বিদেশিদের কথায় নিজ বউকে ডিভোর্স দেয়া যায় না’ জামায়াত প্রসঙ্গে এলডিপি সভাপতি

রাজধানীর তেজগাঁও দলীয় কার্যালয়ে শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেছেন, ‘জামায়াত যারা করে তারা যদি এ দেশের নাগরিক হয় তা হলে তাদের রাজনীতি করতে দিতে হবে’ । সরকার তাদের নিষিদ্ধ করে নাই। বিদেশিদের কথায় নিজের বউকে ডিভোর্স দেয়া যায় না।’

এলডিপি সভাপতি বলেন, ‘বিরোধী দলের অনেকে সরকারের টাকায় নির্বাচন করেছেন। বিরোধী দলে থেকে তারা বড় বড় কথা বলে, আবার সরকারের টাকায় নির্বাচন করে।’

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করে পুনঃনির্বাচনের দাবি করলেও যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি আহবান জানিয়েছেন সেজন্যে আমি বলতে চাই অবিলম্বে দেশের সৎ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিকদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে বেশিদূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।

কর্নেল অলি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর দিনে ড্রামা হয়েছে আর রাতে ব্যালট কাটা হয়েছে। ৮০ ভাগ ব্যালটে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নেই। ৯৫ ভাগ ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট চোখে দেখার সুযোগ পায়নি। গত ৩/৪ বছর পর্যন্ত দিনের বেলায় হয় ড্রামা আর রাতের বেলায় হয় ভোট। টাকা জমা দেয়ার পর ও রেজাল্ট শীট দিচ্ছে না রিটার্নিং কর্মকর্তা।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কবর রচনা হয়েছে। মিথ্যার উপর ভিক্তি করে সরকার বেশি দিন টিকবে না। সরকার জাতীয় ঐক্য চাইলে রাজনৈতিক বিবেচনায় যে সব বিরোধী নেতা কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহার করার আহবান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন,পরবর্তীতে পুনর্নিবাচনের দাবি। উপজেলায় অংশ নিবেনা এলডিপি। বিচার বিভাগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে তাই নির্বাচন নিয়ে মামলা করে কোন ফল হবে না, আর করলেও মামলায় তাদের পক্ষেই রায় দিবে আদালত এ জন্য মামলা করবে না ২০ দল।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদত হোসেন সেলিম, সহ-সভাপতি মোখফার উদ্দিন চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, যুব বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বারী রাজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আত্তাহিয়্যাতু পড়ার সময় আঙুল দিয়ে ইশারা করতে হয় কেন

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় একটি বেসরকারি টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

বিশেষ আপনার জিজ্ঞাসার ৪৯৬পর্বে ‘আত্তাহিয়্যাতু’ পড়ার সময় শাহাদাত আঙুল দিয়ে সঠিক করণীয় সম্পর্কে আশুগঞ্জ থেকে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন মীর মোহাম্মদ সেলিম। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা। প্রশ্ন : আত্তাহিয়্যাতু পড়ার সময় আমরা যে শাহাদাত আঙুল উত্তোলন করি। দেখা যায় যে কিছু কিছু লোক উত্তোলন করে ছেড়ে দেয়, কিছু কিছু লোক আঙুলটাকে আস্তে আস্তে উপরে নিচে নাড়াতে থাকে, আবার কিছু লোক আঙুলটাকে সোজা করে উঠিয়ে আঙুলের দিকে তাকিয়ে থাকে।

বলে রাসুলের (সা.) নির্দেশ আঙুলের দিকে তাকিয়ে থাকা। আসলে সঠিক কোনটি? উত্তর : এ ক্ষেত্রে সহিহ পদ্ধতি হচ্ছে, হাদিস দ্বারা যেটি সাব্যস্ত হয়েছে, নবী (সা.) শাহাদাত আঙুল দিয়ে তাওহিদের ইশারা করতেন, তিনি শাহাদাত আঙুলটাকে নাড়াতেন। যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করতেন তখন রাসুল (সা.) ইশারা করতেন। সুতরাং এটা পুরা সময়টাই ইশারা করার বিষয়টি সহিহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। যদি কেউি এভাবে ইশারা করতে চান, তাহলে করতে পারেন। তবে এগুলো মুস্তাহাব বিষয়, এ নিয়ে বাড়াবাড়ির কোনো সুযোগ নেই

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় একটি বেসরকারি টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিশেষ আপনার জিজ্ঞাসার ৪৯৬পর্বে ‘আত্তাহিয়্যাতু’ পড়ার সময় শাহাদাত আঙুল দিয়ে সঠিক করণীয় সম্পর্কে আশুগঞ্জ থেকে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন মীর মোহাম্মদ সেলিম। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা। প্রশ্ন : আত্তাহিয়্যাতু পড়ার সময় আমরা যে শাহাদাত আঙুল উত্তোলন করি।

দেখা যায় যে কিছু কিছু লোক উত্তোলন করে ছেড়ে দেয়, কিছু কিছু লোক আঙুলটাকে আস্তে আস্তে উপরে নিচে নাড়াতে থাকে, আবার কিছু লোক আঙুলটাকে সোজা করে উঠিয়ে আঙুলের দিকে তাকিয়ে থাকে। বলে রাসুলের (সা.) নির্দেশ আঙুলের দিকে তাকিয়ে থাকা। আসলে সঠিক কোনটি? উত্তর : এ ক্ষেত্রে সহিহ পদ্ধতি হচ্ছে, হাদিস দ্বারা যেটি সাব্যস্ত হয়েছে, নবী (সা.) শাহাদাত আঙুল দিয়ে তাওহিদের ইশারা করতেন, তিনি শাহাদাত আঙুলটাকে নাড়াতেন।

যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করতেন তখন রাসুল (সা.) ইশারা করতেন। সুতরাং এটা পুরা সময়টাই ইশারা করার বিষয়টি সহিহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। যদি কেউি এভাবে ইশারা করতে চান, তাহলে করতে পারেন। তবে এগুলো মুস্তাহাব বিষয়, এ নিয়ে বাড়াবাড়ির কোনো সুযোগ নেই

পেঁয়াজ আমাদের শরীরে ব্যাড কোলেস্টরলকে জমতে দেয়না, জেনে নিন কিভাবে খাবেন

পেঁয়াজ রান্নার অতি প্রয়োজনীয় উপকরণ। তাছাড়াও শরীরের জন্য ও অত্যন্ত্য উপকারী। পেঁয়াজ নানা ভাবে আমাদের সহয়তা করে শরীরের যত্ন নিতে। আসুন জেনে নেই পেঁয়াজের উপকারিতা। পেঁয়াজের রসে মধু মিশিয়ে খেলে জ্বর ,সর্দিকাশি ,ইত্যাদি থেকে খুব তাড়াতাড়ি এবং সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। প্রতিদিন একটি করে কাঁচা পেঁয়াজ খেলে অনিদ্রা জনিত রোগের সমস্যা থাকলে তা দূর করে। হজমের সমস্যা থাকলেও পেঁয়াজ তা সরিয়ে তুলতে সাহায্য করে। নাক দিয়ে রক্ত পড়া -এই রোগ টি অনেকের ই থাকে ,বা শরীরের কোনো দুর্বলতার কারণে এটি ঘটে থাকে। পেঁয়াজ এই সমস্যার ও সমাধান হিসেবে কাজ করে। শরীরের কোনো অঙ্গ পুড়ে গেলে ,বা পোকা মাকড় কামড়ালে সেই জায়গা টি তে পেঁয়াজের রস এন্টিসেপ্টিকের কাজ করে।

পেঁয়াজ আমাদের শরীরে ইন্সুলিন এর ক্ষরণের পরিমানকে স্বাভাবিক রাখে। এছাড়া এটি শরীরে সুগার লেভেলকে ঠিক রাখে। ফলত ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনাকে কমে যায়। পেঁয়াজ আমাদের শরীরে ব্যাড কোলেস্টরলকে জমতে দেয়না। ফলত হৃদয় জনিত সমস্যা কম হয়। আর্থরাইটিস ,বা অস্ট্রিওপলোসিস ,এই রোগের প্রকোপ আজকাল খুব বেড়ে গিয়েছে। এই রোগগুলি সারিয়ে তুলতে পেঁয়াজ খুবই উপযোগী।

চোখের এবং কানের সমস্যা থাকলেও পেঁয়াজ অন্যান্যা উপযোগী। ছোট বাচ্ছাদের বা সদ্যজাত বাচ্ছাদের দৃষ্টি শক্তি বাড়িয়ে তুলতে পেঁয়াজের রস ব্যবহৃত হয়। পেঁয়াজে ভিটামিন ই থাকে। তাই প্রতিদিন একটি করে কাঁচা পেঁয়াজ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। পেঁয়াজে কর্সেটিন থাকে। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে বিশেষ করে স্টমাক ক্যান্সার এবং কলোরেক্টাল প্রতিরোধ এ পেঁয়াজ উপযোগী।

দাঁত ও মাড়িতে যে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া জন্মায় তা দূর করতেও পেঁয়াজ অত্যন্ত উপযোগী। কাঁচা পেঁয়াজ গ্যাস্ট্রিক আলসার প্রতিরোধ এ সাহায্য করে। জ্বর হলে অনেক সময় আমাদের সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রনা হয়। এক্ষেত্রে পেঁয়াজের বীজ এন্টিবায়োটিক এর কাজ করে।

ত্বক এবং চুলের সমস্যার সমাধান হিসেবে পেঁয়াজের উপকারিতা : পেঁয়াজ আমাদের ত্বককে সতেজ রাখে। এতে প্রচুর পরিমানে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে এছাড়া ভিটামিন এ বা ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই থাকার জন্য আমাদের ত্বকের স্বাস্থ বৃদ্ধি হয় এবং তা সতেজ ও উজ্জ্বল হয়। এছাড়া ক্ষতিকারক ইউ ভি থেকে আমাদের ত্বকের যে ক্ষতি হয় ভিটামিন এ ,সি এবং ই তা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ত্বকের চামড়া টানটান রাখে। ফলত মুখ বয়স জনিত ছাপ পড়তে পারেনা।

আমাদের মুখে অনেক সময় ফোঁড়া হয়,বা নানা রকম ইনফেকশন এর জন্য সারা মুখ লাল হয়ে ফুলে ওঠে। এক চামচ পেঁয়াজের রসে একচামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মুখে মেখে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে কিছুদিন করলে এই সমস্যার হাত থেকে রেহাই নিশ্চিত। পেঁয়াজ রক্তকে পরিশুদ্ধ করে। ফলত আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বেড়ে যায়। পেঁয়াজের রস ,দুধ ও ময়দা সহযোগে মিশ্রণ বানিয়ে রোজ মুখে মাখলে তা আমাদের স্কিন টোনকে হালকা করতে সাহায্য করে।

পেটের জন্য খুবই ভালো পেঁয়াজ। পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পেটে কাঁচা পেঁয়াজ খেতে পারেন। হজমশক্তি ভালো হয়। ত্বকের মতো চুলের যত্ন নিতেও পেঁয়াজ কার্যকরী। পেঁয়াজ খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। ফলত চুল পড়া কম করতেও সাহায্য করে। নারকেল তেলের সাথে পেঁয়াজের রস ও অলিভ অয়েল এর মিশ্রণ মাথায় ও চুলে লাগিয়ে ১ থেকে ২ ঘন্টা রেখেদিন এবার শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কিছুদিন করলেই খুশকি ও চুলপড়ার হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে। মেথি এবং পেঁয়াজের রস মিশিয়ে চুলে লাগান। এতে চুল মসৃন ও নরম হয় এবং উজ্জ্বলতা বেড়ে যায়। এছাড়া পেঁয়াজের রসে মধু মিশিয়ে মাথায় ও চুলে লাগালে চুল পড়া কমে ও চুলের ঘনত্ব বেড়ে যায়।

মিতুর লোভী প্রতারক পরিবারের অজানা তথ্য

মনে আছে আরমানের কথা! আরমান ছিল খুনী মিতুর ভাই যার জন্য তোলা ৮০ লক্ষ টাকার সিংহভাগ মিতুর বাবা মিতুর নামে ফিক্সড ডিপোজিট করে মেরে দিয়েছিল।

২০১০ সালে লিউকোমিয়া আক্রান্ত একটি শিশু আরমান যে ছিল আকাশ ভাইকে হত্যাকারী মিতুর ভাই।

হঠাৎ একদিন আমার কাছে চট্টগ্রাম থেকে ফোন আসে আমাদের এক ব্যাচম্যাটের ভাই অসুস্থ। তাকে বাঁচানোর জন্য ৮০ লক্ষ টাকা দরকার। আমার বন্ধু মেহেদী, নাকিব ও সাদ এর প্যাড়াতে আমি চট্টগ্রাম আসার সিদ্ধান্ত নিই।

চট্টগ্রামে এসে বন্ধু-বান্ধব এবং ছোটভাই’রা মিলে বৈঠকে বসলাম; সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা একমাসের মধ্যে ৮০লক্ষ টাকা সংগ্রহ করবো। আরমানকে বাঁচাবো।

