পেঁয়াজ আমাদের শরীরে ব্যাড কোলেস্টরলকে জমতে দেয়না, জেনে নিন কিভাবে খাবেন

পেঁয়াজ রান্নার অতি প্রয়োজনীয় উপকরণ। তাছাড়াও শরীরের জন্য ও অত্যন্ত্য উপকারী। পেঁয়াজ নানা ভাবে আমাদের সহয়তা করে শরীরের যত্ন নিতে। আসুন জেনে নেই পেঁয়াজের উপকারিতা। পেঁয়াজের রসে মধু মিশিয়ে খেলে জ্বর ,সর্দিকাশি ,ইত্যাদি থেকে খুব তাড়াতাড়ি এবং সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। প্রতিদিন একটি করে কাঁচা পেঁয়াজ খেলে অনিদ্রা জনিত রোগের সমস্যা থাকলে তা দূর করে। হজমের সমস্যা থাকলেও পেঁয়াজ তা সরিয়ে তুলতে সাহায্য করে। নাক দিয়ে রক্ত পড়া -এই রোগ টি অনেকের ই থাকে ,বা শরীরের কোনো দুর্বলতার কারণে এটি ঘটে থাকে। পেঁয়াজ এই সমস্যার ও সমাধান হিসেবে কাজ করে। শরীরের কোনো অঙ্গ পুড়ে গেলে ,বা পোকা মাকড় কামড়ালে সেই জায়গা টি তে পেঁয়াজের রস এন্টিসেপ্টিকের কাজ করে।

পেঁয়াজ আমাদের শরীরে ইন্সুলিন এর ক্ষরণের পরিমানকে স্বাভাবিক রাখে। এছাড়া এটি শরীরে সুগার লেভেলকে ঠিক রাখে। ফলত ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনাকে কমে যায়। পেঁয়াজ আমাদের শরীরে ব্যাড কোলেস্টরলকে জমতে দেয়না। ফলত হৃদয় জনিত সমস্যা কম হয়। আর্থরাইটিস ,বা অস্ট্রিওপলোসিস ,এই রোগের প্রকোপ আজকাল খুব বেড়ে গিয়েছে। এই রোগগুলি সারিয়ে তুলতে পেঁয়াজ খুবই উপযোগী।

চোখের এবং কানের সমস্যা থাকলেও পেঁয়াজ অন্যান্যা উপযোগী। ছোট বাচ্ছাদের বা সদ্যজাত বাচ্ছাদের দৃষ্টি শক্তি বাড়িয়ে তুলতে পেঁয়াজের রস ব্যবহৃত হয়। পেঁয়াজে ভিটামিন ই থাকে। তাই প্রতিদিন একটি করে কাঁচা পেঁয়াজ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। পেঁয়াজে কর্সেটিন থাকে। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে বিশেষ করে স্টমাক ক্যান্সার এবং কলোরেক্টাল প্রতিরোধ এ পেঁয়াজ উপযোগী।

দাঁত ও মাড়িতে যে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া জন্মায় তা দূর করতেও পেঁয়াজ অত্যন্ত উপযোগী। কাঁচা পেঁয়াজ গ্যাস্ট্রিক আলসার প্রতিরোধ এ সাহায্য করে। জ্বর হলে অনেক সময় আমাদের সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রনা হয়। এক্ষেত্রে পেঁয়াজের বীজ এন্টিবায়োটিক এর কাজ করে।

ত্বক এবং চুলের সমস্যার সমাধান হিসেবে পেঁয়াজের উপকারিতা : পেঁয়াজ আমাদের ত্বককে সতেজ রাখে। এতে প্রচুর পরিমানে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে এছাড়া ভিটামিন এ বা ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই থাকার জন্য আমাদের ত্বকের স্বাস্থ বৃদ্ধি হয় এবং তা সতেজ ও উজ্জ্বল হয়। এছাড়া ক্ষতিকারক ইউ ভি থেকে আমাদের ত্বকের যে ক্ষতি হয় ভিটামিন এ ,সি এবং ই তা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ত্বকের চামড়া টানটান রাখে। ফলত মুখ বয়স জনিত ছাপ পড়তে পারেনা।

আমাদের মুখে অনেক সময় ফোঁড়া হয়,বা নানা রকম ইনফেকশন এর জন্য সারা মুখ লাল হয়ে ফুলে ওঠে। এক চামচ পেঁয়াজের রসে একচামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মুখে মেখে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে কিছুদিন করলে এই সমস্যার হাত থেকে রেহাই নিশ্চিত। পেঁয়াজ রক্তকে পরিশুদ্ধ করে। ফলত আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বেড়ে যায়। পেঁয়াজের রস ,দুধ ও ময়দা সহযোগে মিশ্রণ বানিয়ে রোজ মুখে মাখলে তা আমাদের স্কিন টোনকে হালকা করতে সাহায্য করে।

পেটের জন্য খুবই ভালো পেঁয়াজ। পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পেটে কাঁচা পেঁয়াজ খেতে পারেন। হজমশক্তি ভালো হয়। ত্বকের মতো চুলের যত্ন নিতেও পেঁয়াজ কার্যকরী। পেঁয়াজ খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। ফলত চুল পড়া কম করতেও সাহায্য করে। নারকেল তেলের সাথে পেঁয়াজের রস ও অলিভ অয়েল এর মিশ্রণ মাথায় ও চুলে লাগিয়ে ১ থেকে ২ ঘন্টা রেখেদিন এবার শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কিছুদিন করলেই খুশকি ও চুলপড়ার হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে। মেথি এবং পেঁয়াজের রস মিশিয়ে চুলে লাগান। এতে চুল মসৃন ও নরম হয় এবং উজ্জ্বলতা বেড়ে যায়। এছাড়া পেঁয়াজের রসে মধু মিশিয়ে মাথায় ও চুলে লাগালে চুল পড়া কমে ও চুলের ঘনত্ব বেড়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *