রেজা কিবরিয়া: হয়তো কিছুদিন পরই আরেকটি নির্বাচন হবে

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা গণফোরামের প্রার্থী রেজা কিবরিয়া বলেছেন, কিছুদিন পরেই হয়তো আরেকটি নির্বাচন হবে। আজ রোববার বিকেল ৩টায় ভোটগ্রহণ চলা অবস্থায় এমন কথা বলেন তিনি। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া।

নিজের নির্বাচনী এলাকার অবস্থা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, সকাল ১১টার মধ্যে বুঝতে পারলাম যে আমার আসনে অন্তত ৩০টি কেন্দ্র দখল হয়ে গেছে। এরপর দুপুরের পর যে খবর আসলো, তাতে হিসেব করে দেখি যে, প্রায় ১৭৬টি কেন্দ্র ক্ষমতাসীন দলের লোকজন দখল করে নিয়েছেন। তাই আমি আর হিসাব করা বাদ দিয়েছি। এই নির্বাচনের ফল নিয়ে আমার আর তেমন কোনো প্রত্যাশাও নেই।

রেজা কিবরিয়া বলেন, আমার নেতা-কর্মীদের বলে দিয়েছি নিরাপদে থাকতে। এই নির্বাচন তো আর সুষ্ঠু হয়নি। তবে, কিছুদিন পরেই হয়তো আরও একটি নির্বাচন হবে।তার প্রত্যাশা, একদিন বাংলাদেশে সত্যিকারের নির্বাচন হবে।

ভোট দিতে না পেরে মান্নার বোনের কান্না:: বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার বোন, বোনের ছেলেসহ অধিকাংশ নিকট আত্মীয়ই ভোট দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। সংবাদমাধ্যমে আসা খবর থেকে জানা যায়, মান্নার চাচাতো বোন রেবেকা বেগম ভোট না দিতে পেরে কেন্দ্রের পাশেই অঝোর ধারায় কেঁদেছেন। এ সময় মান্নার আপন বোন রেহনুমা আহমদও সেখানে ছিলেন।

মান্নার গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার গ্রামে। বাড়ির পাশেই মোহাম্মদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন মান্নার অধিকাংশ আত্মীয় স্বজন। তারা ভোট না দিয়েই বাড়ি ফিরেছেন। আজ রোববার সকাল ১০টা রেবেকা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরছিলেন। প্রতিবেদক কান্নার কারণ জানতে চাইলে বলছিলেন, ‘চেয়ারম্যান ফিরায়ে দিলো। আগ বাড়িয়ে আমাক বলছে, আপনি বাড়ি যান। ভোট দিতে দেয়নি। তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।’ অভিযুক্ত ওই চেয়ারম্যান হলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও বিহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম।

একই অভিযোগ করেছেন মান্নার বোনের ছেলে সাব্বির আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান মাহিদুলের উপস্থিতিতেই তাকে প্রকাশ্যে লাঙলে প্রতীকে ভোট দিতে বলা হয়। না হলে ভোট দেয়া যাবে না বলে হুমকি দেয়। সেখানে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেও কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ মাহমুদুর রহমান মান্নার ভাগ্নের। মান্নার আর এক আত্মীয় জানান, সবার সামনে সিল মারার কথা বলায় তিনি কেন্দ্র থেকে ফিরে এসেছেন।

দুপুর ২টায় বগুড়া শহরের হোটেল নাজ গার্ডেনে সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, অধিকাংশ কেন্দ্রেই তার এজেন্টকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। কিছু কেন্দ্র থেকে এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়েছে।এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের কথা অস্বীকার করেননি বিহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ধানের শীষের এজেন্ট ভয়েই আসেনি। আর আমি থাকতে ধানের শীষে ভোট পড়তে পারে না।’এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কলেজ শিক্ষক রওশন আলী। তিনি বলেন, ‘লাঙল ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকের পক্ষে কোনো এজেন্ট আসেননি।’

হলুদ খেলে বৃদ্ধি পায় যে শারীরবৃত্তীয় ক্ষমতা

রান্না হোক কিংবা অন্যান্য কাজে, হলুদের গুণাগুণ কখনই অগ্রাহ্য করা যাবে না। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন জটিল রোগ নিরাময়েও ব্যবহার করা হয়ে থাকে এই হলুদ। এছাড়া আয়ুর্বেদিক জগতেও বেশ সুনাম আছে এই জিনিসটির।

এখানেই শেষ নয়, গবেষণা বলছে, স্মৃতিভ্রমকেও নাকি দূর করার ক্ষমতা রাখে হলুদ।  নিয়মিত হলুদ খেলে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। এছাড়া যাদের ভুলে যাওয়ার রোগ রয়েছে, তাদের স্মৃতিশক্তি বেড়ে যায়।

প্রায়শই বিভিন্ন জিনিস ভুলে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে ৫০–৯০ বছর বয়সী এমন ৪০ জনের ওপরে চালানো হয় সমীক্ষা। ৪০ জনের মধ্যে ২০ জনকে প্রতিদিন ৯০ মিলিগ্রাম হলুদ খাওয়ানো হয়। ১৮ মাস পর দেখা যায়, যে ২০ জন নিয়মিত হলুদ খেয়েছেন তারা মানসিকভাবে অনেকটাই সুস্থ হয়ে গিয়েছেন।

এমনকী স্মৃতিশক্তিও আগের তুলনায় অনেক ভাল হয়েছে। এরপরই বেশ কয়েকজন অ্যালঝাইমার্স রোগীদের ওপরে পরীক্ষা করেও সুফল পান গবেষকরা। তারপরই তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, সত্যিই হলুদ খেলে দূর হতে পারে স্মৃতিভ্রম। তবে একদিনেই ফল পাবেন না। নিয়মিত বেশ কিছুদিন ধরে হলুদ খেতে হবে। ‌‌

বি চৌধুরী: যা শুনছি তার তদন্ত হওয়া উচিত

ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপি জোটের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার যে অভিযোগ শুনছি তা সত্য হলে এসবের তদন্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। রোববার ঢাকা-১৭ আসনের বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের বারিধারা কসমোপলিটন ক্লাবকেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন তিনি। ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা সময় তিনি বলেন, ‘শুনছি!

ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপি জোটের এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে। এটি মোটেও ঠিক নয়। তবে এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। যদি এ রকম হয়েই থাকে, তা হলে এর তদন্ত করা উচিত।’ ভোটদান নিয়ে অভিব্যক্তি জানতে চাইলে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘সারা দেশে সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। আশা করছি, এর মাধ্যমে দেশবাসী প্রত্যাশিত ফল পাবেন।’

বি. চৌধুরী: ইসি স্বাধীনভাবে কাজ করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব:: বিকল্পধারা বাংলাদেশ নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বি. চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) যদি তার ওপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে তাহলে একটি ‘ভালো’ নির্বাচন সম্ভব।
তিনি বলেছেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন এখন স্বাধীন এবং সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী। কমিশন রাষ্ট্রপতির অধীন, সরকারের অধীন নয়। সুতরাং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব কমিশনের।’

সোমবার এক আলোচনা সভায় বি. চৌধুরী আরও বলেন, ‘কোনো সরকারি কর্মকর্তার বদলি বা বহিষ্কারের ক্ষমতা এখন সরকারের নেই। নির্বাচন কমিশনের এই ক্ষমতা আছে। যদি নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করে এখনও একটি ভালো নির্বাচন করা সম্ভব।’বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) যুক্তফ্রন্ট এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভায় সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরী বলেন, সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হবে এবং গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য বিশেষ উপকারী ধনে পাতা

ডাল, তরকারি, মুড়ি মাখা থেকে শুরু করে ফুচকাসহ নানা খাবারে ব্যবহার হয় ধনে পাতা৷ শুধু স্বাদে নয়, ধনে পাতার স্বাস্থ্য গুণও অনেক বেশি ৷ চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিন ধনে পাতা খেলে অনেক রোগ দূর হবে খুব দ্রুত৷

১) প্রতিদিন ধনে পাতার শরবত খেলে কিডনি ভালো থাকে। কিডনির মধ্যে জমে থাকা ক্ষতিকর লবন এবং বিষাক্ত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।

২) ধনে পাতা খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমে যায়, ভালো কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। হজমে উপকারী, যকৃতকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে এবং পেট পরিষ্কার হয়ে যায় ধনে পাতা খেলে।

৩) ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য ধনে পাতা বিশেষ উপকারী একটি খাবার। এটি ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রক্তের সুগারের মাত্রা কমায়। ধনে পাতায় থাকা অ্যান্টি-সেপটিক মুখে আলসার নিরাময়েও উপকারী, চোখের জন্যও ভালো।

৪) কারও মাথাব্যথা হলে ধনে পাতা ও গাছের রস কপালে লাগান। মাথাব্যথা কমে যাবে। ধনে পাতা চিবিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের মাড়ি মজবুত হয় এবং দাঁতের গোড়া হতে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।

৫) ধনে পাতায়  রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা বাতের ব্যথাসহ হাড় এবং জয়েন্টের ব্যথা উপশমে কাজ করে। স্মৃতিশক্তি প্রখর এবং মস্তিস্কের নার্ভ সচল রাখতে সাহায্য করে ধনে পাতা।

৬) ধনে পাতার মধ্যে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিইনফেকসাস, ডিটক্সিফাইং, ভিটামিন ‘সি’ এবং আয়রন, যা গুটিবসন্ত প্রতিকার এবং প্রতিরোধ করে।

৯) মুখের দুর্গন্ধ ও অরুচি ভাব দূর করে ধনে পাতা। এছাড়া শুকনো ধনেও একই কাজ করে। মাঝে মাঝে ধনেপাতা চিবিয়ে খান, মুখের দুর্গন্ধ থাকবে না।

গরম দুধ পানের অজানা ৩ উপকারিতা

গত কয়েক বছরে আমাদের জীবনে অনেক  পরিবর্তন এসেছে। কর্পোরেট লাইফে ঢুকে পড়ার পর অনেকেই পেয়েছেন জীবনের অন্যতম দুটো উপহার। তা হলো অবসাদ এবং নিদ্রাহীনতা। অনেকেই আছেন যারা রাতে ঘুম না হওয়ার সমস্যায় ভোগেন। আর এর প্রভাব পড়ে তাদের কর্মক্ষেত্রে।

চিকিত্‍সকরা বলছেন, খাওয়া দাওয়ার অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলে অনেটাই কাটিয়ে ফেলা যাবে এই সমস্যা। যাদের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি রয়েছে, তাদের অনেকেরই ঘুমের সমস্যা হয়। তাই রাতে  ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধ কিংবা এক কাপ দই খেয়ে ঘুমোতে যান, দেখবেন এতে উপকার পাবেন।

আর সেই দুধ যদি গরম হয় তবে তো কথায় নেই। কারণ গরম দুধ মাংসপেশিকে শিথিল করে। ফলে ঘুম তাড়াতাড়ি আসে। এছাড়াও দুধের মধ্যে রয়েছে অন্য বেশ কয়েকটি অজানা উপকারিতা। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলি কী কী –

১। ক্লান্তি দূর করে-

কর্মব্যস্ততার পর ক্লান্তি দূর করতে এক গ্লাস গরম দুধ খুবই উপকারী। গরম দুধ ক্লান্ত পেশি সতেজ করতে সাহায্য করে। এছাড়া, দুধ খেলে শরীরে মেলটনিন ও ট্রাইপটোফ্যান হরমোন নিঃসৃত হয়,  এই হরমোনগুলো ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে।

২। হৃদপিণ্ড ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ-

দুধে রয়েছে পটাশিয়াম যা হৃদপিণ্ডের পেশির সুস্থতা বজায় রাখে। তাছাড়া এর খনিজ উপাদান হৃদপিণ্ড সতেজ রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণও করতে পারে।

৩। চুলের পুষ্টি-

দুধে আছে প্রচুর ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা চুলের জন্য খুব উপকারী। তাছাড়া দুধের ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ের জন্যও জরুরি।

তবে অপানার যদি হাইপার অ্যাসিডিটি থেকে থাকে তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার  দুধ এড়িয়ে চলাই ভাল।

হৃদরোগ প্রতিরোধ করে ‘ঘাস খাওয়া’ গরুর দুধ

এটা বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না যে, দুধ নিঃসন্দেহে একটি সুপারফুড। সমস্ত বয়সের মানুষের জন্য দুধ উপকারী। দুধে এমন কিছু উপদান থাকে, যা শরীরের বিভিন্ন ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।

সম্প্রতি ফুড সায়েন্স এবং নিউট্রিশন জার্নালে একটি তথ্য প্রকাশ হয়েছে, যে সমস্ত গরু শুধুমাত্র ঘাস খায়, সেই গরুর দুধ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। ঘাস খাওয়া গরুর দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ওমেগা থ্রি, যা হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

আমাদের শরীরের উপকারের জন্য ওমেগা সিক্স এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড খুবই প্রয়োজনীয় দুটি উপাদান। তবে, প্রচুর পরিমাণে ওমেগা সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড এবং খুব কম পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি ওবেসিটি এবং ডায়াবিটিসের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

তাই গবেষকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শুধুমাত্র ঘাস খায় এমন গরুর দুধ খেতে। কারণ একমাত্র ঘাস খাওয়া গরুর দুধেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এবং এই দুধ আমাদের শরীরে ওমেগা সিক্স এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখে। এর ফলে হৃদরোগ সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

গাজরের পুষ্টিগুণ

সালাদ কিংবা মিক্সড ভেজিটেবলে গাজরের ব্যাপক কদর। হালুয়া তো সবারই প্রিয়। আর এই গাজর চোখ ও হার্টের জন্য খুবই উপকারী। গাজরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ আছে। হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে গাজর সাহায্য করে। হার্ট ভালো রাখতে গাজর খান। গাজরের সলিউবল ফাইবার হাই

কলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ব্লাড সুগার লেভেল ঠিক রাখে, ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ গাজর ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ করে। হাই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে।

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ গাজরে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ভিটামিন সি, ফাইবার, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন ও পটাসিয়াম, যা ক্ষেত্রবিশেষ দারুণ ওষুধের ভূমিকা পালন করে। এটি দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।  চলুন জেনে নেয়া যাক গাজর থেকে কি কি উপকার পাবেন—

১. যদি চোখের সমস্যা থাকে তাহলে গাজর খাওয়া শুরু করে দিন। কারণ গাজর দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়।

২. গাজরে আছে বিটা ক্যারোটিন, যা আমাদের লিভারে গিয়ে ভিটামিন-এ তে বদলে যায়। পরে সেটি চোখের রেটিনায় গিয়ে চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, সেই সঙ্গে রাতের বেলায় অন্ধকারেও চোখে ভালো দেখার জন্য দরকারি এমন এক ধরনের বেগুনি পিগমেন্টের সংখ্যা বাড়িয়ে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৩. এতে আছে ফ্যালকেরিনল যা অ্যান্টিক্যান্সার উপাদানগুলোকে পূর্ণ করে। ফলে গাজর খেলে ব্রেস্ট, কোলন, ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। গাজর শুধু শরীরের জন্য ভালো তাই নয়, এটি অ্যান্টি এজিং উপাদান হিসেবেও কাজ করে। এতে যে বিটা ক্যারোটিন আছে তা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে শরীরের ক্ষয়প্রাপ্ত কোষগুলোকে পরিপূর্ণতা দেয়।

তবে যাদের ইউরিক এসিডের সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গাজর খাবেন।

বাতের ব্যাথার কষ্ট উপশমে ৫ ঘরোয়া উপায়

আমাদের পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে বাতের ব্যাথার সমস্যা রয়েছে। বাতের সমস্যা অনেক কারণে হতে পারে। অনিয়মিত জীবনযাপন, বংশগত, অন্য বিভিন্ন রোগের প্রভাবে, এছাড়া আরও অনেক কারণে বাতের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শুধু বেশি বয়সের মানুষই নন, কমবয়সীরাও বাতের সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। অনেক ওষুধ খেয়েও কিছুতেই বাতের ব্যাথা থেকে মুক্তি পান না বহু মানুষ। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে কিন্তু এমন কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে, যাতে বাতের কষ্ট থেকে কিছুটা রেহাই পেতে পারেন। জেনে নিন উপায়গুলো-

১) বাত সাধারণত আমাদের দুটো হাড়ের সংযোস্থলে হয়ে থাকে। তাই ছোটবেলা থেকেই হাড়ের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। আমাদের এমন সমস্ত খাবার খেতে হবে, যা হাড়কে মজবুত রাখে। বাতের সমস্যা তৈরি করে যে সমস্ত খাবার যেমন, মিষ্টি, ডিম এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য খাওয়া কম করতে হবে।

২) বাতের ব্যাথা কমাতে প্রচুর পরিমাণে তাজা শাক-সবজি, ফল খাওয়া খুব জরুরি। মিহি চিনি, শস্যদানা, রিফাইন্ড অয়েল এবং ট্রান্স ফ্যাট খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এবং অতিরিক্ত নুন খাওয়া ত্যাগ করতে হবে।

৩) বাতের ব্যাথায় কষ্ট পেলেও অস্থির না হয়ে মনকে শান্ত রাখতে হবে। উত্তেজিত হলে কষ্ট বাড়ে। তাই মন এবং মস্তিষ্ককে শান্ত রাখতে যোগাসন অভ্যাস করুন।

৪) আমরা সকলেই জানি, হলুদ স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। ব্যাথা, যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে রোজকার খাবারে হলুদের ব্যবহার করুন।

৫) ব্যাথা, যন্ত্রণা কমানোর জন্য দারুণ উপকারী হল ব্যায়াম। বাতের সমস্যা অতিরিক্ত হলে একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তিনিই বিভিন্ন ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনার কষ্টের উপশম ঘটাতে পারবেন।

নির্বাচন নিয়ে যা বললেন বিদেশি পর্যবেক্ষকরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আসা বিদেশি পর্যবেক্ষকরা বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ কালে বলেছেন, উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে।

ভোটকেন্দ্রে সব দলের প্রতিনিধিদের দেখেছেন এবং সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টের কথা জানিয়েছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিদেশি পর্যবেক্ষক কানাডিয়ান নাগরিক তানিয়া ফস্টার।

রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি এমন কথা বলেন।

তানিয়া ফস্টার বলেছেন, আমরা এখন পর্যন্ত ৫টি কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। পোলিং এজেন্ট থেকে শুরু করে প্রিজার্ডিং অফিসার সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব সুষ্ঠু ভাবে পালন করছেন। ভোটাররা উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন। পরিবেশ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।

বিদেশে প্রথমবারের মতো নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসা তানিয়া বলেন, এখানকার নির্বাচনের পুরো উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে আমি মুগ্ধ।

পর্যবেক্ষক দলের আরেক প্রতিনিধি গৌতম ঘোষ বলেন, অসাধারণ উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সবাই শান্তিপূর্ণভাবে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা ভোট দিচ্ছে।

সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের আওতায় নেপাল, ভুটানসহ ৮টি দেশ প্রতিনিধিরা বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করছেন।

মেদ কমাবে কলা, বাড়াবে মানসিক শক্তি

এবার আপেলের জায়গা কেড়ে নিতে চলেছে সর্ব ঋতুর ফল কলা। এমন তথ্যই এবার জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা। আমরা সবাই জানি কলা একটি উপকারি ফল। আট থেকে আশিদের শরীর-স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে কলা প্রতিদিন খায়। তবে কলা উপকারি জানলেও কি উপকার করে সেটা কি সকলের জানা?

এবার তাহলে আসা যাক সেই আলোচনায়৷ প্রথমত, কলাতে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম থাকে। শুধু স্বাস্থ্য ভালো রাখতেই এই কলা প্রয়োজন নয়, শরীরের গঠনগত দিকও ঠিক রাখে কলা। এছাড়াও কলা মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে কলা বেশ উপকারি।

কলা আসলে ট্রিপটোফ্যান সমৃদ্ধ।  যা পরে সেরোটোনিন রূপান্তরিত হয়। এটি সাধারণত মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের ঘাটতিকে পূরণ করে। রোটোনিনের অভাব বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগসহ বিভিন্ন মানসিক রোগের লক্ষণ। সেগুলো পূরণ করতেই কলা এক অভিনব ফল।

এবার আসা যাক ওজনের কথায়। ধরুন আপনি আপনার অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চিন্তিত। তাহলে নির্দ্বিধায় খান কলা। কেননা, এই কলাই আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে। কলা নিয়মিত খেলে তার থেকে মানব শরীর ১২ শতাংশ পর্যন্ত ফাইবার পায়। কলায় ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় ব্রেনের জন্যও তা বেশ উপকারি।

তবে একটি দিনের জন্য একটি কলাই একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য ঠিক। এর বেশি খেলে তা উপকারের বদলে অপকারই করবে। সকালে ব্রেকফাস্টের পর বা দুপুরে মধ্যাহ্ন ভোজনের পর কলা খাওয়া যায়, তবে কখনওই খালি পেটে বা রাতে এই ফলটি খাওয়া উচিত নয়।