বিয়ে করলেন মিথিলা, দোয়া চাইলেন সবার কাছে

‘হুট করেই শুভদিনে শুভকাজটি সেরে ফেললাম। সময় সংকীর্ণতার কারণে সবাইকে জানাতে পারিনি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ ফেসবুক স্ট্যাটাসে এভাবেই খবরটি দিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম আহমেদ। সঙ্গে দিয়েছেন দুটি ছবি। দুটি ছবিতেই জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী মিথিলা বউ সেজে বসে আছেন তার পাশে।

বর-কনের সাজে তাদের এই ছবিটি ফেসবুকে প্রকাশের পর থেকেই ভক্তরা উৎসাহী হয়ে পড়েন সত্যিই কি প্রীতম-মিথিলা বিয়ে করলেন! এমন ভাবনা ভক্তদের মনে জাগতেই পারে। কারণ কিছুদিন আগেই সংগীতশিল্পী তাহসানের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে মিথিলার। ফলে নতুন কাউকে বিয়ে করা তার জন্য এখন সময়ের ব্যাপার।

তবে ভক্তদের মধ্যে এমন ভাবনারও উদ্রেক হয় যে, প্রীতম তো লন্ডন প্রবাসী মডেল ও অভিনেত্রী স্মৃতিকে বিয়ে করে বেশ সুখেই আছেন।
তাহলে তার আবার বিয়ে কেন? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, প্রীতমের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করা ছবি দুটি ‘অবশেষে ভালোবেসে’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের ছবি। ভালোবাসা দিবসে এটির শুটিং করা হয়।এসব তথ্য জানালেন প্রীতম আহমেদ নিজেই। তিনি বলেন, গত দু’দিন ধরে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির শুটিং করছি।

আজ আমরা একটি বিয়ের দৃশ্যের শুটিং করলাম। আগামীকালও শুটিং হবে। উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির শুটিং হচ্ছে। এটি পরিচালনা করছেন ফরহাদ আহমেদ। এটি প্রযোজনা করেছে আলফা আই। শিগগিরই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে ভিডিও শেয়ারিং সাইট বায়োস্কোপ অরিজিনালস-এ।

যে কারণে নবী (সা.) এর জানাযার নামাজে কোনো ইমাম ছিল না!

বিভিন্ন বর্ণনায় সাব্যস্ত হয়েছে যে, সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামায একাকী আদায় করেছিলেন; জামাতের সাথে আদায় করেননি।

আবু আসিব কিংবা আবু আসিম (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে: “তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামাযে হাযির হয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম বলল: আমরা কিভাবে উনার জানাযা নামায আদায় করব?

তিনি বললেন: আপনারা দলে দলে প্রবেশ করুন। তিনি বলেন: তারা এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করে তাঁর জানাযার নামায আদায় করে ঐ দরজা দিয়ে বের হতেন।”। [মুসনাদে আহমাদ (৩৪/৩৬৫), রিসালা প্রকাশনী]

ইবনে আব্দুল বার (রহ.) বলেন, “তাঁর উপর অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর, একাকী নামায পড়ার বিষয়টি সিরাত লেখকগণ ও একদল রেওয়ায়েত সংকলকদের সর্বসম্মত অভিমত; এ ব্যাপারে তারা মতভেদ করেননি।” [তামহিদ

দুই:আলেমগণ সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামায একাকী আদায় করার বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন:

প্রথম কারণ: কোন কোন আলেম বলেছেন: এর কারণ হচ্ছে, সাহাবায়ে কেরামের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওসিয়ত ছিল আলাদা আলাদাভাবে তার জানাযার নামায আদায় করার। কিন্তু সহিহ সনদে এ বিষয়টি সাব্যস্ত হয়নি। বরং কিছু দুর্বল হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।সুহাইলি (রহঃ) বলেন:

এটি নবী সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়। এ আমল কুরআন-সুন্নাহ্র সরাসরি দলিল ছাড়া হতে পারে না। এছাড়া বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মর্মে ওসিয়ত করে গেছেন। তাবারী সনদসহ তা বর্ণনা করেছেন।

এর তাত্ত্বিক কারণ হল: আল্লাহ্ তাআলা তাঁর উপর সালাত পড়া এই বাণীর মাধ্যমে ফরয করে দিয়েছেন: ( صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً ) الأحزاب/৫৬، (তোমরাও তাঁর উপর সালাত এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ কর।) [সূরা আহযাব, আয়াত: ৫৬] এই আয়াতে যে ‘সালাত’ পড়ার কথা বলা হচ্ছে সে সালাত (দরুদ) পড়ার হুকুম হচ্ছে- ইমাম ব্যতীত।

তাঁর মৃত্যু পরবর্তী সময়ে তাঁর উপরে সালাত (জানাযার নামায) পড়াও এই আয়াতের ভাষ্যে অন্তর্ভুক্ত। আয়াতে কারীমাটি এই সালাত (জানাযা-নামায) ও সার্বক্ষণিক তাঁর উপরে সালাত (দরুদ) উভয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে। [সংক্ষেপিত ও সমাপ্ত][আর-রওযুল উনুফ (৭/৫৯৪-৫৯৫)]

দ্বিতীয় কারণ: এই মর্যাদা অর্জন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামাযের ইমামতি এর ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের পারস্পারিক তীব্র প্রতিযোগিতা। যার কারণ হচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাদের তীব্র ভালবাসা।

এ ভালবাসার সাথে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাদের সর্বশেষ নিকটবর্তী অবস্থানের ক্ষেত্রে অন্যকে অগ্রাধিকার দেয়া বা সুযোগ দেয়া সাজে না; বরং প্রতিযোগিতা করা এবং ঢেলাঢেলি করাই সাজে।

বিশেষতঃ যেহেতু খলিফা বা ইমামের বিষয়টি তখন পর্যন্ত স্থিতিশীল হয়নি এবং কোন ব্যক্তি মুসলিম উম্মাহ্র দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন তাকে তখনও চেনা যায়নি যে, তিনি এগিয়ে গিয়ে ইমামতির দায়িত্ব নিবেন।

তাই তারা মুসলমানদের ঐক্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং একজন ব্যক্তির উপর তাদের সকলের সিদ্ধান্ত এক হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন; যাতে করে তিনিই অনুসৃত ইমাম হতে পারেন। কারণ খলিফাই তো নামাযের ইমামতি জন্য এগিয়ে যেতেন।

ইমাম শাফেয়ি (রহঃ) বলেন, “সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামায একাকী আদায় করেছিলেন কেউ ইমামতি করেনি সেটা রাসূলের মহান মর্যাদার কারণে এবং একক ব্যক্তি যেন রাসূলের জানাযা নামাযের ইমাম না হয় তাদের পারস্পারিক এই প্রতিযোগিতার কারণে।” [আল-উম্ম (১/৩১৪)]

ইমাম রামলি (রহঃ) ইমাম শাফেয়ি (রহঃ) এর উক্তিটি উদ্ধৃত করার পর বলেন: “কেননা তখনও উম্মাহ্র নেতৃত্ব দেয়ার জন্য কোন ইমাম নির্ধারিত হয়নি। যদি কেউ নামাযের ইমামতির জন্য এগিয়ে যান তাহলে সবক্ষেত্রে তিনিই হবেন অগ্রণী এবং খিলাফতের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।”[সমাপ্ত][নিহায়াতুল মুহতাজ (২/৪৮২)]

তৃতীয় কারণ: সাহাবায়ে কেরামের মাঝে কারো মুক্তাদি না হয়ে একাকী ও বিশেষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জানাযার নামায আদায় করার মাধ্যমে বরকত লাভের প্রতিযোগিতা। সওয়াব ও বরকত লাভের জন্য তাদের কেউ তার মাঝে ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাঝে অন্য কেউ মাধ্যম হোক এটা গ্রহণ করেননি।এই কারণগুলো আলেমগণ উল্লেখ করে থাকেন। কিন্তু, এর মধ্যে কোন একটি কারণকেও নিশ্চিত করা আমাদের কাছে পরিস্ফুট নয়।

হতে পারে উল্লেখিত সবগুলো কারণের পরিপ্রেক্ষিতে কিংবা কোন একটি কারণের পরিপ্রেক্ষিতে সাহাবায়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহ্ িওয়া সাল্লামের জানাযার নামায একাকী আদায় করেছেন। আবার এও হতে পারে আমরা যে কারণগুলো উল্লেখ করেছি সেগুলো ছাড়া ভিন্ন কোন কারণে তারা তা করেছেন। আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ। সূত্র: ইসলামকিউএ.কম

কাশ্মীরে ভয়াবহ হামলা, ভারতের ৮ সেনা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভালোবাসা দিবসে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা কাশ্মীরে। অন্তত আট ভারতীয় সেনার শহিদ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে আট সিআরপিএফ সেনার।

শহিদের সংখ্যা আরও বাড়তে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিককালের মধ্যে এটাই অন্যতম বড় জঙ্গি হামলা। ভয়াবহ আইইডি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে কাশ্মীরের অবন্তীপুরায়। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে পাক জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদ।

শ্রীনগর-জম্মু হাইওয়ের উপর দিয়ে বাসে চেপে যাচ্ছিলেন ভারতের সিআরপিএফ সৈন্যরা। সেইসময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। গত কয়েকদিন ধরেই ওই হাইওয়ে বন্ধ রাখা হয়েছিল।এদিন বিস্ফোরণের পর গ্রেনেড, গুলি ছুঁড়তে শুরু করে জঙ্গিরা। এরপর ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে নিরাপত্তাবাহিনী।

এদিকে, বুধবারই কাশ্মীরের পুলওয়ামার স্কুলের সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়৷ অন্তত ১২ জন পড়ুয়া আহত হন৷ তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক৷

