স্ত্রীর নামেই বেশি সম্পদ গড়েছেন এরশাদ

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মাসিক আয় ৯লাখ ৩ হাজার ৫১৭ টাকা। তার নিজের নামের চেয়ে স্ত্রীর নামে সম্পদ বেশি। ব্যাংকে ঋণ আছে ২ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৬৩৫ টাকা। নিজের থেকে স্ত্রীর নামেই সম্পদ গড়েছেন তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি রংপুর-৩ আসন ও ঢাকার একটি আসন থেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

হলফনামায় তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন বিএ পাশ। পিতা মকবুল হোসেন, মাতা মজিদা খাতুন। স্থায়ী ঠিকানা নিউ সেনপাড়া, রংপুর সদর।

তিনি বর্তমানে ৬টি ফৌজদারি মামলার আসামী। দু’টি বিচারাধীন, চারটি স্থগিত। অতীতে ২৭টি ফৌজদারী মামলা ছিল। যার মধ্যে ১৩টিতে খালাস, ৫টি অব্যহতি, একটিতে তিন মাসে সাজাভোগ ও জরিমানা দিয়ে নিষ্পত্তি পেয়েছেন। চারটিতে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলোর বেশিরভাগই দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা হয়েছিল।

পেশার বিবরণীতে তিনি নিজেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এরশাদ স্ত্রীর নামেই বেশি সম্পদ গড়েছেন:

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ব্যবসা থেকে ২লাখ ৬৫ হাজার টাকা, বিশেষ দূতের সম্মানী ১৯ লাখ ৪হাজার ৬৯৬ টাকা, সংসদ সদস্যের সম্মানী ১২ লাখ ৬০ হাজার, ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সম্মানী ৭৪ লাখ ৭১ হাজার ১০ টাকা বছরে আয় করেন। তার মাসি আয় ৯লাখ ৩ হাজার ৫১৭ টাকা ১৭ পয়সা।

অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে নিজ হাতে নগদ ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৮ টাকা ও স্ত্রীর হাতে নগদ আছে ২৬ কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬ টাকা। স্ত্রীর নামে জমা আছে-সোনালী ব্যাংকে ৪৭ লাখ ৯৮ হাজার ২২টাকা এবং ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ২৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৯১ টাকা। কোম্পানী শেয়ার আছে নিজের নামে ৪৪ কোটি ১০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকার শেয়ার আছে।

নিজের নামে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকার এফডিআর, ডিপিএস ৯ লাখ টাকা আছে। স্ত্রীর নামে ৩ কোটি ২ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকার এফডিআর, সেভিং সার্টিফিকেট ৬০ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ আছে ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার। স্ত্রী ১০০ভরি সোনা আছে।

নিজের নামে ৬০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র আছে। আর স্ত্রীর নামে ১৫ লাখ টাকার।

নিজ নামে ব্যবসায় মূলধন ১২ লাখ ৫১ হাজার ১৫৪ টাকা ও জমি বিক্রয় ২ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকার দেখিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে দেখানো হয়েছে

নিজের নামের কৃষি জমি না থাকলেও স্ত্রীর নামে রংপুর ৩৩ লাখ টাকার ৫০ শতাংশ এবং ঢাকার পূর্বাচলে ১৮ লাখ টাকার সাড়ে ৭ কাঠা জমি আছে।

বনানীতে নিজের নামে শপিং কমপ্লেক্স ৭৭ লাখ টাকার আছে। বারিধারায় ৬২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট, বনানীতে ৪৯ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট এবং গুলশানে ৬২ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট আছে। আর স্ত্রী নামে গুলশানে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ও ফ্ল্যাট গুলশান মডেল টাউনে ৫ কোটি ৫০ লাখ জমি দেখানো হয়েছে।

ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ঋণ আছে ২ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৬৩৫ টাকা।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়পত্র বাছাই হবে ২ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দ ১০ ডিসেম্বর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *