কাজ থেমে গেছে। নির্মাণকাজ শুরুর পর প্রকল্পটির মেয়াদ দুইবার বাড়িয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি। কবে নাগাদ এই প্রকল্প শেষ হবে তাও কেউ বলতে পারছে না।

২০০৮ সালে তৈরি করা প্রকল্পে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাস নির্মাণ সম্পন্ন করতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এরপর দরপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৩ সালের জুলাই থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু করলে ওই বছরের ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন। প্রথমে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এবং পরে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পুরো প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। ফলে মূল ক্যাম্পাসে মেডিক্যাল কলেজ স্থানান্তর বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকল্প শুরুর পরপরই প্রকল্পের নির্মাণ তদারকি প্রতিষ্ঠান, কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের সাবেক একজন নির্বাহী প্রকৌশলী ও দুজন এসডিই কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে অনিয়মের মাধ্যমে বহু টাকা নয়ছয় করেছেন। এর কারণে প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জহিরুল ইসলামের মালিক জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। অপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজের মালিক এস এম শামীম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাজে কোথাও কোনো ত্রুটি নেই। তবে বিল না পাওয়ায় আমরা দু-একটি কাজ সমাপ্ত করতে পারিনি।’

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। ২০০৮ সালের অনুমোদিত প্রকল্পে ২০১৩ সালে কাজ করার সময় স্বাভাবিকভাবে অনেক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। কাজ চলছে তবে গতি তুলনামূলক কম।

এসব বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগ কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী এ জে এম শফিউল হান্নান কালের কণ্ঠকে জানান, কুষ্টিয়াবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং দ্রুত কাজ করার জন্য অনেক কিছু অনুমোদন না করেই কাজ শুরু করা হয়েছিল যে পরে অনুমোদন নেওয়া হবে এই আশায়। এটুকুই অনিয়ম। অনিয়ম মানে এই নয় যে ছয়তলা ভবনের টেন্ডার করে চারতলা করা হয়েছে।

নামাজ পড়ার সময় যদি পেছনের সারি থেকে বাচ্চাদের হাসির আওয়াজ না আসে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে ভয় করুন

তুরস্কের সব মসজিদেই লেখা থাকে “নামাজ পড়ার সময় যদি পেছনের সারি থেকে বাচ্চাদের হাসির আওয়াজ না আসে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে ভয় করুন।” বুখারী শরীফে এসেছে- রাসুল (সাঃ) তার নাতনী হযরত উমামা বিনতে যায়নাব (রাঃ) কে বহন করে (কোলে কিংবা কাঁধে) নামাজ আদায় করতেন।

যখন তিনি দন্ডায়মান হতেন তখন তাকে উঠিয়ে নিতেন আর সিজদাহ করার সময় নামিয়ে রাখতেন।এ ছাড়াও রাসুল (সাঃ) এর খুতবা দেয়ার সময় তার নাতি হাসান ও হুসাইন (রাঃ) আসলে তিনি খুতবা দেয়া বন্ধ রেখে তাদেরকে জড়িয়ে ধরে আদর করতেন, কোলে তুলে নিতেন চুম্বন করতেন আর বলতেন খুতবা শেষ করা পর্যন্ত আমি ধৈর্য ধারণ করতে পারব না। তাই, আমি খুতবা দেয়া বন্ধ করেই এদের কাছে চলে এসেছি। (নাসায়ী শরীফ)

রাসুল (সাঃ) যদি তার নাতনীকে কাঁধে নিয়ে ইমামতি করতে পারেন খুদবা থামিয়ে নাতি হাসান ও হুসাইন (রাঃ) আদর করতে পারেন তাহলে, আমাদের ছেলেমেয়েদের মসজিদে নিয়ে আসতে দোষ কি? কোন যুক্তিতে বড়রা তাদেরকে বকাঝকা কিংবা ধমক দেন? তারা কি রাসুল (সাঃ) এর চেয়ে বেশী কিছু হয়ে গেলেন নাকি?

নামাজ পড়ার সময় যদি পেছনের সারি থেকে বাচ্চাদের হাসির আওয়াজ না আসে তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে ভয় করুন
(এই কোটেশন তুর্কীর মসজিদে দেওয়ালে লিখা থাকে)

ওমানের মসজিদে নামাজ আদায় করার সুযোগ হয়েছে আমার, প্রায় সবখানে দেখলাম বাচ্চারা মসজিদে মোটামুটি উপস্থিত থাকে। তাদের যেখানে ইচ্ছা খেয়াল খুশী মতো কাতারে দাড়ায়। বড়রা কিছু বলেনা,এমনকি অনেক সময় দেখলাম নামাজের সময় বাচ্চারা পেছনে বা সামনে কোন কাতারে হইহুল্লোড় করছে,নামাজ শেষে ইমাম,মুসল্লি কেউ কিছু বলেনা। আমি একদিন একজনরে জিজ্ঞেস করলাম এর কারন কি???

তো তিনি বললেন বাচ্চারা হলো ফেরেস্তার মতো এরা এখানে আসবে একটু দুষ্টামি করবে কিন্তু দেখতে দেখতে এটাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। দুষ্টামির ব্যাপারটা বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঠিক হয়ে যাবে সেটা কোন ব্যাপার না। কিন্তু এখন যদি ওরে মসজিদে হুমকি দামকি দেওয়া হয়,মারা হয় তাহলে সে তো আর এইখানে আসতেই চাইবেনা,একটা ভয় নিয়ে বেড়ে উঠবে এটা তো ঠিক না।

কি সুন্দর যুক্তি।
আর ঠিক উল্টো চিত্র দেখবেন আমাদের বাংলাদেশে। আমি এমনও দেখেছি নাতীকে মসজিদে নিয়ে আসার কারনে নানার সাথে আরেকজনের মারামারি লেগে গিয়েছিলো। আর এলাকার সিজনাল মুরব্বিরা তো মসজিদে গেলা বড় বড় মোল্লা হয়ে যায়,সামনের কাতারে ছোটদের দাড়াতে দেই না,বাচ্চারা আওয়াজ করলে চড় থাপ্পর এসব তো আছেই। হুজুরেরাও এটাকে এড়িয়ে যায় বা বাচ্চাদের মসজিদে আনতে না বলে।

বুখারী শরীফে এসেছে- রাসুল (সাঃ) তার নাতনী হযরত উমামা বিনতে যায়নাব (রাঃ) কে বহন করে (কোলে কিংবা কাঁধে) নামাজ আদায় করতেন। যখন তিনি দন্ডায়মান হতেন তখন তাকে উঠিয়ে নিতেন আর সিজদাহ করার সময় নামিয়ে রাখতেন ।

আমরা একদা যুহর কিংবা আসর নামাজের জন্য অপেক্ষা করতেছিলাম। বেলাল (রাঃ) রাসুল (সাঃ) কে নামাজের জন্য ডাকলেন। রাসুল (সাঃ) তার নাতনী হযরত উমামাহ (রাঃ) কে কাঁধে করে নিয়ে আমাদের কাছে আসলেন। রাসুল (সাঃ) ইমামতির জন্য নামাজের স্থানে দাড়ালেন আমরা তার পিছনে দাঁড়িয়ে গেলাম অথচ, সে (উমামাহ রা.) তার স্থানে তথা রাসুল (সাঃ) এর কাধেই আছে।

রাসুল (সাঃ) নামাজের তাকবির দিলেন আমরাও তাকবীর দিলাম। রাসুল (সাঃ) রুকু করার সময় তাকে পাশে নামিয়ে রেখে রুকু ও সিজদাহ করলেন। সিজদাহ শেষে আবার দাড়ানোর সময় তাকে আগের স্থানে উঠিয়ে নিতেন। এভাবে নামাজের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাকাতেই তিনি এমনটি করে যেতেন।
(সুনান আবু দাউদ ৯২০)

এ ছাড়াও রাসুল (সাঃ) এর খুতবা দেয়ার সময় তার নাতি হাসান ও হুসাইন (রাঃ) আসলে তিনি খুতবা দেয়া বন্ধ রেখে তাদেরকে জড়িয়ে ধরে আদর করতেন, কোলে তুলে নিতেন চুম্বন করতেন আর বলতেন খুতবা শেষ করা পর্যন্ত আমি ধৈর্য ধারণ করতে পারব না। তাই, আমি খুতবা দেয়া বন্ধ করেই এদের কাছে চলে এসেছি।
(নাসায়ী শরীফ)

মুহাম্মাদ সঃ নিজে বাচ্চাদেরকে কোলে রেখে নামায পড়িয়েছেন। আর আমাদের বুজুর্গ-মুসল্লিরা মসজিদেই তাদের উপস্থিতি সহ্য করতে পারেন না।

রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন
যে আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং বড়দেরকে সম্মান করতে জানে না সে আমার দলভুক্ত নয়।
(আবু দাউদ, তিরমীজি, মুসনাদে আহমদ)

তো এই ব্যাপারে তরুনদের সতর্ক হওয়া দরকার।মুরব্বিদের কে তাদের এইসব বুঝানো দরকার।আমাদের হুজুরদের বয়ানে এইসব স্পষ্ট করা দরকার।তাহলে বাচ্চারা মসজিদমুখি হতে আগ্রহী হবে।

(লেখকঃ পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা )

মারাত্মক যৌনরোগ গনোরিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত

গনোরিয়া মারাত্মক যৌনরোগ গনোরিয়া আমাদের দেশের অশিক্ষিত ও দরিদ্র সমাজে প্রমেহ নামে পরিচিত। এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। বিশ্বজুড়ে এ রোগটির বিস্তৃতি যৌনরোগের মধ্য দিয়ে। রোগটির জীবাণু ডিম্বাকৃতি বা শিমের বিচির মতো। থাকে জোড়ায় জোড়ায়।

সুপ্তিকাল : রোগাক্রান্ত সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে দৈহিক মিলনের পর ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এ রোগের প্রকাশ ঘটে। সাধারণত পুরুষের ক্ষেত্রে মূত্রপথের সামনের অংশে জীবাণু সংক্রমণ শুরু করে। উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে তা প্রস্টেট গ্রন্থি, এমনকি মূত্রথলি ও শুক্রাশয় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

উপসর্গ (পুরুষ) : পুরুষের যৌনাঙ্গ, বিশেষ করে প্রস্টেট গ্রন্থি, শুক্রনালি, এপিডাইডাইমিস আক্রমণ করে। আক্রমণের ২-১ দিন পর পর্যাপ্ত ঘন সাদা বা সামান্য হলদে রঙের পুঁজ পড়তে শুরু করে। প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালা অনুভূত হয়। পুরুষাঙ্গের মাথায় পুঁজ জাতীয় পদার্থ লেগে থাকতে দেখা যায়। এ রোগে পুরুষাঙ্গের গায়ে কোনো ঘা বা ক্ষত দেখা যায় না। হাত দিয়ে ধরলে হালকা ব্যথা অনুভূত হয়। কিছুদিন পর রোগের উপসর্গ কমে যায়। এর মানে রোগটি ভালো হওয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রূপ লাভ করে বলে ধরে নিতে হবে।

উপসর্গ (নারী) : আক্রান্ত হওয়ার পর যোনিপথের গ্রন্থি, বিশেষ করে জরায়ুমুখের গ্রন্থিতে জীবাণু আক্রমণ করে থাকে। পরে ডিম্বনালি আক্রমণ করে। যোনিপথের ঠিক সামনেই রয়েছে মূত্রপথ। সেখানেও আক্রমণ করে। ফলে যোনিপথ ও মূত্রপথ উভয়ই আক্রান্ত হয়। অল্প বা বেশি পরিমাণে পুঁজ বের হতে দেখা যায়। প্রস্রাবের সময় তীব্র ব্যথা, জ্বালাপোড়া করে, পুঁজ নিঃসরণ হতে দেখা যায়। আবার ডিম্বনালি দিয়ে জীবাণু দেহের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। ফলে সামান্য জ্বর, ম্যাজম্যাজ ভাব দেখা দিতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে নারীরা উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে।জটিলতা (পুরুষের ক্ষেত্রে) :

শুক্রনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। উপ-শুক্রাশয় (এপিডাইডাইমিস) নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে যৌনরসে বীর্যকোষ থাকে না। এ কারণে ব্যক্তিটি সন্তানের পিতা হতে পারেন না। রোগ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় যিনি তার সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা করবেন, তিনিও এ রোগে আক্রান্ত হবেন। রোগটি দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় প্রস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ হতে পারে। ফলে প্রস্রাব আটকে বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

জটিলতা (নারীর ক্ষেত্রে) : দীর্ঘদিন আক্রান্ত থাকলে ডিম্বনালির ছিদ্রপথ বন্ধ হয়ে সন্তানধারণের ক্ষমতা হারাতে পারে। প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া, ব্যথা ছাড়াও মূত্রাশয়ের প্রদাহ হতে পারে। আক্রান্ত নারী সন্তান প্রসব করলে সন্তানের চোখ এ জীবাণুর মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারে। নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে হাঁটু বা গোড়ালিতে পুঁজ জমে গিঁরা ফুলে যেতে পারে। দেখা দিতে পারে বাতব্যথার মতো উপসর্গ।