জানা গিয়েছে, পুলওয়ামার কাকপোরার কাছে একটি বেসরকারি স্কুলের ভেতরে হয় বিস্ফোরণটি৷ সেই সময় ক্লাস চলছিল৷ বিস্ফোরণ হওয়া মাত্র কেঁপে ওঠে গোটা স্কুল৷ আহত হয় ১২ শিক্ষার্থী৷ বিস্ফোরণের পরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়৷ তবে কোনও জঙ্গি সংগঠন ঘটনার দায় স্বীকার করেনি৷

ঘড়ির কাঁটায় আড়াইটে নাগাদ ঘটে বিস্ফোরণটি৷ আইইডি ফেটে এই বিস্ফোরণ কিনা তা এখনও অবধি পরিস্কার নয়৷ সাধারণত প্রবল শীতের কারণে কাশ্মীরে এই সময় স্কুল বন্ধ থাকে৷ পুলওয়ামার স্কুলটি এদিন পরীক্ষার জন্য বিশেষ ক্লাস রেখেছিল৷ সেই কারণে খোলা ছিল স্কুলটি৷ আহতরা সকলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গিয়েছে৷

মহানবীর জুব্বা পেয়েছেন যে দরবেশ

কেনান দেশে বাস করতেন তিনি। বয়েচলা ছোট্ট পাথুরে নদী। তার পাশ ঘেঁষে ঘন জঙ্গল। এখানেই দিনভর, রাতভর মাবুদের নাম জব করেন।

কখনও সিজদায় কখনও মোনাজাতে মাবুদের স্মরণে বুক ভাসান। জমিনে মা, ওপরে আল্লাহকে সঙ্গে রেখে কাটে তার জীবন।

কাজের জন্য বেরোন একটু-আধটু। উট চড়িয়ে দুপয়সা কামাই হলে কাজ ক্ষান্ত দেন। এক পয়সা দান করে এক পয়সার খাদ্য কিনে নেন। অন্ধ মা আর ছেলেতে এ দিয়ে বেশ কাটে।

খেয়ে-দেয়ে মা কাঁদেন শুকরিয়ার কান্না। দরবেশ ওয়েজকরুনিও কাঁদেন সঙ্গে। তিনি কাঁদেন যেন জীবন ভর মায়ের সেবা করতে পারেন।

ভোর না হতেই মাকে নাইয়ে-ধুইয়ে আনেন নদী থেকে। যখন কাজ করতে যান কাঁধে তুলে নেন মাকে। একা বনে মা থাকবেন কেন? ওয়েজকরুনি আছে না! তাই ঘাস জমিতে মাকে বসিয়ে পাশেই উট চরান দরবেশ।

দূর থেকে মাকে চোখে চোখে রাখেন। না জানি মার কষ্ট হয়। ছুটে ছুটে এসে নজর বুলিয়ে যান। ওয়েজকরুনির মাতৃ প্রেমে খুশি হয়ে মাবুদ প্রেম নজর দান করেন। মা আর খোদার সাধনা করতে করতে মহানবীর না দেখা প্রেমিক বনে যান তিনি।

এতে তার হৃদয় নদীতে প্রেম জোয়ার বয়ে যায়। বনের চারধারে বাতাস হয়ে পাথুরে নদীর কূলে কূলে ঢেউ হয়ে ছোটাছুটি করে প্রেম।

প্রেম বিভোর ওয়েজকরুনী হেঁটে বেড়ান প্রেমের মরুতে। হাঁটেন ঝুঁকে ঝুঁকে। উট চরানো রাখাল বালকরা খেলার মজায় ঢিল ছোড়ে। শত তালির ছেঁড়া কম্বলে ঢাকা মানুষটিকে পাগল ভাবে মজা করে।

চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রেমের দরবেশ। তার গায়ে ঢিলের আঘাত মায়া আর ফুলের ছোঁয়া দিয়ে যায়। তিনি মিষ্টি করে বলেন- বালকরা শোন। ছোট ছোট ঢিল কুড়িয়ে মার, যাতে রক্ত না বেরোয়।

রক্ত বেরোলে আমার অজু ভেঙে যাবে। দুনিয়াটা প্রেম আর মায়া। বিড়বিড় করে এসব বলতে বলতে মায়ের স্মরণমায়া এসে তাকে জড়িয়ে ধরে। মায়ের কথা মনে হতেই এক দৌড়ে ছুটে যান বনে।

মহানবীর এই না দেখা প্রেমিক অন্তর প্রেমের ছটায় নবীর দরবেশি জুব্বা অর্জন করেছিলেন। তাবতমানুষের জন্য প্রেম সাগরের মতো বহমান ছিল মহানবীর জীবনধারা।

দূর কেনানের বয়ে চলা পাথুরে নদী প্রেম জোয়ারে মিলল এসে মক্কার মোহাম্মদ (সা.) নামের সাগরে। পৃথিবীতে মাকে যারা ভালোবাসে, মায়ের যারা সেবা করে, তারাই হয় সৌভাগ্যের অধিকারী। মাকে ভালোবেসে ওয়েজকরুনি আল্লাহর সঙ্গ পেয়েছেন। আর পেয়েছেন মহানবীর প্রেম সঙ্গ।

মাবুদ তার বাণীতে বলেছেন- আমি যাকে ইচ্ছা তাকে যা ইচ্ছা তাই দান করি। এমনি এমনিই আমার খুশি মতো দান করি।

আমাদের কি ইচ্ছা করে না মাকে ভালোবেসে মায়ের সেবা করে ওয়েজকরুনির মতো হতে?

ওয়েজকরুনির ক’টি উক্তি-

* যে সবসময় ভালো খাবার খায় আরও চায়।

* যে নিত্যনতুন পোশাক পরিচ্ছদ পরতে চায়, আরও কামনা করে।

* যে সবসময় ধনীর সঙ্গ লাভ করে আরও চায়। দোজখ এমন লোকের খুব কাছে ওঁৎ পেতে থাকে।

* সাধকদের কাছে জেনে প্রেম সাধন কর। মাবুদ রাজি হবেন তোমার আরাধনায়।

* নির্জনতাই প্রেম। ঠোঁটের নির্জনতা নয়, অন্তরের নির্জনতাই বেহেশতি প্রেম।

* উন্নতি অর্জন হয় বিনয়ে। সত্যবাদীরা পুরস্কৃত হয়। গৌরব ছড়ায় সাধনায়।

* ধৈর্য ধরে লাভ করেছি মহত্ত্ব। শান্তি খুঁজে পেয়েছি মাবুদের সাধনায়।

* যা কিছু আত্মার সম্পদ সবই আমি পেয়েছি।

বিখ্যাত সুফি গ্রন্থ তাজকিরাতুল আউলিয়ার ভাব নিয়ে

যে কারণে নবী (সা.) এর জানাযার নামাজে কোনো ইমাম ছিল না!

বিভিন্ন বর্ণনায় সাব্যস্ত হয়েছে যে, সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামায একাকী আদায় করেছিলেন; জামাতের সাথে আদায় করেননি।

আবু আসিব কিংবা আবু আসিম (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে: “তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামাযে হাযির হয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম বলল: আমরা কিভাবে উনার জানাযা নামায আদায় করব?

তিনি বললেন: আপনারা দলে দলে প্রবেশ করুন। তিনি বলেন: তারা এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করে তাঁর জানাযার নামায আদায় করে ঐ দরজা দিয়ে বের হতেন।”। [মুসনাদে আহমাদ (৩৪/৩৬৫), রিসালা প্রকাশনী]

ইবনে আব্দুল বার (রহ.) বলেন, “তাঁর উপর অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর, একাকী নামায পড়ার বিষয়টি সিরাত লেখকগণ ও একদল রেওয়ায়েত সংকলকদের সর্বসম্মত অভিমত; এ ব্যাপারে তারা মতভেদ করেননি।” [তামহিদ

দুই:

আলেমগণ সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামায একাকী আদায় করার বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন:

প্রথম কারণ: কোন কোন আলেম বলেছেন: এর কারণ হচ্ছে, সাহাবায়ে কেরামের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওসিয়ত ছিল আলাদা আলাদাভাবে তার জানাযার নামায আদায় করার। কিন্তু সহিহ সনদে এ বিষয়টি সাব্যস্ত হয়নি। বরং কিছু দুর্বল হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

সুহাইলি (রহঃ) বলেন:

এটি নবী সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়। এ আমল কুরআন-সুন্নাহ্র সরাসরি দলিল ছাড়া হতে পারে না। এছাড়া বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মর্মে ওসিয়ত করে গেছেন। তাবারী সনদসহ তা বর্ণনা করেছেন।

এর তাত্ত্বিক কারণ হল: আল্লাহ্ তাআলা তাঁর উপর সালাত পড়া এই বাণীর মাধ্যমে ফরয করে দিয়েছেন: ( صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً ) الأحزاب/৫৬، (তোমরাও তাঁর উপর সালাত এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ কর।) [সূরা আহযাব, আয়াত: ৫৬] এই আয়াতে যে ‘সালাত’ পড়ার কথা বলা হচ্ছে সে সালাত (দরুদ) পড়ার হুকুম হচ্ছে- ইমাম ব্যতীত।

তাঁর মৃত্যু পরবর্তী সময়ে তাঁর উপরে সালাত (জানাযার নামায) পড়াও এই আয়াতের ভাষ্যে অন্তর্ভুক্ত। আয়াতে কারীমাটি এই সালাত (জানাযা-নামায) ও সার্বক্ষণিক তাঁর উপরে সালাত (দরুদ) উভয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে। [সংক্ষেপিত ও সমাপ্ত][আর-রওযুল উনুফ (৭/৫৯৪-৫৯৫)]

দ্বিতীয় কারণ: এই মর্যাদা অর্জন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামাযের ইমামতি এর ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের পারস্পারিক তীব্র প্রতিযোগিতা। যার কারণ হচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাদের তীব্র ভালবাসা।

এ ভালবাসার সাথে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাদের সর্বশেষ নিকটবর্তী অবস্থানের ক্ষেত্রে অন্যকে অগ্রাধিকার দেয়া বা সুযোগ দেয়া সাজে না; বরং প্রতিযোগিতা করা এবং ঢেলাঢেলি করাই সাজে।

বিশেষতঃ যেহেতু খলিফা বা ইমামের বিষয়টি তখন পর্যন্ত স্থিতিশীল হয়নি এবং কোন ব্যক্তি মুসলিম উম্মাহ্র দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন তাকে তখনও চেনা যায়নি যে, তিনি এগিয়ে গিয়ে ইমামতির দায়িত্ব নিবেন।

তাই তারা মুসলমানদের ঐক্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং একজন ব্যক্তির উপর তাদের সকলের সিদ্ধান্ত এক হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন; যাতে করে তিনিই অনুসৃত ইমাম হতে পারেন। কারণ খলিফাই তো নামাযের ইমামতি জন্য এগিয়ে যেতেন।

ইমাম শাফেয়ি (রহঃ) বলেন, “সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামায একাকী আদায় করেছিলেন কেউ ইমামতি করেনি সেটা রাসূলের মহান মর্যাদার কারণে এবং একক ব্যক্তি যেন রাসূলের জানাযা নামাযের ইমাম না হয় তাদের পারস্পারিক এই প্রতিযোগিতার কারণে।” [আল-উম্ম (১/৩১৪)]

ইমাম রামলি (রহঃ) ইমাম শাফেয়ি (রহঃ) এর উক্তিটি উদ্ধৃত করার পর বলেন: “কেননা তখনও উম্মাহ্র নেতৃত্ব দেয়ার জন্য কোন ইমাম নির্ধারিত হয়নি। যদি কেউ নামাযের ইমামতির জন্য এগিয়ে যান তাহলে সবক্ষেত্রে তিনিই হবেন অগ্রণী এবং খিলাফতের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।”[সমাপ্ত][নিহায়াতুল মুহতাজ (২/৪৮২)]

তৃতীয় কারণ: সাহাবায়ে কেরামের মাঝে কারো মুক্তাদি না হয়ে একাকী ও বিশেষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জানাযার নামায আদায় করার মাধ্যমে বরকত লাভের প্রতিযোগিতা। সওয়াব ও বরকত লাভের জন্য তাদের কেউ তার মাঝে ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাঝে অন্য কেউ মাধ্যম হোক এটা গ্রহণ করেননি।

এই কারণগুলো আলেমগণ উল্লেখ করে থাকেন। কিন্তু, এর মধ্যে কোন একটি কারণকেও নিশ্চিত করা আমাদের কাছে পরিস্ফুট নয়।

হতে পারে উল্লেখিত সবগুলো কারণের পরিপ্রেক্ষিতে কিংবা কোন একটি কারণের পরিপ্রেক্ষিতে সাহাবায়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহ্ িওয়া সাল্লামের জানাযার নামায একাকী আদায় করেছেন। আবার এও হতে পারে আমরা যে কারণগুলো উল্লেখ করেছি সেগুলো ছাড়া ভিন্ন কোন কারণে তারা তা করেছেন। আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ। সূত্র: ইসলামকিউএ.কম

ডায়বেটিস হলে যে দোয়া পড়বেন…

যে দোয়া পড়বেন- ডায়বেটিস অনেক বিপদজ্জনক রোগ। যদি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন-যাপন না করে তবে এ রোগের ভয়াবহতা মারাত্মক। এতে শারীরিক অন্যান্য বড় বড় রোগ হার্ট, কিডনিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ। তাই এ রোগ থেকে নিরাপদ থাকতে শৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপনের বিকল্প নেই্।

যদি কারো ডায়বেটিস রোগ হয় তবে তাকে অবশ্যই শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন-যাপন করতে হবে। নিয়মানুযায়ী শারীরিক ব্যায়ম ও নির্দিষ্ট সময় পর পর পরিমাণ মতো খাবার গ্রহণ করতে হবে।

এ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে রয়েছে কুরআনি আমল। সুতরাং ডায়বেটিকে আক্রান্ত ব্যক্তির উচিত কুরআনি আমল করা। আর তাহলো-

رَّبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَل لِّي مِن لَّدُنكَ سُلْطَانًا نَّصِيرًا

উচ্চারণ : রাব্বি আদ্খিলনি মুদ্খালা সিদ্ক্বিও ওয়া আখরিঝ্নি মুখরাঝা সিদ্ক্বিও ওয়াঝ্আললি মিল্লাদুংকা সুলত্বানান নাছিরা।’ (সুরা বসি ইরসাইল : আয়াত ৮০)

আমল-

যদি কোনো ব্যক্তির ডায়বেটিস রোগ হয় তবে সে ব্যক্তি উল্লেখিত আয়াতটি প্রতিদিন ৪১বার পাঠ করবে।

তাছাড়াও যারা মানসিক চাপ, বিষন্নতা ও বিভিন্ন কষ্ট ভোগ করেন, তারাও এ দোয়াটি প্রতিদিন ৫ করে পড়তে পারেন। আশা করা যায়, এতে তার উল্লেখিত রোগ ও সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিভিন্ন রোগ মুক্তিতে কুরআনি আমল করার তাওফিক দান করুন। উল্লেখিত দোয়া পাঠের মাধ্যমে ডায়বেটিক, মানসিক চাপ বিষন্নতা ও বিভিন্ন কষ্ট থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

পরকীয়ার জন্য মাকে খুন করলেন মেয়ে!

