গৃহশিক্ষকের অপকর্মের বর্ণনা দিলো সেই ছাত্রী

১৩ বছরের শিশু রাবেয়া। হাত-পায়ের ব্যান্ডেজ নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন সে। তার পায়ের ও হাতের রগ কেটে দিয়েছে তারই গৃহশিক্ষক মিঠু বিশ্বাস। প্রেম-বিয়েতে সফল হতে না পেরে ওই ছাত্রীর ওপরে এমন নৃশংস হামলা চালিয়েছেন গৃহশিক্ষক। শুধু তাই নয়, একই সময়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী রাবেয়ার দাদি ও সাত বছরের এক শিশুকেও চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছেন এই শিক্ষক।

রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতালের) বিছানায় শুয়ে শিক্ষক মিঠু বিশ্বাসের অপকর্মের বিবরণ দিয়েছেন রাবেয়া।

রাবেয়া বলেন, ‘আমি ফাইভে থেকে ওর (মিঠু বিশ্বাস) কাছে কোচিং করছি এক বছর। এর পর সিক্সে ওঠার পরে প্রাইভেট পড়ছি এক মাস। ওর কাছে যতদিন প্রাইভেট পড়তে গেছিলাম, ততদিন সে আমাকে হের কাছে বসাতো। খাতায় লেখার কথা বলে বার বার আমার হাত চ্যাইপা ধরতো।

গায়ে হাত দেবার চেষ্টা করতো। স্যার বলে অন্যদের সামনে কিছু বলতে পারি নাই। কিন্ত যখন এসব বেশি বেশি করা শুরু করে তখন আমি আমার বাড়িতে জানাইছি। আমি আমার বাবা-মাকে অনেক বার বলেছি যে স্যার আমার লগে এমন করে। আমার পরিবার থাইক্যা আমার দাদা ওদের বাড়িতে বারবার অভিযোগ দিয়েছিল। কিন্তু তারা (মিঠু বিশ্বাসের পরিবার) শুধু বলছে, আমরা আমাদের ছেলেরে বুঝাবোনে। তারা তাদের ছেলেরে কিছুই বলে নাই।’

ওই ছাত্রী বলে, ‘সে (মিঠু বিশ্বাস) একদিন আমারে বলে, আমি তোমারে বিয়ে করবো। আমি কইছি, আমি তো ছোট। এখন বিয়া করার ইচ্ছা আমার নাই। তখন ও বলে, আমি ছোট মেয়েই বিয়ে করবো। আর আমাদের স্কুলে যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হইছে, সেইদিন আমারে ফুল দিতে গেছিলো। আমি সেই ফুল নেই নাই। ও আমাগোর বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব দিছিল। কিন্তু আমার বাবা-মায় রাজি হয় নাই। সেইসব রাগ থেকে মনে হয় এই ঘটনা ঘটাইছে।’

হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই ছাত্রী বলে, ‘সেদিন আমি তখন ঘরে বসে পড়তেছিলাম। আমাগোর পাশের বাড়ির হেনা (সাত বছরের শিশু) আমার ঘরে পড়তে আইছিল। ও (মিঠু বিশ্বাস) তখন মোবাইল টিপতে টিপতে ঘরে ঢুকে ছিটকানি লাগাইয়া দিছে। এটা দেখে আমি যখন চিৎকার করি, তখন সে আমারে ধরতে যায়।

আমি টেবিল থেকে উঠেই জানলা দিয়ে বের হতে গেছি। আমি এক পা জানলাতে দিয়েওছি। ও (মিঠু বিশ্বাস) তখনই আমার পায়ে প্রথম কোপটা দিছে। ওরে মারিস না, আমারে মার এই বলে আমার দাদি ঘরের বাইরে চিৎকার করতেছিল। কিন্তু কেউই ঘরে ঢুকতে পারছিল না।’

রাবেয়া আরো বলেন, ‘ও (মিঠু বিশ্বাস) একটা গরু কাঁটার চাকু নিয়া ঘরে আইছিল। আমি যেই জানালা খুলে দৌঁড়ে বের হতে চেয়েছিলাম, আমারে মেরে মিঠুই ওই জানালা দিয়ে বের হয়ে গেছে। জানালাটা খোলা ছিল, গ্রিল ছিল না।’

নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী বলে, ‘ওর (মিঠু বিশ্বাস) জেল হলে তো ব্যাইচা যাবে। আবার বাইর হইয়া আরেকজনের সাথেও এমন করতে পারে। তাই আমি ওর ফাঁসি চাই। ’

কথা বলতে বলতে ‘আমার সেলাইগুলো খুব বেশি ব্যথা করছে। হাতে পায়ের কাটা খুব জ্বালা করছে’, বলে কাঁদতে শুরু করে রাবেয়া।

হাসপাতালে রাবেয়ার বিছানার পাশেই যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন তার দাদি। তাকেও একইভাবে কুপিয়েছেন ওই শিক্ষক। চাপাতির কোপে তার ডান হাতের কব্জি শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। আর বাম হাতের কব্জিও চাপাতির কোপে ছিঁড়ে অনেকাংশে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একই হাসপাতালের আরেক বিছানায় গলা ও হাতের কাটা অংশ নিয়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করছে সাত বছরের আরেক শিশু। সেও শিক্ষকের নির্মমতার শিকার।

গত ১৫ মার্চ নড়াইলের সদর থানার সিঙ্গিয়া গ্রামে রাবেয়ার বাড়িতে গিয়ে তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন তারই গৃহশিক্ষক মিঠু বিশ্বাস।

প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবেয়া এবং তার পরিবারের সদস্যদের কোপায় মিঠু।

ঘটনার পরে মিঠু বিশ্বাস এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিল। ঘটনার দিন রাতেই নড়াইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে রাবেয়ার দাদা আলেক বিশ্বাস। মামলায় মিঠু বিশ্বাসসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ আলম বলেন, ‘মামলার পরে আমরা মিঠু বিশ্বাসের বড় ভাই, যিনি মামলার দুই নম্বর আসামি-তাকে গ্রেপ্তার করি। এর পরে মিঠু বিশ্বাসসহ বাকি তিন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। কিন্তু আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে চারজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

নিউজিল্যান্ডে জুমার নামাজে মানুষের ঢল

আজ আল নুর মসজিদের কাছে হেগলি পার্কে জুমার নামজে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়েছেন।

মুসল্লিরা মোনাজাত করছেন।

নামাজে আসা মুসল্লিদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।

জুমার নামাজের সময় শোক কাছে মুসলমানদের কাছে প্রকাশ করতে এসেছে নিউজিল্যান্ডের অন্যান্য ধর্মের হাজারো মানুষ।

নামাজ আদায় করছেন নিউজিল্যান্ডের মুসলমানরা।

মুসলিমদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে আজান এবং জুমার নামাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দুই মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়।

সেদিনের শোক কিছুতেই ভুলতে পারছেন এক মুসল্লি। তাই অঝোরে কাঁদছেন।

বাংলাদেশে ফেসবুক নিষিদ্ধ হতে পারে: জাকারবার্গকে মোস্তফা জব্বার

বাংলা ভাষাকে যারা সঠিক ও শুদ্ধভাবে প্রয়োগ করবে না তাদের কে কোন ছাড় দেয়া হবেনা বলে জানিয়েছে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

১৯ মার্চ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চলমান বেসিস সফটএক্সপো-২০১৯ এ ‘বাংলা যান্ত্রিক অনুবাদক, তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, গুগল-ফেসবুক বাংলা প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাকে বিকৃত করছে, যারা বাংলা ভাষাকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করবে না তাদের সরকার ছাড় দেবে না। কিছুদিন আগে স্পেনে ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে।

আমি বলেছি বাংলাকে সঠিকভাবে প্রয়োগ না করলে কখন বাংলাদেশে ফেসবুক নিষিদ্ধ হয়ে যাবে তার গ্যারান্টি আমি দিতে পারি না। একই কথা মাইক্রোসফটকেও বলেছি। বাংলাকে বাংলা ভাষার নিয়মেই ব্যবহার করতে হবে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের বদৌলতে বাংলা ভাষার মৌলিক প্রমিতকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘পৃথিবীতে নানা কারণে বহু দেশ তার মাতৃভাষাকে হারিয়ে ফেলেছে, মাতৃভাষায় ব্যবহৃত হরফকে হারিয়ে ফেলেছে। উর্দু ভাষা তার নিজস্ব বর্ণমালা হারিয়েছে। মালয়েশিয়া তার ভাষায় ইংরেজি বর্ণমালা ব্যবহার করছে।

এক সময় কম্পিউটার ছিল ইংরেজি ভাষার দখলে। প্রযুক্তির বদৌলতে এখন তা পাল্টে যাচ্ছে। ইন্টারনেটে এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় চাইনিজ ভাষা, বাংলা ভাষাও পিছিয়ে নেই, বাংলাদেশে ৯ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। সারা দুনিয়ায় বাংলা ভাষা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৫ কোটি। বাংলা পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম মাতৃভাষা। বাংলা হরফ ব্যবহার করছে আরও ৫ কোটিরও বেশি অন্য ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী উল্লেখ করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল শিল্পবিপ্লবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক নেতৃত্বের জায়গায় স্থান করে নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু অপটিমা মনির বাংলা টাইপরাইটার প্রথম চালু করে ছিলেন।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের পরিচালক ড. জিয়া উদ্দিন আহমেদ, বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির এবং বিসিসি পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল কবির।

মোবাইলে কথা বলায় অনার্স পড়ুয়া স্ত্রীকে জবাই করলেন কুয়েত ফেরত স্বামী

স্ত্রী প্রজ্ঞা মোবাইল ফোনে কথা বলতেন। এতে সন্দেহ হয় স্বামী বিদেশ ফেরত মাহতাবের। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটিও হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা রূপ নিলো নৃশংসতায়।

কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায় প্রজ্ঞা মোস্তফা (২৬) নামের ওই গৃহধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করেছেন তারই স্বামী দেলোয়ার হোসেন মাহতাব (৩২)। মাহতাব দীর্ঘদিন কুয়েত প্রবাসী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের উত্তর চাঁনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘাতক স্বামী দেলোয়ার হোসেন মাহতাবকে গ্রেফতার করেছে। করিমগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মো. মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের পরিবারের লোকজন জানান, করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল উত্তর চাঁনপুর গ্রামের মৃত ইমাম উদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন মাহতাবের সঙ্গে বিয়ে হয় ইটনা উপজেলার লাইমপাশা গ্রামের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক আহসান মোস্তফার মেয়ে প্রজ্ঞা মোস্তফার। বিয়ের মাস পার হতে না হতেই বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেয়ার দাবিতে প্রজ্ঞার ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করেন দেলোয়ার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে বকাঝকা করেন দেলোয়ার। এক পর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে প্রজ্ঞা মোস্তফাকে হত্যা করেন দেলোয়ার হোসেন মাহতাব।

অপর একটি সূত্র বলছে, মোবাইল ফোনে কথা বলাকে কেন্দ্র করে মাহতাব স্ত্রী প্রজ্ঞাকে সন্দেহ করতো এবং এই নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হতো। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী মাহতাব গরু জবাই করার ছুরি দিয়ে স্ত্রী প্রজ্ঞার মাথা ও ঘাড়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত প্রজ্ঞা মোস্তফা কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সমাজকল্যাণ বিষয়ে অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী ছিলেন। ছয় বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। মাত্র তিন মাস বয়সী একটি শিশু সন্তান রয়েছে প্রজ্ঞা মোস্তফার।

করিমগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মো. মুজিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করা হয় ঘাতক দেলোয়ারকে। উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি। যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যার কথা স্বীকার করেছে দেলোয়ার হোসেন মাহতাব।

প্রজ্ঞার বাবা আজমিরীগঞ্জ এবিসি সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহসান মোস্তফা বলেন, বিয়ের পর থেকে দেলোয়ারের আসল চেহারা টের পাই। সে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আমার মেয়ের ওপর অকারণে নির্যাতন করতো। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।

সন্ত্রাসীদের জন্ম দেয় ইসরাইল

মধ‍্যপ্রাচ‍্যে সন্ত্রাসীদের জন্ম দেয় ইহুদীবাদী ইসরাইল, আর দোষ চাপে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঘাড়ে।

সম্প্রতি সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা বাসিনা শাবান একথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লিবিয়ায় সন্ত্রাসবাদের উৎস হচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরাইল।

তিনি সিরিয়ার বার্তা সংস্থা সানাকে এ কথা বলেছেন। বাসিনা শাবান আরও বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইল সিরিয়ায় আহত আইএস জঙ্গিদেরকে সেখানে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছে এবং এখনও তাদের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ইহুদিবাদীদের ছড়িয়ে দেওয়া সন্ত্রাসবাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ভেঙে দেওয়া। তবে তাদের এই অশুভ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে না।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা বলেন, প্রতিরোধ সংগ্রামের মূলেই রয়েছে ফিলিস্তিন ইস্যু এবং তা ভবিষ্যতেও প্রধান ইস্যু হিসেবে থাকবে।

পুরুষদের ন্যূনতম দু’টি বিয়ে করতেই হবে, না হলে যাবজ্জীবন জেল

আফ্রিকার ছোট্ট দেশ এরিত্রিয়ার সমস্ত পুরুষকে ন্যূনতম দু’টি বিবাহ করতেই হবে আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। যদি দেশের কোনো পুরুষ বা নারী এই সিদ্ধান্তে আপত্তি করে, তা হলে শাস্তি হবে যাবজ্জীবন জেল।

একে চন্দ্র, দুয়ে পক্ষ। এক্ষেত্রে প্রথম পক্ষ এবং দ্বিতীয় পক্ষ, দুটোই বাধ্যতামূলক। এমনই আজব আইনে সিলমোহর দিল এরিত্রিয়া সরকার।

আরবিক দেশগুলির মধ্যে এরিত্রিয়াতেই শুধুমাত্র এমন আজব আইন জারি করা হয়েছে। রীতিমতো ধর্মীয় আইনের মাধ্যমে এই নির্দেশকে মান্যতা দিলেন গ্র্যান্ড মুফতি।

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশে পুরুষের আকাল পড়েছে। এর আগে দীর্ঘদিন ইথিওপিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের কারণে অনেক পুরুষ হারিয়েছে এরিত্রিয়া। ক্রমশ পুরুষশূন্য হয়ে পড়ছে এই দেশ। তাই দেশের স্বার্থেই এই আইন বলবৎ করল সরকার।

প্রসঙ্গত, এরিত্রিয়ার জনসংখ্যা চৌষট্টি লক্ষেরও কিছু কম। এর এক দিকে সুদান আর ইথিওপিয়া, এক দিকে জিবুটি, এক দিকে লোহিত সাগর। ইথিওপিয়ার থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম হয় ১৯৯৩ সালে।

নিজের চেয়ার ছেড়ে সেই জহিরুলের পাশে এসে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

গত বুধবার রাত ১১টার পর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলার সুযোগ পান তিনি। এসময় তার রোগের বর্ণনা ও পর পর ৬ বার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখানের বিষয়টি তুলে ধরেন জহিরুল। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২০ মিনিট কথা বলেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসে শুক্রবার জহিরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমানের সোহাগের একান্ত প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছে। এর আগেও সোহাগ ভাই (ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি) আমার চিকিৎসার ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ একাধিক স্থানে আমাকে নিয়ে গেছেন। তার সহযোগিতা না পেলে এতদিন হয়তো বেঁচে থাকতাম না।

তিনি বলেন, অনেক মানুষের ভিড়ে প্রধানমন্ত্রী আমার সব কথাগুলো গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন। প্রায় ২০ মিনিট আমার রোগের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলেছি উনাকে। তিনি সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। এটা আমার বিশাল পাওয়া ও তৃপ্তির।

অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছে বিরল রোগে আক্রান্ত ২৭ বছর বয়সী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জহিরুল ইসলামের।

জহিরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা আমার একটি সফলতা। অনেকের সহযোগিতায় যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেয়েছি, আমার বিশ্বাস উনার সহযোগিতায় সুচিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠবো।

তিনি বলেন, গণভবনে প্রবেশের কিছুক্ষণ পরেই ডাক পরে আমার। এরপর ঠিক প্রধানমন্ত্রীর সামনে আমাকে একটি চেয়ারে বসানো হয়। সেখানে সমস্ত ডকুমেন্ট দেখে আমার কাছে রোগের বিষয়টি শুনতে চান তিনি। সব কথা বলার পর আপার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে একটি ছবি তোলার প্রস্তাব দিয়ে আমি উঠার চেষ্টা করলে, প্রধানমন্ত্রীই উঠে এসে আমার চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, তোমার উঠার দরকার নেই।

এরপর তিনি আমার মাথায় হাত দিয়ে বললেন, তোমার পাশে আমি আছি ভয়ের কোনো কারণ নেই। তোমার সার্বিক দায়িত্ব আমার। এত বড় একজন মানুষকে পাশে পেয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।

জহিরুল বলেন, এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

২৪ জানুয়ারি ‘টাকার প্রয়োজন নেই, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২ মিনিট কথা বলতে চাই’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয় জহিরুল ইসলামকে নিয়ে। সংবাদটি প্রকাশের পর অনেকের দৃষ্টিতে পড়ে। এরপর জহিরুলের ডাক পড়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে।

প্রসঙ্গত, জহিরুল ইসলাম চিকিৎসা করতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ৬ বার ভিসার জন্য আবেদন করেও পাননি। সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও কেন তিনি ভিসা পাচ্ছেন না এর কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।

তার রোগের বিশ্বের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব রোসেস্টার মেডিকেল সেন্টারের নিউরো মাসকুলার ডিজিজেস সেন্টারের ‘দ্য সেন্টার অব ফিল্ড ফ্যাসিও স্ক্যাপন্টো হিউম্যারাল মাসকুলার ডিসট্রোফি’ বিভাগ। সেখানে চিকিৎসা নেয়ার জন্য দুই বছর ধরে তিনি ছুটছেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে, কিন্তু প্রতিবার তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

জহিরুলের চিকিৎসার জন্য ভারতের কয়েকজন চিকিৎসক ও যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক ডা. রাবি তাওয়ালও যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চিঠি পাঠান। তাতেও কোনো কাজ হয়নি জহিরুলের। এমনকি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সহযোগিতায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও জহিরুলকে ভিসা দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে দূতাবাসে চিঠি দেন। তারপরও ভিসা পাননি জহিরুল।

এখন হতাশ হয়ে অসুস্থ শরীর নিয়ে জহিরুল বিভিন্ন গণমাধ্যম অফিসে ছুটছেন তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরতে। তার বিশ্বাস এ সমস্যা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই সমাধান করতে পারবেন। তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ পেলেই তার দুই বছরের যন্ত্রণা তিনি ভুলে যাবেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সেখানে তার চিকিৎসা হবে। তিনি আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন।

এমন প্রত্যাশা নিয়ে একদিন বিকেলে পথচারীদের সহযোগিতায় কার্যালয়ে হাজির হন জহিরুল ইসলাম। দুজন পথচারী তাকে কোলে নিয়ে রাস্তা পার করে অফিসে পৌঁছে দেন।

জহিরুল ‘ফ্যাসিও স্ক্যাপন্টো হিউম্যারাল মাসকুলার ডিসট্রোফি’ নামে একটি বিরল রোগে আক্রান্ত। এ রোগে প্রথমে রোগীর শরীর শুকাতে শুরু করে। পরে হাত-পা বেঁকে যায়। গিরায় গিরায় ব্যথা হয়। এরপর প্যারালাইসিস আক্রান্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মৃত্যু হয় এসব রোগীর। বর্তমানে জহিরুলের শরীরও শুকাতে শুকাতে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে এখন হাড় ছাড়া আর কিছু নেই।

জহিরুল বলেন, কোনো জায়গায় বসলে উঠতে পারি না। রাতে ঘুমাতে গেলে সকালে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারি না। প্রতিটি কাজ করতে হয় অন্যের সহযোগিতা নিয়ে। মা-বাবা কেউ নেই। এক বোন ছিল বিয়ে হয়ে গেছে। শুনছি সেও আমার মত অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। ঢাকার মুগদায় খালার বাসায় থেকে জীবন কাটছে আমার। অনেক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি কোনো লাভ হয়নি। বাংলাদেশে তো রোগই শনাক্ত করতে পারেনি। ভারতের ব্যাঙ্গালুরে গিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারেন তার রোগের নাম।

তিনি বলেন, চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার একটি কলেজে পড়ার সময় ছাত্রলীগের ভিপি ছিলাম। সেই সুবাধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। সবার সহযোগিতায় চিকিৎসার জন্য এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা পেয়েছি। অথচ ভিসা না পাওয়ার কারণে চিকিৎসা নিতে যেতে পারছি না।

জহিরুল বলেন, ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সেখানকার ডাক্তার বলেছেন এভাবে চলতে থাকলে আমার বয়স যখন ৩১ বছর হবে তখন পুরো শরীর প্যারালাইসিস হয়ে যাবে। এর কিছুদিন পর আমার মৃত্যু হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক ডা. রাবি তাওয়ালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে। তিনি বলেছেন, সেখানে এ রোগের চিকিৎসা হয়। তিনি জানিয়েছেন, এ রোগের বিশ্বের ১৪৭তম রোগী আমি। এর আগে যারা সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন তারা আজ প্রায় সুস্থ। অথচ আমি ভিসা না পাওয়ার কারণে যেতে পারছি না। আমার টাকার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন ভিসার। প্রধানমন্ত্রী যদি দূতাবাসে বলে দেন তাহলেই আমি ভিসা পাব। হয়তো চিকিৎসা নিয়ে বেঁচেও যাব। তিনিই পারবেন আমাকে বাঁচাতে।

জহিরুলের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ২নং পাথুর ইউনিয়নের বেরকোটা গ্রামে। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ও ইউপি সদস্য সেলিম তার অসুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে থেকে যোগাযোগ করা হয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে। তিনি জানান, জহিরুলের বিষয়টি আমরা অবগত। এরপর জহিরুল ভিসার জন্য আবেদন করলে আমরা আবারও দূতাবাসকে চিঠি দেব, তাকে যেন ভিসা দেয়া হয়।

জহিরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে ০১৮১১-৯০৩৪৩৬ নম্বরে।

৫ লাখ এক টাকা দেনমোহরে দ্বিতীয় ইনিংসে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ

কিছুদিন পরেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের আগে লম্বা ছুটির সুযোগে মায়ের পছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করলেন জাতীয় দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।

পাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাদিয়া পারভীন শিমু সম্পর্কে তারই মামাতো বোন বলে জানা গেছে। আজ শুক্রবার বেলা তিনটায় সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে তার আপন মেজো মামার বাড়িতে এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু মোস্তাফিজ সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা না বললেও তার বড় ভাই মাহফুজুর রহমান মিঠু মোস্তাফিজ-শিমু দম্পত্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এদিন বেলা পৌনে তিনটার দিকে বাবা-মা-ভাই ও বন্ধু-বান্ধবসহ ৩০/৩২ জন বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে আসেন মোস্তাফিজ। এরপর নওয়াপাড়া ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্টার আবুল বাশার ৫ লাখ এক টাকা দেন মোহরে মোস্তাফিজ ও সাদিয়া পরভীন শিমুর বিয়ে পড়ান।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ইসলাম গ্রহণ করবেন: তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদেুরো এক সময়ে ইসলাম গ্রহণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্পুৎনিকের খবর।

শুক্রবার তুরস্কের আলিনিয়া শহরে অবস্থিত আলাদ্দিন কেইকুবাত বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মেভলুত বলেন, গেল বছর তার সঙ্গে এক বৈঠকে মাদুরো ইসলাম গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন। মূলত ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে নির্মিত একটি টিভি সিরিজ দেখার পর তিনি ইসলাম ধর্মের প্রতি তার আগ্রহ প্রকাশ করেন মাদুরো।

তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে গেল বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মাদুরোর সঙ্গে বৈঠক হয়েছিলো। আলাপের সময়ে মাদুরো ওই টিভি সিরিজ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করছিলেন।

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা ও স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদোর সঙ্গে মাদুরোর চরম উত্তেজনার মধ্যে এ মন্তব্য করলেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলায় উল্লাস করে চাকরি হারানো সেই ব্যক্তি ভারতীয়

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় উল্লাস করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাকরি হারানো কর্মচারীর পরিচয় মিলেছে। তিনি ভারতীয় নাগরিক। ফেসবুকে ফেইক আইডি থেকে মসজিদে হামলার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

আমিরাতের নিরাপত্তা কোম্পানি ট্রান্সগার্ড সিকিউরিটি গ্রুপ তাকে চাকুরিচ্যুত করার পর নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে আধা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সন্ত্রাসী ব্রেন্টন ব্যারান্ট।

তার ওই হামলায় ৫০ মুসল্লির প্রাণহানি ঘটে। আধুনিক নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে মসজিদে হামলার এই ঘটনাকে কালো অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন।

ট্রান্সগার্ড এক বিবৃতিতে বলছে, ট্রান্সগার্ডের এক কর্মচারী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে ঘৃণ্য হামলার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অপমানসূচক মন্তব্য করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভুয়া আইডি থেকে মসজিদে হামলার ঘটনায় অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন ওই ব্যক্তি। ভারতীয় ওই কর্মচারীকে ফেসবুকে সনাক্তের পর কোম্পানির নীতি অনুযায়ী তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

এমিরেটস গ্রুপের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সগার্ড বলছে, আরব আমিরাত সরকার ওই ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি ট্রান্সগার্ড। তবে ফেসবুকে ওই ব্যক্তির আইডিতে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেয়া রয়েছে।

ট্রান্সগার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্রেগ ওয়ার্ড বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। ফলে ওই মন্তব্যের কারণে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিচারের মুখোমুখি করার জন্য তাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।