রোগ নির্ণয় : রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস শোনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি স্বল্পস্থায়ী আক্রমণ হয়ে থাকে, তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রাস্তা থেকে নিঃসরিত পুঁজ বা পদার্থ এবং নারীর ক্ষেত্রে মূত্রনালি ও জরায়ু নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রস্টেট গ্রন্থি মাসাজের পর নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে কিংবা সকালের প্রথম ফোঁটা প্রস্রাব পরীক্ষা করা যেতে পারে। জরায়ু নিঃসরিত বস্তুও পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়া কালচার ও সেনসিটিভিটি পরীক্ষা করা যেতে পারে।

চিকিৎসা : উভয়েরই চিকিৎসা করাতে হবে। ইনজেকশন এবং খাওয়ার ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এজন্য একজন যৌনরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
পরামর্শ : ২ সপ্তাহ পর আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে। ৪ সপ্তাহ পর পুনরায় পরীক্ষা করে আরোগ্যের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে। প্রতিকারের উপায় হলো জনসাধারণকে যৌনরোগের কুফল সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। এছাড়া প্রয়োজন উপযুক্ত যৌনশিক্ষা গ্রহণ। পতিতালয় বা বহু নারী গমনে নিরুৎসাহিত করতে হবে। রোগের লক্ষণ বুঝেই চিকিৎসা করাতে হবে। আক্রান্ত অবস্থায় উভয়ের সহবাসে বিরত থাকতে হবে। সর্বোপরি এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে বৈবাহিক যৌনজীবনই উত্তম পন্থা -এটা উপলব্ধি করতে হবে।

ডা. দিদারুল আহসান চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ।

ব্রয়লার মুরগী খাওয়ার কারণে বছরে মারা যাবে ৭ লক্ষ লোক

মুরগি কমবেশি সকলেরই পছন্দ। দিনদিন চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু জানেন কি ব্রয়লার মুরগীতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং শরীরে দানা বাঁধে ক্যান্সার।সেই সঙ্গে আরো ভয়ানক ব্যাপার হলো যে, পোলট্রির মুরগি খেলে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের শরীরে আর কাজ করবে না। একাধিক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

 

দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা মাত্র পাঁচ সপ্তাহেই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যায়! মাত্র এক কেজি আটশো গ্রাম ম্যাশ খাওয়ালেই এক কেজির নিট মাংস! দুই কেজি ওজনের মুরগি জবাইয়ের আগে ম্যাশ খাচ্ছে মাত্র তিন কেজি ছয়শো গ্রাম! রহস্যটা কী? ম্যাশের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম। অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন পুশ করে দেওয়া হচ্ছে। চড়চড় করে বড় হচ্ছে মুরগি। হু হু করে বাড়ছে ওজন।কিন্তু জানি কি, পিছনে লুকিয়ে রয়েছে কী ভয়ঙ্কর বিপদ? সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, পোলট্রির মুরগি খেলে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না আমাদের শরীরে।

 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবে। ছোটখাটো পেটের রোগ, গ্যাস, অম্বল, সর্দিকাশি, ইনফেকশনের ক্ষেত্রেও অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না। ফলে রোগ সারাতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্য নিতে হবে ডাক্তারদের। যে অ্যান্টিবায়োটিকের একাধিক কুপ্রভাব পড়বে আমাদের শরীরে।কাঁচা মাংসে প্রচুর মাত্রায় ব্যাকটেরিয়া থাকে। আর দোকানে যেভাবে একাধিক মুরগিকে এক সঙ্গে রাখা হয় তাতে দু-পাঁচটার শরীরে সেই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলি প্রবেশ করে না যাওয়াটা কোনও অস্বাভাবিক নয়। আর এমনটা যে হয় না সে কথা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে কি? শুধু তাই নয়, যখন মুরগি কাটা হয় তখনও জীবিত মুরগির শরীর থেকে কাঁচা মাংসে ব্যাকটেরিয়া চলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আর এই জীবাণু যদি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে তাহলে আর রক্ষা নেই।

 

কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতো মাত্রাতিরিক্ত ব্রয়লার মুরগি খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।ব্রয়লার চিকেন খেলে ফুড পয়জনিং হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। একাধিক গবেষণয়া দেখা গেছে প্রায় ৬৭ শতাংশ ব্রয়লার মুরগির শরীরে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া থাকে যা কোনও ভাবেই কিন্তু আমাদের শরীরের জন্য ভালো নয়।

 