মাকে খুন করলেন মেয়ে- পরকীয়া করে অন্য পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সময় মাকে হত্যা করেছেন মেয়ে। এ ঘটনায় মেয়ে তামান্না ও তার বাবা রাসেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার গভীর রাতে নড়াইলের লোহাগড়ায় লক্ষ্মীপাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়ার লক্ষ্মীপাশা গ্রামের ঝিলু মোল্যার ছেলে বিজ্ঞান মোল্যা ওরফে রাসেলের সঙ্গে মেরিনা বেগমের ২০ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে হৃদয় ও তামান্না নামে দুটি সন্তান রয়েছে।

পুলিশ জানায়, মেরিনা বেগমের স্বামী রাসেল ব্যবসার প্রয়োজনে দূরে থাকতেন। সেই সুযোগে স্ত্রী মেরিনা পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে পড়েন। পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে ওই পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালালে স্বামী ও মেয়ে এতে বাধা হয়ে দাঁড়ান।রোববার রাতে মেরিনা বাসা থেকে বের হয়ে যেতে চাইলে মেয়ে তামান্না ওড়না দিয়ে মায়ের গলায় প্যাঁচ দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করেন।

এতে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান মা মেরিনা। খবর পেয়ে সোমবার সকালে মেরিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরেই স্বামী রাসেল এবং মেয়ে তামান্নাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গোবিন্দ আকর্ষণ বলেন, এ ঘটনায় জড়িত রাসেল ও মেয়ে তামান্না নড়াইল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন। এর আগে মঙ্গলবার গৃহবধূর ভাই লিখন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান এসআই।

ছোট্ট এই দোয়াটি ৭০ বার পড়লেই রিযিকের সব দরজা খুলে যাবে, ইনশাআল্লাহ

পবিত্র কুরআন শরীফ মানব জাতির জীবন পরিচালনার গাইড। মহান আল্লাহ তাআলা মানুষ এবং জিন জাতিকে পৃথিবীতে তার ইবাদাত-বন্দেগি করার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। এ জীবন পরিচালনার জন্য তিনি গাইডস্বরূপ কুরআনুল কারিম নাজিল করেছেন।কুরআনের মানুষের সব সমাধান রয়েছে। কুরআনের বিধান পালনের সঙ্গে সঙ্গে কুরআনি আমল করাও মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ইবাদাত কবুলের পূর্বশর্তই হলো হালাল জীবিকা উপার্জন করা। তাই হালাল রিযিক লাভের কুরআনি আমল তুলে ধরা হলো-উচ্চারণ: আল্লাহু লাতিফুম্ বি-ই’বাদিহি ইয়ারযুকু মাইঁয়্যাশায়ু, ওয়া হুয়াল কাওইয়্যুল আজিজ।অর্থ: আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা রিযিক দান করেন। তিনি প্রবল, পরাক্রমশালী। (সুরা শুরা : আয়াত ১৯)
আমল: প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে, একনিষ্ঠতার সঙ্গে ৭০ বার এ আয়াত পড়া।

যে বা যারা নিয়মিত এ আমল করবে; আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির রিযিকের দরজা খুলে দেবে ইনশাআল্লাহ।আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার বিধি-বিধান পালনের সঙ্গে সঙ্গে কুরআনের উল্লেখিত আয়াতে আমলটি নিয়মিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর অবসরের তারিখ জানতে চান রিজভী

অবসরের তারিখ জানতে চান- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবসরের তারিখ জানতে চেয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

আজ (১৩ ফেব্রুয়ারি) বুধবার, সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানতে চান।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন। আমরা সেই তারিখটা জানতে চাই।

রিজভী আহমেদ বলেন, ‘পত্র পত্রিকায় আজ একটি খবর দেখে চমকে উঠলাম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বলেছেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করে বাকি জীবন টা কাটাবেন তার পূর্বপুরুষের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।’

খবরে প্রকাশিত তথ্যকে স্বাগত জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলব খুব ভালো খবর। জনগণ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ গণনা শুরু করেছে।

কবে আসবে সেই সু-খবর যে, আপনি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন। আমরা সেই তারিখটা জানতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রীকে খুব তাড়াতাড়ি অবসরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে রিজভী বলেন, ‘আমরা বিনীত ভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো আপনি অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্তটি দ্রুত কার্যকর করুন।

খুব তাড়াতাড়ি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। খালেদা জিয়াকে এই মুহূর্তে মুক্তি দিন।’

আজরাঈল মহানবী (সা.)-এর জান কবজ করতে এসে যা বলেছিলেন

প্রত্যেক মানুষকেই একদিন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। মৃত্যুর হাত থেকে আমাদের দীনের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনিও রক্ষা পাননি। তবে নবীজী (সা.) এর জান কবজের সময় আজরাইল (আ.) বিশেষ কিছু কথা বলেছিলেন। মহানবী (সা.) এর জান কবজের সময়ের ঘটনাটি নিম্নরূপ-

নবীজীর (সা.) মৃত্যুর সময় জিবরাঈল (আ.) আসলেন, এসে নবীজিকে (সা.) সালাম দিলেন, আর বল্লেন হে আল্লাহ‘র রাসুল। আল্লাহ আপনাকে সালাম দিয়েছে, আর জানতে চেয়েছে আপনি কেমন আছেন,

আল্লাহ সব জানেন তার পড় ও আপনার মুখ থেকে জানতে চেয়েছেন আপনি কেমন আছেন, নবীজি বল্লেন আমি বড়ই কষ্টের ভিতর আছি, অসুস্হ আছি, জিবরাইল বললো, ইয়া রাসুলল্লাহ একজন নতুন ফেরেস্তা এসেছে আজ আমার সাথে,

যে ফেরেস্তা কোন মানুষের কাছে আসার জন্য কোন দিন অনুমতি চায় নাই, আর কোনদিন অনুমতি চাইবে ও না, শুধু আপনার অনুমতি চায় আপনার কাছে আসার জন্য, আর সে ফেরেস্তার নাম মালাকুল মউত, মালাকুল মউত রাসুলের অনুমতি নিয়ে রাসুলের জাসান মোবারকের কাছে এসে সালাম দিলেন, বললেন ইয়া রাসুলল্লাহ আদম (আ.) থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত আমি যত মানুষের জান কবচ করেছি, আর কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষের জান কবচ করবো কারো কাছে অনুমতি চাইনি আর চাওয়া ও আমার লাগবে না,

কিন্তু আজকে আসার সময় আল্লাহ বলেছেন আমি যেন আপনার অনুমতি চাই, নবীজি বললেন মালাকুল মউত আমি যদি অনুমতি না দেই? তখন আজারাঈল (আ.) বলেন, আপনি যদি অনুমতি না দেন তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমাকে ফিরে যেতে বলেছেন।

‘ইসলাম ধ্বংস করতে এসে নিজেই মুসলিম হয়ে গেলাম’

ইসলাম শব্দের আরবি মূল ‘সিলমুন’যার অর্থ শান্তি। আর ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পণ করা ইসলাম মানবতার ধর্ম, ইসলাম কল্যাণ ও শান্তির ধর্ম।আর ইসলাম ধর্ম নিয়ে অনেকেই অনেক রকমভাবে অপকর্ম করতে এসে বিপদে পড়েছে। কেউ আবার আল্লাহর রাস্তাকেই বেছে নিয়েছে। এমনই একজন শরিফা কার্লোস। শরিফা কার্লোসের মুসলিম হওয়ার বিস্ময়কর গল্প।

যখন আমি তরুণী ছিলাম, আমি একটি দলের নজরে পড়ে যাই, যারা মূলত একটি অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করত। তারা ছিলো, সম্ভবত এখনো আছে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে যারা মূলত সরকারের বিভিন্ন দফতরে কাজ করেন এবং তাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো ইসলামের সর্বনাশ করা। ইসলাম ধ্বংস করতে এসে নিজেই মুসলিম হয়ে গেলাম।

যতদূর জানি এটি কোন সরকারি দল নয় কিন্তু তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দফতরগুলোকে ব্যবহার করে থাকে। তাদের একজন সদস্য আমাকে পছন্দ করেছিলেন, কারণ তিনি দেখেছিলেন আমি নারীবাদী আন্দোলনের ব্যাপারে অগ্রগামী।

তিনি আমাকে বললেন, যদি আমি আরব বিশ্বকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে অধ্যয়ন করি তবে সুনিশ্চিত ভাবেই আমাকে মিশরের আমেরিকান দূতাবাসে চাকরি পেয়ে যাবো। তিনি চাচ্ছিলেন আমি যেন সেখানে আমার দেশের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সেখানকার নারীদের মাঝে নারীবাদী আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেই।আমার কাছে তা অত্যন্ত ভালো কিছুই মনে হয়েছে।

টেলিভিশনে আমি মুসলিম মহিলাদের দেখতাম। আমি জানতাম তারা ছিলো অত্যন্ত নির্যাতিত সম্প্রদায়, তাই আমিও চাচ্ছিলাম তাদের বিংশ শতকের আলোর দিকে নিয়ে আসতে। এই উদ্দেশ্যে নিয়ে আমি কলেজে ভর্তি হলাম ও লেখাপড়া আরম্ভ করলাম। আমি কোরআন, হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস নিয়ে অধ্যয়ন করেছি। আমার অধ্যয়ন ছিল মূলত কীভাবে তা নিজের কাজে লাগাবো সে কেন্দ্রিক।

আমি শিখেছিলাম নিজের উদ্দেশ্য হাসিলে কিভাবে বিষয়গুলোকে বিকৃতরূপে উপস্থাপন করতে হবে। এটিই ছিল সর্বাপেক্ষা মূল্যবান অস্ত্র। যখন আমি শিখতে শুরু করে ক্রমাগত বিভ্রান্ত হতে থাকলাম। এর মর্মার্থও ছিলো অত্যন্ত ভয়াবহ। এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠার জন্য আমি খ্রিষ্টবাদের উপর ক্লাস করতে শুরু করলাম। হার্বার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধর্মতত্ত্বের উপর পি,এইস,ডি. ধারী স্বনামধন্য প্রফেসারের সাথেই ক্লাস নিতে পছন্দ করতাম। আমার কাছে মনে হয়েছিলো আমি অত্যন্ত ভালো কারো তত্ত্বাবধানে আছি। আমি জানতে পারলাম তিনি একেশ্বরবাদী খ্রিষ্টান। তিনি ত্রিতত্ত্ববাদ কিংবা যিশুর দেবত্বে বিশ্বাস করতেন না।

বরং তিনি বিশ্বাস করতেন, যিশু একজন নবী ছিলেন।গ্রিক, হিব্রু ও আর্মারিক বাইবেল দিয়েই তিনি প্রমাণ করেছেন কিভাবে বাইবেল পরিবর্তিত হয়েছে। সেই সাথে তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটগুলোও তিনি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। সময়ের সাথে সাথে এই ক্লাসগুলো শেষ হয়ে গেল, আমার ধর্মও তার আবেদন হারিয়ে ফেলেছিলো কিন্তু আমি ইসলাম গ্রহণে তখনো প্রস্তুত ছিলাম না। এ সময় আমি বিভিন্ন মুসলিমকে তাদের বিশ্বাস সম্বন্ধে প্রশ্ন করতে আরম্ভ করি। MSA [Muslim Student Association] এর এক ভাইকে এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্ন করেছিলাম।

ইসলামের প্রতি আমার আগ্রহ দেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। একদিন এই মানুষটি আমার কাছে এসে বললেন, একটি মুসলিমদল আমাদের শহরে এসেছেন। তিনি চান আমি যেন তাদের সাথে দেখা করি। আমি রাজি হলাম। এশার নামাজের পর আমি সেখানে গেলাম। আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে গেলেন যেখানে প্রায় জনা বিশেক লোক বসে ছিলেন। সবাই আমাকে দেখে বসার জন্য যায়গা ছেড়ে দিলেন।

একজন বয়োবৃদ্ধ পাকিস্তানির মুখোমুখি আমাকে বসানো হলো। মাশাল্লাহ, খ্রিস্টবাদ সম্বন্ধে ভাইটি অত্যন্ত জ্ঞান রাখেন। আমরা দুজন ফজর পর্যন্ত কোরআন ও বাইবেল নিয়ে নানান বিষয়ে আলোচনা ও যুক্তিতর্ক চালিয়ে যাই। ওনার বক্তব্য শোনার পর আমি যা খ্রিষ্টবাদ সম্বন্ধে ক্লাসে জেনেছিলাম তাই যেন নতুন করে জানলাম, তিনি এমন এক কাজ করে বসলেন যা উনার পূর্বে আর কেও করেননি। তিনি আমাকে মুসলিম হতে আহবান জানালেন।

গত তিনটি বছর আমি ইসলাম সম্বন্ধে জানতে চেয়েছি, গবেষণা করেছি কিন্তু কেও আমাকে দাওয়াত দেয়নি। আমি শিখেছি, যুক্তিতর্ক করেছি এমনকি অপমানিতও হয়েছি কিন্তু কখনো দাওয়াত পাইনি।তাই, যখন তিনি দাওয়াত দিলেন, তা আমার মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। আমি তা বুঝতে পেরেছিলাম। আমি জানতাম আমি সত্যের মুখোমুখি হয়েছি, তাই আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য), আল্লাহ আমার অন্তর খুলে দিলেন, আর আমিও বললাম, “আমি মুসলিম হতে চাই।”অতঃপর তিনি আমাকে আরবি ও ইংরেজিতে শাহাদাৎ পাঠ করালেন। মনে হচ্ছিলো বুকের উপর চেপে থাকা বিরাটকায় পাথরটা নেমে গেল। মনে হচ্ছিল জীবনের প্রথমবারের মত নিশ্বাস নিচ্ছি যার জন্য এতদিন আমি হাঁসফাস করছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ জান্নাতের পথে আমাকে পরিচ্ছন্ন এক নতুন জীবন দান করেছেন, দোয়া করি আল্লাহ যেন বাকি জীবন এমনকি মুসলিম হিসেবেই মৃত্যু দান করেন।