২০১০ সালের এপ্রিল মাসে কাজ শুরু করলাম আমরা। দেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরমানের জন্য টাকা সংগ্রহ করা শুরু হয়েছিল। এইভাবে খেয়ে না খেয়ে রাতদিন পরিশ্রম করে টাকা তুলতো সারাদেশের হাজারো ছেলে-মেয়ে, যাদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু আরমানকে বাঁচানো, ফুটফুটে একটি শিশুর মুখে হাসি ফুটানো।

আমি নিজে আমার ভার্সিটি জীবনের ক্লাস পড়া বাদ দিয়ে সারাদিন মত্ত হয়ে থাকতাম কতটাকা কালেক্ট হলো, কতটাকা ব্যাংকে জমা পড়লো, আরো কত টাকা তুলতে হবে, তা হিসেব করতে।

আবার সেগুলো আরমানের জন্য খোলা ফেইসবুক গ্রুপে আপডেট দেয়া লাগতো। কিন্তু তখনো আমরা জানতাম না যে, আমরা কিছু নিচু মানসিকতার মানুষের জালে আটকা পড়েছি।

মিতুর বাবা-মার অঢেল সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও তারা আরমানের জন্য একটা টাকাও খরচ করেনি, কারন তারা জানতো আরমান মারা যাবে। তাই তারা স্বামী-স্ত্রী ফন্দি করে মাঠে টাকা তোলার জন্য নামিয়ে দিয়েছিল তাদের মেয়েদের।

মিতুর বাবার চট্টগ্রাম শহরে তৎকালীন সময়ে পাচঁলাইশ এরিয়াতে একটা ফ্ল্যাট বাসা ছিল, যার দাম ছিলো ৪০ লক্ষ টাকার উপরে, একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ছিল,চট্টগ্রাম শহরে দোকান ছিল, জমি ছিলো। কিন্তু সেসব তথ্য আমরা আরমানের জন্য টাকা তোলার সময় জানতেও পারিনি।

সমগ্র বাংলাদেশ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে আরমানকে সিঙ্গাপুর পাঠানোর কিছুদিন পর আরমান মারা যায়।

আরমানের দাফনের পরে সত্য বের হয়ে আসতে শুরু করে। জানতে পারি মিতুর বাবার সম্পত্তির কথা। সবাই তখন আমাকে এবং আমার বন্ধুদের বলে ওর বাবার টাকা ছিল তারপরেও কেন আমরা টাকা তুললাম, আমরা জানালাম আমরা এসব জানতাম না।

তার কিছুদিন পরে মিতুর বাসায় ওর বাবার সাথে বসতে গেলাম কারণ আমাদের হিসাব মতে ৮০ লক্ষ টাকা থেকে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা বেঁচে যাওয়ার কথা।

কিন্তু মিতুর বাবার সাথে বসতে গেলে তিনি জানান মাত্র ১২ লক্ষ টাকা অবশিষ্ট আছে, সেইটা জেনে আমি আমার বন্ধু মেহেদী, সাদ, বিশু, রুমু সবাই খুবই অবাক হলাম। আমরা অনেক বিতর্ক করলাম কিন্তু মিতুর বাবা আমাদের বলে ১২লক্ষ টাকাই আছে। তখন আমরা সবাই সিদ্ধান্ত নিলাম

এই ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে আরমানের নামে একটা ট্রাস্ট করবো এবং আমরা লিকোমিয়া আক্রান্ত রোগীদেরকে এই ট্রাস্টের মাধ্যমে সাহায্য করবো। সবাই একমত হয়ে মিতুর বাবা-মা কে জানিয়ে আসলাম আমরা পরের মাসে ট্রাস্টের কাজ শুরু করবো।

কিন্তু অতি দু:খের বিষয় আমরা দেখা করে যাওয়ার ৩-৪ দিন পরে জানতে পারি মিতুর বাবা মিতুর নামে ঐ টাকাটা ফিক্সড ডিপোজিট করে ফেলেছে। এটা শুনে আমরা সবাই হতবাক হয়ে গেলাম এবং মনের কষ্টে সিদ্ধান্ত নিলাম আর কখনো কারো সেবা করবো না।

তখন আরমানের জন্য খোলা গ্রুপটাতে মানে ২০১০ সালে একটা ফেইসবুক গ্রুপে প্রায় ২০হাজার মেম্বার ছিল। আরমান মারা যাওয়ার পরে আমাদের যারা এডমিন ছিল তাদেরকে বাদ দিয়ে তারা আসতে আসতে গ্রুপটি বন্ধ করে দেয়।

আমরা দেশ-বিদেশে যারা আরমানের জন্য টাকা সংগ্রহের কাজ করছিলাম, তাঁরা শুধুমাত্র একটি ফুটফুটে হাসিখুশি শিশুর মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতেই কাজ করছিলাম। কিন্তু আড়ালে এক ভয়ংকর ক্রিমিনাল তার ছেলের মৃত্যুর বিনিময়ে জাল বিস্তার করেছিল যাতে সে তার ব্যবসার লোকসান এখান থেকে সামাল দিতে পারে।

আমরা তখন হার মেনে ছিলাম, কারণ তখন আমরা ছোট ছিলাম, বুঝতাম কম আবেগ ছিল বেশী। কিন্তু এইবার কথা দিলাম আনিস সাহেব!! ভাই হত্যার বদলা নিয়েই ছাড়বো [ফেসবুক থেকে সংগৃহিত]

৬ ঘণ্টা পরীক্ষা দিল ৪৮ জন শিক্ষার্থী

২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল এপিসি বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব সুখলাল বাইনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর চলতি বছরের বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা নেয়া হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর নতুন প্রশ্নপত্রে তাদের আবারও পরীক্ষা নেয়া হয়। ফলে তিন ঘণ্টার পরীক্ষা ছয় ঘণ্টা দিয়েছে তারা।

বিষয়টি স্বীকার করে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, ২০১৯ সালের প্রশ্নপত্র বণ্টনের প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। পরে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তাদের নতুন বছরের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শনিবার ছিল বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা। চাম্পাফুল এপিসি বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৪০ পরীক্ষার্থীর বেশির ভাগের হাতে এ বছরের প্রশ্ন পৌঁছালেও ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর হাতে যায় ২০১৮ সালের বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্র। তারা ওই প্রশ্নে পরীক্ষাও দেয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে বিষয়টি জানাজানি হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উত্তরপত্র সংগ্রহ করে নেয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে ওই ৪৮ জনের চলতি বছরের প্রশ্নপত্রে আবার পরীক্ষা নেয়া হয়। দুপুর ১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে তাদের পরীক্ষা।

ইউএনও মোস্তফা শাহীন আরও বলেন, এ ঘটনার জন্য সরাসরি দায়ী কেন্দ্র সচিব সুখলাল বাইন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সহকারী কেন্দ্র সচিব আরিফুল ইসলামকে। পুরাতন প্রশ্নপত্র ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে তুলে দেয়ার কাজে জড়িত আরও ১৫ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, পরীক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না। যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

যে ছবি কাঁদাচ্ছে এলাকার সবাইকে

পাশাপাশি, উচ্চ ভবন। সরু গলির মতো। আসলে ভবনের মধ্যবর্তী স্থান। মানুষ যেতে পারবে না, নিশ্চিত। তারই শুরুতে একটি শিশু। মুখটা আবছা, ঘাড় বেঁকে থাকায়।

শরীরে মেজেন্টা রঙের শীতের পোশাক। পরনে বেগুনির ওপর লাল-সাদা স্ট্রাইপের ট্রাউজার। পায়ে গোলাপি রঙের স্যান্ডেল, উপরের অংশে ফুলের কাজ।

ডান হাত সামনে ঝুকিয়ে, বাম হাত একটু পেছনে রাখা। খালি চোখে মনে হবে, নিষ্পাপ শিশুটি গা এলিয়ে শুয়ে আছে, শীতে কারও উষ্ণতা পেতে।

কিন্তু, এই একটি ছবিতেই যে একরাশ কান্না জড়িয়ে রয়েছে, তা শনিবার সকালেও কারও জানা ছিল না। জানতেন না তার প্রিয়জনেরাও। দুপুরে জানার পর ছোট্ট হালিমার এই ছবি এখন কাঁদাচ্ছে সবাইকে।

আড়াই বছরের হালিমা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভাদুঘর ভূঁইয়াপাড়ার রাজমিস্ত্রী আমির হোসেনের মেয়ে। শনিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়িতেই খেলছিল। হঠাৎই তার আর খোঁজ নেই। নেইতো নেই-ই!

এরপর কত সন্ধান। অলিগলি তছনছ। না পেয়ে মাইকিং— খবর চাই হালিমার। বয়স আড়াই। পরনে জামা-ট্রাউজার। আধো আধো গলায় বলতে পারে বাবার নাম আমির হোসেন, মা অমুক। কোনো সহৃদয়বান সন্ধান পেলে জানাবেন এই নম্বরে…।

মাইকিং চলার ফাঁকেই দুপুর পৌনে ১টার দিকে এল খবর, হালিমার সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে, সে খবর বুকভাঙার। ছোট্ট হালিমার দেহ মিলেছে ভবনের ফাঁকে। মা-বাবাতো পড়িমড়ি করে ছুটে গিয়ে জেলা শহরের ভাদুঘর ভূঁইয়াপাড়া থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

আদরের মেয়েকে বুকে চেপে বাবা আমিরের গগনবিদারি আর্তনাদ। মা তখই বারবার যাচ্ছেন মূর্ছা। এ দৃশ্যে উপস্থিত অন্যদের চোখেও পানি। বাতাস ভারী, কারও মুখে শব্দ নেই। সবাই হালিমাকে দেখছেন আর বলছেন, কোন পাষণ্ড পারল এমন করতে?

ঘটনার বিষয়ে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল হক পরিবর্তন ডটকমকে জানান, নিজ বাড়িতে খেলার সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিখোঁজ হয় হালিমা। পরে এলাকায় সন্ধান চেয়ে মাইকিং করা হয়। মাইকিং চলাকালেই স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, তাদের বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে দুটি ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে পড়ে আছে হালিমার দেহ।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে কোনো রক্ত নেই। তার শরীরের কোথাও কাটে-ছেড়েনি। আমরা ধারণা করছি, হালিমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর এখানে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।’

তবে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে শিশু হালিমার মৃত্যুর কারণ আরও স্পষ্ট হওয়া যাবে বলে জানান পুলিশের এই পরিদর্শক।
এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকপাশাপাশি, উচ্চ ভবন। সরু গলির মতো। আসলে ভবনের মধ্যবর্তী স্থান। মানুষ যেতে পারবে না, নিশ্চিত। তারই শুরুতে একটি শিশু। মুখটা আবছা, ঘাড় বেঁকে থাকায়।

শরীরে মেজেন্টা রঙের শীতের পোশাক। পরনে বেগুনির ওপর লাল-সাদা স্ট্রাইপের ট্রাউজার। পায়ে গোলাপি রঙের স্যান্ডেল, উপরের অংশে ফুলের কাজ।

ডান হাত সামনে ঝুকিয়ে, বাম হাত একটু পেছনে রাখা। খালি চোখে মনে হবে, নিষ্পাপ শিশুটি গা এলিয়ে শুয়ে আছে, শীতে কারও উষ্ণতা পেতে।

কিন্তু, এই একটি ছবিতেই যে একরাশ কান্না জড়িয়ে রয়েছে, তা শনিবার সকালেও কারও জানা ছিল না। জানতেন না তার প্রিয়জনেরাও। দুপুরে জানার পর ছোট্ট হালিমার এই ছবি এখন কাঁদাচ্ছে সবাইকে।

আড়াই বছরের হালিমা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভাদুঘর ভূঁইয়াপাড়ার রাজমিস্ত্রী আমির হোসেনের মেয়ে। শনিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়িতেই খেলছিল। হঠাৎই তার আর খোঁজ নেই। নেইতো নেই-ই!

এরপর কত সন্ধান। অলিগলি তছনছ। না পেয়ে মাইকিং— খবর চাই হালিমার। বয়স আড়াই। পরনে জামা-ট্রাউজার। আধো আধো গলায় বলতে পারে বাবার নাম আমির হোসেন, মা অমুক। কোনো সহৃদয়বান সন্ধান পেলে জানাবেন এই নম্বরে…।

মাইকিং চলার ফাঁকেই দুপুর পৌনে ১টার দিকে এল খবর, হালিমার সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে, সে খবর বুকভাঙার। ছোট্ট হালিমার দেহ মিলেছে ভবনের ফাঁকে। মা-বাবাতো পড়িমড়ি করে ছুটে গিয়ে জেলা শহরের ভাদুঘর ভূঁইয়াপাড়া থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

আদরের মেয়েকে বুকে চেপে বাবা আমিরের গগনবিদারি আর্তনাদ। মা তখই বারবার যাচ্ছেন মূর্ছা। এ দৃশ্যে উপস্থিত অন্যদের চোখেও পানি। বাতাস ভারী, কারও মুখে শব্দ নেই। সবাই হালিমাকে দেখছেন আর বলছেন, কোন পাষণ্ড পারল এমন করতে?

ঘটনার বিষয়ে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল হক পরিবর্তন ডটকমকে জানান, নিজ বাড়িতে খেলার সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিখোঁজ হয় হালিমা। পরে এলাকায় সন্ধান চেয়ে মাইকিং করা হয়। মাইকিং চলাকালেই স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, তাদের বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে দুটি ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে পড়ে আছে হালিমার দেহ।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে কোনো রক্ত নেই। তার শরীরের কোথাও কাটে-ছেড়েনি। আমরা ধারণা করছি, হালিমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর এখানে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।’

তবে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে শিশু হালিমার মৃত্যুর কারণ আরও স্পষ্ট হওয়া যাবে বলে জানান পুলিশের এই পরিদর্শক।
এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মক

আকাশের মৃত্যুতে নতুন মোড়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ স্ত্রীকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন চট্টগ্রামের তরুণ চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশ। তার আত্মহত্যার ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

এবার আকাশ-মিতুর দাম্পত্য জীবনের কলহের কথা জানালেন মিতুর বোন আফসানা হক চৌধুরী। তিনি আকাশ-মিতুর দাম্পত্য জীবনের অজানা অনেক তথ্য তুলে ধরে শুক্রবার নিজের ফেসুবুক পাতায় একটি স্ট্যাটাস দেন।

গত বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আকাশ নগরীর চাঁন্দগাও আবাসিক এলাকার নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার পূর্বে ভোর ৪টা ৫২ মিনিটে ভালোবাসার আবেগ জড়িয়ে, স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়ে একটি ছবি শেয়ার করে। আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে ও তার বাবা-মা,

এক বোন ও দুই প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানায় মৃত আকাশের মা জোবেদা খানম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘আকাশের ফেসবুক স্ট্যাটাসে থাকা তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্ত্রী মিতুকে গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নগরের নন্দনকানন এলাকার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বামীর অভিযোগের কিছু বিষয় স্বীকার করেছেন, আর কিছু বিষয় এড়িয়ে গেছেন।’

মিতুর ছোট বোনের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি দি বাংলাদেশ টুডে’র পাঠকদের জন্য তুলে দেয়া হলো-

কিছু ফটোশপ স্ক্রিনশট দিয়েই কি একটা কাহিনীর সবদিক বুঝা যায়, একটা ৯ বছরের সম্পর্ক কি একটা সুইসাইড নোট দিয়েই বর্ণনা করা যায়? কাহিনীটা শুরু করি মিতুকে দিয়েই। মিতু স্কুল-কলেজের উজ্জ্বল শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা,

বন্ধু-বান্ধব ক্লাসমেট সকলের শ্রদ্ধার পাত্র। একজন চিকিৎসক যার স্বপ্ন দেশের দরিদ্র মানুষের সেবা করে যাওয়া। সহজ-সরল, চঞ্চল, খুব সহজেই সবার সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ফেলতে পারে, মনের কথা যাই থাকে মুখে তাই-ই বলে এবং সবচেয়ে বড় কথা, নিজের পরিবারের সবার কাছে একজন আইডল মিতু।

সে (মিতু) হয়ত জানতো না, তার এই সহজ-সরল স্বভাবই একসময় তার ও তার স্বামীর মধ্যেই দেয়াল তৈরি করবে। সরল-মনা মিতু কখনো ভাবতে পারেনাই যে এই বন্ধুবৎসল মনোভাবই তার স্বামীর মনে সন্দেহের বীজ বপন করবে।

২০১০ সালে আকাশের সাথে সম্পর্ক শুরু কিন্তু কিছুদিন পরেই আকাশের মেজাজের সাথে যখন মিতুর চঞ্চল স্বভাবের সাথে মিলে উঠতে পারছিলনা। তখন মিতু অনেকবারই চেয়েছে সম্পর্কটা শেষ করার। কিন্তু আকাশ তার মান-সম্মান নষ্ট হবে, মানুষ কি বলবে, সেটা ভেবে মিতুকে যেতে দিলনা।

প্রতিবারই ভুলিয়ে-ভালিয়ে মিতুকে আটকে রাখতো। সম্পর্কের ৬ বছর হয়ে গেল, সাথে ঘটল অনেক সন্দেহের খেলা, তবুও ২০১৬ সালে বিয়ে হল কিন্তু বিয়ের কিছুদিন আগেও মিতু সম্পর্ক রাখতে চায়নি।

কারণ সে বুঝেছিল যে আকাশের সাথে তার মনের মিল হচ্ছিল না। সে এইটাকে খারাপ কিছু কখনো মনে করেনি।

কারণ সে জানত যে দুইজন মানুষের মনে অমিল থাকতেই পারে। কিন্তু আকাশ এই মনের অমিলকেও সন্দেহের আওতায় ফেলল এবং আবারও নিজের চট্টগ্রামের শিক্ষক হিসেবে মান-সম্মানের জন্য মিতুকে আটকে রাখল।

বিয়ে হল, আকাশ হয়ে গেল মিতুর পরিবারের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। মিতুর বাবা-মা কখনোই আকাশকে নিজের ছেলের থেকে কম কিছু হিসেবে দেখেননি। মিতুর দুই বোন আকাশকে ভাইয়ের থেকেও বড় চোখে দেখত। আকাশের প্রতিটা সাফল্যে তাদের কি গর্ব ছিল সেই ব্যাপারে আশেপাশের মানুষ ভালভাবেই জানতো।

আকাশও কখনো কোন কিছুতে কমতি রাখতনা, নিজের বাবা-মা আর আপন বোনের মতই দেখত। মিতু আর আকাশের ভালবাসার কমতি ছিলনা। ফেসবুকে ওদের পোস্ট দেখলে সেটা যে কেউ ভালোভাবেই বুঝবে। কিন্তু আকাশের বদমেজাজের কারণে মিতুর হাতে, গালে কখনো যে দাগ পড়ত, সেটা কাউকে বুঝতে দিতনা।

সে ভাবত, হাজার হোক ভালবাসার মানুষ, কিছুদিন পরে ঠিক হয়েই তো যাবে। ঠিক হয়ে যেত, কিন্তু আবার যে একই চক্র শুরু হত, সেটাও মিতু কাউকে বুঝতে দিত না।

মিতুর পরিবার ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। মিতু কুমিল্লা মেডিকেলে পড়াশুনা এবং চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইন্টার্নশিপ শেষ না করা পর্যন্ত পরিবার থেকে আলাদাই থেকেছে। শুধু এইটা ভেবে, সে যদি চিকিৎসক হয়, তাহলে দেশের অল্প কিছু হলেও দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করতে পারবে।

আকাশের সাথে বিয়ে হবার পরও সে যুক্তরাষ্ট্রে অল্প কিছুদিনের জন্যে যাওয়া-আসা করত। আকাশের ইমিগ্রেশন প্রসেসিং চলছিল, যেটা এই বছরের ফেব্রুয়ারিতেই শেষ হবার কথা।

মিতু ইউএসএমএলির জন্যে প্রাণপণ পড়ছিল এবং পাশাপাশি ভালবাসার মানুষ আকাশের সাথেও থাকতে চাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে আসার দুই দিন পরেই সে আকাশের কাছে ফেরত যেতে চাচ্ছিল। আকাশ একলা থাকছে, আকাশ ওকে মিস করছে— সে এইসবের কারণে বার বার দেশে চলে যেত।

এইভাবে আসা-যাওয়ার কারণে তার পড়াশুনার মধ্যে গ্যাপ পড়ে যেত, ইউএসএমএলির জন্যে প্রস্তুতিও পিছিয়ে যেত কিন্তু এসবকে আকাশ কেন যেন মিতুর ব্যর্থতা হিসেবেই প্রমাণ করতে চাইত।

এই বছরের জানুয়ারির শুরু থেকেই আকাশের মাথায় নতুন একটি সন্দেহের বীজ বপন হয় এবং মিতু যখন ইউএসএমএলির জন্যে মোটামুটি প্রস্তুত, তখন সে মিতুকে জোরপূর্বক দেশে ফিরতে বলে।

মিতুও বাধ্য স্ত্রীর মতো একটুও শব্দ না করে স্বামীর কথা মেনে দেশে চলে গেল এই আশায়, স্বামীর মাথা থেকে সন্দেহের বীজটা দূর করতে পারবে কিন্তু মিতু কখনো ভাবেনি সে আকাশের এমনরূপ দেখবে, যেটা সে গত ৯ বছরে দেখেনি।

মানসিক অত্যাচার মেয়েটাকে একটু একটু করে ক্ষয়ে দিচ্ছিল, সেটা তার পরিবার একটু একটু করে আঁচ করা শুরু করল। মিতু আর আকাশের কলহ এমন পর্যায়ে চলে গেল- যখন মিতু বুঝতে পারছিল যে সম্পর্ক নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

মিতু আকাশকে বলেছিল দেশে থাকলে সম্পর্কের অবনতিই কেবল হচ্ছে। তাই সে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত যাক। বিশেষত যেখানে আকাশের যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন প্রসেসিংয়ের কাজ পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে কিন্তু আকাশ মিতুর পাসপোর্ট এবং গ্রিন কার্ড লুকিয়ে ফেলল।

মিতু তাও কিছু বলল না, ভাবলো একটু সময় দিলেই হয়ত সব ঠিক হয়ে যাবে। এসব ঝগড়া চলার সময় আকাশ আর মিতু বেশিরভাগ সময় মিতুর বাসাতেই থাকত।

জানুয়ারির ৩০ তারিখ সন্ধ্যায় আকাশের মা যখন আসলেন মিতুকে বাসায় নিয়ে যেতে, তখন মিতুর মা-বাবা ভাবলেন সব হয়তো এখন ঠিক হয়েই যাবে। কিন্তু এসবের মধ্যে তারা আকাশের বদমেজাজের কথা ভুলেই বসছিল।

৩০ জানুয়ারির মধ্যরাত আকাশ মিতুকে পেটাচ্ছে, বেদম পেটাচ্ছে, মিতুর ঠোঁট ফেটে গেল, আকাশ মিতুকে লাথি মেরে তার শরীর থেতলা করে দিল, এরপরে ছুরি দেখিয়ে, মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে এমন বক্তব্য নিল, যেটা সবাই ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে যাচ্ছে।

আকাশ মিতুর হাত কেটে ফেলতে চেয়েছিল। আকাশ রাত ৩টায় মিতুর বাবাকে ফোন করে রক্তাক্ত মিতুকে নিয়ে যেতে বলল। মেয়েকে বাবার হাতে তুলে দেয়ার আগে মিতুর শ্বাশুড়ি খুব যত্ন নিয়ে রক্তগুলা মুছে দিলেন।

মিতুর বাবা মেয়েকে নিয়ে চলে গেলেন এবং আকাশের সাথে কথা হলো- পরদিন আকাশের সাথে ডিভোর্সের কাগজপত্র সব ঠিক করা হবে।

আকাশ দেখল, তার এতদিনের যে ভয় সেটা সত্য হতে যাচ্ছে। সে বলত, তার পরিবারের কাছে সে আইডল, তার যদি এতদিনের সম্পর্ক ভাঙ্গে তাহলে এইটা নিয়ে সবাই হাসাহাসি করবে। তার উপরে যোগ হল মিতুকে রক্তাক্ত করার অপমানবোধ।

মিতু নারী নির্যাতন মামলা করবে, আকাশকে জেলে নিয়ে যাওয়া হবে— এই ভয় আকাশ সহ্য করতে পারছিল না। যদিও মিতু বলেছে, সে নারী নির্যাতন মামলা করবেনা। কারণ ‘আকাশের মেজাজ গরম ছিল বলে এমন করছে, কিছুদিন পরে ঠিক হয়ে যাবে।’

কিন্তু আকাশের কাছে যে তার জেদ অনেক বড় জিনিস সেটা মিতু ভুলে গিয়েছিল। মিতু তার বাসায় চলে আসার ঘন্টাখানেক পর জানতে পারল আকাশ আত্মহত্যার চেষ্টা করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।

মিতু কথাটা বিশ্বাস করতে পারছিল না। সে মিলাতে পারছিল না, তার আকাশ এমন কিভাবে করতে পারে। তার কিছুক্ষণ পরে খবর আসল— আকাশ আর নেই!।মিতুর উপরে আকাশটা ভেঙ্গে পড়ল!

এর পরক্ষণে শুরু হল হুমকি। মিতু এবং তার বাবাকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল, তাদেরকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে। একটি মেয়ে যে তার ভালবাসার মানুষকে একটু আগেই হারিয়েছে, সে কি সেই শোক সামলাবে নাকি তার এবং বাবার জীবন বাঁচাবে, এসবের মধ্যে মিতুর মাথা কোনভাবেই হিসাব মিলাতে পারছিল না। হুমকি এত বেড়ে গেল যে নিজ বাসা ছেড়ে চলে যেতে হলো।

আকাশকে শেষবার দেখার জন্য মিতু এবং তার বাবার বুক ফেটে যাচ্ছিল কিন্তু তাদেরকে দেখলেই যে খুন করে ফেলা হবে!

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাত বছরের প্রেমের সূত্র ধরে তিন বছর আগে ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে মিতুর সঙ্গে আকাশের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মিতু বেশি সময় কাটিয়েছেন মা-বাবার সঙ্গে আমেরিকায়।

মাঝেমধ্যে মিতু স্বামীর কাছে আসতেন। দেশে আসার পরও মিতু স্বামীর বাসায় নয়, বেশির ভাগ সময় থাকতেন তার বাবার চান্দগাঁও এলাকার বাসায়। মিতুও পেশায় একজন ডাক্তার। ২০১৪ সালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন।

আকাশ আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে দুটি স্ট্যাটাস দিয়ে মৃত্যুর জন্য স্ত্রী মিতুকে দায়ী করেন এবং বিস্তারিত ঘটনার আবেগঘন বর্ণনা দেন। ফেসবুকে শেষ পোস্ট দেন ভোর ৪টা ৫২ মিনিটে। তাতে স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি সেলফি পোস্ট দিয়ে আকাশ লিখেন, ভালো থেকো আমার ভালোবাসা তোমার প্রেমিকদের নিয়ে।

এর প্রায় আধ ঘণ্টা আগে (৪টা ২৬ মিনিটে) কয়েকটি ছবি, সামাজিকমাধ্যমের মেসেজের স্ক্রিনশট ও একটি ভিডিও পোস্ট করেন আকাশ। সেখানে তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের বিস্তারিত বর্ণনা করেন তিনি। আকাশ লিখেন, ‘আমার সাথে তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর ২০০৯ সাল থেকে পরিচয়।

প্রচণ্ড ভালবাসি ওকে। ও নিজেও আমাকে অনেক ভালবাসে। আমরা ঘুরে বেড়াই, প্রেম করে বেড়াই। আমাদের ভালোবাসা কম বেশি সবাই জানে। অনেকে বউ পাগলাও ডাকত। ২০১৬ সালে আমাদের বিয়ে হয়, বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারি কিছুদিন আগে শোভন নামে চুয়েটের ০৮ ব্যাচের এক ছেলের সাথে ও হোটেলে রাত কাটায়,

আর কত কি লজ্জা লাগছে সব লিখতে। ততদিনে সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া শেষ, আমাকে যেহেতু চট্টগ্রামের সবাই চিনে তাই বিয়ে ক্যানসেল করতে পারিনি লজ্জাতে।’

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজনের সঙ্গে মিতুর ‘শারীরিক সম্পর্কে’র কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভাইবারে থাকা স্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে জানতে পারেন বলে দাবি করেন আকাশ। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হলে মিতু কান্নাকাটি করে ক্ষমা চেয়েছে বলেও ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান আকাশ।

তিনি জানান, এই ঘটনার পর এক বছর ভালোভাবেই সংসার করেন তারা। পরে মিতু যুক্তরাষ্ট্রে যান, এই ফেব্রুয়ারিতে আকাশেরও যাওয়ার কথা। জানুয়ারিতে আকাশ জানতে পারেন, বিদেশে গিয়েও মিতুর অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা। আকাশ ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, ‘…

আমি বারবার বলছি, আমাকে ভালো না লাগলে ছেড়ে দাও কিন্তু চিট করো না, মিথ্যা বলো না। আমার ভালবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমি আর সহ্য করতে পারিনি। আমাদের দেশে তো ভালবাসায় চিটিং-এর শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম, আর আমি চির শান্তির পথ বেঁচে নিলাম।’

‘তোমাদেরও বলছি কাউকে আর ভালো না লাগলে সুন্দরভাবে আলাদা হয়ে যাও, চিট করো না, মিথ্যা বলো না। আমি জানি অনেকে বিশ্বাস করবে না, এত অমায়িক মেয়ে আমিও এসব দেখে ভালোবেসেছিলাম।

ভিতর-বাহির যদি এক হতো। সবাই আমার দোষ দিবে সবকিছুর জন্য তাই ব্যাখ্যা করলাম। আমার শাশুড়ি দায়ী এসবের জন্য, মেয়েকে আধুনিক বানাচ্ছে।

একটু বেশি বানিয়ে ফেলেছে। উনি চাইলে সমাধান হতো। আমি শেষ পর্যন্ত চাইছি সব চুপ রেখে সমাধান করে মিতুকে নিয়ে থাকতে।

আমার শ্বশুর আর শাশুড়িকে বারবার বলছি, উনারা সমাধান করতে পারত! আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ, যাকে ৯টা বছর যাকে ১০০% ভালোবাসছি। আমি বোকা ছিলাম তুমি সুখে থেকো। মরার আগে কেউ মিথ্যা বলে না, আর বাইরে থেকে মানুষের ভিতরের চেহারা বুঝা যায় না।

ও সুন্দরী, পড়ায় ভালো, গান পারে সত্য কিন্তু সে ভালো অভিনেত্রী, ভালো চিটার। যাদের ইচ্ছা বিলিভ করবে, আর যাদের ঈচ্ছা নাই করবে না। তবে কাউকে ভালোবেসে চিটারগিরি করো না।’

পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে কান্না শুরু করল উর্মি

শনিবার সকাল ১০টার আগে পরীক্ষা দেয়ার জন্য উর্মি সুলতানা যখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছে তখন মারা গেছে তার বাবা খোকন সরদার (৩০)।

তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে জানতে পারেনি উর্মি সুলতানা তার বাবা মারা গেছেন। হৃদয় বিদারক এ ঘটনাটি ঘটে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামে।

খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পূর্ব ডুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এসএম লিয়াকত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, মেয়েকে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার জন্য দোয়া করে ক্ষেতের জমিতে পানি দেয়ার জন্য যান খোকন সরদার। মেয়েও পরীক্ষা দিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে।

সকাল ৯.৪৫ মিনিটে খোকন সরদার জমিতে পানি দেয়ার জন্য শ্যালো মেশিন চালু করলে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পাশের এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাবেক চেয়ারম্যান এসএম লিয়াকত হোসেন আরও বলেন, খোকনের মেয়েটি তখন পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল। তাৎক্ষণিক আমি মেয়েটিকে অন্য রাস্তা দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাই। কিন্তু তাকে জানানো হয়নি তার বাবা মারা গেছেন। পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট আগে মেয়েটিকে কেন্দ্রে দিয়ে কেন্দ্র সচিবকে জানিয়ে আসলাম বিষয়টি। উর্মি সুলতানা খেশরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। টেস্ট পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে মেয়েটি। হঠাৎ এতিম হয়ে গেলো। পরীক্ষা শেষে দুপুরে বাড়ি আসার পর উর্মি জানতে পারে তার বাবা মারা গেছেন। বিকেলে খোকন সরদারের দাফন সম্পন্ন হয়।

তালা থানা পুলিশের ওসি মেহেদী রাসেল বলেন, এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর বাবা মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে এ নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ না করায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়।

কিডনি ভাল আছে কি-না বুঝবেন এই ৭ লক্ষনেই

শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো একটির সমস্যা দেখা দিলে পুরো শরীরটাই অকেজো হয়ে পড়ে। এই যেমন আমাদের কিডনি, অন্যতম জরুরি একটি অঙ্গ। কিডনীর মাধ্যমেই শরীরের সকল দূষিত ও অতিরিক্ত পদার্থ দূর হয়। সেই কিডনিতে সমস্যা মানেই দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ভুগতে হয়, এটা প্রাণঘাতীও হতে পারে। কিডন বিকল হতে শুরু করলে এই লক্ষণগুলো দেখা যাবে-

শরীরে চুলকানি হওয়া : যদি দেখেন দীর্ঘদিন ধরে ত্বকে র‌্যাশ দেখা দিয়েছে, এবং সেটি কমছে না তাহলে একটু সাবধান হোন। কেননা অনেক সময়ে কিডনির সমস্যা হলে কোনো চুলকানি ভালো হতে চায় না। এমন অবস্থায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

যদি খাবারে রূচি না থাকে : কিডনিতে জটিলতা দেখা দিলে অনেক সময় রক্তে দূষিত ও ক্ষতিকর পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এতে করে খাবারে কোনো স্বাদ পাওয়া যায়না। শুধু তাই নয়, খেতে গেলে কটু একধরণের ধাতব স্বাদ লাগতে পারে, মুখ পানসে হতে পারে। এছাড়া মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। এই লক্ষণগুলো নিয়মিত দেখা দিলে কিডনি নিয়ে একটু ভাবুন।

ওজন কমতে থাকা : মুখে যদি স্বাদই না থাকে তবে খাওয়ার ইচ্ছা কমে যাবে স্বাভাবিকভাবেই। মুখে গন্ধ হওয়ায় খাবার খেতে গেলে বমিভাব হয়। না খেয়ে শরীরের রোগবালাই বেড়ে যায়, শক্তি কমতে থাকে। সেই সঙ্গে কমতে থাকে ওজন।

বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা : বারবার প্রস্রাবের বেগ আসলে সবাই ভাবে নিশ্চয়ই ডায়বেটিসের সমস্যা শুরু হয়েছে। কিন্তু ডায়বেটিস না থাকার পরেও যদি প্রস্রাবের বেগ বেশি হয় তাহলে সেটা অন্য জটিল রোগের লক্ষণ হতে পারে। কিডনির সমস্যা হলেও বারবার প্রস্রাবের বেগ আসে, প্রস্রাবের পরিমাণেও তারতম্য দেখা যায়।

প্রস্রাবে সঙ্গে রক্ত যাওয়া : যদি প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসে বা ঘন ফেনাযুক্ত প্রস্রাব হয়, তাহলে বুঝতে হবে কিডনির অসুস্থতার লক্ষণ। তাই অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাবেন।

হাত এবং পায়ে পানি আসা : কিডনি শরীরের অতিরিক্ত জলীয় উপাদান বের করে দেয়। কিন্তু কিডনি বিকল হতে শুরু করলে এই কিডনি আর এই কাজটি পারেনা, তখনই ঘটে বিভ্রাট। ফলে অতিরিক্ত জলীয় অংশ জমা হতে থাকে হাঁটু, পা, পায়ের পাতা, বাহু ও মুখে। এরকমটা হলে কখনো অবহেলা করবেন না।

শরীর দুর্বল লাগা : কিডনি যদি আগের মতো কাজ করতে না পারে তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, কোনো কাজ করা যায়না। এছাড়াও সর্দি-কাশির মতো সমস্যাগুলোও আক্রমণ শুরু করে দেবে। তিই দুর্বল লাগলে কখনো অবহেলা করে বসে থাকবেন না। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

শিক্ষাগুরুর চাদর গুছিয়ে দিলেন ছাত্রী শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি শিক্ষক জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়ে আনিসুজ্জামানের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। ছাত্রী-শিক্ষকের সেই সম্পর্ক আজও বিদ্যমান। ছাত্রী যত বড়ই হোন না কেন শিক্ষকের কাছে তিনি আজীবনই ছাত্রী। অন্যদিকে, শিক্ষাগুরুর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর গুণ সর্বজনবিদিত। সেই দৃশ্যই আবার দেখা গেল বাংলা একাডেমিতে।

শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পদক বিতরণ ও বক্তব্য দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত গ্রন্থমেলায় পরিদর্শন শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীসহ বিদেশি অতিথিবৃন্দ।শিক্ষাগুরুর চাদর গুছিয়ে দিলেন ছাত্রী শেখ হাসিনা
শিক্ষাগুরুর চাদর গুছিয়ে দিলেন ছাত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রীর জন্য অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মেলায় প্রবেশের পথে বিছানো লালগালিচা । সেই লালগালিচা দিয়ে হাটার সময় ড. আনিসুজ্জামানকে ছেড়ে দিয়ে পাশে হাঁটা শুরু করেন তারছাত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন সময় প্রিয় শিক্ষকের কাঁধ থেকে অসতর্কতায় খসে পড়ে চাদর। সেটি লক্ষ্য করে নিজেই আনিসুজ্জামানের কাঁধে গুছিয়ে দিলেন গভীর মমতায়। যেন তিনি প্রধানমন্ত্রী নন, শিক্ষাগুরুর সান্নিধ্যে বিনয়াবনত শিষ্য এক!

সেই দৃশ্যের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে অনেকেই ইতিবাচক মন্তব্যে বন্দনা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। কেউ কেউ বলেন, শিক্ষাগুরুকে সম্মান জানানোর ইচ্ছেটাই মুখ্য। রাষ্ট্রীয় পদ-পদবী এতে বাধা নয় কখনই, যদি সে ইচ্ছে আন্তরিক হয়।

অনেকের মতে, বঙ্গবন্ধুকন্যার কাছ থেকে শেখার কোনো শেষ নেই। তিনি হয়ে উঠেছেন জীবনযাপনের আদর্শলিপি। সূত্র: আমার দেশে