বাজার থেকে ব্রয়লার মুরগির মাংস কিনে কখনই বাকি খাবার বা সবজির সঙ্গে সেটি রাখবেন না। শুধু তাই নয়, যে ছুরি দিয়ে মাংসটা কাটবেন তা দিয়ে ওই সময় সবজি কাটবেন না। আর যে প্লেটে কাঁচা মাংসটা রাখবেন তা ভালো করে ধুয়ে নিয়ে তবেই অন্য কাজে লাগাবেন। যেমনটা আগেও বলেছি কাঁচা মাংসে অনেক সময়ই ব্যাকটেরিয়া থাকে। এই নিয়মটা মানলে সেই জীবাণু বাকি খাবারে ছড়িয়ে যাওরা সুযোগ পায় না। ফলে শরীর খারাপ হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমে।তবে দেশি মুরগিতে এমন কিছু ক্ষতিকারক জিনিস পাওয়া যায়নি। কারণ দেশি মুরগি একেবারে প্রকৃতির নিয়ম মেনে বড়হয়। ফলে ব্রয়লার মুরগির মতো তাদের শরীরে কোনও কেমিকেলের উপস্থিতি যেমন পরিলক্ষিত হয় না। তেমনি দেশি মুরগি অনেকাংশেই ব্যাকটেরিয়া মুক্ত হয়। ফলে তা থেকে আমাদের শরীর খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ানের এক রিপোর্টে জানা যায়, প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া কমে যাওয়ায় একটি গুরুতর হুমকির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে মানবসভ্যতা। যা বছরে ৭ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যার মধ্যে রয়েছে ২৩০০০ আমেরিকান, ইউরোপে ২৫০০০, ৬৩০০০ ভারতীয় শিশু। এদের মৃত্যুর পর আরও লক্ষাধিক অসুস্থ হয়ে পড়বে। তখন বাৎসরিক ২০ লক্ষ আমেরিকান অসুস্থ হয়ে স্বাস্থ্যসেবায় কোটি কোটি টাকা খরচ করবে। শেষ হবে সম্পদ আর দেশ হারাবে জাতীয় উৎপাদনশীলতা।গার্ডিয়ানের ওই রিপোর্টে আরো পূর্বাভাস দেওয়া হয় যে ২০৫০ সালের মধ্যে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধে বিশ্বে ১০০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হবে এবং বছরে ১ কোটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে।

সকালের শারীরিক সম্পর্কে কী ঘটে শরীর-মনে?

সকালের শারীরিক সম্পর্কে কী ঘটে শরীর-মনে?

আধুনিক যুগে দম্পতিদের বেশিরভাগই নানা কাজে ব্যস্ত। চাকরি এবং পারিবারিক জীবন- দুয়ের মিশেলে তারা সবসময় চাপের মধ্যে থাকেন। সকালে তাড়াহুড়ার জন্য একসঙ্গে নাস্তা করা তো হয়ই না, আবার অফিস থেকে ফিরতেও অনেক রাত হয়ে যায়। ফলে দুজনেই ক্লান্ত থাকেন। এ সময় শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হলে ক্লান্তি যেন আরও বেড়ে যায়। কিন্তু তাই বলে তো আর যৌনজীবন থেমে থাকবে না।বিভিন্ন পরিসংখ্যান এবং জরিপে দেখা গেছে, অনেক চাকরিজীবী দম্পতি ক্লান্ত থাকার পরেও রাতে মিলিত হতে ভোলেন না। এতে তারা আরও বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পরের দিন কাজেও এর প্রভাব পড়ে। তাই ক্লান্তি কাটাতে মিলিত হওয়ার জন্য ‘সকাল’কে সঠিক সময়- বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষকরা জানিয়েছেন, সকালের যৌন সম্পর্ক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এটি শুধু আপনাকে শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে না, একই সঙ্গে আপনার যৌন সক্ষমতাও বাড়াতে সাহায্য করে। সকালে যৌনতায় কী কী উপকার পাওয়া যায় আসুন জেনে নিই।যৌন সক্ষমতা বাড়ায় সকালের যৌনতা আপনাকে আরও বেশি সতেজ এবং কর্মঠ হতে সাহায্য করবে। এর ফলে আপনার রক্তেও একটা স্বাস্থ্যকর প্রবাহ বজায় থাকবে। এতে যৌন সক্ষমতা আরও বেড়ে যাবে।

উজ্জ্বলতা বাড়ায় সকালে মিলিত হলে নারীর শরীরে ইস্ট্রোজেনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এতে তাদের ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়ে।হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে সকালের যৌনতা রক্তচাপকে অনেকটা হ্রাস করতে পারে। এর ফলে আপনার রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমে যায়।

হতাশা দূর করে গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে দীর্ঘ সময় ধরে মিলিত হলে অক্সিটোসিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়। এটি মস্তিষ্ককে শান্ত থাকতে সাহায্য করে। এর ফলে হতাশাও দূর হয়।স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় সকালে যৌনতা রক্তচাপ হ্রাস করে এবং ধমনীর প্রসারণে সহায়তা করে। এর ফলে রক্তের জমাট বাধা সহজেই প্রতিহত করা যায়। এতে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে যায়।

ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি ঘটায় সকালে মিলিত হলে শরীরে ‘ইমিউনোগ্লোব্লিন’ এর উৎপাদন উদ্দীপিত হয়। এতে শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয় এবং বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে।ওজন কমায় সকালে প্রতিবার মিলন ৩০০ ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীর থেকে অনেকটা বাড়তি ওজনও কমে আসে।

আয়াতুল কুরসীর বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচার আয়াত: হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, সূরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, যে ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। [মুসতাদরাকে হাকিম]। তাই এখনই পবিত্র আয়তুল কুরসীটি মুখস্থ করে নিন।

উচ্চারণঃ‬ আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বিয়্যুম লা তা’খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিছছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াস ফায়ু ইন দাহু ইল্লা বি ইজনিহি ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খল ফাহুম ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি ইল্লা বিমা সাআ ওয়াসিয়া কুরসিইউ হুস ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আজীম।

‪অর্থ‬: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়।
তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

‪‎ফজিলতঃ‬
জান্নাতের দরজা: আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল নুরে মুজাসসাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি ফরয নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছু বাধা হবে না। [নাসায়ী]
হজরত আলী রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসী নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাত প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় হয়ে আছে। যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের সময় পড়বে আল্লাহ তার ঘরে,প্রতিবেশির ঘরে এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন। [সুনানে বায়হাকী]

মর্যাদাসম্পন্ন মহান আয়াত: আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ রা. রাসূল সা.-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল সা. ! আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে? রাসূল সা. বলেছিলেন, আয়াতুল কুরসী। [নাসায়ী]

উবাই বিন কাব থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: উবাই বিন কাবকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তোমার কাছে কুরআন মজীদের কোন আয়াতটি সর্ব মহান? তিনি বলেছিলেন, (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল্ হাইয়্যূল কাইয়্যূম) তারপর রাসূলুল্লাহ্ নিজ হাত দ্বারা তার বক্ষে আঘাত করে বলেন: আবুল মুনযির! এই ইলমের কারণে তোমাকে ধন্যবাদ। [সহীহ মুসলিম]

বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি রাত ২টায় ওর বাসায় যাই : জেসিয়া

কিছুদিন আগেই ভাইরাল হয়ে যায় একটি ভিডিও। সেই ভিডিওতে দেখা যায় মাঝরাতেই সালমানের বাড়িতে হামলা চালান জেসিয়া ইসলাম। এই সময় গেটের দারোয়ান গেট না খুললে জেসিয়া এইখানেই ভাঙচুর চালান শুরু করেন। এমনকি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন তিনি।

তবে সালমানের বাসায় গিয়ে এমনটা করার কারণ হিসেবেও মুখ খুললেন জেসিয়া। এই ব্যাপারে তিনি বলেন ,’ আমাদের প্রেমের সম্পর্কের বয়স দেড় বছরের। কিছুদিন ধরে সে আমার কাছে কিছু বিষয় লুকাচ্ছিল। আর সেদিন আমার সঙ্গে সালমান একটা বিষয়ে মিথ্যা বলে, বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি ওর বাসায় যেতে বাধ্য হই। সে ভাবতে পারেনি, এত রাতে আমি যাব। কিন্তু আমার আর কোনো উপায় ছিল না।’

বাড়ির প্রধান ফটকে ধাক্কা ও ইট ছুড়ে কাচ ভাঙার কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেসিয়া বলেন, ‘আমি তো শুরুতে এমনটা করিনি। আমি যখন সালমানের বাড়ি যাই তখন রাত দুইটার কাছাকাছি। প্রথমে কলবেল দিয়েছিলাম। এরপর ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কোনোভাবেই কেউ আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। প্রধান ফটক খোলার অনুরোধ করলেও গ্যারেজে থাকা তাঁর পরিবারের কেউ তা করেনি। সালমান ও তাঁর পরিবারের লোকজন আমার ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙতে বাধ্য করে। আমি ভেবেছিলাম, জোরে নক করলে হয়তো তারা গেট খুলবে। আর এই ঘটনার পরে আমি বাহিরে দুই ঘন্টা দাঁড়িয়েও ছিলাম। কিন্তু আমার ব্যাপারে তাদের কারোরেই মায়া হয়নি।’

কুমিল্লায় ধর্ষণের শিকার ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী সন্তান জন্ম দিয়ে মৃত্যু

কুমিল্লার হোমনায় ধর্ষণের শিকার ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রী সন্তান জন্ম দিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে উপজেলার আছাদপুর ইউনিয়নের চারকুড়িয়া গ্রামে নেয়ার সময় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। আগে থেকেই কারাগারে আছে ধর্ষক। আর ওই মেয়ের মৃত্যুর পর ধর্ষকের পরিবার জনরোষের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার এ ধর্ষিতার প্রসব বেদনা উঠার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সিজার অপারেশনে তার একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।

পরদিন ভোরে তাকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় তার পরিবার। এ সময় পথে তার মৃত্যু হয়। তবে সন্তানটি এখনও জীবিত। বৃহস্পতিবার বিকালে চারকুড়িয়া কবরস্থানে ওই কিশোরীকে দাফন করা হয়েছে।

থানা ও পারিবারিক সূত্র জানায়, উপজেলার চারকুড়িয়া গ্রামের মো. তছর মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন একই গ্রামের ৪র্থ শ্রেণির ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় গত বছরের আগস্টে ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে হোমনা থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। পরে এলাকার লোকজন জাকিরকে আটক করে পুলিশে দেয়। বর্তমানে সে জেলহাজতে রয়েছে।

এ বিষয়ে আছাদপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার মো. শিব্বির আহম্মেদ বলেন, আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

হোমনা থানার ওসি সৈয়দ মো. ফজলে রাব্বী বলেন, ঘটনাটি টেলিফোনে জেনেছি, থানায় মামলা রয়েছে। আসামিও জেলে আছে। মেয়েটির পরিবারকে বলেছি থানায় একটি জিডি করে ময়নাতদন্ত করতে। এতে মামলায় সুবিধা হবে।

দেড় হাজার বছর আগের প্রিয়নবির যে অভ্যাসগুলো বিজ্ঞানে প্রমাণিত

দেড় হাজার বছর আগের (৫৭০ খ্রিস্টাব্দে) মানবতা বিবর্জিত অন্ধকার যুগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগমন করেন। শিক্ষাসহ সার্বিক দিক থেকে সভ্যতা ও সামাজিক আচার-আচরণ ছিল চরম অন্ধকারে।

অন্ধকার যুগের সে সময়ে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলোকবির্তকা হয়ে এ পৃথিবীতে আগমন করেন। মানবজাতিকে সঠিক পথের সন্ধান দেন। উন্নত জীবন ব্যবস্থার পথ দেখান।

দেড় হাজার বছর আগের প্রিয়নবির দৈনন্দিন নিয়মিত অভ্যাস-আচরণগুলো বিজ্ঞানেও সঠিক এবং সর্বোত্তম বলে প্রমাণিত। অভ্যাসগুলো হলো-

> ভোরে বিছানা ত্যাগ: প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব ভোরে জেগে ওঠতেন। সূর্য ওঠার আগে ফজর নামাজ আদায়ের মাধ্যমে প্রিয়নবি তার দিন শুরু করতেন।

বিজ্ঞানে প্রমাণিত যে, যারা ভোরে ঘুম থেকে ওঠে তাদের উৎপাদনশীল (কর্মস্পৃহা) ক্ষমতা বেড়ে ওঠে এবং তাদের হতাশ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম।

> খাবার গ্রহণে সংযম: প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাবার গ্রহণে পেটকে (পাকস্থলী) ৩ ভাগ করতেন। এক অংশ খাবার, এক অংশ পানি এবং এক অংশ খালি রাখতেন।

এমনভাবে খাবার গ্রহণ করতেন যাতে খাবার গ্রহণের কিছু চাহিদা থেকে যায়। খাবার গ্রহণে সংযম করতে পারলে অনেক জটিল ও কঠিন রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়।

অনেক দিন পরে হলেও বিজ্ঞানে প্রমাণিত যে, অল্প খাবার গ্রহণ রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং সুস্থ থাকার এক কার্যকারী টনিক।
এ কারণেই ডায়াবেটিক ও হার্টের রোগীদের জন্য নির্দেশনা হলো, অল্প পরিমাণে খাবার গ্রহণ করা। সারাদিনে তা হতে পারে ৫ বারেরও অধিক।

> ধীরস্থিরভাবে খাবার গ্রহণ: প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধীরে ধীরে খাবার গ্রহণ করতেন। ধীরে ধীরে খাবার গ্রহণ করলে তা সঠিকভাবে হজম হয়। আর সঠিক হজম শাক্তি থাকলে খাবার গ্রহণের যাবতীয় অসুস্থতা থেকে সুস্থ থাকা যায়।

মানুষ কাজই করুক না কেন কিংবা যে কথাই বলুক না কেন, মস্তিক সে কথা ও কাজের সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে সময় নেয় প্রায় ২০ মিনিট। সুতরাং খাবার গ্রহণে তাড়াহুড়ো নয়, ধীরে ধীরে খাবার গ্রহণ করুন। সুস্থ থাকুন।

> এক সঙ্গে খাবার গ্রহণ: প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় নসিহত করতেন যে, পবিরারের সব মানুষ যেন এক সঙ্গে খাবার গ্রহণ করে। তিনি বলতেন, ‘এক সঙ্গে খাবার গ্রহণ কর, আলাদা আলাদাভাবে নয়; বরং এক সঙ্গে খাবার গ্রহণ সবার জন্য উপকারী।’ (নাসাঈ)
এখন বিজ্ঞানে প্রমাণিত যে, এক সঙ্গে খাবার গ্রহণে অনকে চাপ থেকে মুক্ত থাকা যায়। খাদ্য সংকট মোকাবেলা করা যায়। খাবারের চাহিদাও পরিপূর্ণ হয়।

> ৩ নিঃশ্বাসে পানি পান: প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এক নিঃশ্বাসে পানি পান করিও না। পানি পান কর দুই কিংবা তিন নিঃশ্বাসে।
বিজ্ঞানে প্রমাণিত যে, যদি কেউ এক নিঃশ্বাসে পানি পান করে তবে সে মাথাব্যাথা, মাথা ঘোরানো, রক্ত সঞ্চালনে ভারসাম্যহীনতা হতে পারে।

> ফল খাওয়া: প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফল খেতে পছন্দ করতেন। এ কারণেই কুরআন এবং সুন্নাহ মোতাবেক যে ফলগুলো খাওয়া প্রয়োজন তাহলো- খেজুর, ডুমুর, ডালিম, দারুচিনি, আঙ্গুর, জলপাই, কলা।

বিজ্ঞানে প্রমাণিত যে, মানুষের সুস্থাস্থ্যের জন্য ফল খাওয়া হলো অলংকার পরিধানের মতো। যাতে মানুষ সুন্দর ও সবল থাকে।

> উপবাস করা: প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের ফরজ রোজা ছাড়াও মাঝে মাঝে রোজা রাখতেন। রোজার মাধ্যমে উপবাস করা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি।

জাপানি বিজ্ঞানীরা মুসলমানদের রোজা পালনের উপবাস সম্পর্কে বলেছেন যে, রোজা মানুষকে সুস্থ রাখতে এবং ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে সুস্থ থাকতে সর্বাধিক সুরক্ষা দেয়।

> নির্ধারিত সময়ে খাবার গ্রহণ: সুস্থ থাকতে নির্ধারিত সময়ে খাবার গ্রহণের বিকল্প নেই। শারীরিক সুস্থতার জন্য নির্ধারিত সময়ে খাবার গ্রহণের অভ্যাস গঠন করা জরুরি। কেননা খাবার গ্রহণের পর তা প্রক্রিয়াকরণের জন্য সময় দেয়া প্রয়োজন। যাতে মানুষের রক্ত ও শক্তি তৈরি হয়। আর তাতে মানুষের কর্মক্ষমতায় ভারসাম্য থাকে।

বিজ্ঞানে প্রমাণিত যে, সময়মতো খাবার গ্রহণ করলে পরিপাক তন্ত্রের কার্য ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের কাজের গতি বেড়ে যায়।

> সুস্থ থাকতে ইবাদত: ইসলামের মৌলিক পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে ৩টিই মানুষকে সুস্থ রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ৩টি কাজ হলো- নামাজ, রোজা ও হজ।

নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় মানুষের শারীরিক অসুবিধাগুলো দূর করে দেয়। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার মধ্যমে অজু করে নামাজ আদায় মানুষের জন্য পরিপূর্ণ প্রশান্তি ও বিশ্রাম হয়ে যায়।

এভাবে রোজা ও হজের মাধ্যমেও মানুষ অনেক শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা লাভ করে থাকে।

সুতরাং মানুষের উচিত, নিয়মিত উপরের অভ্যাসগুলো নিজেদের মধ্যে পরিচালিত করা। এর মাধ্যমেই মানুষ সুস্থ ও সুন্দর জীবন লাভ করবে। পরবর্তী জীবনও হবে সুন্দর ও সফল।