ভারত আক্রমণ করতে পারে, আপনারা থামান : জাতিসংঘের দ্বারস্থ পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাশ্মিরের হামলার জেরে ভারতের সম্ভাব্য হামলা আঁচ পেয়ে শেষমেশ জাতিসংঘের দ্বারস্থ হলো পাকিস্তান। বলল, ‘ভারত আক্রমণ করতে পারে, আপনারা থামান’। ভারতীয় উপমহাদেশে শান্তি ফেরাতে চাইল জাতিসংঘের মধ্যস্থতা।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি চিঠি দিলেন জাতিসংঘের সেক্রেটারি-জেনারেল আন্তোনিও গুয়েতেরেসকে। আর্জি জানালেন সেই চিঠি জাতিসংঘের সাধারণ ও নিরাপত্তা পরিষদের সবক’টি দেশের হাতে তুলে দিতে।

তা নিয়ে আলোচনা করতে ও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে। কাশ্মীর নিয়ে ভারত অবশ্য বরাবরই তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার বিরোধিতা করে এসেছে। এখনও তার বিরোধী।

জাতিসংঘের সেক্রেটারি-জেনারেলকে চিঠিতে মঙ্গলবার পাক মন্ত্রী কুরেশি লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের যে হুমকি দিয়েছে ভারত, তার প্রেক্ষিতে এই অঞ্চলে শান্তি পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ফলে, আমরা জরুরি ভিত্তিতে আপনাদের (জাতিসংঘ) হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বোধ করছি। তাই আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আত্মঘাতী জঙ্গি হানায় সিআরপিএফ-এর ৪৯ জন জওয়ান প্রাণ হারান। ওই ঘটনার পর পরই তার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ‘জইশ-ই-মোহাম্মদ’।

পুলওয়ামা কান্ডের প্রেক্ষিতে সর্বদলীয় বৈঠকের পর সেনাবাহিনীকে তার পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগের অনুমতি দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাতিসংঘের সেক্রেটারি-জেনারেলকে লেখা পাক মন্ত্রীর চিঠি তারই প্রেক্ষিতে।

পাক মন্ত্রী কুরেশি তার চিঠিতে লিখেছেন, ‘যতই ঢাকা-চাপা দেওয়ার চেষ্টা হোক, পুলওয়ামায় ভারতের সিআরপিএফ জওয়ানদের উপর হামলা চালিয়েছে কাশ্মীরের এক বাসিন্দাই। ওই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না করে পাকিস্তানকে আক্রমণ করাটা আদৌ উচিত নয়।’

ওই ঘটনায় জঙ্গিদের পিছনে পাকিস্তানের মদত রয়েছে বলে ভারতের তরফে যে অভিযোগ করা হয়েছে, জাতিসংঘের সেক্রেটারি-জেনারেলকে লেখা চিঠিতে তাকে ‘অবাস্তব’ বলে উল্লেখ করেছেন পাক বিদেশমন্ত্রী।

মোদি সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষকে যে ঘরোয়া রাজনীতিতে ব্যবহার করছেন, আগামী দিনেও সেটা করে যেতে চাইছেন, চিঠিতে তারও উল্লেখ করেছেন কুরেশি।

পাক মন্ত্রী লিখেছেন, ‘ভারত ইচ্ছাকৃত ভাবেই পাক-বিদ্বেষকে জিইয়ে রেখে ঘরোয়া রাজনীতিতে তার ফসল তুলতে চাইছে। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে শত্রুতা করছে। এই অঞ্চলে অশান্তির পরিবেশ, উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।’

দিল্লি ইতিমধ্যেই সিন্ধু নদীর জলবণ্টন চুক্তিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার ইঙ্গিত দিয়েছে, জাতিসংঘের সেক্রেটারি-জেনারেলকে সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে পাক মন্ত্রী লিখেছেন, ‘দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন দেখা গিয়েছে। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপুঞ্জের আশু পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।’

কুরেশির আরও আর্জি, চাইলে, জাতিসংঘ এ ব্যাপারে ভারতকে অনুরোধ করতে পারে। পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসে ভারতকে বিরোধ মিটিয়ে নিতে বলতে পারে।

এবার সীমান্তে জড়ো হয়েছে পাকিস্তানি সেনার বিশাল বাহিনী!

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিশেষায়িত বাহিনী সিআরপিএফের গাড়িবহরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সন্দেহভাজন ‘মূলহোতা’ ও বোমা বিশেষজ্ঞ গাজী ওরফে কামরান নিহত হয়েছে। এর আগে পুলওয়ামায় বোমা হামলায় ভারতের সিআরপিএফের ৪৯ সদস্য নিহত হয়েছিল। এ নিয়ে সেনাঅভিযানে নামে ভারতীয় বাহিনী।

নিহত কামরান জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের উপদেষ্টা ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটির শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার ছিল বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়, প্রাণ হাতে নিয়ে জঙ্গিদের উপর বড়সড় আঘাত হানার শপথ নিয়ে সেনাবাহিনী। এই পরিস্থিতিতে সতর্ক হল পাক সেনা। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা২৪।

সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, সীমান্তের ওপারে ক্রমশ জড়ো হচ্ছে পাকিস্তানি সেনার বিশাল বাহিনী। রাতভর পাক সেনার মধ্যে চূড়ান্ত তৎপরতা দেখা গিয়েছে বলে ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্রে খবর। এই মুহূর্তে সীমান্তে ঠিক কী পরিস্থিতি, তা নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে বারবার আপডেট দিচ্ছে সেনা।ভারতীয় সেনা প্রত্যাঘাত আনতে পারে এমন আশঙ্কাতেই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা ঘিরে ফেলেছে পাক সেনা।

শুধু তাই নয়, জঙ্গিদের আড়াল করতে সবরকম প্রচেষ্টাও চালাচ্ছে পাক সেনা। এমন খবরও পাওয়া গিয়েছে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা মাথায় রেখেই তাদের সীমান্তের কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে খবর। যাতে অতর্কিতে হামলা চালানো না যায়, তার জন্য জঙ্গিদের জনবহুল এলাকায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সোমবার সকালে জইশ সংগঠনের শীর্ষ জঙ্গি কামরানের গোপন ডেরা উড়িয়ে দিয়েছে সেনা৷ তাতেই মারা গিয়েছে পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড কামরান সহ দুই জঙ্গি৷ কামরানকে হত্যা করে পুলওয়ামার ৪০ জন শহিদ সেনার বদলা নিয়েছে ভারতীয় জওযানরা৷

সোমবার ভোর রাত থেকে সেনা ও জঙ্গির গুলির লড়াই চলছে পুলওয়ামার পিংলা গ্রামে৷ তাতে শহিদ হন এক মেজর সহ ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিন জওয়ান৷ সেনার তরফে চলে চিরুনি তল্লাশি৷ এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে পুলওয়ামার হামলার মাস্টারমাইন্ড কারমান৷ খবর পাওয়া মাত্র ভারতীয় সেনারা ওই এলাকা ঘিরে ফেলে৷ তাতেই আটকে পড়েছে কারমান সহ তিন জঙ্গি৷ সেনার দাবি, গুলির লড়াইয়ে মারা গিয়েছে কামরান৷

৪ জন ফেরেস্তা মৃত্যুর পূর্বে যেভাবে জানিয়ে দেয় মৃত্যুর আগাম সংবাদ!

ইসলাম ডেস্ক: হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যখন মানুষের অন্তিমকাল উপস্থিত হয় এবং রূহ বের হবার সময় ঘনিয়ে আসে, তখন চারজন ফেরেশতা তার কাছে উপস্থিত হয়। সর্বপ্রথম এক ফেরেশতা উপস্থিত হয়ে বলবেন “আসসালামু আলাইকুম” হে অমুক! আমি তোমার খাদ্য সংস্থানের কাজে নিযুক্ত ছিলাম।

কিন্তু এখন পৃথিবীর পূর্ব থেক পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত অন্বেষণ করেও তোমার জন্য এক দানা খাদ্য সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং বুঝলাম তোমার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে হয়ত এখনই তোমাকে মরণ সুধা পান করতে হবে।

পৃথিবীতে তুমি আর বেশীক্ষণ থাকবে না। অত:পর দ্বিতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পানীয় সরবরাহের জন্য নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু এখন তোমার জন্য পৃথিবীর সবৃত্র অন্বেষণ করেও এক ফোঁটা পানি সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং আমি বিদায় হলাম।

অত:পর তৃতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পদযুগলের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু পৃথিবীর সর্বত্র ঘুরেও তোমার জন্য একটি মাত্র পদক্ষেপের স্থান পেলাম না। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি।

চতুর্থ ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহ বান্দা! আমি তোমার শ্বাস- প্রস্বাস চালু রাখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু আজ পৃথিবীর এমন কোন জায়গা খুঁজে পেলাম না যেখানে গিয়ে তুমি মাত্র এক পলকের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করতে পার। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি।

অত:পর কেরামান কাতেবীন ফেরশতাদ্বয় এসে সালাম করে বলবেন, হে আল্লাহর বান্দা! আমরা তোমার পাপ-পূণ্য লেখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন দুনিয়ার সব জায়গা সন্ধান করেও আর কোন পাপ-পূণ্য খুঁজে পেলাম না। সুতরাং আমরা বিদায় নিচ্ছি। এই বলে তারা এক টুকরা কালো লিপি বের করে দিয়ে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা!

এর দিকে লক্ষ্য কর। সে দিকে লক্ষ্য করামাত্র তার সর্বাঙ্গে ঘর্মস্রোত প্রবাহিত হবে এবং কেউ যেন ঐ লিপি পড়তে না পারে এজন্য সে ডানে বামে বার বার দেখতে থাকবে। অত:পর কেরাম কাতেবীন প্রস্থান করবেন। তখনই মালাকুল মউত তার ডান পাশে রহমতের ফেরেশতা এবং বাম পাশে আযাবের ফেরেশতা নিয়ে আগমন করবেন।

তাদের মধ্যে কেউ আত্মাকে খুব জোরে টানাটানি করবেন, আবার কেউ অতি শান্তির সাথে আত্মা বের করে আনবেন। কন্ঠ পর্যন্ত আত্মা পৌঁছলে স্বয়ং যমদূত তা কবজ করবেন। হে আল্লাহ তুমি রাহমানের রহিম, তুমি দয়ালু, তুমি আমাদের সবাইকে খাটি মুসলমান না বানিয়ে কবরে নিও না।

গোপন শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কালোজিরা সেবনের পদ্ধতি জেনে নিন

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন: “ তোমরা কালোজিরা ব্যবহার করবে, কেননা এতে একমাত্র মৃত্যৃ ব্যতীত সর্বরোগের মুক্তি এতে রয়েছে”।- আসুন আমরা জেনে নেই আমাদের জন্য কি কি ঔষধী গুণ আছে এই কালোজিরাতে।

তারুণ্য ধরে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে কালিজিরা খাওয়াটা দীর্ঘদিনের রীতি। কাজ করার শক্তিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে এই কালিজিরা। সরাসরি খাওয়ার থেকে প্রথম প্রথম ভাত বা রুটির সঙ্গে কালিজিরা খাওয়াটা অভ্যাস করুন।

প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ খাবারের সঙ্গে ‘কালিজিরা’ গ্রহণ করে আসছে। কালিজিরার তেলও আমাদের শরীরের জন্য নানাভাবে উপকারি। কালিজিরার তেলে ১০০টিরও বেশি উপযোগী উপাদান আছে। এতে আছে প্রায় ২১ শতাংশ আমিষ, ৩৮ শতাংশ শর্করা এবং ৩৫ শতাংশ ভেষজ তেল ও চর্বি।

১. রোগ প্রতিরোধে কালোজিরা:কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এটি যেকোনো জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

২. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কালোজিরা:কালোজিরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ কমিয়ে দেয়। ফলেডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কালোজিরা: কালোজিরা নিম্ন রক্তচাপ বৃদ্ধি করে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দেহের
কলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস করে শরীরে রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখে।

৪. যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে কালোজিরা:কালোজিরা নারী-পুরুষ উভয়ের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে
কালোজিরা খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এটি পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তিরসম্ভাবনাও তৈরি করে।৫. স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে কালোজিরা:নিয়মিত কালোজিরা খেলে দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। এতে করে মস্তিস্কে রক্ত সঞ্চালনের বৃদ্ধি ঘটে; যা আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

৬. হাঁপানী রোগ উপশমে কালোজিরা:হাঁপানী বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা সমাধানে কালোজিরা দারুণ কাজ করে। প্রতিদিন
কালোজিরার ভর্তা খেলে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা উপশম হয়।৭. পিঠে ব্যাথা দূর করে কালোজিরা:কালোজিরার থেকে তৈরি তেল আমাদের দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘমেয়াদী রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে।

এছাড়া সাধারণভাবে কালোজিরা খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়। ৮. শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে কালোজিরা: নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ালে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। কালোজিরা শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে।

কালোজিরার ব্যবহারঃ ১. তিলের তেলের সাথে কালিজিরা বাঁটা বা কালিজিরার তেল মিশিয়ে ফোড়াতে লাগালে ফোড়ার উপশম হয়। রুচি, উদরাময়, শরীর ব্যথা, গলা ও দাঁতের ব্যথা, মাইগ্রেন, চুলপড়া, সর্দি, কাশি, হাঁপানি নিরাময়ে কালিজিরা সহায়তা করে। ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসাবে কালিজিরা সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

২. চুলপড়া, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, মাথা ঝিমঝিম করা, মুখশ্রী ও সৌন্দর্য রক্ষা, অবসন্নতা-দুর্বলতা, নিষ্কিয়তা ও অলসতা, আহারে অরুচি, মস্তিষ্কশক্তি তথা স্মরণশক্তি বাড়াতেও কালোজিরা উপযোগী।৩. কালোজিরা চূর্ণ ও ডালিমের খোসাচূর্ণ মিশ্রন, কালোজিরা তেল ডায়াবেটিসে উপকারী।

৪. চায়ের সাথে নিয়মিত কালোজিরা মিশিয়ে অথবা এর তেল বা আরক মিশিয়ে পান করলে হৃদরোগে যেমন উপকার হয়, তেমনি মেদ ও বিগলিত হয়।৫. মাথা ব্যথায় কপালে উভয় চিবুকে ও কানের পার্শ্ববর্তি স্থানে দৈনিক ৩/৪ বার কালোজিরা তেল মালিশ করলে উপকার পাওয়া যায়।৬. কফির সাথে কালোজিরা সেবনে স্নায়ুবিক উত্তেজনা দুরীভুত হয়।৭. জ্বর, কফ, গায়ের ব্যথা দূর করার জন্য কালিজিরা যথেষ্ট উপকারী বন্ধু। এতে রয়েছে বাড়ানোর উপাদান। পেটের যাবতীয় রোগ-জীবাণু ও গ্যাস দূর করে ক্ষুধা বাড়ায়।

৮. কালিজিরায় রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোরিয়াল এজেন্ট, অর্থাৎ শরীরের রোগ-জীবাণু ধ্বংসকারী উপাদান। এই উপাদানের জন্য -শরীরে সহজে ঘা, ফোড়া, সংক্রামক রোগ (ছোঁয়াচে রোগ) হয় না।৯. সন্তান প্রসবের পর কাঁচা কালিজিরা পিষে খেলে শিশু দুধ খেতে পাবে বেশি পরিমাণে।
১০.মধুসহ প্রতিদিন সকালে কালোজিরা সেবনে স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও সকল রোগ মহামারী হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

১১. দাঁতে ব্যথা হলে কুসুম গরম পানিতে কালিজিরা দিয়ে কুলি করলে ব্যথা কমে; জিহ্বা, তালু, দাঁতের মাড়ির জীবাণু মরে।১২. কালিজিরা কৃমি দূর করার জন্য কাজ করে।১৩. কালিজিরা মেধার বিকাশের জন্য কাজ করে দ্বিগুণ হারে। কালিজিরা নিজেই একটি অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিসেপটিক।১৪. দেহের কাটা-ছেঁড়া শুকানোর জন্য কাজ করে।

১৫. নারীর ঋতুস্রাবজনীত সমস্যায় কালিজিরা বাটা খেলে উপকার পাওয়া যায়।১৬. কালোজিরার যথাযথ ব্যবহারে দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি শক্তি অজির্ত হয়। এর তেল ব্যবহারে রাতভর প্রশান্তিপর্ন নিদ্রা হয়। ১৭. প্রসূতির স্তনে দুগ্ধ বৃদ্ধির জন্য, প্রসবোত্তর কালে কালিজিরা বাটা খেলে উপকার পাওয়া যায়। তবে গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত কালিজিরা খেলে গর্ভপাতের সম্ভাবনা থাকে।১৮. প্রস্রাব বৃদ্ধির জন্য কালিজিরা খাওয়া হয়।১৯. কালোজিরা যৌন ব্যাধি ও স্নায়ুবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য অতি উতকৃষ্ট ঔষধ।

এক গরীব লোক এক থোকা আঙ্গুর নিয়ে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছে…

এক গরীব লোক এক থোকা আঙ্গুর নিয়ে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছে উপহার দিলো। পাশেই বিভিন্ন সাহাবীরা উপস্থিত ছিলেন। রাসুল (সাঃ) আঙ্গুরের থোকা থেকে একটা আঙ্গুর ছিড়ে মুখে দিলেন, তারপর এক এক করে সবগুলো আঙ্গুর খেয়ে ফেললেন কিন্তু পাশে বসে থাকা সাহাবীদের কাউকেই আঙ্গুর খেতে সাধলেন না।

চোখের সামনে প্রিয় নবীর এভাবে আঙ্গুর খাওয়া দেখে গরীব লোকটি অনেক খুশী হলো, তারপর রাসুলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো।

লোকটি চলে যাবার পর এক সাহাবী রাসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আপনি কিভাবে একাই সব আঙ্গুর খেয়ে ফেললেন, আমাদের কাউকে একটু ভাগ দিলেন না!

সাহাবীর প্রশ্ন শুনে রাসুল (সাঃ) মুচকি হেসে উত্তর দিলেন,“আমি একাই সব আঙ্গুর খেয়ে ফেলেছি কারন আঙ্গুরগুলো টক ছিলো। যদি আমি তোমাদের কে আঙ্গুর খেতে সাধতাম, তোমাদের মুখভঙ্গি দেখেই হয়তো লোকটি বুঝে ফেলতো এবং কষ্ট পেতো।

তাই আমি চিন্তা করে দেখলাম, যদি আঙ্গুরগুলো আমি একাই আনন্দের সাথে খেয়ে ফেলি লোকটি খুশি হবে এবং এটাই সবদিক দিয়ে ভাল”।রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর পুরো জীবনটাই এমন অসংখ্য উদাহরণ দিয়ে পরিপূর্ণ।

আমরা জন্মসূত্রে যারা মুসলিম, সেগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারলে পৃথিবীর অনেক কিছুই পাল্টে যেতো। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রাসুল (সাঃ) এর রেখে যাওয়া শিক্ষাগুলোকে আমাদের জীবনে কাজে লাগানোর তৌফিক দিন।

যেদিন চার রাকাত নফল নামাজ পড়লে সমুদ্রের ফেনা সমান গুনাহ মাফ হয়

এমন কিছু নফল নামাজ আছে যা পড়লে উভয় জাহানে ব্যাপক কল্যাণ অর্জন করা যায়। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‌‘রমজান মাসের নফল নামাজ অন্য মাসের ফরজের সমতুল্য। সপ্তাহের সাতদিনেও ইচ্ছে হলে আমরা বিভিন্ন ধরনের নফল নামাজ আদায় করতে পারি। শনিবারের নফল নামাজ : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) ও হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, ‘শনিবার রাতে চার রাকাত নফল নামাজ রয়েছে।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শনিবার দিন চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তা’য়ালা তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা পাঠাবেন, যারা কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকবে এবং কিরামান কাতেবিন তার জন্য শহীদের সওয়াব লিখতে থাকবে; সমুদ্রের ফেনা ও আকাশের তারকা সমান তার গোনাহ থাকলেও তা মাফ করে দেয়া হবে। (ত্রুটি মার্জনীয়) কোরান-হাদিসের আলোকে জেনে নিন, গোনাহ মাফের বিশেষ নামাজ!!

আল্লাহর নৈকট্যলাভের অন্যতম মাধ্যম নামাজ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তো বটেই ওয়াজিব, সুন্নত ও নফলের গুরুত্বও অনেক। হাদিসে শরিফে বলা হয়েছে, নামাজ বেহেশতির চাবি। -সহিহ বোখারি শরিফ আমরা সবাই জানি ইহকালীন নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত প্রভৃতি ইবাদাত- বন্দেগি পরকালে জান্নাতে যাওয়ার সহায়ক।

কিন্তু আল্লাহতায়ালা কি এসব ইবাদত-বন্দেগির প্রতিদান শুধু পরকালেই দেবেন? দুনিয়াতে তিনি কিছুই দেবেন না? অবশ্যই দেবেন। যে সমাজের মানুষ আল্লাহতায়ালার বিধি-বিধান মেনে চলে সে সমাজে বিশৃংখলা, অরাজকতা, হানাহানি প্রভৃতি হয় না।

কারন ওই সমাজের প্রত্যেকটা মুসলমান আল্লাহর মুমিন বান্দা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। হাদিসের ভাষ্যমতে এই নামাজই মানুষকে বিরত রাখে সব ধরনের অহিতকর কাজ থেকে। এরপরও অনিচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে অনেক গুণাহের কাজ মানুষ করে ফেলে। এমন গুনাহ মাফের পথ-পদ্ধতিও কিন্তু হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসীকে শিখিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তার চাচা হজরত আব্বাস (রা.) কে চার রাকাত নামাজ শিখিয়েছিলেন। যে নামাজ ছোট- বড়, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, প্রকাশ্যে- গোপনে যাবতীয় গোনাহ মাফের জন্য পড়তে হয়।

এই নামাজকে বলা হয় সালাতুত তাসবিহ। নফল ইবাদতের মধ্যে সালাতুত তাসবিহ বা তাসবিহের নামাজ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে এ নামাজ প্রায়ই আদায় করতেন। সাহাবায়ে কেরামের মধ্যেও অনেকেই খুব গুরুত্ব সহকারে এ নামাজ আদায় করেছেন।

হাদিসে এ নামাজের বিনিময়ে সগিরা গোনাহ মাফ করে দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) প্রতি শুক্রবার এ নামাজ আদায় করতেন। হজরত আবু জাওজা (রহ.) অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিদিন জোহরের আজানের পর জামাত শুরু হওয়ার আগে সালাতুত তাসবিহ পড়তেন।

সালাতুত তাসবিহ পড়ার নিয়ম হলো, প্রত্যেক রাকাততে সূরা ফাতেহার আগে ১৫ বার, দ্বিতীয় সূরা পরে ১০ বার- সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ দোয়াটি পড়তে হয়।এরপর রুকুতে গিয়ে এ দোয়া দশবার, রুকু থেকে উঠে দশবার, সিজদায় গিয়ে দশবার, সিজদা থেকে উঠে দশবার, দ্বিতীয় সিজদায় দশবার পড়বে। এভাবে বর্ণিত দোয়াটি প্রত্যেক রাকাতে পঁচাত্তর বার করে পূর্ণ চার রাকাতে তিনশতবার পড়তে হয়।

এই নামাজ জীবনে একবার হলেও পড়তে হয়। আর সম্ভব হলে এই নামাজে মুসাব্বাহাত সূরা অর্থাৎ যে সূরাগুলোর শুরুতে তাসবিহ উল্লেখ রয়েছে ওই সূরাগুলো থেকে চার রাকাতে যে কোনো চারটি সূরা পড়া। মুসাব্বাহাত সূরা হচ্ছে মোট সাতটি।

সূরাগুলো হলো- সূরা হাশর, সূরা হাদিদ, সূরা বনি ইসরাইল, সূরা তাগাবুন, সূরা জুমা, সূরা সফ ও সূরা আলা। দোয়া: ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﻭَﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَُ উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। অর্থ: আমি আল্লাহতায়ালার গুণকীর্তন করছি, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহতায়ালার জন্য, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

ভারত সফর বাতিল করে দেশে ফিরে গেলেন প্রিন্স সালমান

ভারতে না গিয়ে দেশে ফিরে গেছেন সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। পাকিস্তান সফর শেষে দিল্লিতে পা রাখার কথা ছিল তার।

ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাশ্মীর ইস্যু এবং সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে পাকিস্তান ও রিয়াদ আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।মঙ্গলবার রাতে ভারতে পৌঁছানোর কথা ছিল ক্রাউন প্রিন্সের। ধারণা করা হচ্ছে, কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতীয়দের সংবেদনশীলতা উপলব্ধি এবং দিল্লির কৌশলগত তাৎপর্য অনুধাবন করেই তিনি ভারত সফর বাতিল করে দেশে ফিরে গেছেন।

তবে তার দেশে ফিরে যাওয়া সম্পর্কে পরিস্কারভাবে কিছু জানানো হয়নি।বুধবার ভারতের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এরপর সেখান থেকে তার চীনে সফর করার কথা ছিল। চীন সফরের মাধ্যমেই তার এশিয়া সফর শেষ করার কথা।

বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ এবং আবাসন খাতে দিল্লি এবং রিয়াদের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে একঘরে করার প্রচেষ্টার মধ্যেই সৌদি প্রিন্সের পাকিস্তান সফরকে বিপত্তি হিসেবে দেখছে না ভারত। কারণ তার এই সফরের পরিকল্পনা কাশ্মীরের পুলওয়ামার হামলার আগেই গৃহীত হয়েছে।

ভারতীয় একটি সূত্র বলছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবাসন থেকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত এবং সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক আমূল পরিবর্তন হয়েছে। তাই সবদিক থেকে ভারতের নয় বরং পাকিস্তানেরই চিন্তিত হওয়ার কারণ রয়েছে।

পাকিস্তান সাত দিনের মধ্যে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তান সাত দিনের মধ্যে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি/ ভারতীয় জনতা রাগে ফুঁসছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী থেকে সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন সেনাকে ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছেন। ভারতীয় সেনারা যা খুশি করতে পারে। অনেকে পথে নেমে মিছিল করছেন। মোমবাতি থেকে মোবাইলের টর্চ লাইট জ্বালিয়ে বইছে শ্রদ্ধার বন্যা। কিন্তু যাদের সতীর্থদের প্রাণ গেল, যারা দিনের পর দিন জীবনের বাজি রেখে সীমান্তে লড়ছেন তাঁরা কি বলছেন? তাঁরা কি করতে চাইছেন?

পুলওয়ামা হামলার দায় কাদের উপর দিচ্ছেন তাঁরা? সে খবর কেউ জানতে চায় না। তাই সোশ্যাল মাধ্যমেই নিজেদের মনের কথা জানিয়েছেন সেনা জওয়ানরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় সেনার খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারের চক্ষুশূল হয়েছিলেন এক জওয়ান। কিন্তু তাতে কিছু পরিবর্তন হয়নি। পালটা দিতে তাঁরা পিছপা হন না। নেহাত তাঁদের হাত পা ধরে টেনে রেখেছে দেশের রাজনীতি, না হলে সব হামলার কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনা।

ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে এমনটাই আবারও তাঁরা জানাচ্ছেন আবারও সেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই। এমন খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা টুয়েন্টিফোর। ঐ প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ করা হয়, নাম না নিয়ে এক খুব্ধ সেনা জম্মু কাশ্মীরের সীমান্ত থেকেই ফেসবুক লাইভ করে জানিয়েছেন, ‘কেন আমাদের এভাবে আটকে রাখা হচ্ছে বলতে পারেন? সাতদিন সময় দিন। লাহোরে ঢুকে সব পাকিস্তানি সেনাদের মেরে আসব। ওদের জঙ্গিরা আমদের ৪০ জনকে মেরেছে।

আমরা এখনই ওদের ঘরে ঢুকে ৪০০ জনকে মেরে আসতে পারি। আমাদের আটকাবেন না প্লিজ। আর কতদিন সহ্য করতে হবে?’ কথাগুলো বলতে বলতেই গলা ভারি হয়ে আসে জওয়ানের। মনোজ ঠাকুর নামে খুব্ধ জওয়ান আগেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নিয়ে। আবারও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘আজ পুলওয়ামাতে আমার ৪০ জন সঙ্গিকে হারিয়েছি।

এটা অত্যন্ত চিন্তার বিষয় যে এটা দিনের পর দিন হয়েই চলেছে। আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। হাত পা বাঁধা। কিন্তু সমস্ত রকম বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত। দিল্লিতে বসে সরকার এটা নিয়েও রাজনীতি করছে। এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কিচ্ছু হতে পারে না। আমাদের উপর দায়িত্ব ছাড়ুন। এটা উরির চেয়েও বড় ঘটনা ঘটে গেল। আর কত দিন আমাদের এসব সহ্য করাবেন?’ এজেন্ট এক্স নাম দিয়ে উর্দি পরিহিত এক জওয়ান ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘আমি এই সেনার উর্দি আজ ছেড়ে দিলাম।

আমার রেজিগনেশনও গ্রহণ করা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কেন আমি এই উর্দি ছাড়ছি জানেন কি? কারণ এই উর্দির দাম যারা জানে না তাঁরা সেই উর্দির পরিহিতদের উপর খবরদারি চালায়। দিল্লির গদিতে বসে এটাই তাঁদের কাজ। এটা আমি আর মানতে পারছি না।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজ দক্ষতায় সেনা হিসাবে যোগদান করেছি। দিল্লির নেতাদের ভোটে নয়। তাহলে কেন আমরা তাঁদের কথা মেনে চলব? কেনই বা তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন যে আমরা কোন পরিস্থিতিতে কখন আমরা গুলি চালাব?’ তাঁর দাবি, ‘ভারতের সিস্টেমটাই খারাপ। আর সেটা গত ৭০ বছর ধরেই খারাপ।’

৩৭০ আইনের দিকেও প্রশ্ন তুলেছেন ওই জওয়ান। প্রতিবাদী কণ্ঠে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা নাকি ধর্ষণ করি? আমরা মানবিধিকার লঙ্ঘন করি। আর জঙ্গিরা যখন সবকিছু লঙ্ঘন করে হত্যালীলা চালায় তখন কোথায় যায় ওই সব বুদ্ধিজীবিরা? হ্যাঁ আমরা দেশের জন্য মরতেই জন্মেছি। কিন্তু তা বলে যারা পাথর ছোঁড়ে সেনাদের উপর, গালিগালাজ করে, গায়ে হাত তোলে, ভারতের জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে দেয় আমাদের চোখের সামনে সেটা দেখতে আমরা এই উর্দি পরিনি।

কিন্তু এসব দিনের পর দিন দেখতে হয় সহ্য করতে হয় তাই আজ আমি এই উর্দি ছাড়তে বাধ্য হলাম।’ প্রসঙ্গত, পুলয়ামায় জঙ্গি হামলার ঘটনার পরেই প্রধানমন্ত্রী সেনাদের উদ্দেশ্যে বলেন , ‘কোথায় কখন এবং কিভাবে এই ঘটনার দোষীদের সাজা দিতে হবে সেটা আমার সেনারা ঠিক করে নেবে। আমি ওদের নিজের ইচ্ছা মতো কাজ করাইয়ু সহমত দিচ্ছি।’ কিন্তু বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে এখানেই ওই ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদীর আরও একটা কোনও রাজনৈতিক চাল নয় তো?

বিয়ে করলেন মিথিলা, দোয়া চাইলেন সবার কাছে

‘হুট করেই শুভদিনে শুভকাজটি সেরে ফেললাম। সময় সংকীর্ণতার কারণে সবাইকে জানাতে পারিনি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ ফেসবুক স্ট্যাটাসে এভাবেই খবরটি দিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম আহমেদ। সঙ্গে দিয়েছেন দুটি ছবি। দুটি ছবিতেই জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী মিথিলা বউ সেজে বসে আছেন তার পাশে।

বর-কনের সাজে তাদের এই ছবিটি ফেসবুকে প্রকাশের পর থেকেই ভক্তরা উৎসাহী হয়ে পড়েন সত্যিই কি প্রীতম-মিথিলা বিয়ে করলেন! এমন ভাবনা ভক্তদের মনে জাগতেই পারে। কারণ কিছুদিন আগেই সংগীতশিল্পী তাহসানের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে মিথিলার। ফলে নতুন কাউকে বিয়ে করা তার জন্য এখন সময়ের ব্যাপার।

তবে ভক্তদের মধ্যে এমন ভাবনারও উদ্রেক হয় যে, প্রীতম তো লন্ডন প্রবাসী মডেল ও অভিনেত্রী স্মৃতিকে বিয়ে করে বেশ সুখেই আছেন।
তাহলে তার আবার বিয়ে কেন? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, প্রীতমের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করা ছবি দুটি ‘অবশেষে ভালোবেসে’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের ছবি। ভালোবাসা দিবসে এটির শুটিং করা হয়।এসব তথ্য জানালেন প্রীতম আহমেদ নিজেই। তিনি বলেন, গত দু’দিন ধরে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির শুটিং করছি।

আজ আমরা একটি বিয়ের দৃশ্যের শুটিং করলাম। আগামীকালও শুটিং হবে। উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির শুটিং হচ্ছে। এটি পরিচালনা করছেন ফরহাদ আহমেদ। এটি প্রযোজনা করেছে আলফা আই। শিগগিরই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে ভিডিও শেয়ারিং সাইট বায়োস্কোপ অরিজিনালস-এ।

যে কারণে নবী (সা.) এর জানাযার নামাজে কোনো ইমাম ছিল না!

বিভিন্ন বর্ণনায় সাব্যস্ত হয়েছে যে, সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামায একাকী আদায় করেছিলেন; জামাতের সাথে আদায় করেননি।

আবু আসিব কিংবা আবু আসিম (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে: “তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামাযে হাযির হয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম বলল: আমরা কিভাবে উনার জানাযা নামায আদায় করব?

তিনি বললেন: আপনারা দলে দলে প্রবেশ করুন। তিনি বলেন: তারা এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করে তাঁর জানাযার নামায আদায় করে ঐ দরজা দিয়ে বের হতেন।”। [মুসনাদে আহমাদ (৩৪/৩৬৫), রিসালা প্রকাশনী]

ইবনে আব্দুল বার (রহ.) বলেন, “তাঁর উপর অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর, একাকী নামায পড়ার বিষয়টি সিরাত লেখকগণ ও একদল রেওয়ায়েত সংকলকদের সর্বসম্মত অভিমত; এ ব্যাপারে তারা মতভেদ করেননি।” [তামহিদ

দুই:আলেমগণ সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামায একাকী আদায় করার বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন:

প্রথম কারণ: কোন কোন আলেম বলেছেন: এর কারণ হচ্ছে, সাহাবায়ে কেরামের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওসিয়ত ছিল আলাদা আলাদাভাবে তার জানাযার নামায আদায় করার। কিন্তু সহিহ সনদে এ বিষয়টি সাব্যস্ত হয়নি। বরং কিছু দুর্বল হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।সুহাইলি (রহঃ) বলেন:

এটি নবী সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়। এ আমল কুরআন-সুন্নাহ্র সরাসরি দলিল ছাড়া হতে পারে না। এছাড়া বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মর্মে ওসিয়ত করে গেছেন। তাবারী সনদসহ তা বর্ণনা করেছেন।

এর তাত্ত্বিক কারণ হল: আল্লাহ্ তাআলা তাঁর উপর সালাত পড়া এই বাণীর মাধ্যমে ফরয করে দিয়েছেন: ( صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً ) الأحزاب/৫৬، (তোমরাও তাঁর উপর সালাত এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ কর।) [সূরা আহযাব, আয়াত: ৫৬] এই আয়াতে যে ‘সালাত’ পড়ার কথা বলা হচ্ছে সে সালাত (দরুদ) পড়ার হুকুম হচ্ছে- ইমাম ব্যতীত।

তাঁর মৃত্যু পরবর্তী সময়ে তাঁর উপরে সালাত (জানাযার নামায) পড়াও এই আয়াতের ভাষ্যে অন্তর্ভুক্ত। আয়াতে কারীমাটি এই সালাত (জানাযা-নামায) ও সার্বক্ষণিক তাঁর উপরে সালাত (দরুদ) উভয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে। [সংক্ষেপিত ও সমাপ্ত][আর-রওযুল উনুফ (৭/৫৯৪-৫৯৫)]

দ্বিতীয় কারণ: এই মর্যাদা অর্জন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামাযের ইমামতি এর ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের পারস্পারিক তীব্র প্রতিযোগিতা। যার কারণ হচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাদের তীব্র ভালবাসা।

এ ভালবাসার সাথে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাদের সর্বশেষ নিকটবর্তী অবস্থানের ক্ষেত্রে অন্যকে অগ্রাধিকার দেয়া বা সুযোগ দেয়া সাজে না; বরং প্রতিযোগিতা করা এবং ঢেলাঢেলি করাই সাজে।

বিশেষতঃ যেহেতু খলিফা বা ইমামের বিষয়টি তখন পর্যন্ত স্থিতিশীল হয়নি এবং কোন ব্যক্তি মুসলিম উম্মাহ্র দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন তাকে তখনও চেনা যায়নি যে, তিনি এগিয়ে গিয়ে ইমামতির দায়িত্ব নিবেন।

তাই তারা মুসলমানদের ঐক্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং একজন ব্যক্তির উপর তাদের সকলের সিদ্ধান্ত এক হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন; যাতে করে তিনিই অনুসৃত ইমাম হতে পারেন। কারণ খলিফাই তো নামাযের ইমামতি জন্য এগিয়ে যেতেন।

ইমাম শাফেয়ি (রহঃ) বলেন, “সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাযার নামায একাকী আদায় করেছিলেন কেউ ইমামতি করেনি সেটা রাসূলের মহান মর্যাদার কারণে এবং একক ব্যক্তি যেন রাসূলের জানাযা নামাযের ইমাম না হয় তাদের পারস্পারিক এই প্রতিযোগিতার কারণে।” [আল-উম্ম (১/৩১৪)]

ইমাম রামলি (রহঃ) ইমাম শাফেয়ি (রহঃ) এর উক্তিটি উদ্ধৃত করার পর বলেন: “কেননা তখনও উম্মাহ্র নেতৃত্ব দেয়ার জন্য কোন ইমাম নির্ধারিত হয়নি। যদি কেউ নামাযের ইমামতির জন্য এগিয়ে যান তাহলে সবক্ষেত্রে তিনিই হবেন অগ্রণী এবং খিলাফতের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।”[সমাপ্ত][নিহায়াতুল মুহতাজ (২/৪৮২)]

তৃতীয় কারণ: সাহাবায়ে কেরামের মাঝে কারো মুক্তাদি না হয়ে একাকী ও বিশেষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জানাযার নামায আদায় করার মাধ্যমে বরকত লাভের প্রতিযোগিতা। সওয়াব ও বরকত লাভের জন্য তাদের কেউ তার মাঝে ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাঝে অন্য কেউ মাধ্যম হোক এটা গ্রহণ করেননি।এই কারণগুলো আলেমগণ উল্লেখ করে থাকেন। কিন্তু, এর মধ্যে কোন একটি কারণকেও নিশ্চিত করা আমাদের কাছে পরিস্ফুট নয়।

হতে পারে উল্লেখিত সবগুলো কারণের পরিপ্রেক্ষিতে কিংবা কোন একটি কারণের পরিপ্রেক্ষিতে সাহাবায়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহ্ িওয়া সাল্লামের জানাযার নামায একাকী আদায় করেছেন। আবার এও হতে পারে আমরা যে কারণগুলো উল্লেখ করেছি সেগুলো ছাড়া ভিন্ন কোন কারণে তারা তা করেছেন। আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ। সূত্র: ইসলামকিউএ.কম

কাশ্মীরে ভয়াবহ হামলা, ভারতের ৮ সেনা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভালোবাসা দিবসে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা কাশ্মীরে। অন্তত আট ভারতীয় সেনার শহিদ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে আট সিআরপিএফ সেনার।

শহিদের সংখ্যা আরও বাড়তে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিককালের মধ্যে এটাই অন্যতম বড় জঙ্গি হামলা। ভয়াবহ আইইডি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে কাশ্মীরের অবন্তীপুরায়। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে পাক জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদ।

শ্রীনগর-জম্মু হাইওয়ের উপর দিয়ে বাসে চেপে যাচ্ছিলেন ভারতের সিআরপিএফ সৈন্যরা। সেইসময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। গত কয়েকদিন ধরেই ওই হাইওয়ে বন্ধ রাখা হয়েছিল।এদিন বিস্ফোরণের পর গ্রেনেড, গুলি ছুঁড়তে শুরু করে জঙ্গিরা। এরপর ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে নিরাপত্তাবাহিনী।

এদিকে, বুধবারই কাশ্মীরের পুলওয়ামার স্কুলের সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়৷ অন্তত ১২ জন পড়ুয়া আহত হন৷ তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক৷

জানা গিয়েছে, পুলওয়ামার কাকপোরার কাছে একটি বেসরকারি স্কুলের ভেতরে হয় বিস্ফোরণটি৷ সেই সময় ক্লাস চলছিল৷ বিস্ফোরণ হওয়া মাত্র কেঁপে ওঠে গোটা স্কুল৷ আহত হয় ১২ শিক্ষার্থী৷ বিস্ফোরণের পরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়৷ তবে কোনও জঙ্গি সংগঠন ঘটনার দায় স্বীকার করেনি৷

ঘড়ির কাঁটায় আড়াইটে নাগাদ ঘটে বিস্ফোরণটি৷ আইইডি ফেটে এই বিস্ফোরণ কিনা তা এখনও অবধি পরিস্কার নয়৷ সাধারণত প্রবল শীতের কারণে কাশ্মীরে এই সময় স্কুল বন্ধ থাকে৷ পুলওয়ামার স্কুলটি এদিন পরীক্ষার জন্য বিশেষ ক্লাস রেখেছিল৷ সেই কারণে খোলা ছিল স্কুলটি৷ আহতরা সকলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গিয়েছে৷

মহানবীর জুব্বা পেয়েছেন যে দরবেশ

কেনান দেশে বাস করতেন তিনি। বয়েচলা ছোট্ট পাথুরে নদী। তার পাশ ঘেঁষে ঘন জঙ্গল। এখানেই দিনভর, রাতভর মাবুদের নাম জব করেন।

কখনও সিজদায় কখনও মোনাজাতে মাবুদের স্মরণে বুক ভাসান। জমিনে মা, ওপরে আল্লাহকে সঙ্গে রেখে কাটে তার জীবন।

কাজের জন্য বেরোন একটু-আধটু। উট চড়িয়ে দুপয়সা কামাই হলে কাজ ক্ষান্ত দেন। এক পয়সা দান করে এক পয়সার খাদ্য কিনে নেন। অন্ধ মা আর ছেলেতে এ দিয়ে বেশ কাটে।

খেয়ে-দেয়ে মা কাঁদেন শুকরিয়ার কান্না। দরবেশ ওয়েজকরুনিও কাঁদেন সঙ্গে। তিনি কাঁদেন যেন জীবন ভর মায়ের সেবা করতে পারেন।

ভোর না হতেই মাকে নাইয়ে-ধুইয়ে আনেন নদী থেকে। যখন কাজ করতে যান কাঁধে তুলে নেন মাকে। একা বনে মা থাকবেন কেন? ওয়েজকরুনি আছে না! তাই ঘাস জমিতে মাকে বসিয়ে পাশেই উট চরান দরবেশ।

দূর থেকে মাকে চোখে চোখে রাখেন। না জানি মার কষ্ট হয়। ছুটে ছুটে এসে নজর বুলিয়ে যান। ওয়েজকরুনির মাতৃ প্রেমে খুশি হয়ে মাবুদ প্রেম নজর দান করেন। মা আর খোদার সাধনা করতে করতে মহানবীর না দেখা প্রেমিক বনে যান তিনি।

এতে তার হৃদয় নদীতে প্রেম জোয়ার বয়ে যায়। বনের চারধারে বাতাস হয়ে পাথুরে নদীর কূলে কূলে ঢেউ হয়ে ছোটাছুটি করে প্রেম।

প্রেম বিভোর ওয়েজকরুনী হেঁটে বেড়ান প্রেমের মরুতে। হাঁটেন ঝুঁকে ঝুঁকে। উট চরানো রাখাল বালকরা খেলার মজায় ঢিল ছোড়ে। শত তালির ছেঁড়া কম্বলে ঢাকা মানুষটিকে পাগল ভাবে মজা করে।

চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রেমের দরবেশ। তার গায়ে ঢিলের আঘাত মায়া আর ফুলের ছোঁয়া দিয়ে যায়। তিনি মিষ্টি করে বলেন- বালকরা শোন। ছোট ছোট ঢিল কুড়িয়ে মার, যাতে রক্ত না বেরোয়।

রক্ত বেরোলে আমার অজু ভেঙে যাবে। দুনিয়াটা প্রেম আর মায়া। বিড়বিড় করে এসব বলতে বলতে মায়ের স্মরণমায়া এসে তাকে জড়িয়ে ধরে। মায়ের কথা মনে হতেই এক দৌড়ে ছুটে যান বনে।

মহানবীর এই না দেখা প্রেমিক অন্তর প্রেমের ছটায় নবীর দরবেশি জুব্বা অর্জন করেছিলেন। তাবতমানুষের জন্য প্রেম সাগরের মতো বহমান ছিল মহানবীর জীবনধারা।

দূর কেনানের বয়ে চলা পাথুরে নদী প্রেম জোয়ারে মিলল এসে মক্কার মোহাম্মদ (সা.) নামের সাগরে। পৃথিবীতে মাকে যারা ভালোবাসে, মায়ের যারা সেবা করে, তারাই হয় সৌভাগ্যের অধিকারী। মাকে ভালোবেসে ওয়েজকরুনি আল্লাহর সঙ্গ পেয়েছেন। আর পেয়েছেন মহানবীর প্রেম সঙ্গ।

মাবুদ তার বাণীতে বলেছেন- আমি যাকে ইচ্ছা তাকে যা ইচ্ছা তাই দান করি। এমনি এমনিই আমার খুশি মতো দান করি।

আমাদের কি ইচ্ছা করে না মাকে ভালোবেসে মায়ের সেবা করে ওয়েজকরুনির মতো হতে?

ওয়েজকরুনির ক’টি উক্তি-

* যে সবসময় ভালো খাবার খায় আরও চায়।

* যে নিত্যনতুন পোশাক পরিচ্ছদ পরতে চায়, আরও কামনা করে।

* যে সবসময় ধনীর সঙ্গ লাভ করে আরও চায়। দোজখ এমন লোকের খুব কাছে ওঁৎ পেতে থাকে।

* সাধকদের কাছে জেনে প্রেম সাধন কর। মাবুদ রাজি হবেন তোমার আরাধনায়।

* নির্জনতাই প্রেম। ঠোঁটের নির্জনতা নয়, অন্তরের নির্জনতাই বেহেশতি প্রেম।

* উন্নতি অর্জন হয় বিনয়ে। সত্যবাদীরা পুরস্কৃত হয়। গৌরব ছড়ায় সাধনায়।

* ধৈর্য ধরে লাভ করেছি মহত্ত্ব। শান্তি খুঁজে পেয়েছি মাবুদের সাধনায়।

* যা কিছু আত্মার সম্পদ সবই আমি পেয়েছি।

বিখ্যাত সুফি গ্রন্থ তাজকিরাতুল আউলিয়ার ভাব নিয়ে