হাতিরঝিল, মধ্যরাত, প্রেম এবং…

ঢাকা। একটি মেগাশহর। মানুষ আর মানুষ। চারদিকে কোলাহল। মুখরিত নগরী। প্রতি মুহূর্তে ঢাকায় পা দিচ্ছে গ্রাম থেকে আসা অসংখ্য মানুষ। তাদের অনেকেই ঢাকায় নতুন। বুড়িগঙ্গা তীরের ৩০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই শহরে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মানুষের চাপ।সড়কে তীব্র যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেমে থাকে গাড়ি। দিনের কর্মব্যস্ত শহর রাতে পাল্টে যায়। দিনে ও রাতে অভিন্ন ঢাকা ধারণ করে ভিন্ন রূপ। শহরের রাতের রূপটি আকৃষ্ট করে অনেককেই। একইভাবে সুবিধাবঞ্চিতদের রাত্রি যাপন কষ্টও দেয়। সবমিলিয়ে এ এক আজব শহর।

রাত ১১টার পর থেকেই রাস্তা ফাঁকা হতে থাকে। থেমে যায় ব্যস্ত নগরীর কোলাহল। কোনো কোনো অলিগলিতে ভর করে নির্জনতা। সড়কজুড়ে তখন লাল, নীল আলোর খেলা। মাথার ওপর দাঁড়িয়ে আলো ছড়িয়ে দেয় লাইটপোস্টগুলো। নিস্তব্ধ রাতে পুলিশ, জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকা পথচারী, বিভিন্ন শপিংমলের নিরাপত্তাকর্মী, সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, ছিনতাইকারী, ভাসমান নারী, কুলি, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশাচালক, মজুর আর বেওয়ারিশ কুকুর মিলেমিশে সৃষ্টি হয় অন্য রকম এক দৃশ্যের।এছাড়াও রাতের শহরে গণমাধ্যমকর্মীদের দেখা মেলে। দূর থেকে গাড়ির হেডলাইটের আলো এসে পড়লে খুব ঠুনকো জিনিসকেও অনেক বড় মনে হয়। যানজটহীন সড়কে বাড়ে যানবাহনগুলোর গতি। কেউ কেউ উচ্চ শব্দে মিউজিক বাজিয়ে ড্রাইভ করেন বিলাসী গাড়ি। যানজটে যারা দিনের বেলাতে বাইরে বের হতে চান না তাদের অনেকেই বেছে নেন রাতের ঢাকা।

উত্তরার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন চৌধুরী জানান, ঢাকায় বাসা হলেও পেশাগত কারণে তিনি থাকেন ঢাকার বাইরে। ঢাকায় এলে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলা বের হন না। আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়াতে গেলে বেছে নেন রাতের সময়কে। রাত ১১টার পরে গাড়ি নিয়ে বের হন। তখন যানজটহীন শহরে অল্প সময়ে শহরের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে যাওয়া যায়।

রাতের শহরে আড্ডা জমে হাতিরঝিলে। সাধারণত রাত ৯টার পর থেকে কর্মজীবীরা ভিড় করেন সেখানে। বিলাসী মোটরসাইকেল, কারযোগে হাতিরঝিলে যান তারা। রামপুরা, মহানগর ও মধুবাগ ব্রিজে দাঁড়িয়ে-বসে আড্ডা। চিপস, বাদাম খান। হাতিরঝিলের রেস্টুরেন্টগুলো রাত ১০টায় বন্ধ। যে কারণে ফেরিওয়ালাদের চা, কফিতেই ভরসা তাদের। কেউ কেউ সিগারেটে সুখটান দেন। কোরাস কণ্ঠে গান করেন। সাধারণত রাতের আড্ডায় বন্ধু-বান্ধবী ও প্রেমিক-প্রেমিকাদের অংশগ্রহণই থাকে বেশি।

শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করেই ভালোবাসার উষ্ণতা ছড়ান তারা। কোনো কোনো জুটি আধো আলো-আঁধারে বসে, দাঁড়িয়ে রেলিংয়ে হাত রেখে গল্প করেন। ব্রিজের নিচের ঝিলের জলে তাকিয়ে কাব্য করেন। ঘটে ব্যতিক্রম ঘটনাও। গত শনিবার রাত সাড়ে ১২টা। মধুবাগ ব্রিজে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন চার জন। দুই তরুণ, দুই তরুণী। তিনটি মোটরসাইকেলে গুলশান থেকে এসেছেন তারা।

প্রেমিকার প্রতি সন্দেহমূলক প্রশ্ন প্রেমিকের, গতকাল দুপুরে কার সঙ্গে লাঞ্চ করেছেন তরুণী। সহকর্মীর সঙ্গে এতো ভাব কেন? ইত্যাদি নানা প্রশ্ন। তরুণী এসব প্রশ্নে ক্ষুব্ধ। অনেকটা চিৎকার করে তার সোজা সাপ্টা জবাব, বিশ্বাস যেখানে নেই, সেখানে ভালোবাসা থাকতে পারে না।

আশেপাশের অনেকের দৃষ্টি তখন এই জুটির দিকে। প্রেমিক ছেলেটিও রেগে যায়। ঘটায় পাগলামো কাণ্ড। নাইটরাইডার বাইকটির পিকাপ বাড়িয়ে দ্রত চলে যায় বেগুনবাড়ি সংলগ্ন হাতিরঝিলের সড়কে। স্বেচ্ছায় গুলশানগামী একটি গাড়ির মুখোমুখি হয় বাইকটি নিয়ে। গাড়ির ধাক্কায় সড়কের এক পাশে ছিটকে পড়ে। রক্তাক্ত হয়। গাড়ির চালকের সাবধানতার কারণে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা হয়। প্রেমিকাসহ সঙ্গীরা দ্রুত ছুটে যায় তার কাছে। আশেপাশের লোকজন ক্ষুব্ধ হন। পুলিশ ডাকতে উদ্যত হন। এর মধ্যেই দ্রুত এলাকা ছাড়ে তারা।

হাতিরঝিল ঘুরে দেখা গেছে, পুরো এলাকাজুড়েই রয়েছে পুলিশ ও হাতিরঝিলের নিরাপত্তাকর্মীদের টহল। রামপুরা ব্রিজ, রামপুরা ইসলাম টাওয়ার সংলগ্ন প্রবেশপথ, মগবাজার ব্রিজ, হাতিরঝিলের বেগুনবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। সন্দেহ হলেই চেক পোস্টে থামিয়ে চেক করছে পুলিশ। মেগাসিটির ব্যস্ততম এলাকাগুলো যখন জনশূন্য তখনও ব্যস্ততা শেষ হয় না সদরঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও বিমানবন্দর এলাকার। দেশের সবচেয়ে বড় কাঁচামালের হাট কাওরানবাজার, সদরঘাট, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, কমলাপুর, মতিঝিল, ফকিরাপুল, ফার্মগেট, মহাখালী, গাবতলী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগ তখন থাকে সরব।

দিনের চেয়ে রাতেই ব্যস্ততা বেশি কাওরানবাজারে। রাত ১০টার পর থেকেই এখানে আসতে থাকে কাঁচামাল ভরা ট্রাক, পিকআপ। ট্রাক-পিকাপে দখল করে মূল সড়কের একটি লেন। ট্রাক দেখলেই প্রতিযোগিতায় নামেন শ্রমিকরা। ভ্যান নিয়ে দ্রুত ট্রাকের চারপাশ ঘিরে রাখেন। ট্রাক থেকে পণ্য নামালেই টাকা পাবেন তারা। এমনকি পণ্য কেনার জন্য বেপারীরাও আটক করেন ট্রাক। উড়া হাতে শ্রমিকরাও ভিড় করেন বিভিন্ন আড়তে। এরমধ্যেই একদল কিশোর ও নারীরা চালক এবং শ্রমিককে ফাঁকি দিয়ে ট্রাক থেকে নিয়ে যান সবজি। এমনকি চিল ছোবলের মতো মোরগ নিয়ে যেতেও দেখা যায় তাদের। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত আশপাশের রেস্টুরেন্ট ও চা-রুটির দোকানগুলো বেশ ব্যস্ত। তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না সেখানে। কাওরানবাজারের ক্ষুদে ব্যবসায়ী সোহাগ জানান, দিনের তুলনায় রাতে কয়েকগুণ বেশি বিক্রি হয় এখানে।

পাশেই পাঁচ তারকা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও। বিভিন্ন অনুষ্ঠান শেষে এখান থেকে বের হন সাহেব-বিবিগণ। নাচ-গানে অংশ নেয়া সুন্দরীদেরও দেখা মেলে এখানে। তাদের জন্য হোটেলের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা। রাতের শহরে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা থাকে খুব কম। সড়কে নিয়ম-কানুন মানেন না ট্রাকের চালকরা। কাওরানবাজারের ভিড় নীরবেই সহ্য করেন রাতের শহরের যাত্রীরা। ফার্মগেট, পান্থকুঞ্জ, প্রেস ক্লাব মোড়, বিজয় সরণি, মহাখালী, এফডিসি এলাকায় দেখা যায় ভাসমান নিশিকন্যাদের। পুলিশের বাজির আওয়াজ পেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। আবার ফিরে আসেন। এ যেন চোর পুলিশ খেলা। রাতে জমে মাজার পার্টি। ঢাকার মাজারগুলোতে রাতে ভিড় করেন ভক্ত-অনুরাগীরা। প্রতি বৃহস্পতিবারে ওরশ হয় শাহআলী (র.) মাজারে। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষরা অংশ নেন এতে।

শাহবাগ থেকে প্রেস ক্লাব, হাইকোট মাজার, গোলাপশাহ মাজার, মতিঝিল, খিলগাঁও, ফকিরাপুল, কমলাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটপাথে, স্টেশনে, অফিসের বারান্দায় রাত্রি যাপন করেন হাজার হাজার মানুষ। তারা সুবিধাবঞ্চিত। কাঁথা, চটের বস্তা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে থাকেন তারা। এক কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার এই শহরে তাদের কোনো ঘর নেই। পলিথিন বা মশারি দিয়ে নিজেদের ঘরের মতো করে তৈরি করেন অনেকে। জনসংখ্যার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম শহর ও বিশ্বের নবম বৃহত্তম শহর ঢাকা। এই শহরে প্রতি বর্গমাইল এলাকায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ বাস করেন। বৈচিত্র্যময় শহরের বৈচিত্র্যময় মানুষ। সূত্র: মানবজমিন।

পরিচিত আদার ৯টি অসাধরণ রোগপ্রতিরোধী গুণাগুণ এবং কখন খাওয়া উচিৎ নয়

আদা এ দেশে খাবারের স্বাদ-গন্ধ বাড়াতে মসলা হিসেবে যেমন ব্যবহার হয়ে থাকে, তেমনি আদা চা-ও খুব জনপ্রিয়। তবে অন্যান্য দেশে আদার ব্যবহার আরও বিস্তৃত। আদার পানীয় থেকে শুরু করে রান্নার নানা পদে ব্যবহার হয় আদা। আদা সম্পর্কে খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আলেয়া মাওলা বলেন, খাবারে আদা ব্যবহার করলে স্বাদ-গন্ধ যেমন বাড়ে, সেই সঙ্গে খাদ্যের পুষ্টিমানও কিন্তু বেড়ে যায়।প্রতিরোধ এবং নিরাময়ে আদা প্রাচীনকাল থেকেই জনপ্রিয়। বর্তমান গবেষণায় সেগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। এবার জেনে নেওয়া যাক আদার রোগপ্রতিরোধী গুণাগুণগুলোর কথা। একদম শেষে বোনাস হিসাবে রয়েছে কোন কোন সমস্যা বা পরিস্থিতিতে আদা খাওয়া যাবে না।

১. হজমে গোলযোগ দূর করে

শীতে প্রচুর শাকসবজি আর ফলমূল যেমন মেলে, তেমনি বাড়িতে বাড়িতে চলে পিঠাপুলির আয়োজন। তাই একটু বেশি খাওয়া হয়ে যেতেই পারে। আর খাওয়ার পরে হজমে গোলযোগ হলে আদা কিংবা আদা চা খেতে পারেন। দ্রুত সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। কারণ আদায় রয়েছে ‘জিনজারোলস’ যা হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং পরিপাকক্রিয়া দ্রুত করে। প্রতিদিন সকালে এক কাপ আদা চা এবং রান্নায় আদার ব্যবহার কিংবা কাঁচা আদা খাওয়া পরিপাকযন্ত্র সুস্থ রাখে।

২. শ্বাসকষ্টের বিরুদ্ধে লড়াই করে

শীতকালে অনেকেরই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। বিভিন্ন ওষুধ যেভাবে শ্বাসযন্ত্রের পেশি শিথিল করে কষ্ট কমিয়ে দেয় তেমনি শ্বাসকষ্টে প্রভাব রাখতে পারে আদা। সমপরিমাণ আদার রস, ডালিমের রস এবং মধু মিশিয়ে নিন। দিনে দুই থেকে তিন বার খেলে শ্বাস কষ্ট সহ কাশি এবং ঠান্ডা-সর্দিতে উপকার পাওয়া যায়।

৩. হৃৎপিণ্ডকে কর্মক্ষম রাখে

দীর্ঘদিন ধরে আদা সেবন করলে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো হয়। আদা রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয় এবং রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা দূর করে। ফলে হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি কমে। আদায় প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ আছে যা হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র তিন গ্রাম আদার গুঁড়ো খেলে শরীরের বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

৪. পেশির কর্মদক্ষতা বাড়ায়

রক্ত সঞ্চালনের গতিকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে এই মসলা। এর উপাদানগুলো পেশির কর্মদক্ষতা বাড়ায়। আদায় বেশ কয়েক ধরনের স্টিম্যুলেট রয়েছে বলেই পেশি মজবুত হয়।

৫. মানসিক চাপ দূর করে

বর্তমান যুগে মানসিক চাপে থাকেন না এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। মানসিক চাপ ও উদ্বেগ যেন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, চা পাতা ও আদার ঘ্রাণ মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে। এই হাল্কা ঝাঁজ যুক্ত চা আমাদের মস্তিষ্ককে রিলাক্স করতে বেশ কার্যকর। কিছুটা আদা ছিলে কুচি করে নিন। দুই কাপ পানিতে আদা কুচি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। তারপর মধু মিশিয়ে পান করুন।

৬. মেয়েলি সমস্যা দূর করে

মাসিকের সময় অনেকেরই তল পেট ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে, এ ধরনের সমস্যা এড়াতেও আদা খেয়ে দেখতে পারেন। আদা বেশ উপাকারী ঋতুস্রাবের ব্যথা রোধের জন্য। আদা চা পান করলে এই সময় বেশ ভাল উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া কয়েক টুকরো আদা গরম পানিতে সেদ্ধ করে চাইলে এর সাথে মধু বা চিনি যোগ করে এটি দিনে তিন-চারবার পান করতে পারেন।

৭. বাত ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করে

বাতের সমস্যায় ভুগলে সারা দিনের খাবারে অল্প পরিমাণে আদা রাখার চেষ্টা করুন। আদা দিয়ে চা খেতে পারেন, সালাদে আদার সরু, লম্বা কুচি মেশাতে পারেন। ব্যথার সমস্যা ধীরে ধীরে কমবে। ঘন ঘন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে আদা খেয়ে দেখতে পারেন। আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে জিঞ্জার অয়েল উপকারী।

৮. চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না

এখন আমাদের কাজের চাপ, চিন্তা, ব্যস্ততা এইসবের জন্য অল্পবয়সেই মুখে বার্ধক্যের ছাপ পড়তে থাকে। অনেক কিছু মেখে হয়তো বাইরে থেকে সাময়িক ফল পেতে পারেন, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কিছু হবে না। এক্ষেত্রে আপনি কাঁচা আদা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। আদার মধ্যে থাকা অ্যান্টি-এজিং উপাদান আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান টক্সিন বের করে দেয়। মুখে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বাড়ায়।

৯. অতিরিক্ত ওজন কমায়

আদা ও লেবুর মিশ্রণ আপনার ওজন কমিয়ে আনবে যাদুকরী উপায়ে। প্রথমে আদার ছোট ছোট টুকরা করে আধা ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সেই পানির সঙ্গে আরও পানি মিশিয়ে একটি সম্পূর্ণ লেবু কয়েক টুকরো করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর সারাদিন এই পানি প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পান করুন। এতে আপনার ওজন কমার পাশাপাশি শরীরও ডিটক্স থাকবে। ঝর ঝর করে ঝরতে থাকবে মেদ!

সতর্কতা

কিছু কিছু সময় অত্যন্ত উপকারি এই খাবারই হয়ে উঠতে পারে শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। জেনে নিন কোন কোন ক্ষেত্রে আদা ক্ষতিকারক হতে পারে।১. প্রেগন্যান্সিতে বেশি আদা খেলে তা পেশীর সংকোচন ঘটিয়ে প্রিটার্ম লেবরের সম্ভাবনা থাকে। তাই অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে আদা খান।

২. হিমোফিলিয়ার সমস্যা থাকলে আদার এই গুণ নেগেটিভ প্রভাব ফেলতে পারে। হিমোফিলিয়া বংশগত ডিজঅর্ডার। হিমোফিলিয়ার ওষুধের সঙ্গে আদা খেলে তা ওষুধের প্রভাবে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।৩. উচ্চ রক্তচাপ অথবা ডায়াবেটিসের ওষুধ খেলে আদা খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভাল। আদা রক্তকে পাতলা করে রক্তচাপ কমিয়ে দেয়।৪. যদি আপনি ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করে থাকেন তা হলে আদাযুক্ত খাবার বা আদা চা খাওয়া এড়িয়ে চলুন। আদার মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকে। যা পাকস্থলীর পিএইচ মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে পৌষ্টিকতন্ত্রকে উত্তেজিত করে তোলে।

বুকের দুধ বেচেই লাখ টাকা রোজগার করেন এই নারী!

দুই সন্তানের মা, বয়স ২৪ বছর৷ তিনি এখন লাখপতি৷ ব্যবসার কারণেই ফুলেফেঁপে উঠেছেন এই নারী৷ তবে এঁনার ব্যবসাটি একটু অন্যরকম৷ প্রথাগত বিজনেসের থেকে একটু আলাদা৷ নিজের বুকের দুধ বিক্রি করেন এই নারী৷ সাইপ্রাসের এই নারীর নাম রাফেলিয়া ল্যামপ্রোউ ৷ যখন তাঁর ছেলে আঞ্জেলিও জন্ম হয়, তখন তিনি দেখেন ছেলেকে দুধ খাওয়ানোর পরেও অনেকটা দুধ বেঁচে যাচ্ছে৷ তখনই নিজের বুকের দুধ দান করার কথা ভাবেন রাফেলিয়া৷

প্রথমে কিছু বাচ্চাদের, যাঁরা মাতৃদুগ্ধ পায় না তাদের মধ্যে নিজের বুকের দুধ বিক্রি করেন৷ তারপর এই কাজটি ব্যবসায় রূপান্তরিত হয়৷

রাফেলিয়া জানাচ্ছেন, প্রতিদিন ২ লিটারেরও বেশি দুধ তৈরি হত তার৷ এত দুধ নিয়ে কী করবেন তিনি ভেবে পাচ্ছিলেন না৷ শেষ পর্যন্ত এক দম্পতিকে তিনি সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন৷ সদ্যোজাতের জন্য ওই মায়ের কাছে মাতৃদুগ্ঘের যোগান ছিল খুবই কম৷

এই সময়ই বেশকিছু বলি বিল্ডার তাঁর কাছে বুকের দুধ কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন৷ শরীরের গ্রোথের জন্য যেহেতু এই দুধ খুবই উপকারী, সে কারণেই বডি বিল্ডারদের কাছে দিনে দিনে মাতৃদুগ্ধের চাহিদা বাড়তে থাকে৷  এরপর থেকেই রাফেলিয়া বাণিজ্যিকভাবে বুকের দুধ বেচতে শুরু করেন৷ ধীরে ধীরে এটাই তাঁর পেশা হয়ে দাঁড়ায়৷ প্রতি আউন্স দুধের জন্য ১ ইউরো নিতে শুরু করেন তিনি৷

রাফেলিয়া জানান, স্বামী অ্যালেক্সও তাঁর এই কাজে কখনও বাধা দেননি৷ বরং বরাবর তিনি সাপোর্ট করেছেন৷ এখন নিজের একটি ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট চালান রাফালিয়া৷ সেখানে পরিষ্কার লেখা রয়েছে যে, তিনি মদ খান না, ধূমপানও করেন না৷ এখন অনলাইনেই নতুন মা বা বডি বিল্ডাররা মাতৃদুগ্ধের জন্য তাঁর কাছে আবেদন করেন৷

হাজারো গুণের কাঠ বাদাম

হাজারো গুণের কাঠ বাদাম

সুপ্রাচীন কাল থেকেই খাবার হিসেবে ফলের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি। সেই সাথে কিছু ফলের বীজও খাদ্য হিসেবে গণ্য হয় এবং এগুলো সাধারণত ফলের মর্যাদা পেয়ে থাকে। এর মধ্যে বাদাম অন্যতম। বাদামও রয়েছে হরেক রকমের। যেমন- কাজুবাদাম, চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, পেস্তাবাদাম ইত্যাদি।

এগুলোর মধ্যে চিনাবাদামের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য বাদামগুলোর দাম বেশি ও সহজলভ্য না হওয়ায় আমাদের দেশে তেমন একটা জনপ্রিয় না। তবে বিশেষ ধরনের খাবার যেমন পায়েস, ক্ষীর, সন্দেশ, হালুয়া ইত্যাদি রান্নায় এসব বাদাম স্বাদবর্ধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বাদামের মধ্যে কাঠবাদামের পুষ্টিগুণ সবচেয়ে বেশি।

অতীতে কাঠবাদামকে বলা হতো সুস্বাস্থ্যের প্রতীক। কাঠবাদামকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করার ইতিহাস বেশ প্রাচীন। প্রায় তিন হাজার বছর আগে কাঠবাদামকে ফল হিসেবে গ্রহণ করে। খুব সম্ভবত এটি ধর্মীয় কোনো ব্যাপারের সাথেও জড়িত ছিল। কারণ মিসরের রাজা তুতেনখামেনের সমাধিতে কাঠবাদামের নিদর্শন পাওয়া যায়, যা অতি সযত্নে কফিনে রাখা ছিল!

কাঠবাদামের ইংরেজি নাম Almond। এর বৈজ্ঞানিক নাম Prumus dulcis। কাঠবাদামের ফল হয় মাংসল ও প্রায় গোলাকার। এর অভ্যন্তরে থাকে কাঠের মতোই শক্ত আরেকটি খোলস! এই শক্ত খোলসের ভেতরে থাকে বাদামি আবরণে ঢাকা বাদাম। এই আবরণ তুলে ফেললে খাবার উপযুক্ত অংশটি বেরিয়ে আসে। কাঠবাদাম নানা প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানে ভরপুর। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঠবাদামে রয়েছে – এনার্জি- ৫৭৮ কিলোক্যালরি কার্বোহাইড্রেট- ২০গ্রাম আঁশ- ১২ গ্রাম ফ্যাট- ৫১ গ্রাম প্রোটিন- ২২ গ্রাম থায়ামিন- ০.২৪ মিলিগ্রাম রাইবোফ্লেভিন- ০.৮ মিলিগ্রাম নিয়াসিন- ৪ মিলিগ্রাম প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড- ০.৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি৬- ০.১৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই- ২৬.২২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম- ২৪৮ মিলিগ্রাম আয়রন- ৪ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম- ২৭৫ মিলিগ্রাম ফসফরাস- ৪৭৪ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম- ৭২৮ মিলিগ্রাম এছাড়াও কাঠবাদামে রয়েছে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড অয়েল, জিঙ্ক, ফলিক অ্যাসিড ও প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

কাঠবাদামের নানা গুণাগুণ

১. মস্তিষ্ক গঠনে কাঠবাদামে ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই গর্ভবতী মা এবং বাড়ন্ত শিশুদের কাঠবাদাম খাওয়া খুবই জরুরি। প্রতিদিন সকাল কাঠবাদাম খেলে স্মৃতিশক্তি সহজে ভ্রষ্ট হয় না।

২. প্রতিদিন কাঠবাদাম খেলে ভালো কোলেস্টেরল বা ‘হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন’-এর মাত্রা বাড়তে থাকে এবং খারাপ কোলেস্টেরল বা ‘লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন’-এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

৩. কাঠবাদামের মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট, প্রোটিন ও পটাশিয়াম হার্ট ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ভিটামিন ই হার্টের নানারকম রোগ হবার সম্ভাবনা দূরে রাখে। কাঠবাদামে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে এবং পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

৪. কাঠবাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড ও ভিটাবিন বি। তাই গর্ভবতী মায়েরা নিয়মিত কাঠবাদাম খেলে গর্ভস্থ শিশুর জন্মকালীন জটিলতা হবার সম্ভাবনা কমে যায়।

৫. এতে রয়েছে বিশেষ ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ‘ফ্ল্যাভোনয়েড’, যা বিভিন্ন ধরনের অসুখ প্রতিরোধে খুবই কার্যকর। কাঠবাদাম কয়েক ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধেও সহায়তা করে। বিশেষ করে কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে কাঠবাদামের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৬. যাঁরা ধূমপান করেন তাঁরা প্রতিদিন কাঠবাদাম খেলে সিগারেটের কুফল থেকে একটু হলেও রক্ষা পাবেন।৭. কাঠবাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। বেশি খেয়ে ফেললে আবার উল্টোটাও হতে পারে!

৮. আগে মনে করা হতো কাঠবাদাম খেলে ওজন দ্রুত বেড়ে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, কাঠবাদাম ওজন কমাতে সাহায্য করে! আসলে ৪-৫ টা কাঠবাদাম পেট ভরা বলে মনে হয়। তাই খিদে পেলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে কাঠবাদাম। তাই যাঁরা খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ওজন কমাতে চান, তাঁরা সকালে ও রাতে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার কমিয়ে তার পরিবর্তে কাঠবাদাম খান।

৯. কাঠবাদামে উপস্থিত ভিটামিন বি চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। মোনোপেজের পর নারীদের নিয়মিত কাঠবাদাম খাওয়া উচিত। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম যা মোনোপেজকালীন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। হাড়ের নানা রোগ প্রতিরোধ করতেও কাঠবাদাম ভূমিকা রাখে।

রূপচর্চায় কাঠবাদামের ব্যবহার

১. কাঠবাদামের গুঁড়ো খুব ভালো স্ক্রাবার হিসেবে কাজ করে।২. কাঠবাদাম বেটে তার সাথে মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ও কোমল।৩. ত্বকের অসমান রং ও দাগ দূর করতে কাঠবাদাম বাটা ও কাঁচা দুধ একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান।৪. কাঠবাদামের তেল ব্যবহারে চুল হয়ে ওঠে ঝলমলে ও স্বাস্থোজ্জ্বল।৫. কাঠবাদামের তেল ত্বকের জন্যেও খুব উপকারী। এর নিয়মিত মাসাজে ত্বকের বলিরেখা দূর হয় এবং ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে।

মেয়েদের যৌন চাহিদা পুরুষের তুলনায় বেশি নাকি কম?

মেয়েদের যৌন চাহিদা পুরুষের তুলনায় বেশি নাকি কম?

ছেলেরা মেয়েদের যৌনতা নিয়ে খুব কম তথ্য জানে। চটিগুলো পড়লে সেটা বোঝা যায়। চটি লেখক এবং মন্তব্যকারীদের অনেকে মেয়েদের সাথে যৌনকর্ম দুরের কথা কোনদিন মেয়েদের বাস্তব যৌনাংগ দেখেছে কি না সন্দেহ। মেয়েদের সমন্ধে ওনাদের জ্ঞান মনে হয় পর্ন আর ইন্টারনেটের চটি থেকে নেওয়া। যাহোক সবার সুবিধার্থে কিছু তথ্য দিলামঃ

১. মেয়েদের যৌন চাহিদা ছেলেদের ৪ ভাগের এক ভাগ। কিশোরী এবং টিনেজার মেয়েদের যৌন ইচ্ছা সবচেয়ে বেশী। ১৮ বছরের পর থেকে মেয়েদের যৌন চাহিদা কমতে থাকে, ৩০ এর পরে ভালই কমে যায়।

২. ২৫ এর উর্দ্ধ মেয়েরা স্বামীর প্রয়োজনে যৌনকর্ম করে ঠিকই কিন্তু একজন মেয়ে মাসের পর মাস যৌনকর্ম না করে থাকতে পারে কোন সমস্যা ছাড়া। ৩. মেয়েরা রোমান্টিক কাজকর্ম যৌনকর্ম চেয়ে অনেক বেশী পছন্দ করে। বেশীরভাগ মেয়ে গল্পগুজব হৈ হুল্লোর করে যৌনকর্মর চেয়ে বেশী মজা পায়।

৪. মেয়েরা অর্গ্যাজম করে ভগাংকুরের মাধ্যমে, মেয়েদের অর্গ্যাজমে কোন মাল বের হয় না। তবে পেটে প্রস্রাব থাকলে উত্তেজনায় বের হয়ে যেতে পারে।

৫. ভগাংকুরের মাধ্যমে অর্গ্যাজমের জন্য যৌনকর্মের কোন দরকার নেই।৬. যৌনি পথে পুরুষ লিংজ্ঞ ঢুকালে মেয়েরা মজা পায় ঠিকই কিন্তু অর্গ্যাজম হওয়ার সম্ভাবনা ১% এর চেয়েও কম।৭. লম্বা লিংজ্ঞের চেয়ে মোটা লিংজ্ঞে মজা বেশী। লম্বা লিংজ্ঞে বেশীরভাগ মেয়ে ব্যাথা পায়।৮. মেয়েদের যৌনিতে সামান্য ভেতরেই খাজ কাটা গ্রুভ থাকে, লিংজ্ঞের নাড়াচাড়ায় ঐসব খাজ থেকে মজা তৈরী হয়। এজন্য বড় লিংজ্ঞের দরকার হয় না।

পিঠ ব্যথা সংক্রান্ত বিপজ্জনক ৮টি বিষয় অবেহলা করলে মাশুল দিতে হবে

পিঠ ব্যথা সংক্রান্ত বিপজ্জনক ৮টি বিষয় অবেহলা করলে মাশুল দিতে হবে

যেসব কারণে মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়, তার মধ্যে পিঠের ব্যথা অন্যতম। আর যতগুলো কারণে অপারেশন করার প্রয়োজন হয়, এর মধ্যে তৃতীয় কারণ হচ্ছে এই রোগ। পিঠের ব্যথা অনেক কারণেই হতে পারে। তবে অনেক সময় তুচ্ছ দৈনন্দিন অভ্যাসের জন্যও এই ব্যথা হতে পারে। আর সেসব বিষয়ে সাবধান থাকলে এই ব্যথা থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়। এ প্রতিবেদনে পিঠ ব্যথার ৮টি লক্ষণ দেওয়া হলো, যা লক্ষ্য করলে আপনার জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হবে।

সম্প্রতি আপনার পিঠে ইনজুরি হয়েছে

আপনি যেভাবেই পিঠে আঘাত পান না কেন (যেমন- পড়ে যাওয়া, গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটা, কোনোকিছু আপনার পিঠে আঘাত করা), দ্রুত কোনো বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত। হয়তো আপনি টের পাচ্ছেন না, কিন্তু স্পাইনাল ইনজুরি হলে তা খুব মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে। তাই ব্যথা পাওয়ার সাথে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চলে যাবেন। আঘাতের অবস্থা বোঝার জন্য আপনার এক্স-রে অথবা সিটি স্ক্যান প্রয়োজন হবে।

আপনি ওজন হারাচ্ছেন

অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুত ওজন হ্রাস কখনোই ভালো লক্ষণ নয়। এর সঙ্গে পিঠ ব্যথা থাকলে, এটি মেরুদণ্ডে টিউমারের একটি লক্ষণ হতে পারে। টিউমার মেরুদণ্ডের হাড় দুর্বল করে এতে ফাঁটল ও ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। টিউমারের কারণে স্পাইনাল কর্ড ও এর স্নায়ুগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি হয়ে ব্যথা, দুর্বলতা, ইনকন্টিনেন্স এমন কি প্যারালাইসিসের ঘটনাও ঘটতে পারে। যদি আপনার ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকে অথবা যদি আপনি অতি ধূমপায়ী হন, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তার দেখান। কিছু টিউমার মেরুদণ্ডে শুরু হয়, কিন্তু তারা সেখান থেকে ফুসফুস, স্তন, কিডনি ও প্রোস্টেটে ছড়িয়ে পড়ে।

আপনি প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না

ব্লাডার ইনকন্টিনেন্সের মত সমস্যা আপনার প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। এর কারণে পিঠ ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এমন সমস্যার জন্য আপনি ডাক্তার না দেখালে সমস্যা আরো প্রকট রূপ ধারণ করতে পারে।

ব্যথা আপনাকে রাতে জাগিয়ে তোলে

অনেক ক্ষেত্রে বিশ্রাম নিলে পিঠ ব্যথা কমে যায়। কিন্তু পিঠের ব্যথার কারণে যদি আপনি প্রায়ই ঘুম থেকে জেগে ওঠেন, তাহলে এটি বিনাইন টিউমারের লক্ষণ হতে পারে। এর সঙ্গে ক্ষুধা হ্রাস, জ্বর অথবা দুর্বলতা বা অসাড়তা থাকলে এখনই ডাক্তার দেখাতে হবে।

আপনার পাকস্থলী ব্যথাও আছে

সাধারণ পিঠ ব্যথা বিরল ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার পাকস্থলীর ব্যথাও অনেক সময় পিঠে অনুভূত হতে পারে, যার মানে হচ্ছে আপনার পিঠ ব্যথার উৎপত্তি হয়েছে পেট থেকে। অ্যাবডোমিনাল অ্যাওরটিক অ্যানিউরিজম, পেটের একটি মারাত্মক অবস্থা যার কারণে পিঠের নিচের দিকে তীব্র ব্যথা হয়। যদি আপনার ব্যথা প্রতিনিয়ত তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে, তাহলে আজই হাসপাতালে যান।

আপনার পিঠের পেশি শক্ত হয়ে গিয়েছে

যদি পিঠ ব্যথা প্রতিনিয়ত না হয় এবং এর পরিবর্তে পিঠের পেশি শক্ত হয়ে যায়, তাহলে সম্ভবত আপনার কিডনিতে পাথর হয়েছে। যদি এমনটা ঘটে, তাহলে আপনার প্রস্রাবের সঙ্গে কিছু রক্তও লক্ষ্য করতে পারেন। হাসপাতালে যান এবং রোগ নির্ণয় করুন ও চিকিৎসা নিন। ডাক্তার এই পাথর অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আপনার অস্টিওপোরোসিস আছে

আপনার অস্টিওপোরোসিস আছে এবং যদি হঠাৎ আপনার পিঠ ব্যথা হয়, তাহলে সম্ভবত আপনার মেরুদণ্ডের হাড়ে ফাঁটল ধরেছে। এর পেছনে পড়ে যাওয়া, ভারী কিছু উত্তোলন করা অথবা এমনকি শক্তিশালী কাশিও অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যথা যদি নিজে নিজে চলে না যায়, তাহলে ডাক্তার দেখাতে হবে। সেক্ষেত্রে ভারটিব্রোপ্লাস্টির মাধ্যমে ফেঁটে যাওয়া মেরুদণ্ডের হাড়ে সিমেন্ট ঢুকিয়ে দিতে পারেন চিকিৎসকরা।

আপনার অসাড়তা আছে

যদি সঠিক সময়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেন তাহলে স্পাইনাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আপনি স্থায়ীভাবে প্যারালাইসড হয়ে যেতে পারেন। আপনার পিঠ ব্যথা ও পায়ের দিকে অসাড়তা থাকলে তা কোমর বরাবর মেরুদণ্ড থেকে বেরিয়ে আসা এক বা একাধিক স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যান।

প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার ১১টি অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা!

প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার ১১টি অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা!

নামাজ হল ইসলাম ধর্মের প্রধান উপাসনাকর্ম। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। কিন্তু অনেকেই জানেন না নামাজ সাস্থের জন্য অনেক উপকারী।

নামাজ পড়ার মাধ্যমে আমাদের শরীরের বেশকিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নাড়াচাড়া হয় যা এক প্রকার ব্যায়াম। এই ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি। চলুন জেনে নেই নামাজ পড়ার ১১টি স্বাস্থ্য গত উপকারিতা সম্পর্কে:

১। নামাজে যখন সিজদা করা হয় তখন আমাদের মস্তিস্কে রক্ত দ্রুত প্রবাহিত হয়। ফলে আমাদের স্মৃতি শক্তি অনেকবৃদ্ধি পায়। ২। নামাজের যখন আমরা দাড়াই তখন আমাদের চোখ জায়নামাজের সামনের ঠিক একটি কেন্দ্রে স্থির অবস্থানে থাকে ফলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

৩। নামাজের মাধ্যমের আমাদের শরীরের একটি ব্যায়াম সাধিত হয়। এটি এমন একটি ব্যায়াম যা ছোট বড় সবাই করতে পারে। ৪। নামাজের মাধ্যমে আমাদের মনের অসাধারন পরিবর্তন আসে। ৫। নামাজ সকল মানুষের দেহের কাঠামো বজায় রাখে। ফলে শারীরিক বিকলঙ্গতা লোপ পায়।

৬। নামাজ মানুষের ত্বক পরিষ্কার রাখে যেমন ওজুর সময় আমাদের দেহের মূল্যবান অংশগুলো পরিষ্কার করা হয় এর ফলে বিভিন্ন প্রকার জীবানু হতে আমরা সুরক্ষিত থাকি। ৭। নামাজে ওজুর সময় মুখমন্ডল ৩ বার ধৌত করার ফল আমাদের মুখের ত্বক উজ্জল হয় এবং মুখের দাগ কম দেখা যায়।

৮। ওজুর সময় মুখমন্ডল যেভাবে পরিস্কার করা হয় তাতে আমাদের মুখে একপ্রকার মেসেস তৈরি হয় ফলে আমাদের মুখের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখা কমে যায়। ৯। কিশোর বয়সে নামাজ আদায় করলে মন পবিত্র থাকে এর ফলে নানা প্রকার অসামাজিক কাজ সে বিরত থাকে।

১০। নামাজ আদায় করলে মানুষের জীবনি শক্তি বৃদ্ধি পায়। ১১। কেবল মাত্র নামাজের মাধ্যমেই চোখের নিয়ম মত যত্ন নেওয়া হয়। ফলে অধিকাংশ নামাজ আদায় কারী মানুষের দৃষ্টি শক্তি বজায় থাকে।

বাবার জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজ্জাকের ছেলের অনুরোধ

বাবার জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে- চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়করাজ রাজ্জাকের জন্মদিন আজ (২৩ জানুয়ারি)। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুর পর আজ তার দ্বিতীয় জন্মদিন।রাজ্জাকের জন্মদিন পালন করা হতো বেশ ঘটা করেই। কাউকে দাওয়াত করার দরকার হতো না। বন্ধুমহল, ভক্তবৃন্দ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিরা জন্মদিনে নায়কের বাড়িতে হাজির হতেন। চলতো রান্না-বান্নাসহ নানা আয়োজন।

বাবার জন্মদিনের এমন স্মৃতির কথা গণমাধ্যমকে জানালেন রাজ্জাকের ছোট ছেলে সম্রাট। তিনি বলেন, ‘আব্বার জন্মদিনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেত আগের দিন বিকেল থেকে। সকাল থেকে বাসায় মানুষজনের ভিড় লেগে থাকত। শেষ হতো পরদিন দুপুরে।’কিন্তু নায়ক রাজের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে বলে জানিয়েছেন সম্রাট। তিনি বলেন, ‘এখন আর কেউ খোঁজ নেয় না, আসা তো দূরের কথা। আমার মনে হয়, এটাই বাস্তব। আমরা এই কঠিন বাস্তবকে মেনে নিয়েছি।’

রাজ্জাকের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন সম্রাট। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তাকে অনুরোধ করছি, প্লিজ, নায়করাজ রাজ্জাকের স্মৃতি রক্ষার জন্য কিছু করুন।যদি তার স্মৃতি সংরক্ষণ করা সম্ভব না হয়, তাহলে তিনি দ্রুত হারিয়ে যাবেন। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য অনেক কিছু করেছেন। চলচ্চিত্রে তার অনেক অবদান রয়েছে। এমন কিছু করুন, যাতে এই দেশের মানুষের মধ্যে তিনি বেঁচে থাকতে পারেন।’

বাবাকে হারিয়ে ফেললাম, বললেন সালমা

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষবারের মতো সিক্ত হলেন মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার ও সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। বুধবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধা এই শিল্পীকে রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার প্রদানের পর শ্রদ্ধা জানান গুণগ্রাহীরা।এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। এফডিসিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর বিকালে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী করবস্থানে সমাহিত করা হবে বরেণ্য এই শিল্পীকে। আহমেদ ইমতিয়াজের মৃত্যুতে বাংলা সংগীত অঙ্গন হারালো এক মেধাবী সন্তানকে। একে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন তার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধারা।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন দেশের এই সূর্য সন্তান। লাল সবুজের পতাকায় ঢেকে তাকে শেষ শ্রদ্ধা রাষ্ট্রের।বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমঘর থেকে বাংলা গানের শ্রষ্টাকে নিয়ে আসা হয় শহীদ মিনারে।ঢল নামে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সহযোদ্ধা, অগ্রজ ও অনুজদের। যিনি সুরের মূর্ছনায় বাঙালীকে তার শেকড়ের সাথে পরিচয় করিয়েছেন বার বার, তার বিদায়। অনেকেই ধরে রাখতে পারেন নি আবেগ।

সঙ্গীত শিল্পী সালমা বলেন, আমাকে সবসময় বাবার মত ভালবাসা দিয়েছেন। আজকে বাবাকে হারিয়ে ফেললাম, এই কষ্টটা বলে বোঝাতে পারবো না।’সঙ্গীতের সব মাধ্যমেই ছিল তার দীপ্ত পদচারণা। একাধারে কাজ করেছেন গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধের পরে, তার সৃষ্টি বেশ কিছু দেশাত্মবোধক পেয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। সংগীতে অবদানের জন্য একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, রাষ্ট্রপতি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মানে ভূষিত হন এই বিরল প্রতিভা।শ্রদ্ধা জানান সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও।

আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, বুলবুল ছিলেন একজন অকুতোভয়, সাহসী মানুষ। তিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধই করেননি, স্বাধীনতাবিরোধীদের জন্য তিনি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায় জন্ম নেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। মঙ্গলবার রাজধানীর আফতাব নগরে নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

সৎমা কারিনাকে নিয়ে নিজের মনের কথা বললেন সারা

ছোটবেলা থেকেই কারিনা কাপুরের অভিনয় ভালো লাগত সাইফ আলী খানের মেয়ে সারা আলীর। ‘কভি খুশি কভি গম’ যে কতবার দেখেছেন, তার কোতো ইয়ত্তা নেই। যেখানে কারিনা ছিল তার প্রিয় চরিত্র।পর্দায় তাকে দেখেই বারবার মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। আর তার সেই প্রিয় অভিনেত্রীকেই সৎমা হিসাবে পেলেন আসল জীবনে।

অমৃতা সিংকে ১৯৯১ সালে বিয়ে করেন সাইফ আলী খান। প্রায় ১২ বছরের বড় অমৃতার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধা নিয়ে পতৌদি পরিবারের আপত্তি থাকলেও ছোট নবাব তা শোনেননি।অমৃতাকে বিয়ের পর জন্ম হয় সারা ও ইব্রাহিমের। তাদের জন্মের পর পরই অমৃতা সিংয়ের সঙ্গে ২০০৪ সালে বিচ্ছেদ হয়ে যায় সাইফের।এর পর ২০১২ সালে অভিনেত্রী কারিনা কাপুরকে বিয়ে করেন সাইফ আলী খান। কারিনা কাপুর খানকে সৎমা হিসাবে পেয়েও খুশি বলে জানান সারা আলী। একটি সংবাদ মাধ্যমের সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি সৎমা কারিনা কাপুর খান সম্পর্কে নিজের মনের কথা খুলে বলেন সাইফকন্যা সারা।

তিনি বলেন, কারিনা কাপুর খানের সব কিছুই তার ভালো লাগে। অভিনয় থেকে শুরু করে স্টাইলিং, সারা যেন বেবোর আপাদমস্তক ভক্ত। আর তাই সৎমা হলেও কখনও কারিনার প্রশংসা করতে ভোলেন না ‘কেদারনাথ’ অভিনেত্রী।বিয়ের পরও কারিনা কাপুর খান যেভাবে ক্যারিয়ার, সংসার ও সন্তান একসঙ্গে সামলাচ্ছেন, তা তাকে মুগ্ধ করে বলেও জানান সারা।

শুধু তাই নয়, ছোটবেলা থেকেই কারিনার ভক্ত ছিলেন তিনি। সারা জানান, তার বাবা কখনও কারিনাকে তাদের সামনে এনে হাজির করে বলেননি যে, এটি তোমাদের দ্বিতীয় মা।আর সে কারণেই কারিনার সঙ্গে ক্রমশ বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের। শুধু সারা নন, কারিনাও যে সাইফের প্রথম পক্ষের দুই সন্তানকে আপন করে নিয়েছেন, তা বেশ স্পষ্ট অভিনেত্রীর কথা থেকেই।সারা আলী খানের ‘কেদারনাথ’ মুক্তি পাওয়ার পর সৌন্দর্য ও বুদ্ধিমত্তার মিশেল সারার মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন কারিনা।পাশাপাশি আরও বলেন, তিনি সারা ও ইব্রাহিমের খুব ভালো বন্ধু। কারণ সারা ও ইব্রাহিমের কাছে ইতোমধ্যেই একজন সুন্দর মনের মা রয়েছেন। তাই নতুন করে আর কোনো মায়ের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন কারিনা কাপুর খান।

বিয়ের পর মেয়েদের কোমর মোটা হয় কেন?

বিয়ের পর মেয়েদের কোমর মোটা হয় কেন?

বিয়ের পর মেয়েদের কোমর মোটা হয় কেন?..অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা ৩৫০ জন কনের ওপর গবেষণা করে তথ্য বের করেন, বিয়ের পর কেন কনের স্তন ও কোমর মোটা হয়। দেখা যায়, বিয়ের পর প্রথম ছয় মাসে কনেরা প্রায় পাঁচ পাউন্ডের মতো ওজন বাড়িয়ে ফেলেন। পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, যারা বিয়ের সময়ে সুন্দর দেখাতে নিজের ওজন অনেক দ্রুত কমিয়ে ফেলেন, বিয়ের পর তাদের ওজন দ্রুত বেড়ে যায়।

এটা প্রায়শই দেখা যায় যে, মেয়েরা চায় বিয়ের সময়ে তাদের দেখতে ছিপছিপে এবং কমবয়সী লাগুক। এ কারণে তারা বিয়ের কয়েক মাস আগে থেকেই কঠোর ডায়েটে চলে যান। এমনকি দেখা যায়, পরিবারের মানুষ এমনকি তাদের বাগদত্ত পুরুষেরাই তাদেরকে বলেন ওজন কমাতে।

তারা বেশিরভাগই মোটামুটি ২০ পাউন্ড (৯ কেজির) মতো ওজন কমানোর পরিকল্পনা করে ডায়েট শুরু করেন।অনেকের ওজন এই ডায়েটের ফলে কমে গেলেও বেশিরভাগেরই ওজনে তেমন কোনো হেরফের হয় না। তখন প্রথম ছয় মাসের মাঝেই তাদের ওজন বেড়ে যায় দ্রুত।

দেখা যায়, বিয়ের ছয় মাস পর তাদের ওজন বেড়েছে গড়ে ৪.৭ পাউন্ড (২.১ কেজি)। যারা বিয়ের আগে ওজন কমিয়েছিলেন, তাদের ওজন বাড়ার পরিমাণ আরও বেশি, প্রায় ৭.১ পাউন্ড (৩.২ কেজি)। তবে তারা বিয়ের আগে ওজন কমালেও বিয়ের পরে প্রায় ৪.৫ কেজি পর্যন্ত ওজন বেড়ে যায় তাদের।

বিয়ের পরে মেয়েরা মনে করে, সামনে তো আর কোনো বড় উপলক্ষ নেই আর তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের দিকে তাদের তেমন লক্ষ্য থাকে না। তারা খাওয়াদাওয়া এবং ব্যায়ামের ব্যাপারে নিয়মকানুন অনুসরণ বন্ধ করে দেন, যার ফলে ওজন বেড়ে যেতে থাকে। অনেকে আবার মনে করেন, বিয়ের পরে তাদের আকর্ষণীয় ফিগার বজায় রাখার দরকার নেই, এ কারনেও তাদের ওজন এভাবে বাড়তে দেখা যায়।

# বিয়ের পর মোটা হয়ে যাওয়া রোধে করণীয় :

তবে কেবল মেয়েদের জন্য নয়, নারী-পুরুষ উভয়েই এই টিপস মেনে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ওজন। হানিমুনে গেলে খুব বেশি জাঙ্ক ফুড না খেয়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন পোলাও, বিরিয়ানি না খেয়ে গ্রিল করা চিকেন বা মাছ খেতে পারেন। সাথে খাবেন প্রচুর পরিমানে সালাদ। আর মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন কেক, পেস্ট্রি খাওয়ার বদলে ফ্রুট সালাদ আর ফলের রস খেতে পারেন। ভ্রমনে গেলে রিচ ফুড এমনিতেও এড়িয়ে চলা উচিত।ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ভিটামিন বি জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। নতুন পরিবেশে নতুন দায়িত্ব নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় এনার্জি জোগাবে ভিটামিন বি, বাড়তি খাবারের প্রয়োজন পড়বে না।

বিয়ের পর প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন আত্মীয়ের বাসায় নতুন জুটির দাওয়াত থাকাটাই স্বাভাবিক। আর এতেই ওজন অনেকটা বেড়ে যায়। তাই বলে কোথাও দাওয়াতে গেলে একদমই যে খাবেন না তা কিন্তু নয়, ঘি ও তেল মশলা দেয়া খাবার কম নিয়ে সালাদের পরিমান বাড়িয়ে দিন। কোমল পানীয়ের বদলে পানি পান করুন।

শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে মোটা হয়ে যাবার প্রবনতা দেখা দেয়। তাই চা- কফি ও কোল্ড ড্রিঙ্কস খাওয়া কমিয়ে দিন। আর রাতে শুতে যাবার আগে এক গ্লাস দুধ খাবার কথা ভুলবেন না, কারন দুধই ক্যালসিয়ামের সব চাইতে বড় উত্‍স। কষ্ট করে হলেও ব্যাপারটা মেনে চলুন।

প্রেমিকের সঙ্গে পরীমণির রোমান্টিক অবকাশ, দেখুন ছবিতে

পরীমণির রোমান্টিক অবকাশ- জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরী মণি গত বছরের শুরুতে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নির্মিত ‘স্বপ্নজাল’ ছবিতে অভিনয় করে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন।

গত সপ্তাহে প্রেমিক তামিম হাসানকে নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় উড়াল দিয়েছেন এ লাস্যময়ী অভিনেত্রী। সেখানে গিয়ে নীল পাড়ের শুভ্র শাড়ি পরে ইন্দোনেশিয়ার বালির নীল সমুদ্র সৈকতে হাজির হন পরী। এদিকে প্রেমিকার শাড়ির পাড়ের সঙ্গে মিল রেখে নীল রঙের শার্ট পরে সঙ্গী হয়েছেন তামিম।১৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ায় দুজনের রোমান্টিক ছবিগুলো ফেসবুকে পোস্ট করেন ‘শুভ্রা’ খ্যাত এ অভিনেত্রী। সেইসঙ্গে দুজনের ঘুরে বেড়ানো, সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা, খাওয়া দাওয়াসহ বেশ কিছু নজরকাড়া ছবি পোস্ট করেন তিনি।

ঘুরাঘুরির ফাঁকে হঠাৎ বৃষ্টি নামে বালিতে। অনেকটা ‘মেঘ না চাইতে বৃষ্টি’র মতন। ‘ডানা কাঁটা’ পরী খ্যাত অভিনেত্রী বৃষ্টিতে ভিজবেন না তা কি হয়? তাই সুযোগ পেয়ে ঝুপ করে বালির এক রাশি বৃষ্টিতে নিজেকে ভিজিয়ে নিলেন তিনি।বালির সমুদ্র সৈকতে নীল পাড়ের সাদা শাড়িতে পরী আর নীল শার্টে তামিম।সমুদ্রের হাওয়ায় উড়ছে পরীর চুল।

জনপ্রিয় টিকটকে মজেছেন ‘ভাইরাল’ নেহা কক্করও

বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নেহা কক্কর। গানের জগতে তিনি যেমন জনপ্রিয়, তেমনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও তিনি কম জনপ্রিয় নন। মাঝে মধ্যেই নিজের বিভিন্ন কথা, ছবি ও ভিডিও ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন তিনি। ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি এবার টিকটকেও মজেছেন তিনি।

জনপ্রিয় ভিডিও ব্রডকাস্টিং অ্যাপ টিকটকে নতুন নতুন ভিডিও নির্মাণ করে নজর কাড়ছেন নেহা কক্কর। টিকটকে পোস্ট করা ভিডিওগুলো ইনস্টাগ্রামেও পোস্ট করছেন এ সংগীতশিল্পী নিজেই। তার পোস্ট করা সেসব ভিডিওতে কখনো তার বোন সনু কক্কর, কখনো সংগীতশিল্পী সনু নিগম আবার কখনো কখনো অন্য কারো সঙ্গে নাচ-গান করতে দেখা যায় তাকে। ইতোমধ্যে সেসব ভিডিওর সবই ভাইরাল হয়েছে।গত সপ্তাহে একটি ছেঁড়াফাটা স্টাইলের নীল জিন্সের সঙ্গে হালকা গোলাপি রঙের একটি টপস পরে একটি নতুন টিকটক ভিডিও পোস্ট করেন নেহা। ওই ভিডিওটিতে নেহার গাওয়া একটি গান ব্যবহার করা হয়। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পর ভিডিওটির ভিউ ৫৭ লাখের বেশি ছাড়িয়ে গেছে।

নেহা কক্কর এমন একজন শিল্পী, ‍যিনি নিজ প্রতিভাবলে সংগীতজগতে একটা পাকা অবস্থান তৈরি করেছেন। তার রয়েছে অগুনতি ভক্ত। ফলে তিনি যখনই ভিডিও শেয়ার করেন তৎক্ষণাৎ তা ভাইরাল হয়ে যায়। আর এ কারণেই এখন তার নামের আগে ভাইরাল শব্দটি জুড়ে বসেছে।বলিউড ও ভারতের টেলিভিশন অভিনেতা হিমাংশু কোহলির সঙ্গে প্রেম ছিল নেহার। কয়েক মাস আগে জনসম্মুখে ঘোষণা দিয়ে প্রেমের কথা জানান দিয়েছিলেন তারা। সে সময় ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এ ‘মিষ্টি’ তারকা জুটির অন্তরঙ্গ ছবি নজর কেড়েছে অনেকেরই। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে ভেঙে যায় তাদের সে প্রেম। এরপর কিছুটা ভেঙে পড়লেও পরে নিজেকে সামলে নেন নেহা।