জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত

আগামী বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে তাবলিগ জামাতের দু’পক্ষের সঙ্গে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

পরে ধর্মসচিব মো. আনিছুর রহমান গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তাবলীগ জামাতের বিবদমান দুই পক্ষ ছাড়াও পুলিশের আইজি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ধর্ম সচিব, তাবলীগ জামাতের মুরব্বিদের মধ্যে শুরা সদস্য মাওলানা যুবায়ের আহমদ ও সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার কারণে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত থাকায় নির্বাচনের পরে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বলেন, নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। দুই গ্রুপ আলাদা হয়ে দুই দফায় চারবার ইজতেমা করলে এটাকে কন্ট্রোল করা কঠিন হবে। এতে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই পক্ষই জানুয়ারিতে ইজতেমা না করাতে সম্মত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তাবলিগ জামায়াতের বিশ্ব আমির দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভি ও নিজামুদ্দীন মারকাজের বিরোধিতা করছেন পাকিস্থানের তাবলিগি নেতৃবৃন্দ। তাই তাবলিগের মূল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিজামুদ্দীন মারকাজের সমান ক্ষমতা দাবি করে আলমি শুরা গঠন করে রাইভেন্ড মার্কাজ।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অংশদারিত্বের বিবাদে দিল্লি-লাহোর জড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়েই এর প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশে তাবলিগ জামায়াতের প্রধানকেন্দ্র কাকরাইল মসজিদেও ছড়িয়ে পড়ে এ বিভক্তি।

তাবলিগ জামাতের ইতিহাসে এ প্রথম ইজতেমা ও জোড়ের তারিখ নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এ দ্বন্দ্ব নিরসনেই বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা ফখরুলকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিল ছাত্রলীগ!

মির্জা ফখরুলকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিল ছাত্রলীগ!

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ।

ক্ষমা চাইতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করারও ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ।

‘নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত’-বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।

‘গত বুধবার পুলিশের ওপর বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল’ শিরোনামে ব্যানার নিয়ে মিছিল শেষে সমাবেশে ছাত্রলীগের নেতারা এই আল্টিমেটাম দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ-মিছিল শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এ আল্টিমেটামের ঘোষণা আসে।

সমাবেশে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত দেশের সম্পদ নষ্ট করেছে। তারা বাংলাদেশের মানুষের ভালো চায় না, শুধু ক্ষমতা চায়। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা তত উচ্ছৃঙ্খল হচ্ছে। তাদের ব্যাপারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে জীবন বাজি রাখতে হবে।’

সমাবেশে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘দেশের মানুষ যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উসকানিতে ছাত্রদলের ক্যাডাররা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করেছে। যানবাহন ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট করে এর দায় চাপানো হয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর। হামলাকারীরা ছাত্রদল ও বিএনপির ক্যাডার। অথচ মির্জা ফখরুল তাদের ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনী বলে মিথ্যাচার করেছেন। আমরা বিএনপি নেতাদের এ ধরনের মিথ্যাচার ও অপসংস্কৃতির নিন্দা জানাই।’