পায়ে ঝিঁ ঝিঁ ধরে গেলে কী করবেন? ঝিঁ ঝিঁর অস্বস্তি কাটানোর কিছু সহজ উপায়…

একভাবে বেশিক্ষন বসে থাকলে পায়ে ঝিঁ ঝিঁ ধরে যাওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। আমাদের ক্ষেত্রে এমনটা প্রায়ই হয়। বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয় যখন তখন। রইলো কিছু উপায় যেগুলি চটপট করতে পারলে আপনি খুব তাড়াতাড়ি উপশম পাবেন ঝিঁ ঝিঁ র হাত থেকে।

বেকায়দায় বসা বা শোয়ার জন্য অনেক সময় আমাদের হাতে-পায়ে ঝি ঝি ধরে যায়। সাধারণত ঘাড়ের নার্ভে চাপ পড়ার জন্য হাতে ঝি ঝি ধরে। হাতে ঝি ঝি ধরলে আপনার মাথা এপাশ থেকে ওপাশে দুলান। এত ঝি ঝি ধরলে আস্তে আস্তে কমে যাবে।

ঘাড় এদিক হতে ওদিক করার মাধমে ঘাড়ের মাসল শিথিল হয়। পায়ে ঝি ঝি ধরে শরীরের নিচের অংশের মাসল সংকোচনের জন্য। এক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ হাঁটা শুরু করুন, ঝি ঝি চলে যাবে।

দেহে ওয়াটার স্যলুবল বি ভিটামিন, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের অভাব হলে এই লক্ষণটি দেখা দেয়। এরূপ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার সঠিক পদক্ষেপ হবে। সবুজ শাক, কাঠবাদাম, তাল, কমলা, কলা, চীনাবাদাম, ডাবের পানি, কিশমিশ, কাজু বাদাম ইত্যাদি রাখুন খাদ্যতালিকায়।

কপাল খুলে গেল ইমরান সরকারের

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচনে লড়াই করার জন্য প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। রোববার হাইকোর্টের নির্দেশনায় প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি।

এর ফলে নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হতে পারলে জাতীয় সংসদে যাবার সুযোগ তৈরী হলো তার। নির্বাচনের সুযোগ পাওয়ায় ইমরান এইচ সরকারের সমর্থকরা সৌভাগ্য হিসেবেও দেখছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন ইমরান। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনের আপিলেও তা বহাল রাখা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত রোববার স্থগিত করে দিয়েছে হাই কোর্ট। ইমরান এইচ সরকারের একটি রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

ইমরানের পক্ষে হাই কোর্টে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমির, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আদেশের পর তানিয়া আমির সাংবাদিকদের বলেন, হাই কোর্টের এই আদেশের ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান এইচ সরকারের নির্বাচনে অংশ নিতে বাঁধা থাকলো না।

তানিয়া বলেন, আজকের আদেশের সত্যায়িত কপি পাঠাতে দেরি হতে পারে বলে আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেছেন, তিনি যেন বিষয়টি মৌখিভাবে ইসিকে জানিয়ে দেন, বৈধ প্রার্থী হিসেবে ইমরানের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন যেন তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহেণর সুযোগ করে দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইমরান এইচ সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথমে রিটার্নিং কর্মকর্তা আমরা প্রার্থিতা বাতিল করে। আপিল করলে নির্বাচন কমিশনও (ইসি) আমার প্রার্থিতা বাতিল করেছিল। পরে আমি হাইকোর্টে আপিল করলে হাইকোর্ট আমার প্রার্থিতা গ্রহণের জন্য ইসিকে নির্দেশ দেন ও আমাকে প্রতীক বরাদ্দেরও নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় (কুড়িগ্রাম-৪) গিয়ে গণসংযোগে মনোযোগ দেব।

শশুড়, শাশুড়ি থেকে আলাদা হতে চাইলে স্ত্রীকে তালাক দিতে পারবে স্বামী। সুপ্রিম কোর্টের…..

শশুড়, শাশুড়ি থেকে আলাদা – বাবা-মায়ের থেকে ছেলেকে আলাদা করতে চাইলে স্ত্রী’কে ডিভোর্স দিতে পারবেন হাজব্যান্ড। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের হিন্দু বিবাহ আইনে এই বিধান জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার একটি ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জাস্টিস অনিল দাভে এবং জাস্টিস এল নাগেশ্বর বলেন, বৃদ্ধ এবং ছেলের ওপর নির্ভরশীল বাবা-মায়ের থেকে স্বামীকে নিয়ে আলাদাভাবে বসবাস করতে জোর করলে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন স্বামী।

১৪ পাতার রায়ে বিচারপতিদ্বয় বলেন, ‘পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি এবং রাজনীতির বিস্তর ফারাক রয়েছে। সেখানকার নিয়ম এখানে চলতে পারে না। বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেখা ছেলের কর্তব্য বলেই ধরা হয়। বিয়ের পর স্বামীর পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন স্ত্রী। যদি বিশেষ ক্ষেত্র না হয় তবে স্বামীকে অভিভাবকদের থেকে পৃথক করার জন্য মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করলে বিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন স্বামী।’

বায়ে আরো বলা হয়, ‘অতীতে দেখা গিয়েছে স্বামীকে চাপ দিতে স্ত্রী আত্মহত্যার হুমকি বা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। যদি কোনো ক্ষেত্রে তিনি মারা যান তবে আইনি সমস্যায় জর্জরিত হতে হয় সেই ব্যক্তিকে। তার ক্যারিয়ার, পরিবার, সামাজিক সম্মান সব কিছু ছারখার হয়ে যায়। এ সব কিছুর কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত চাপের কাছে নতি করে নেন অনেকে। আর যাতে এই রকম ঘটনা না ঘটে তার জন্যই এই রায়ের বিধান করা হয়েছে।’

হৃদরোগ এড়াতে ডাঃ দেবি শেঠির কিছু চমৎকার পরামর্শ:: দেবি শেঠি ভারতের বিখ্যাত চিকিৎসক। বলা হয়, বিশ্বের সেরা ১০ জন সার্জনের একজন তিনি।বাংলাদেশেও তিনি বেশ পরিচিত। ভারতের কর্নাটক রাজ্যের ব্যাঙ্গালোর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে শেঠির নারায়ণা হৃদয়ালয় হাসপাতালটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান হাসপাতাল। প্রশ্ন: হৃদরোগ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয় এমন মানুষেরা কিভাবে হৃদযন্ত্রের যত্ন নিতে পারে?

দেবি শেঠি: খাবারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শর্করা এবং চর্বিজাত খাবার কম খেতে হবে। আর আমিষের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন আধা ঘণ্টা করে হাঁটতে হবে। লিফটে চড়া এড়াতে হবে। একটানা বেশি সময় বসে থাকা যাবে না। ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

রক্তচাপ এবং সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। প্রশ্ন: শাক জাতীয় নয়, এমন খাবার (যেমন মাছ) খাওয়া কি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী? দেবি শেঠি: না।  প্রশ্ন: মাঝে মাঝে শোনা যায় সুস্থ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখেন?

দেবি শেঠি: এটাকে বলে নীরব আক্রমণ। এজন্যই ত্রিশোর্ধ্ব সকলের উচিত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
প্রশ্ন: মানুষ কি উত্তরাধিকারসূত্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে?  দেবি শেঠি: হ্যাঁ। প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে কেন? এর থেকে উত্তরণের উপায় কি? দেবি শেঠি: জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। জীবনে সব কিছু নিখুঁত হবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।

প্রশ্ন: জগিং করার চেয়ে কি হাঁটা ভারেঅ? নাকি হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়ার জন্য আরো কঠিন ব্যায়াম জরুরি?দেবি শেঠি: হ্যাঁ, জগিং করার চেয়ে হাঁটা ভালো। জগিং করলে মানুষ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায় এবং জয়েন্টে ব্যথা হয়। প্রশ্ন: দরিদ্র এবং অভাবগ্রস্তদের জন্য আপনি অনেক কিছু করেছেন। এসবের পেছনে অনুপ্রেরণা কি ছিল? দেবি শেঠি: মাদার তেরেসা। তিনি আমার রোগী ছিলেন।

প্রশ্ন: নিম্ন রক্তচাপে যারা ভোগেন, তারা কি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে? দেবি শেঠি: সেটা হবে খুবই বিরল। প্শ্: কোলেস্টেরলের মাত্রা কি অল্প বয়স থেকেই বাড়তে থাকে? নাকি ত্রিশের পর এ বিষয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত? দেবি শেঠি: না, কোলেস্টেরলের মাত্রা ছোটবেলা থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। প্রশ্ন: অনিয়মিত খাদ্যাভাস কিভাবে হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে? দেবি শেঠি: অনিয়মিত খাদ্যাভাস মানুষকে জাঙ্ক ফুডের দিকে ঠেলে দেয়। আর তখনই হজমের জন্য ব্যবহৃত এনজাইমগুলো দ্বিধায় পড়ে যায়।

প্রশ্ন: ওষুধ ছাড়া কিভাবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা যায়? দেবি শেঠি: নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস, হাঁটাহাঁটি এবং আখরোট খাওয়ার মাধ্যমে। প্শ্ন: হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খারাপ খাবার কোনটি? দেবি শেঠি: ফল এবং সবজি সবচেয়ে ভাল খাবার। আর সবচেয়ে খারাপ তৈলাক্ত খাবার। প্রশ্ন: কোন তেল ভালো? সূর্যমুখী নাকি জলপাই? দেবি শেঠি: যেকোনো তেলই খারাপ।

প্রশ্ন: নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কি নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা আছে? দেবি শেঠি: নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সুগার এবং কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। তাছাড়া রক্তচাপ পরিমাপও জরুরি। প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাক হলে প্রাথমিকভাবে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে?

দেবি শেঠি: রোগীকে প্রথমে শুইয়ে দিতে হবে। এরপর জিহ্বার নিচে একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট রাখতে হবে। যদি পাওয়া যায় তবে এ্যাসপিরিনের পাশাপাশি একটি সরবিট্রেট ট্যাবলেটও রাখতে হবে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে নেবার ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়।

প্রশ্ন: হৃদরোগজনিত ব্যথা এবং গ্যাস্ট্রিকের ব্যথার মধ্যে পার্থক্য করা যায় কিভাবে? দেবি শেঠি: ইসিজি ছাড়া এটা সত্যিই খুব কঠিন। প্রশ্ন: যুবকদের মধ্যে হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যার আধিক্যের কারণ কি? দেবি শেঠি: একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ধূমপান এবং জাঙ্ক ফুড। তাছাড়া ব্যায়াম না করাও একটি প্রধান কারণ। কিছু কিছু দেশের মানুষের জেনেটিক কারণেই ইউরোপিয়ান এবং আমেরিকানদের চেয়ে তিন গুণ বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

প্রশ্ন: রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা (১২০/৮০) না থাকলেও কি কেউ পুরোপুরি সুস্থ থাকতে পারে? দেবি শেঠি: হ্যাঁ। প্রশ্ন: নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে করলে সন্তানের হৃদরোগ হতে পারে- এটা কি সত্য? দেবি শেঠি: হ্যাঁ। নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে জন্মগত অস্বাভাবিকতার দিকে ঠেলে দেয়। প্রশ্ন: বেশিরভাগ মানুষ অনিয়ন্ত্রিত রুটিন অনুসরণ করে। মাঝে মাঝে মানুষকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়। এতে কি হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হয়? যদি হয় তবে এক্ষেত্রে কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?

দেবি শেঠি: তরুণ বয়সে প্রকৃতি মানুষকে এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে। প্রশ্ন: অ্যান্টি হাইপারটেনসিভ ওষুধ গ্রহণ করলে অন্য কোন জটিলতা তৈরি হয়? দেবি শেঠি: হ্যাঁ, বেশিরভাগ ওষুধেরই কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। কিন্তু আধুনিক অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধগুলো অনেক নিরাপদ।

প্রশ্ন: অতিরিক্ত চা বা কফি খেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে? দেবি শেঠি: না। প্রশ্ন: অ্যাজমা রোগীদের কি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি? দেবি শেঠি: না।প্রশ্ন: জাঙ্ক ফুডকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন? দেবি শেঠি: যেকোনো ধরনের ফ্রাইড ফুড যেমন কেন্টাকি, ম্যাকডোনাল্ডস, সমুচা। এমনকি মাসালা দোসাও জাঙ্ক ফুড। প্রশ্ন: আপনার মতে ভারতীয়দের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা তিন গুণ বেশি। এর কারণ কি?

দেবি শেঠি: পৃথিবীর প্রতিটি জাতিরই কিছু নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। দুঃখজনক হলেও সত্য, জাতি হিসেবে ভারতীয়দের সবচেয়ে ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি। প্শ্ন: কলা খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে? দেবি শেঠি: না। প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাক হলে কেউ কি নিজে নিজে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারে?

দেবি শেঠি: অবশ্যই। তাকে প্রথমেই শুতে হবে এবং একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট জিহবার নিচে রাখতে হবে। এরপর দ্রুত আশপাশের কাউকে বলতে হবে যেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি মনে করি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করা ঠিক নয়। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাম্বুলেন্স যথাসময়ে হাজির হয় না।

প্রশ্ন: রক্তে শ্বেতকণিকা এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে কি হৃদরোগ হতে পারে? দেবি শেঠি: না। কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম করার জন্য হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকা জরুরি। প্রশ্ন: আমাদের ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে অনেক সময় ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ঘরের স্বাভাবিক কাজের সময় হাঁটাহাঁটি করা অথবা সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করা কি ব্যায়ামের বিকল্প হতে পারে?

দেবি শেঠি: অবশ্যই। একটানা আধা ঘণ্টার বেশি বসে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। এমনকি এক চেয়ার থেকে উঠে অন্য চেয়ারে যেয়ে বসাও শরীরের জন্য অনেকটা সহায়ক। প্রশ্ন: হৃদরোগ এবং রক্তে সুগারের পরিমাণের সাথে কি কোনো সম্পর্ক আছে? দেবি শেঠি: বেশ গভীর সম্পর্ক আছে। ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক।

প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর কি কি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে? দেবি শেঠি: পরিমিত খাদ্যাভাস, ব্যায়াম, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। পাশাপাশি রক্তচাপ এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রশ্ন: যারা রাতের শিফটে কাজ করেন তাদের কি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি? দেবি শেঠি: না।

প্রশ্ন: আধুনিক অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধগু কোনগুলো? দেবি শেঠি: অনেক ওষুধই আছে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি। তবে আমার পরামর্শ হলো, ওষুধ এড়িয়ে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা। আর সেজন্য নিয়মিত হাঁটা, ওজন কমে এমন খাবার খাওয়া এবং জীবনযাত্রার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।

প্রশ্ন: ডিসপিরিন বা এই ধরনের মাথাব্যথা উপশমকারী ট্যাবলেট কি হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়?প্রশ্ন: মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা কেন হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হয়? দেবি শেঠি: প্রকৃতি মেয়েদেরকে ৪৫ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়। প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার উপায় কি? দেবি শেঠি: স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। জাঙ্ক ফুড ও ধূমপান পরিহার করতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে। আর বয়স ত্রিশ পার হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। অন্তত প্রতি ছয় মাসে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেই হবে।

শামীম ওসমানের চেয়ে বাবুর অস্ত্র বেশি

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত ও প্রভাবশালী দুই এমপি শামীম ওসমান ও নজরুল ইসলাম বাবুর অস্ত্র নিয়েও এখন আলোচনা চলছে। নির্বাচনী হলফনামা থেকে জানা গেছে, এমপি শামীম ওসমানের চেয়ে নজরুল ইসলাম বাবুর লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বেশি। আর এসব অস্ত্রের দামও শামীম ওসমানের অস্ত্রের চেয়ে বেশি।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম তার হলফনামায় উল্লেখ করেন, তার একমাত্র লাইসেন্সকৃত পিস্তলের দাম ৩৫ হাজার টাকা। এছাড়া শামীম ওসমানের নিজ নামে নগদ অর্থ রয়েছে ১০ লাখ ৮২ হাজার ৫৭০ টাকা। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৩ লাখ ৬০ হাজার ৮২০ টাকা। এছাড়া তার উপর নির্ভরশীলদের নামে ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৬৩৪ টাকা রয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ টাকা। স্ত্রীর নামে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৬৫২ টাকা। তবে অন্যান্য নির্ভরশীলদের নামে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত কোনো টাকা নেই।

তিনি বাড়ি ভাড়া, দোকান ও অন্যান্য খাত থেকে বাৎসরিক আয় ২২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। শেয়ারের সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকে জামানত সুদ থেকে তার বাৎসরিক আয় ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৮১ টাকা। এছাড়া সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানি পান ২২ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৫ টাকা। তার স্ত্রী সালমা ওসমান লিপির ব্যবসা থেকে বছরে আয় ২২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এছাড়া শেয়ারের সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক থেকে জমাকৃত সুদে বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩৪ টাকা।

অপরদিকে দু’বারের এমপি নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর কাছে রয়েছে দুইটি পিস্তল। এদের মধ্যে একটি ৩২ বোর পিস্তল। যার মূল্য ৬ লাখ ১২ হাজার টাকা। যা শামীম ওসমানের পিস্তলের চেয়ে ১৭ গুন বেশি দামি।

এছাড়া তার বছরে আয় ৪১ লাখ টাকা। নিজ ও স্ত্রীর নামে কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এক কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার মূল্যের ল্যান্ডক্লুজার গাড়ি তার। নিজের নামে অকৃষি জমির মূল্য দুই কোটি ৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। আর স্ত্রীর জমি রয়েছে ৯৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা মূল্যের। এছাড়া স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রয়েছে ৩৯ লাখ ৩১ হাজার টাকা। তার ঢাকায় ৮১ লাখ টাকার অ্যাপার্টম্যান্টও রয়েছে। বিভিন্ন খাতে বছরে আয় ২৫ লাখ টাকা। সুত্র: জাগোনিউজ২৪

মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের যে সুখবর দিলেন কাদের:: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত ত্যাগী নেতাদের সম্মানিত করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ রবিবার দুপুরে ফেনীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ এবং মহাজোটের অনেক নেতাই মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছে। তবে এতে তাদের হতাশার কিছু নেই। প্রকৃত সম্মাননা পাবেন তারা। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা প্রার্থী হবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলেরও যারা মনোনয়ন বঞ্চিত, যারা শরিকদেরও মনোনয়ন বঞ্চিত আমরা তাদেরকে ক্ষমতায় ফিরে এলে আল্লাহ রহমতে মর্যাদার আসন দেবো।’ বিএনপি যদি নিজেদের মধ্যে সংকট দেখিয়ে সরে না যায়, তাহলে নির্বাচনকে ঘিরে দেশে আর কোনো সংকট নেই বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

এমএ পাশ করেও চাকরি না পেয়ে ট্রেনে হকারি করেন প্রতিবন্ধী যুবক

কোমরের নীচ থেকে কিছু নেই। শরীরটাকে কোনও রকমে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে এগোন। পিঠে কালো রঙের ভারী ব্যাগ। বাঁ হাতে এক গোছা ধূপের বাক্স। ডান হাত ট্রেনের মেঝেতে রেখে শরীরের ভারসাম্য রাখছেন। আর মুখে বলে যাচ্ছেন হাতে ধরা ধূপের গুণাগুন। ট্রেনে হকারি করেই পেট চালান শিবপ্রসাদ মিশ্র। দক্ষিণ-পূর্ব শাখার যে কোনও লোকাল ট্রেনে দেখা মিলবে তাঁর। তবে তিনি অন্য হকারদের থেকে একটু আলাদা। প্রতিবন্ধী যুবক হকার শিবপ্রসাদ সংস্কৃতে এমএ।

রাস্তায় ‘উন্নয়ন’ দাঁড়িয়ে আছে! পঞ্চায়েত ভোটেই তার সাক্ষী থেকেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। গত ৫ বছর স্কুল সার্ভিস কমিশনে কোনও নিয়োগ হয়নি এই রাজ্যে। অন্যান্য সরকারি চাকরির অবস্থাও তথৈবচ। অথচ প্রতি বছর নাকি ‘লক্ষ লক্ষ চাকরি’ হচ্ছে! আর এমএ পাশ শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবককে পেট চালাতে হকারি করতে হয় লোকাল ট্রেনে।

মেদিনীপুরের গোপগড়ে বাসিন্দা শিবপ্রসাদ মিশ্র। মাত্র ৩ বছর বয়সে দূর্ঘটনায় কোমরের নীচ থেকে দুটো পা কাটা যায়। বাবার সামান্য উপার্জনে সংসার চলে না। মা সাধারণ গৃহবধূ। বোন উচ্চমাধ্যমিক দেবেন। তাঁর পড়ার খরচ বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই প্রতিবন্ধী শিবপ্রসাদকে রোজগারের চিন্তা করতে হয়। ৫৬ শতাংশ নাম্বার নিয়ে মাধ্যমিক পাশ করেছিলেন।

স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ৫২ শতাংশ নাম্বার নিয়ে। ভেবেছিলেন সংসার চালানোর জন্য কোনও একটা চাকরি নিশ্চয় জুটে যাবে! কিন্তু বাস্তব ভিন্ন। চাকরি পাননি কোথাও। শেষে নিজের অবস্থার কথা জানিয়ে সাহায্য চান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। লাভ হয়নি। পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর অবস্থার কথা জানিয়েছিলেন। চাকরির বদলে একটি সাইকেল মিলেছে। শেষে সংসার চালাতে মাত্র ২৬ বছর বয়সে লোকাল ট্রেনে ধূপ বেচতে শুরু করেন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিবপ্রসাদ।

প্রতিদিন সকালে তিনি গোপগড় থেকে চলে আসেন মেদিনীপুর। পিঠে থাকে ধূপের বাক্স ভর্তি ব্যাগ। হাতেও কয়েকটা ধূপের প্যাকেট নিয়ে শরীর ছেঁচড়ে উঠে পড়েন ট্রেনে। তারপর ‘হাঁটতে হাঁটতে’ এ কামরা থেকে ও কামরা। যান মেচেদা পর্যন্ত। তারপর ফিরে আসেন, আবার যান। হকারি করতে থাকেন বছর ছাব্বিশের যুবক শিবপ্রসাদ। ইচ্ছাশক্তির জোরে প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়েছেন। এবার জীবনযুদ্ধে জিততে চান তিনি।

দাদা ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, এবার নাতি নামলেন ভোটের প্রচারে

দাদা ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় চার নেতার একজন। একটি সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখে বঙ্গবন্ধুর ছায়াসঙ্গী ছিলেন। দেশের জন্য রাজনীতি করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। দাদি দেশের সর্বপ্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের হাল ধরেছিলেন। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। আমৃত্যু দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।

বাবা গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বাবার আদর্শ বুকে ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাজনীতি করছিলেন।২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করেন। দৃঢ়তার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ একদিন পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে তার পরিবার থাকে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। পরে সংসদ সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের কারণ আজও স্পষ্ট করেননি তিনি। এর পরের সময়টি চলে মান-অভিমানে।পদত্যাগের সময় বাবা বলেছিলেন-আর রাজনীতিতে ফিরবেন না। সেই সিদ্ধান্তে এখনও অনড় তিনি।

বাবা রাজনীতি থেকে দূরে সরে থাকলেও সম্ভবত নিজেকে রাজনীতিতে যুক্ত করতে চাচ্ছেন। বলছি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের একমাত্র ছেলে ব্যারিস্টার তুরাজ আহমদ তাজের কথা।রাজনীতিতে পদচারণায় নিজেকে মুখর করতে চাইছেন তাজউদ্দীনের আরেক উত্তরসূরি। তুরাজ রাজনীতির রঙে নিজেকে রাঙাবে না কেন? তার রক্তেই তো রাজনীতি।

তার দাদা দেশের মানুষের ভাত-কাপড়ের অধিকার নিশ্চিত করতে জীবন দিয়েছেন। দাদিও আমৃত্যু মানবকল্যাণে রাজনীতি করেছেন। সেই ধারায় বাবাও হেঁটেছেন রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথের বাঁকে বাঁকে।তুরাজ আহমদ গতকাল দিনভর বাবার সঙ্গে গাজীপুর-৪ নির্বাচনী এলাকা ঘুরে বেড়িয়েছেন। ফুফু সিমিন হোসেন রিমির নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে উঠান বৈঠক করেছেন।

কাপাসিয়ার জনগণ যারা এ পরিবারকে ঘিরে স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত রাজনীতি করে আসছেন, তাদের সঙ্গে ছেলেকে পরিচিত করছেন সোহেল তাজ।ফুফুর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে বাবার সঙ্গে সুদূর আমেরিকা থেকে দেশে এসেছেন তুরাজ তাজ।

উঠান বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার পরিবারের অবদানের কথা সরণ করিয়ে দিয়ে তুরাজের বাবা সোহেল তাজ বলেন, আমাদের পরিবার বাংলাদেশের জন্য সারাজীবন কাজ করে গেছে। আমার বাবা স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমার মা সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন দুঃসময়ে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করে নেতৃত্ব দিয়েছেন গণতন্ত্রের পক্ষে।

তিনি বলেন, আমাদের পরিবার সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে এবং বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পক্ষে। সে জন্য আমরা অবশ্যই থাকব। আমার বোন নির্বাচন করা মানে আমি করা।রবিবার দুপুরে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম খালেদ খুররমে বাসভবনে এ উঠান বৈঠক হয়।

বিকালে বঙ্গতাজের গ্রামের বাড়ি দরদরিয়ায় সব নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে এক কর্মিসভায় যোগ দেন সোহেল তাজ। সন্ধ্যায় উপজেলার তরগাঁও পালকী কমিউনিটি সেন্টারে আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন।পরিবারের পক্ষে সোহেল তাজের বড় দুই বোন শারমিন আহমদ রিপি, মেহেজাবিন আহমদ মিমি, সিমিন হোসেন রিমির ছেলে রাকিব হোসেন এসব অনুষ্ঠানে ছিলেন।

প্রসঙ্গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সোহেল তাজ। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সোহেল তাজ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেও ২০০৯ সালের ৩১ মে মন্ত্রিসভা থেকে আচমকা পদত্যাগ করেন। চলে যান সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। ২০১২ সালের ৭ জুলাই সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। মাঝেমধ্যে সামাজিক কর্মকাণ্ডে উপস্থিত থাকলেও রাজনীতিতে যুক্ত হবেন না বলে তখন সাফ জানিয়ে দেন সাবেক এ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সোহেল তাজ ফের আলোচনায় আসেন আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে। তখন রাজনীতির অন্দরমহলে আলোচনা শুরু হয় যে, সোহেল তাজ রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন। ওই সময় তিনি দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন।

দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে সোহেল তাজকে আনা হচ্ছে-এমন গুঞ্জনও শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সোহেল তাজ নিজেকে যুক্ত করেননি।সোহেল তাজের ছেলে তুরাজ আহমদ তাজ লন্ডনের লিংকনস ইনন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেছেন। তুরাজ তাজ পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে থাকেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই খালেদা জিয়ার ভাগ্য নির্ধারণ

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় তার সবগুলো আসনে প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যান তিনি। আজ সোমবার তার রিটের ওপর শুনানি শেষে আদালতের রায় আসতে পারে।

ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন থেকে বিএনপি থেকে প্রার্থী হন বেগম খালেদা জিয়া। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। আইন অনুযায়ী প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে আপিল করা হয়। কিন্তু আপিলেও তার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণার পর আদালতেরে সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া।

রোববার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি ইকবাল কবীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের ওপর শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। আইনজীবীরা বলছেন, আবেদনটির ওপর শুনানি শেষে আজ দুপুরেই আদালতের সিদ্ধান্ত জানা যাবে। ফলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আজ।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করবেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির প্রমুখ। এর আগে রোববার হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ১০ বছরের সাজা নিয়ে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। এছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে ৭ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সবাইকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার জন্য মুশফিকের অনুরোধ

সবাইকে নামাজ কায়েম করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। নিজের ৩০তম জন্মদিনে ভক্ত ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এ আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরের পরে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লাইভে এসে মুশফিক বলেন, হ্যাঁলো আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। এই দিনে আপনাদের অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা পেয়েছি। সেজন্য আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে শুধু এই দিনটা নয়, গোটা মাসটাই আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

১২ বছর আগে এই মাসেই জাতীয় দলে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল আমার। এই দিনে আমার বাবা-মা, চাচা-চাচী ও ফ্যামিলির সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। তারা সবসময় আমার পাশে ছিলেন, এখনো আছেন। স্পেশাল থ্যাঙ্কস টু মাই বিউটিফুল ওয়াইফ। আমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য এবং সবসময় পাশে থাকার জন্য।

আমার সব ফ্রেন্ডসদের ধন্যবাদ, তারা আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেননা আমার জীবনের জার্নিটা সহজ ছিল না। কিন্তু তারা সবসময় সঙ্গ দিয়েছেন। এছাড়া আমার কোচ ও টিচারদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করি ভবিষ্যতেও আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন।

এরপর সবাইকে নামাজ পড়ার অনুরোধ জানিয়ে মুশফিক বলেন, ‘এই দিনে আপনাদের প্রতি ছোট একটা রিকোয়েস্ট, আপনারা যে যেখানে যে অবস্থায় থাকুন না কেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করার চেষ্টা করবেন। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা যদি আমাকে ভালোবেসে থাকেন তাহলে সহজ এই কাজটা করার চেষ্টা করবেন। আর হ্যাঁ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ত্রিদেশীয় সিরিজে আমরা যেন ভালো করতে পারি সেজন্য আপনাদের দোয়া চাই। আশা করি আবারো কোনোদিন দেখা হবে। আল্লাহ হাফেজ।’

পাকিস্তানের সঙ্গে বিএনপির ‘বৈঠকের’ খবরে তোলপাড়

নির্বাচনের প্রাক্কালে, বাংলাদেশের বিজয়ের মাসে পাকিস্তানি কূটনীতিক ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে সেই প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে আইএসআইয়ের সঙ্গে এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন নেতা ঢাকায় পাকিস্তানের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকের খবর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

আওয়ামী লীগের পক্ষে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিজয়ের এই মাসে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পাকিস্তানি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ জনমনে প্রশ্নের সঞ্চার করে।

আব্দুর রহমান বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে দূতাবাসে যাতায়াত থাকতেই পারে। তবে বিজয়ের এই মাসে এবং নির্বাচন সামনে রেখে পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ জনমনে প্রশ্নের সঞ্চার করে। একদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুসারে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের গোপন বৈঠক, অন্যদিকে পাকিস্তানি দূতাবাসে মির্জা ফখরুলের সাক্ষাৎ ও গোপন বৈঠক ষড়যন্ত্রের আভাস দেয়।’

আব্দুর রহমান বলেন, ‘দুই বৈঠক একই সূত্রে গাঁথা। আমরা মনে করি, এই সাক্ষাৎ আসন্ন নির্বাচন বানচালে ষড়যন্ত্রের অংশ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতিকে বিনষ্ট করার দুরভিসন্ধি।’

গত শনিবার বেশ কয়েকটি নিউজ পোর্টালে পাকিস্তানি কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির চার নেতার বৈঠক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, ঢাকায় প্রতিবেশী আরেকটি দেশের হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। কেন ওই বৈঠক হলো সে সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিবের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, গত ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পাকিস্তান হাইকমিশন সংলগ্ন গ্লোরিয়া জিনস কফি শপে যান পাকিস্তান দূতাবাসের দুই কর্মকর্তা। তার ১৫ মিনিট পর সেখানে পৌঁছান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ব্যারিস্টার আমিনুল হক। তাঁরা প্রায় ২৫ মিনিট একসঙ্গে ছিলেন। এর পরদিনই একই এলাকায় ‘নান্দোস’ রেস্টুরেন্টে পাকিস্তানি ওই দুই কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

এদিকে ভারতের গুয়াহাটি, শিলচর, শিলিগুড়ি ও কলকাতা থেকে একযোগে প্রকাশিত দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকায় প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আসন্ন নির্বাচনে হারাতে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ভোটের প্রচারে নেমেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি আওয়ামী লীগকে ভোট না দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন।

যুগশঙ্খের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বক্তব্যসহ তাঁর কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ তৈরি করা হয়েছে। এসব ভিডিও ক্লিপে সিনহা সরকারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে। ভিডিও ক্লিপে সিনহা হাসিনার দলের প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমানকেও নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লন্ডনে করা ভিডিওতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাইমা তাঁর দাদি খালেদার মুক্তির জন্য ভোট চেয়েছেন বলেও যুগশঙ্খের প্রতিবেদনে বলা হয়।

কাতারে কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি কিশোর প্রথম

কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত ২৫তম ‘শেখ জাসিম বিন মোহাম্মদ বিন থানি হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায়’ বাংলাদেশের কিশোর হাফেজ সাইয়্যেদ ইসলাম মোহাম্মদ প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। সাইয়্যেদ সিলেটের সদর উপজেলার লাখাউরার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল আসলামের ছেলে।

পূর্ণ কোরআন মুখস্থ ক্যাটাগরিতে (সাধারণ) প্রথম স্থান অধিকারী বাংলাদেশি কিশোর হাফেজ সাইয়্যেদ ইসলাম মোহাম্মদ ১ লাখ রিয়ালের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ লাখ টাকা) চেক ও আন্তর্জাতিক সনদ লাভ করেন।

গত মঙ্গলবার কাতারের ধর্মমন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কাতারের ধর্মমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।