বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী ঢাবির সেই শিক্ষক, মেধা কাজে লাগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!

বিশ্ববরেণ্য পদার্থ বিজ্ঞানী ড. আতাউল করিম। বিশ্বের যে কয়জন সেরা পদার্থবিজ্ঞানী রয়েছেন তার মধ্যে তিনি অন্যতম।একসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের প্রফেসর ছিলেন। তবে এই দেশে মেধাবীদের মূল্যায়ন হয় না। নিজেকে বিকশিত করতে না পেরে তিনি পাড়ি জমান আমেরিকায়। সেখানে গিয়ে তিনি নিজেকে মেলে ধরেছেন।

গবেষণায় একের পর এক সফলতা এসেছে। তিনি এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথের প্রোভোস্ট এবং এক্সিকিউটিভ ভিসি হিসেবে কর্মরত। আজ শুনবো বিশ্ববিখ্যাত এই পদার্থ বিজ্ঞানীর গল্প।

ভাসমান বা ম্যাগনেট ট্রেন আবিস্কার করে তিনি বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসেন। এছাড়া তিনি শেওলা থেকে ফুয়েল আবিষ্কার করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তিনি ক্যান্সার গবেষণায়ও সফলতা পেয়েছেন।

তিনি Non Linear Image Processing, Optical computing, Electro-optical displays, Optical & Hybrid Electro-optical Systems Design এর জন্য বিখ্যাত।

বিশ্ববিখ্যাত এই বিজ্ঞানী শত সমস্যার পরও বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদী। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার অনেক আশা। তারাই এদেশকে বদলে দেবন বলে স্বপ্ন দেখেন ড. আতাউল করিম।

ড. আতাউল করিমের জন্মস্থান মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরশহরের বারইগ্রামে। তিনি ১৯৫৩ সালের ৪ মে বড়লেখার মিশন হাউসে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ডা. মোহাম্মদ আবদুস শুকুর পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। বড়লেখা সদরের ষাটমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়।

এরপর বড়লেখার ঐতিহ্যবাহী পিসি হাইস্কুলে পড়ালেখা করেন। পরবর্তী সময়ে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৬৯ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ্রগ্রহণ করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে প্রথম শ্রেণীতে ৪র্থ স্থান অধিকার করেন। ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সিলেট এম.সি কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে বিএসসি (অনার্স) ডিগ্রি লাভের পর উচ্চশিক্ষা লাভের উদ্দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। পদার্থ বিজ্ঞানে মাস্টার অব সায়েন্স, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স অব সায়েন্স এবং পিএইচডি করেন ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা থেকে যথাক্রমে ১৯৭৮, ১৯৭৯ এবং ১৯৮১ সালে।

পড়ালেখা শেষ করে ১৯৮২ সালে তিনি আরকানস বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারি প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটির তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন।

১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ ডেইটনে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি এসোসিয়েট প্রফেসর এবং ১৯৯৩ সালে প্রফেসর পদে উন্নীত হন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ডেইটন বিশ্ববিদ্যালয়েই তিনি ইলেক্ট্রো-অপটিক্স প্রোগ্রামের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি সেখানে তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে ওহিও’র রাইট প্যাটার্সন বিমান ঘাঁটিতে এভিওনিক্স পরিচালক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন।

১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি টেনেসী বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগে প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০০ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ২০০০ সালে তিনি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কে তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগে প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলের ডিন হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

২০০৪ সালে তিনি নরফোকে অবস্থিত ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটির তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগে প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন। ড. আতাউল করিম ১৯৮৭ সাল থেকে বিভিন্ন রকম গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ম্যাগলেভ ট্রেনের প্যাটার্ন আবিষ্কার তাকে সারা বিশ্বে প্রসিদ্ধ করে তোলে। ড. আতাউল করিম ভার্জিনিয়ার নরফোকের ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা কালে ম্যাগলেভ ট্রেন নিয়ে গবেষণা করেছিলেন।

ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৭ বছর ধরে এ ধরনের একটি ট্রেন তৈরির চেষ্টা করছিলেন, তবে সাফল্যের দেখা পাননি। ড. আতাউল করিম ২০০৪ সালে এই গবেষণা প্রকল্পের সফলতা অর্জন করেন। এরপর মাত্র দেড় বছরে ট্রেনটির প্রযুক্তি নির্মাণে সক্ষম হন এবং গবেষণায় পরীক্ষা মূলকভাবে সফল হন।

বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথের প্রোভোস্ট এবং এক্সিকিউটিভ ভিসি হিসেবে কর্মরত। পারিবারিক জীবনে তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যার জনক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *