দেশের প্রথম কোনো প্রতিবন্ধী ও সর্বকনিষ্ঠ এমপি পদপ্রার্থী জাবি’র শিক্ষার্থী ইদ্রিস আলী

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার, আশুলিয়া) আসনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এন. ডি. এম) এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মো. ইদ্রিস আলী। এন. ডি. এম এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (০২১) গণঐক্য নামে একজোট হয়ে হারিকেন প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তিনি।

এশিয়া মহাদেশের ৬ষ্ঠ শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বাংলাদেশের প্রথম ও বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বর্তমানে তার বয়স ২৫ বছর ১ মাস ২০ দিন বয়সে প্রার্থিতার ঘোষণা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার যাচাই বাছাইয়ে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক প্রতিবন্ধী সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেছে। বাংলাদেশে এবারে প্রথম কোনো প্রতিবন্ধী প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়বেন।

এন. ডি. এম এর হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি ইদ্রিস আলী নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ‘আসন্ন নির্বাচনে আমি এন. ডি. এম এর একজন প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৯ (সাভার, আশুলিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। আমাদের এই দলটির চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। যিনি গেল নির্বাচনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।’

মাত্র ২৫ বছর বয়সে প্রথম প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার, আশুলিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ইদ্রিস আলী। তিনি স্নাতক শেষ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে। ‘অ্যাবিলিটি ডিজএবিলিটি ডিপেন্ডস অন মেন্টালিটি’ এই স্লোগানে তিনি নির্বাচনে লড়ছেন।

ইদ্রিস আলী বলেন, ‘দেশের প্রথম কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে সংসদ সদস্য (এম.পি) হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে এবার ভিন্ন কিছু করে দেশকে দেখাতে চাই। আমি হারলে আমি নিজে হারব, আমি জিতলে তরুণরাই জিতবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে এবং নির্বাচনে প্রার্থী হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করলে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে এগিয়ে যাবে। আমি একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে দেশের উন্নয়েনে সমান অবদান রাখতে চাই। তাছাড়া আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান পাশ করে সমাজসেবায় নিয়োজিত আছি। সে জায়গা থেকে আরও বেশি সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।’

বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ তরুণ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইদ্রিস আলীর জন্ম ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ সালে মাগুরাতে। তিনি সি. আ. পি প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ছিলেন। এ বছর তিনি এশিয়া ইন্সপাইরেশন পুরস্কার-২০১৮ অর্জন করেছেন ৩০ নভেম্বর শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোতে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের নেতাদের উপস্থিতিতে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। প্রতিবন্ধী মানুষদের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কাজের জন্য তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন।

ইদ্রিস আলী বলেন, আমি এন ডি এম থেকে মনোনয়ন চাইছি তাদের নিজেদের প্রতীক নেই তবে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল তাই জোট করেছে।আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম।১% ভোট আমি সংগ্রহ করতে পারিনি। এদেশে আজ পর্যন্ত আমাদের মত কেউ নির্বাচন করেনি।আমি ভোটের জন্য নির্বাচন করছি না এবার ১ টা ভোটও আমি প্রত্যাশা করছি না। আমি চাইছি অংশগ্রহণ করতে তাই ছোটদল এন ডি এমের মনোনয়ন চাইছি অন্তত প্রার্থী যেন হতে পারি।আরেকটি ইচ্ছা এদেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হওয়া আমার ইচ্ছা- তা হলো। বাকিটা হলো আমি কোনো অমানবিক কাজ চিন্তা বা মধ্যে নেই। মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ আমি মনে প্রাণে ধারন করি।এবার দাড়িয়ে যে পরিচিতি পেলাম সামনে আমি নির্বাচিত এম পি হবো।এ দেশের ইতিহাসে লেখা থাকবে প্রথম প্রতিবন্ধি ব্যক্তি প্রার্থী ইদ্রীস সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী ইদ্রিস আমার এবার এটাই বিজয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *